menu

শিল্প : জীবন ও বাস্তবতার সৃজনশীল অভিব্যক্তি

সঞ্জয় দে রিপন

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ ২০১৯

কখনো কাগজে কখনো ক্যানভাসে। চিত্রকর্মে বিষয় হিসেবে আসে জীবনকথা, মানুষের কথা, জড় জীবনের কথা আবার খন্ডিত বিখন্ডিত নানা উপাদানের ফর্মভিত্তিক গল্পকথা। অনেক সময় বস্তুর স্ফটিকাকৃতি উপস্থাপনায় নিজস্ব অনুভূতির প্রকাশও শিল্পকর্মে উঠে আসে। বিংশ শতাব্দির শেষ এবং একুশ শতকের বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক এবং সামাজিক সঙ্কটকালের কথাও শিল্পীর চিত্রকর্মে রূপনির্মিতি লাভ করতে পারে। আবার ক্যানভাসে বা চিত্রপট জুড়ে উৎকীর্ণ হতে পারে কোনো আনন্দ রূপ বা কোনো আলোর বিচ্ছিন্ন গতিপথের রূপ।

http://print.thesangbad.net/images/2019/March/13Mar19/news/Untitled-4.jpgস্বপ্ন বা কল্পলোকের বাস্তব পরিবেশনাও শিল্পীর ছবিতে আঁকা হতে পারে। কখনো কখনো রং এর নিরাভরণ পোশাক ছবির দৃশ্যমান সৌন্দর্যকে গুরুত্ব না দিয়েও রূপকে প্রকাশ করতে পারেন শিল্পী। শুধুই যে জীবন ছবি তা নাও হতে পারে আবার জীবনের অন্তঃকথার কষ্টের চোখ দিয়ে দৃশ্যরূপ নির্মাণ করে থাকেন শিল্পীরা সেরকমটাও হতে পারে। কিন্তু ছবির পরিপূর্ণ ভাব আবিষ্কার করতে পারাটা আরেকটু কঠিন। যদি চিত্রে ছন্দপতন ঘটে থাকে তবে বুঝতে হবে রূপ নির্মাণের সঠিক ব্যাপ্তি চিত্রে ঘটেনি বা চিত্রকর্মের সঠিক রূপটি শিল্পীর মস্তিষ্কে তখনও জায়গা করে নিতে পারেনি। রূপের সঠিক নির্মাণের সাথে ভাব, আবহ এবং আবেগের ছন্দোময় বিন্যাসে চিত্রকর্ম কবিতা হয়ে উঠতে থাকে অথবা প্রকাশ করতে পারে কোনো গল্পের প্রেক্ষাপট। অনেক সময় ফর্মগুলো স্ফটিকাকৃতি হলেও ছন্দপতন ঘটে না; বিষয়টা যদিও কষ্টসাধ্য তবে অনুপাত এবং বিন্যাসের ধারা যদি ঠিক থাকে, বস্তুর ভরকে যদি সঠিকভাবে উপস্থাপনা করা যায় যদি বিভিন্ন অবজেক্টের আকারের অনুপাত ভারসাম্যহীন না হয় তবে চিত্রের উপস্থাপনা অবশ্যই ছান্দসিক হয়ে থাকে। ছন্দের মাত্রাতেই চিত্রকর্মের কাব্যগুণ সমৃদ্ধ হয়ে থাকে এবং অনুভূতির কথামালা নির্মাণের প্রচেষ্টা সার্থক হয় রূপাবয়ব নির্মাণ করার মধ্য দিয়ে।

