menu

শৈলশহর যাত্রা

আবদুল লতিফ

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২০
image

রক গার্ডেনের সামনে লেখক

ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি। “কচি ধানগাছে ক্ষেত ভরে আছে, হাওয়া দোলা দেয় তারে”। গ্রামবাংলার চিরন্তন রূপ। একটার পর একটা স্টেশন পার হয়ে যাচ্ছে। জীবনের অনেকগুলো স্টেশন তো এভাবেই দেখতে দেখতে পার হয়ে গেল। যে ট্রেনটা আজ থেকে প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল, প্রতিদিন প্রতিক্ষণে অসংখ্য যাত্রী উঠে বসছে সেই রেলগাড়িটিতে। আজ তার যাত্রীসংখ্যা প্রায় ৭৫০ কোটি। অসংখ্যবার ঘণ্টা পড়েছে, বাঁশি বেজেছে, এর মধ্যে কত যাত্রী তাদের নির্ধারিত স্টেশনটিতে নেমে আর এক অনন্তযাত্রার দিকে পা বাড়িয়েছে। যুগ যুগ ধরে এই ওঠানামা সমানে চলেছে। একসময় নিজের চারপাশে কত স্বজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে শুরু করেছিলাম এক আনন্দযাত্রা। আজ ফিরে দেখি নিকটজনের অনেকেই বিদায় নিয়েছে, আর আমি? “বসে আছি হে কবে শুনিব তোমার বাণী”। আমার স্টেশনটা আর কতদূর? ট্রেন চলেছে “ঝিক ঝিক, ঝিক ঝিক বাঁধা লাইনে”। অনেক বছর আগে শোনা হেমন্ত-প্রতিমার গানের একটা কলি মনের মধ্যে গুঞ্জরি উঠছে। “জীবনটা ভাই রেলের গাড়ি, আমরা সবাই যাত্রী যে, কে জানে চলেছি কোন ঠিকানায়?” মনের মাঝে অনেক প্রশ্ন ভিড় করে আসছে। কিন্তু সেকথা এখন থাক।

আলাপ হলো সিকিমবাসী এক বৌদ্ধ ভিক্ষুর সাথে। জিজ্ঞেস করলেন, কোথা থেকে আসছি। বললাম, বাংলাদেশ। ওখানকার বেশিরভাগ অধিবাসী কি বৌদ্ধ? না, অধিকাংশ অধিবাসী ইসলাম ধর্মাবলম্বী। ওখানে কি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আছে? সাধারণ মানুষ একে অপরের সাথে হৃদ্যতা বজায় রেখে চলে।

আমাদের আজকের এই যাত্রার একটা পটভূমি আছে। প্রতিবছর আমরা আমাদের অফিসের সহকর্মীদের নিয়ে দেশের মধ্যে বেড়াতে যাই। আমাদের এই দৌড় কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। সেখানে সমুদ্রের নীলজলে হুটোপুটি করে আমরা সারা বছরের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলি, পরবর্তী বছরের জন্যে নিয়ে আসি নতুন উদ্যম। এবারে সবাই আগ্রহপ্রকাশ করলো অন্য নতুন কোথাও যেতে হবে। বাড়ির পাশে জব চার্ণকের বৃটিশ আমলের ঐতিহ্যময় শহর কোলকাতা, কখনো যাওয়া হয়নি। এবার সেখানেই যাওয়া যাক। আর সেই সাথে শৈলশহর দার্জিলিংটা ঘুরে এলে মন্দ হয় না। যে দিনটাতে যাত্রা শুরু হলো সেদিন ১৪২৪ সনের শুরু, নতুন বছর, আমাদের প্রাণের উৎসব। আমাদের দলে যাত্রীসংখ্যা প্রায় ৩০ জন। কিছুটা বৈচিত্র্য আর স্বকীয়তা দিতে সবার পরনে নীল রঙের পোলো শার্ট। এবার অনন্ত সমুদ্রকে কাছে পাওয়া গেল না বটে কিন্তু সবাই একযোগে তার নীলটাকে ধারণ করে নিল নিজ নিজ অঙ্গে। আর পোশাকের সাথে মনটাকেও ওরা রাঙিয়ে নিয়ে চলেছে নীলের বন্যায়। আমাকে বাদ দিলে সবাই তরুণ। হোক না পাশের দেশ, কিন্তু অনেকের জন্য এটা প্রথম বিদেশ যাত্রা। সবার চোখেমুখে উদ্বেলিত আনন্দ। আর সেই আনন্দ দেখে আমার মনটাও একটা বিশেষ প্রশান্তিতে ভরে উঠছে।

