menu

সবার জন্য নন্দনতত্ত্ব

আবদুস সাত্তার

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হয়েছে বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল। কিন্তু এখনও প্রাচ্যকলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর জন্য নিয়মিত বিভাগে যেতে হয়। অনারারি প্রফেসর হিসেবে এখনও বিভাগের সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত আছে। এই সম্পর্কের কারণে ক্লাস নিতে গিয়ে টেবিলে বসেই (১১/৯/২০১৯) চোখ পড়লো ‘সবার জন্য নন্দনতত্ত্ব’ গ্রন্থটির প্রতি। গ্রন্থটি আমার প্রিয় ছাত্র এবং শিক্ষক সুমন বৈদ্য সংগ্রহ করেছে ২৮/২/১৬ তারিখে। গ্রন্থটি তার টেবিলে আরও কিছু বইপত্রের নিচে রাখা ছিল। কালবিলম্ব না করে গ্রন্থটি হাতে নিলাম এবং পড়তে শুরু করলাম। শুরুতেই ভূমিকা। ভূমিকা পড়তে পড়েত বাকি অংশ পড়ার জন্য পরের পাতা উল্টিয়ে দেখি আর কিছু নেই। পাতাটি সাদা। প্রচণ্ড হোঁচট খেলাম। বাকি অংশ কি হলো, কোথায় গেল? আবারও প্রথম থেকে পাতা উল্টাতে থাকলাম। হঠাৎ দেখি সূচিপত্রের পরের পৃষ্ঠায় ভূমিকার বাকি অংশ ছাপা হয়েছে। অর্থাৎ ছাপাখানার ভূতের কাণ্ড। উল্টাপাল্টা ছাপা হয়েছে। মন খারাপ হয়ে গেল, এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের এ অবস্থা দেখে। আরও খারাপ লেগেছে লেখকের কথা ভেবে। কারণ তিনিও নিশ্চয়ই কষ্ট পেয়েছেন এই ভূতের কারবার দেখে।

http://print.thesangbad.net/images/2019/October/02Oct19/news/upload.jpg

হ্যাঁ পাঠক, যে গ্রন্থের কথা লিখতে বসেছি সেই গ্রন্থের লেখক জনাব হাসনাত আবদুল হাই। জন্ম ১৯৩৯ সালে কলকাতায়। শিক্ষা নড়াইল, কলকাতা, ঢাকা, যশোর এবং ফরিদপুরে। উচ্চশিক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। অক্সফোর্ডের কুইন এলিজাবেথ হাউসে ১৯৮৯ সালে ভিজিটিং ফেলো এবং ১৯৯৪-৯৫ সালে কিওতো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং রিসার্চ স্কলার। ১৯৬৫ সালে সিভিল সার্ভিসে যোগদানের পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যচর্চার কাজও করেছেন তিনি। ৩০টি উপন্যাস, ৫টি গল্প সঙ্কলন, ৬টি ভ্রমণকাহিনী, ১টি কবিতার বই এবং অর্থনীতি ও গভার্নেন্স বিষয়ে ইংরেজিতে একাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তার। স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক। সুতরাং এমন একজন অভিজ্ঞ, গুণী, সংস্কৃতিমনা এবং বিজ্ঞ পণ্ডিত মানুষের বহুদিনের নিরলস প্রচেষ্টার ফসল ‘সবার জন্য নন্দনতত্ত্ব’ গ্রন্থের শুরুতেই এমন একটি অবস্থা দেখলে আমার মতো সবাই যে হোঁচট খাবেন তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।