চিত্রকলা, ভাস্কর্য, ছাপচিত্র বা নকশাচিত্র যার কথাই বলি না কেন; রূপতত্ত্বের ভাষা নির্মাণের কথাগুলো জানা প্রয়োজন। আমাদের ধারণা অনুযায়ী রূপ হচ্ছে দৃশ্যমান যা প্রকৃতিগত জ্ঞান বা অবয়ব যা বস্তুজগতের কৃত্রিম গড়ন। অনেকে বলে থাকেন যে রূপ কোনো ধরনের বিশ্লেষণ বা আলোচনার শর্তসাপেক্ষে প্রকাশিত হয় না। ভাব এবং রূপের সম্পর্ক আছে কিনা এধরনের প্রশ্নের অবতারণাও ঘটে থাকে। উত্তর হচ্ছে রূপ নির্মাণের বা প্রকাশের ক্ষেত্রে অবশ্যই ভাবের গুরুত্ব রয়েছে। অর্থাৎ রূপ সবসময়ই ভাবের সাথে সম্পর্কযুক্ত। রূপকে যখন সৃষ্টির আওতায় নিয়ে আসা হয় তখনই শিল্পীর ভাবনার বিষয়গুলোর সাথে আকার নির্ধারণের সামঞ্জস্যতার প্রয়োজন পড়ে। আর ভাবের আদলেই একটি চিত্রকর্ম বা ভাস্কর্য যদি গল্প বা কবিতা হয়ে উঠতে পারে তবে দ্বীধাহীনভাবেই সেটাকে শিল্প বলা যায়।

সংস্কৃত সাহিত্যে কবি একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে; কিন্তু এর সংজ্ঞা এবং বৈশিষ্ট্য নিয়ে মতপার্থক্যও রয়েছে। সাহিত্যের কাব্যালংকার নিয়ে লেখা বিশিষ্ট লেখক ভামহ বলেছেন, “শব্দ ও অর্থের সাহিত্য হচ্ছে কবিতা”।

http://print.thesangbad.net/images/2019/March/13Mar19/news/Untitled-2.jpgছবিতে শব্দের বুনন তৈরি হয় শিল্পীর ভাব এবং আবেগের ধরন অনুযায়ী। ভাবের রূপ নির্মাণের মধ্য দিয়েই চিত্রকর্মের অর্থ নির্ণীত হয়।

রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, “শুধু ভঙ্গি দিয়ে যেন কানকে আমার না ভোলায় চোখ”

স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন “শুধু সুর দিয়ে যেন কানকে আমরা না ভোলাই। মন ভোলাবার জন্য যেন ভাবটিও অক্ষত এবং পূর্ণ থাকে।”

শিল্পের বৃহত্তর প্রাঙ্গণে এই তত্ত্বকে রূপ ও ভাব (Form & Content); এতদুভয়ের পারস্পরিক সম্পর্ক নিরূপণ তত্ত্ব হিসেবে দেখা হয়েছে।

আবার রুদ্রটের মতে, “কবি কর্মের নামই কাব্য”। এখানে বলা যায় যে শিল্পীর যে কোনো ভাব সমৃদ্ধ কর্ম। চিত্রকর্ম যা অনুভূতিকাব্যও বটে।

আর বিশ্বনাথ লিখেছেন “রসাত্মক বাক্যই কাব্য”। সংস্কৃতি পন্ডিতগণ রূপশিল্পের সংজ্ঞায় ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করলেও একটি বিষয়ে একমত রয়েছে আর তা হচ্ছে শব্দ এবং অর্থ। অর্থাৎ শব্দের প্রয়োগে বিশেষ বিবেচনা এবং সেই শব্দের অর্থসম্মত উপস্থাপনাতেই কাব্যের গুণাগুণ নির্ভর করে থাকে। চারুশিল্পের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। শুধু ক্যানভাসে রং বা শিল্পমাধ্যমের ব্যবহার করলেই হবে না; তার একটি অর্থ থাকতে হবে। শুধু একটি কিছু আঁকলেই তাকে শিল্প বলা ঠিক হবে না হয়তো; যদি সেটার নির্দিষ্ট এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো অর্থ না থাকে। অর্থহীন বাক্য যেমন করে সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত হয় না, ঠিক তেমনি অর্থ প্রকাশের গুণাগুণ ছাড়া কোনো কর্মই শিল্পের আওতায় পড়ে না। অর্থাৎ রূপের নির্মাণ যদি সঠিক না হয়; ভাবআলেখ্য যদি আরোপিত না হয় তবে তা কখনই শিল্পের আওতায় পড়বে না। ভাবের দৃশ্যমান আলেখ্য নির্মাণের জন্যই শিল্পীর জ্ঞানকাঠামোতে রূপের ধারণা তৈরি হয় এবং শিল্পী তা বিভিন্ন মাধ্যমে বা পরীক্ষা নিরীক্ষার ফলাফল হিসেবে প্রকাশ করে থাকেন।