একটার পর একটা স্টেশন পেরিয়ে দর্শনা এবং গেদে স্টেশনে ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমসের আনুষ্ঠনিকতা শেষ করে ট্রেন পৌঁছালো কলকাতা স্টেশনে। তখন সন্ধে পেরিয়ে গেছে। সেখান থেকে ট্যাক্সিযোগে শিয়ালদহ স্টেশন, -প্রায় দেড়শো বছরের পুরোনো ব্যস্ততম একটি রেলস্টেশন। স্টেশনের ভেতরে এবং বাইরে রাস্তায় অসংখ্য মানুষ আশ্রয় নিয়েছে রাতের বাসস্থান হিসেবে। উন্নয়নশীল দেশের এ এক চিরাচরিত রূপ। আমরা উন্নয়নের কথা বলি, রাজপথ অট্টালিকা দেখে তৃপ্ত হই। কিন্তু সমাজের হ্যাভ এবং হ্যাভ নটসদের বিশাল ব্যবধানের কথা কতটুকু ভাবি? এই ব্যবধান কবে সহনশীল পর্যায়ে নেমে আসবে কে জানে?

শিয়ালদহ স্টেশনে আমাদের কিছুক্ষণের জন্য যাত্রাবিরতি হলেও শৈলশহরের পথ এখনো অনেক বাকি। এবার সারারাত ধরে ট্রেনযাত্রা। গন্তব্য নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন। মধ্যরাতে ট্রেন ছাড়লো। প্রায় সারারাত গভীর ঘুমে অচৈতন্য থেকে সারাদিনের ক্লান্তি দূর হলো। খুব ভোরে যখন জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে ভোরের আলো প্রবেশ করছে তখন ঘুমটা ভেঙে গেল। স্নিগ্ধ আলোর ভৈরবী সুরে মিশে গেছে ট্রেন চলার শব্দ। একটা স্টেশনে ট্রেন থামতেই নেমে দাঁড়ালাম। স্টেশনের ওপর বেশ কয়েকজন চা এবং জলখাবারের পসরা সাজিয়ে বসেছে। চা পান শেষ হতে না হতেই ট্রেনের বাঁশি বেজে উঠলো, গাড়িতে উঠে বসলাম, শুরু হলো আবার পথ চলা।

ভারতবর্ষ বহু জাতি ও ভাষার দেশ। তারই ছাপ মিশে আছে এই ট্রেনের বিভিন্ন যাত্রীদের মাঝে। আলাপ হলো এক বাঙালি দম্পতির সাথে। ছোট্ট একটা মেয়েকে নিয়ে তারা যাচ্ছে তাদের দেশের বাড়ি জলপাইগুড়িতে। তাদের সাথে আলাপ হলো দুই বাংলার সংস্কৃতি নিয়ে। কাজের সূত্রে তারা মাঝে মাঝে বাংলাদেশে আসে।

আলাপ হলো সিকিমবাসী এক বৌদ্ধ ভিক্ষুর সাথে। জিজ্ঞেস করলেন, কোথা থেকে আসছি।

বললাম, বাংলাদেশ।

ওখানকার বেশিরভাগ অধিবাসী কি বৌদ্ধ?

না, অধিকাংশ অধিবাসী ইসলাম ধর্মাবলম্বী।

ওখানে কি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আছে?