গ্রন্থটির প্রতি আগ্রহের কারণ শিল্পকলা। শিল্পকলা এমন একটি বিষয় যার সঙ্গে গ্রন্থটির রয়েছে গভীর সম্পর্ক। নন্দনতত্ত্ব পাঠককে শিল্পকলা বুঝতে, শিল্পের অন্তর্নিহিত বিষয়গুলো জানতে এবং দৃশ্যমান নয় এমন বিষয়গুলো ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করে। বাংলাদেশের শিল্পকলা বিষয়ক শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি নতুন। ঢাকার চারুকলা অনুষদে ১৯৭৭-৭৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে এম এফ এ কোর্স চালু হলে ‘নন্দনতত্ত্ব ও শিল্প সমালোচনা’ বিষয়টি পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়। তখন থেকে নন্দনতত্ত্ব বিষয়ের যাত্রা শুরু। সে সময় নন্দনতত্ত্ব পড়াতেন অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান। এমএফএ কোর্সে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন জন। ড্রইং এন্ড পেইন্টিং বিভাগের এবং মৃৎশিল্প বিভাগের ২ জন ছাত্রী এবং প্রাচ্যকলা বিভাগের আমি। যদিও আমি তখন প্রাচ্যকলা বিভাগে শিক্ষকতা করি। উল্লেখ্য যে, সে সময় বর্তমান চারুকলা অনুষদ সরকারি কলেজ ছিল। সুতরাং সরকারের অনুমতিক্রমে শিক্ষকতার পাশাপাশি উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য এমএফএ ক্লাসে পড়েছি। নন্দনতত্ত্ব প্রকৃত অর্থে কঠিন বিষয়। এ বিষয়টির সঙ্গে দর্শনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দর্শন যেমন যুক্তিতর্কের বিষয়, ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের বিষয় নন্দনতত্ত্বও তেমনি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ও যুক্তিনির্ভর বিষয়। সুতরাং বুঝতে এবং পড়তে বড়ই অসুবিধায় পড়তে হতো। তাছাড়া বইয়ের অভাব। যাওবা পাওয়া যেত তাও ইংরেজিতে। সব কিছু মিলে কঠিন সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়েছে নন্দনতত্ত্ব পড়তে। এর পরের অভিজ্ঞতা আরও কঠিন। ১৯৮৫ সালে আমেরিকা সরকারের ফুলব্রাইট গ্রান্টে মনোনীত হয়ে শিল্পকলা বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে গেলে সেখানেও নন্দনতত্ত্ব পড়তে হয়েছে। পূর্বের চেয়ে আরও উন্নত পর্যায়ের পড়া এবং ব্যাপক পড়া। শিক্ষক ক্লাসে যা যা পড়াতেন তার সব কিছু ভালোভাবে বুঝতামও না। তবে ডরমিটোরিতে ব্যাপকভাবে পড়ালেখার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতাম। দেশে এবং বিদেশে নন্দনতত্ত্ব পড়বার যে অভিজ্ঞতা তাতে মনে হয়েছিল যে, এ বিষয়ে বাংলায় কিছু লিখলে শিক্ষার্থী এবং পাঠকদের পড়তে এবং বুঝতে সহজ হবে। এই ধারণার প্রেক্ষিতে বাংলার বাণী, ভোরের কাগজ এবং ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন পত্রিকায় নন্দনতত্ত্ব বিষয়ে বেশ কিছু প্রবন্ধ লিখি এবং সে সকল প্রবন্ধের সমন্বয়ে ‘প্রকৃত শিল্পের স্বরূপ সন্ধান’ নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেই। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। কিন্তু গ্রন্থগুলো নিঃশেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে আরও কিছু নতুন প্রবন্ধসহ ওই গ্রন্থের প্রবন্ধ সমন্বয়ে ‘শিল্পবোধ ও শিল্পবিচার’ নামে আরও একটি গ্রন্থ প্রকাশ করছে অন্য এক প্রকাশক। নন্দনতত্ত্ব বিষয়ে দুটো গ্রন্থ লিখেও মনে হয়েছে এ বিষয়ে কিছুই জানা হলো না। যা জেনেছি তা নন্দনতত্ত্ব বিষয়ে না জানারই শামিল। এত কিছু জানা এবং বুঝবার আছে। এই জানার আগ্রহ থেকেই হাসনাত আবদুল হাই লিখিত ‘সবার জন্য নন্দনতত্ত্ব’ গ্রন্থটি পড়তে শুরু করি। তাছাড়া গ্রন্থটির নামেও চমক আছে। আছে সন্দেহও। সন্দেহ এজন্য যে নন্দনতত্ত্ব উচ্চতর জ্ঞান লাভের বিষয়। যা সবার পক্ষে অর্জন করা সম্ভব হয় না। সেখানে সবার জন্য কথাটি সন্দেহের উদ্রেক করে। তবে লেখক ‘সবার জন্য’ নামকরণ করবার একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন ভূমিকাতে। ব্যাখ্যাটি আমার ভালো লেগেছে। তিনি বলেছেন- ‘সবার উপলব্ধি বা জ্ঞান একই পর্যায়ের হবে, এমন আশা না করা গেলেও শিক্ষিত শ্রেণির সবারই এ বিষয় সম্পর্কে সামান্য হলেও কিছু জানা প্রয়োজন। এর ফলে জীবনযাপন আরো একটু ‘সুন্দর’ ও ‘আনন্দময়’ হতে পারে। লেখকের এ অভিমতের সঙ্গে আমি শতভাগ একমত। লেখকের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী যদি সবাই নন্দনতত্ত্ব বিষয়ে পড়েন তাহলে সমাজ সত্যি সত্যি বদেল যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু এ বিশ্বাস আর বাস্তবের মিলন হবার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে হয়। এর প্রথম কারণ- শিক্ষার্থী এবং পাঠকদের পড়ার প্রতি অনীহা। আর দ্বিতীয় কারণ- নন্দনতত্ত্ব বিষয়ের গভীরতা এবং আধ্যাত্মিক ভাবনার বিস্তার। যা নন্দনতত্ত্ব পাঠের জন্য এবং পঠিত বিষয়ের যথার্থ অর্থ অনুভবের জন্য জরুরি। যা সাধারণ জ্ঞানের অধিকারী সাধারণ মানুষদের পক্ষে সম্ভব নয়।

আমি যখন আমেরিকায় নন্দনতত্ত্ব বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেছি তখন পাঠ্য ছিল মেলভিন রাডারের ‘এ মডার্ন বুক অব এসথোটক্স এবং মোনরো সি বার্ডসেø লিখিত ‘এসথেটিক্স ফ্রম গ্রিস টু দি পেজেন্ট’ নামক দুটি গ্রন্থ। মেলভিন রাডার তাঁর গ্রন্থে ভূমিকায় বলেছেন যে, এ গ্রন্থে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় বিষয় সন্নিবেশ করা থেকে বিরত থেকেছি। কারণ ওই বিষয়গুলো উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষার্থীর জন্য, যা সাধারণ শিক্ষার্থীর জন্য সহজবোধ নয়। আর জি কলিং উড তার ‘দি প্রিন্সিপ্যাল অব আর্ট’ নামক গ্রন্থে বিজ্ঞ, ভিজ্ঞ এবং সাধারণ পাঠকের মধ্যে পার্থক্য নির্মাণ করেছেন। এমনকি শিল্পী এবং দার্শনিক পাঠকের মধ্যেও পার্থক্য টেনে বলেছেন যে, একজন দার্শনিক যেভাবে নন্দনতত্ত্ব বোঝেন এবং ব্যাখ্যা করেন একজন শিল্পী সেভাবে বুঝতে এবং ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হন না। এসথেটিক্স ফ্রম ক্লাসিক্যাল গ্রিস টু দি প্রেজেন্ট গ্রন্থের লেখক মনরো সি বার্ডগ্লে সমালোচক এবং দার্শনিকের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করবার মধ্য দিয়ে নন্দনতত্ত্ব যে বিশেষ বিষয় এবং তাত্ত্বিক বিষয় সে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন- যদি কেউ প্রশ্ন করেন ‘সঙ্গীতের এই সুরলহরী কি নেপালী ধারা?’ তাহলে এর উত্তর দেবার দায়িত্ব হবে সমালোচক বা একজন ক্রিটিকের। এ দায়িত্ব দার্শনিকের নয়। কারণ একজন সমালোচক সাধারণত তাত্ত্বিক নয়, তথ্যপূর্ণ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মাধ্যমেই এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। এখানে তাত্ত্বিক আলোচনার সুযোগ নেই যে, দার্শনিক বা তাত্ত্বিকের প্রয়োজন হবে। সুতরাং এসকল আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, নন্দনতত্ত্ব সাধারণ কোন বিষয় নয় এবং সহজবোধ্যও নয় এবং সবার জন্য আকর্ষণীয় বিষয়ও নয়।