সাধারণ মানুষ একে অপরের সাথে হৃদ্যতা বজায় রেখে চলে।

জগতে সেটাই তো স্বাভাবিক কিন্তু লোভ আর স্বার্থ যখন আমাদের মনোজগতকে আচ্ছন্ন করে ফেলে তখন আমরা মনুষ্যত্ববিবর্জিত হয়ে যাই। আর তারই ফলশ্রুতিতে পরবর্তী জীবনে দুঃখ বরন করি।

এই বৌদ্ধ ভিক্ষু বুদ্ধদেবের মৌল মতবাদ “কর্ম” সম্পর্কে আমাকে বোঝাতে চেষ্টা করছিলেন। মানবজাতির মধ্যে এত বৈষম্য! এর কারণ কী? কেউ বিষয়বৈভব নিয়ে আরাম আয়েশে কালাতিপাত করছে, কেউ আবার দুঃখদারিদ্র্যের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে। কেন? কেউ মহাজ্ঞানী, কেউ বা নির্বোধ। কেউ আশীর্বাদপুষ্ট আবার কেউ অভিশপ্ত, তাই বা কেন? কারণ আমাদের অতীত কার্যক্রম বর্তমান জীবনের ফল। তাই আমাদের ভাগ্যের স্থপতি আমরা নিজেরাই। শুনতে মন্দ লাগছিল না।

তোমরা দার্জিলিং বেড়াতে যাচ্ছ, একবার সিকিমটা ঘুরে যাও না। সেখানটা আরও সুন্দর।

বললাম, সিকিম ভ্রমণের পূর্ব অভিজ্ঞতা আমার আছে। সাঙ্গুলেকের তুষারপাত আমার মনে গাঁথা হয়ে আছে।

আলাপ হলো বিহারি এক ভদ্রলোকের সাথে। ভদ্রলোক অনর্গল একতরফা কথা বলে যাচ্ছিলেন। কথা শুনে বুঝলাম কূপমণ্ডূক এক লোক। বাংলাদেশ সম্পর্কে তার আপত্তিকর মন্তব্য শুনে খুবই বিরক্তবোধ করছিলাম। কিন্তু তার সাথে তর্ক করতে ইচ্ছে হলো না। কারো সাথে তর্ক করতে হলে তার বোধজ্ঞানের একটা ন্যূনতম মাত্রা থাকা চাই। কাজের অজুহাতে তাকে এড়িয়ে অন্যদিকে চলে গেলাম।

মাঝদুপুরে এসে গেল নিউজলপাইগুড়ি স্টেশন। এখন একটা রেস্টুরেন্টে মধ্যাহ্নভোজ সেরে জীপগাড়ি করে যেতে হবে দার্জিলিং। রেস্টুরেন্টের সামনেই একটা পূজাম-পে গনেশঠাকুরের মূর্তি। ছবি তোলা হলো। আমাদের পথ এখনো অনেকটাই বাকি।

সব পথেরই তো শেষ আছে। আমরাও একসময় দার্জিলিং শহরে এসে পড়লাম। হোটেলে ব্যাগব্যাগেজ রেখে শহর দেখতে mall -এর রাস্তায় নেমে পড়লাম। তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। রাতে খাওয়ার টেবিলে আমাদের টুর অপারেটর সঞ্জীব জানালো পরদিন ভোর চারটের সময় হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে পড়তে হবে টাইগার হিলে গিয়ে সূর্যোদয় দেখতে। টাইগার হিল থেকে সূর্যোদয় দেখতে পাওয়া এক বিরল অভিজ্ঞতা। বেশিরভাগ সময়ে আকাশ মেঘে ঢেকে থাকার কারণে সূর্য উঠতে দেখতে পাওয়া যায় না। এর আগেও আমি নিজে একবার এসেছি কিন্তু সারাক্ষণ অপেক্ষা করে সূর্য ওঠার মুহূর্তটিকে পাইনি। সে কথায় পরে আসছি।

টাইগার হিলে সূর্যোদয়

পৃথিবীর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে এক নিপুণ শিল্পীর হাতে তৈরি বিচিত্র সৌন্দর্যের সম্ভার। যতই দেখি হৃদয় ভরে যায় ভাললাগায়, ভালবাসায়। শ্রদ্ধায় অবনত হই সেই শিল্পীর কাছে। পাহাড়, সমুদ্র, অরণ্য, মরুভূমি, জলপ্রপাত সবকিছু কী অপরূপ! একদিকে তীরে এসে আছড়ে পড়া সমুদ্রের কান্নার মাঝে আছে চিরকালের অনন্ত জিজ্ঞাসা। আর অন্যদিকে কবি যখন ধ্যানমগ্ন মৌন পাহাড়ের কাছে প্রশ্ন করেন, “কিসের স্তব্ধতা তব ওগো গিরিবর?” পাহাড় বলে (কবির ভাষায়) “হিমাদ্রি কহিল, মোর চির-নিরুত্তর”। এই মৌনতা, চিরনিরুত্তরেরও একটা ভাষা আছে, আকুতি আছে, অভিমান আছে। তাকে বুঝে নিতে হয়। যেমনটি অনুভব করেছিলাম টাইগার হিলে সূর্যোদয় দেখতে গিয়ে।

দার্জিলিং-এর পর্যটকদের একটা অন্যতম আকর্ষণ হলো টাইগার হিলে সূর্যোদয় দেখতে যাওয়া। রাতের অন্ধকার থাকতেই শহর ছেড়ে যাত্রা শুরু করতে হয় সেই অপরূপ দৃশ্য দেখার উদ্দেশ্যে। সবসময় সুযোগ মেলে না। এর আগে আমি যখন এসেছি মেঘে ঢাকা আকাশের জন্য দেখা হয়নি। মনকে প্রবোধ দিয়েছি এই ভেবে যে, প্রেমের অঙ্গন যখন নিত্য নিত্য রসভঙ্গিমায় সেজে ওঠে তখনি সে নব নব রূপে আনন্দের ডালি নিয়ে উদ্ভাসিত হয়, সর্বঅঙ্গে জাগে তার পুলকময় পরশ। চলার পথে প্রতিদিনের ম্লানস্পর্শ লেগে ভালবাসা ব্যহত হয় তাই মাঝে মাঝে বিরহেব আড়াল প্রয়োজন। এই আড়ালের মাঝে দুঃখব্যথা হতাশা আছে, কিন্তু দুর্নিবার আকাক্সক্ষায় সুদৃঢ় হয় প্রেম। সেই কারণে যেদিন অবগুণ্ঠন খুলে যায়, বিরহের ব্যথার বাঁশিতে মিলনের সুর বেজে ওঠে সেদিন পরিপূর্ণ এক তৃপ্তিতে বেজে ওঠে আনন্দগান, আর “হৃদয় ওঠে দুলে অকূল জলের অট্টহাসিতে।”

এবার আবার এসেছি টাইগার হিলে সূর্যোদয় দেখতে। তারিখটা ছিল ১৬ এপ্রিল ২০১৭। বেশ কয়েক বছর আগে যখন এখানে এসেছিলাম তখন দেখা হয়নি। সেদিনের প্রভাতসূর্য হাল্কা মেঘের অবগুণ্ঠনে মুখ ঢেকে তার অভিমান জানিয়েছিল কাঞ্চনজঙ্ঘার কাছে।

আজ কনকনে শীত আর শৈত্যপ্রবাহকে উপেক্ষা করে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি পুব আকাশের দিকে। সেখানে ক্ষণে ক্ষণে নানা রঙের ছোঁয়া লাগছে। ধূসর, গোলাপি, বাসন্তী। অবগুণ্ঠন খুলছে। পুবের আকাশ আলোয় ভরে দিয়ে একটু একটু করে উঠে আসছে প্রভাত রবি। আর ওপাশটাতে তাকিয়ে দেখি কাঞ্চনজঙ্ঘার মুখে ফুটে উঠেছে স্নিগ্ধ প্রশান্তির হাসি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। প্রভাতসূর্য পাহাড়ের সর্বাঙ্গে মেখে দিচ্ছে তার মায়াবি রঙ। আর পরিপূর্ণ মিলনের সময় কাঞ্চনজঙ্ঘার অবয়বে লাগলো সোনার আলোর কাঁপন, সে আলোয় ঝলসে উঠলো চারিদিক। এ রূপ ভাষায় বোঝানো যায় না। সবকিছু ভুলে হতবাক হয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি, একদিকে নবীন সূর্য আর অন্যদিকে মৌন পর্বতশৃঙ্গ। অপূর্ব মিলন! চেয়ে আছি আর সেই সাথে মনের মাঝে বাজছে একটা গানের সুর।

“জয় হোক, জয় হোক নব অরুণোদয়

পূর্ব দিগঞ্চল হোক জ্যোতির্ময়।

ক্রন্দন দূর হোক, বন্ধন হোক ক্ষয়”।

শৈলশহর দার্জিলিং!