নন্দনতত্ত্ব বুঝতে হলে সৌন্দর্য বিষয়ে বিশেষ জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। কারণ নন্দনতত্ত্বের সঙ্গে সৌন্দর্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। অভিধানেও এ ধরনের ইঙ্গিতই দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে নন্দনতত্ত্ব হচ্ছে- সৌন্দর্য বিষয়ক বিজ্ঞান। অথচ জার্মান দার্শনিক বমগাটেন বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেছেন সৌন্দর্য নন্দনতত্ত্বের মূল বিষয় নয়। তার অনুভূতি এবং উপলব্ধির বিষয় লেখক হাসনাত আবদুল হাই তার গ্রন্থে বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এভাবে গ্রন্থের সর্বত্রই সৌন্দর্যের বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। শুধু লেখকের এ গ্রন্থেই নয়, নন্দনতত্ত্ব বিষয়ক যে কোন গ্রন্থেই সৌন্দর্য বিষয়ক আলোচনার প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। এটাই স্বাভাবিক। কারণ অভিধানে বলা হয়েছে- ‘নন্দন’ শব্দের অর্থ- ১. সৌন্দর্য, ২. দৃষ্টিনন্দন, ৩. আনন্দদায়ক। সুতরাং নন্দনতত্ত্ব যে সৌন্দর্য বিষয়ক তত্ত্ববিদ্যা বা আধ্যাত্মিকবিদ্যা সে বিষয়ে কোন সন্দেহ থাকে না। উল্লেখ্য যে, নন্দন শব্দের ৩নং অর্থ ‘আনন্দদায়ক’ শব্দের ওপর ভরসা করেই লেখক গ্রন্থের নামের পূর্বে ‘সবার জন্য’ শব্দজুড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন- ‘নন্দনতত্ত্বকে যদি মনে করা হয় আনন্দতত্ত্ব হিসেবে, তাহলে এ বিষয়ে সকলেরই জানার অধিকার রয়েছে এবং তাদের জানা উচিত।’

ভারতের খ্যাতিমান পণ্ডিত আচার্য্য সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত তাঁর ‘সৌন্দর্যতত্ত্ব’ নামক গ্রন্থের শুরুতেই লিখেছেন- ‘সৌন্দর্য কাহাকে বলে এবং তাহার স্বরূপ কী এই সম্বন্ধে আমাদের দেশে এখনও কোন আলোচনাই হয় নাই।’ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিল্পকলায় সমৃদ্ধ বিশাল ভারতের যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে আমাদের দেশে সবার পক্ষে নন্দনতত্ত্ব গ্রহণ করা সম্ভব হবে কিনা, সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। কিন্তু লেখকের আকাক্সক্ষা সবাই গ্রহণ করুক। সবার জন্য নন্দনতত্ত্ব বিষয়ে লেখক যখন সংবাদ পত্রিকায় লিখতেন তখন আগ্রহ নিয়ে পড়েছি এবং পত্রিকার কাটিং সংগ্রহ করেছি, যার কিছু কিছু এখনও সংগ্রহে আছে। গ্রন্থ আকারে প্রকাশের পর এই প্রথম দেখলাম (১০/৯/২০১৯)। কিন্তু গ্রন্থটি পড়তে গিয়ে বারবার সমস্যায় পড়তে হয়েছে। সু-সম্পাদনার অভাব এবং বানান বিভ্রাট সর্বত্র। তাছাড়া তথ্যগত বিভ্রান্তিও রয়েছে। যেমন তিনি লিখেছেন- ‘শিল্পের পক্ষে অথবা বিপক্ষে কোন উক্তি কুরআন শরীফে নেই’ (পৃ. ৬১)। অথচ সুরা ‘সাবা’তে বলা হয়েছে যে, ‘উহারা (জিনগণ) সুলাইমানের ইচ্ছানুযায়ী প্রাসাদ, মূর্তি, বৃহদাকার হাউস সদৃশ পাত্র এবং চুল্লির ওপর স্থাপিত বৃহদাকার ডেগ নির্মাণ করিত’, (কুরআনুল করীম, তৃতীয় খণ্ড, আয়াত-১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)। উল্লেখ্য যে, জিনেরা সুলায়মান (আ.)-এর জন্য যে সমস্ত জিনিস তৈরি করত তার সবই শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া সুরা মায়িদার ৯০ আয়াতে বলা হয়েছে- ‘হে বিশ্বাসীগণ মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদি ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্যবস্তু, শয়তানের কার্য। সুতরাং তোমরা উহা বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হইতে পার।’ এখানে মূর্তির উল্লেখ না থাকলেও মূর্তি পূজার বেদির উল্লেখ আছে; যা শিল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত। সুতরাং লেখক যে মন্তব্য করেছেন ‘পবিত্র কুরআন শরীফে চিত্রকলা ও ভাস্কর্য সম্বন্ধে কোন প্রকার সুস্পষ্ট নির্দেশ পাওয়া যায় না।’ শিল্পের পক্ষে অথবা বিপক্ষে এমন কোন উক্তি কুরআন শরীফে নেই; যার ভিত্তিতে কোনো স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়। এটা ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়। এই বিষয়টুকু ছাড়া ইসলামের সঙ্গে শিল্পের সম্পর্ক বিষয়ে লেখক যে প্রাণবন্ত আলোচনা করেছেন, তা যে কোন পাঠক অনুধাবন করবেন। আমি শিল্পকলার ছাত্র হিসেবে সুলেখক হাসনাত আবদুল হাইয়ের ‘সবার জন্য নন্দনতত্ত্ব’ গ্রন্থের ব্যাপক প্রচার এবং সাফল্য কামনা করি। যাতে সকলে শিল্পমনষ্ক হয়ে শিল্পসম সুন্দর সমাজ গঠনে অবদান রাখতে সক্ষম হন।

  • কমলকুমার বিষয়ে ভাব প্রকাশ

    মামুন হুসাইন

    newsimage

    আমাদের জন্মের বছর সুনীল গাঙ্গুলী ঘোষণা করলেনÑ ‘কমলকুমার মজুমদারের অন্তর্জলী যাত্রা এ বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ কবিতার বই এবং উপন্যাস

  • ষাটের দশকে বিচরণ-

    কবি মানস ও কাব্য ভাবনা

    মারুফ কামরুল

    newsimage

    পঞ্চাশের একটা ছাপ ষাটের দশকে পড়লেও এই দশকের আলাদা বৈশিষ্ট্য দাঁড়িয়েছে; কিছু প্রতিভা উঠে এসেছে। পঞ্চাশ ও ষাটের একটা

  • অঞ্জনা সাহার কবিতা

    newsimage

    অভিসন্ধি, চৈতন্যলোকে, জয়যাত্রা

  • বৃষ্টির সেই অন্ধকারগুলো

    গৌতম গুহ রায়

    newsimage

    পুড়ে যাওয়া বা ছেকা খাওয়া রুটির মতো খসখসে সন্ধ্যার ভেতর চন্দ্রা চোখ

  • সাময়িকী কবিতা

    বাণিজ্য নগরীর দিকে গোলাম কিবরিয়া পিনু একটি গাভী, তার বাছুরের সাথে থাকতে পারে

  • নীলিমা ইব্রাহিমের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের সাহিত্যমূল্য

    নাজনীন বেগম

    newsimage

    বাংলাদেশের শিক্ষা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির প্রগতিশীল বলয়ে অন্যতম বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ড. নীলিমা ইব্রাহিমের পুরো জীবন ছিল সার্বজনীন

  • পতনের পর

    আসমা চৌধুরী

    newsimage

    ঘরে ঢুকে মিষ্টি একটা গন্ধ পায় শরীফ। রান্নাঘরে ভালোকিছু রান্না করছে সায়মা। মন