১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে সিকিমের রাজার কাছ থেকে তৎকালীন বৃটিশ শাসক এই অঞ্চলটি করায়ত্ব করে। তারপর এলাকটির উন্নতিসাধন করে। ৭০০০ ফুট ওপরের এই পাহাড়ি এলাকাটিতে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং চমৎকার একটি পর্যটনকেন্দ্রে রূপ নেয়। দার্জিলিং প্রথম এভারেস্টবিজয়ী শেরপা তেনজিং নোরকের জন্মভূমি। শোনা যায় মার্ক টোয়েন এই হিমালয় শহরেব কথা লিখতে গিয়ে বলেছিলেন যে কোন পর্যটক এখানে আসলে বিশ্বের অন্যসব দর্শনীয় স্থানের সাথে একে একীভূত করে রাখবেন। সৌন্দর্যের বিচারে হিমালয়ের রানী দার্জিলিং।

নারী পুরুষের সমঅধিকার নিয়ে যখন সারা বিশ্বে আলোচনা চলছে তখন ছোট্ট এই অঞ্চলটিতে নারীপুরুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে বহু বছর ধরে। মেয়েরা চা-বাগানে পাতা চয়নের কাজ করছে, ঘরে তৈরি জিনিসপত্র বাজারে বিক্রি করছে আর তাদের পুরুষ সঙ্গীদের সাথে সব কাজেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাসিমুখে সহযোগিতা করছে। প্রত্যেক মেয়ে সুন্দর সাজগোজ করে থাকতে পছন্দ করে। অভাব অভিযোগ যেন ওদের স্পর্শ করে না, সবারই হাসিমুখ, সবাই সুখী।

৭০০০ ফুট পাহাড়ি ঢালের ওপর দিয়ে ওঠার সময় যে শহর, জঙ্গল, মেঘ দেখা যায় সেটাই এখানকার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য। তবে পর্যটকদের জন্য বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান আছে। যেমন বাতাসিয়া লুপ গার্ডেনের ওয়ার মেমোরিয়াল, রক গার্ডেন, গঙ্গা-মায়া পার্ক, জাপানি বুদ্ধ মন্দির, শান্তি প্যাগোডা, পদ্মজা নাইডু চিড়িয়াখানা, হ্যাপি ভ্যালি টি এস্টেট ইত্যাদি।

ভারতের স্বাধীনতার পর যে সব গুর্খা সৈন্য বিভিন্ন অপারেশন ও যুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে ওয়ার মেমোরিয়াল। চমৎকার একটি স্মৃতিস্তম্ভ যেখানে মৃত সৈনিকদের নাম খোদাই করা আছে, আর তার পাশেই একজন গুর্খা সৈনিকের ৯ ফুট ব্রোঞ্জের মূর্তি। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দেখা যায়। মনোমুগ্ধকর একটি স্থান।

রক গার্ডেন আর গঙ্গা মায়া পার্ক দুটোই স্বাভাবিক জলপ্রপাত, লেক আর ফুলের বাগানে শোভিত চমৎকার দুটি মনোমুগ্ধকর স্থান।

গেছি জাপনি পিস প্যাগোডা আর বুদ্ধ মন্দিরে। এখানকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আর শোভা ভালো লেগেছে।

এরই মধ্যে দেখতে দেখতে দু’দিন কেটে গিয়েছে। এবার ফিরতে হবে জব চার্ণকের কলকাতায়। ফেরার পথে এলাম মিরিকে। চমৎকার প্রাকৃতিক শোভায় সমৃদ্ধ লেকের পাশে বসে আমরা কাটিয়ে দিলাম কিছু সময়।

বিদায় দার্জিলিং, শৈলশহরের এই ভ্রমণ আমাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে অনেকদিন।