ভাস্করের ভাস্কর্য নির্মাণের নেপথ্যে একটি বক্তব্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। একটি কাষ্ঠখন্ড, ইট, সুরকি বা সিমেন্ট দিয়ে তৈরি একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করার পর সেটার নেপথ্যের বক্তব্য যদি ভাস্কর্যের গড়ন ও অভিব্যক্তির মধ্য দিয়ে প্রকাশ না পায় তাহলে তা শিল্পের চৌহদ্দিতে আসে না এবং সেক্ষেত্রে শিল্পীর সৃষ্টিশীল উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।

সুতরাং সাহিত্যের মতো শিল্পেরও অর্থবহ হয়ে ওঠার প্রবণতা রয়েছে আর এটাই চিরন্তন সত্য।

আর তাই শিল্পের অর্থবহ হয়ে ওঠার জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজন অর্থ নির্মাণ করা যেখানে বিষয়ের উপস্থাপনা এবং রূপের আদল কোনো না কোনো অর্থ প্রকাশ করবে।

অর্থাৎ একজন শিল্পী যে বিষয় নিয়ে চিত্র আঁকেন বা কোনো শিল্পকর্ম নির্মাণ করে থাকেন সেই বিষয়টাই শিল্পে রূপ হিসেবে আসে আর সেই রূপকে দৃশ্যমান করার জন্য শিল্পী যে নির্মাণকৌশলের ভেতর দিয়ে সেটার প্রকাশ ঘটান; এর ভেতরকার কথাগুলোই রূপতত্ত্ব। বিষয়ের নানান আঙ্গিক এবং বিশ্লেষণই রূপতত্ত্বের শামিল। পাশ্চাত্যের পন্ডিতদের মধ্যে জনসন বলেছেন- “কবিতা হচ্ছে সত্য এবং আনন্দের সম্মিলন।” মেকলে বলেছেন- “কবিতা হচ্ছে সেই রচনা যেখানে শব্দ এমনভাবে ব্যবহৃত হয় যাতে পাঠকের কল্পলোকে ঐ শব্দ একটি চিত্রিত সৌন্দর্যের জগৎ উন্মুক্ত করে দিতে পারে; শিল্পী রং তুলি দিয়ে যে কাজ করেন; কবি শব্দ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে সেই কাজটি করেন”।

অর্থাৎ শিল্পী রং তুলি দিয়ে ক্যানভাসে শব্দ নির্মাণ করেন। শব্দের পসরা সাজান, শব্দ দিয়ে বাক্য রচনা করেন আর তারপর সেই শব্দগুলো অনুভূতিকে বা ভাবকে প্রকাশ করে। এই প্রকাশ করার মধ্যেই শিল্পের ধর্ম নিহিত। শিল্প নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক বিশ্বাস রয়েছে যা যুগ যুগ ধরে শিল্পীরা ধারণ করছেন; সেটা হচ্ছে শিল্পীর অনুভূতি অন্যকে অনুরণিত করবে বা দৃষ্টির সীমানায় বোধের পরিসীমায় দৃশ্যত জ্ঞানকে ছন্দোবদ্ধ করে আলোড়িত করবে।

কার্লাইল কবিতাকে বলেছেন ‘Musical Thought’। ছন্দোময় ভাবনাটা যদি কবিতা হয়; শিল্পও তো তাহলে তাই। রেখার ছন্দোময় অবস্থান, সুরারোপিত ভাব এবং রঙের ছন্দোময় প্রকাশটাই তো শিল্প। আর সেজন্য চারুশিল্পের সাথে কবিতার সম্পর্ক অনেক গভীর।

কবিতার সাথে চিত্রকর্মের সাদৃশ্যপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিতরূপে প্রতীয়মান করাটা নিশ্চয়ই খুব কঠিন কাজ নয়। রং এর ছন্দোময় অবস্থান এক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর চিত্রকলাতে রঙের পরিভাষা নির্মিত হয় আবার রং লেপনের মাত্রাও বিভিন্ন আঙ্গিকে প্রকাশিত হয়। শিল্পী এমনভাবে স্ট্রোকগুলো দেয় যেন সেখানে সুর এবং ছন্দ আরোপিত হয়। আবার একটা রঙের স্ট্রোকের সাথে ভিন্ন রঙের স্ট্রোক যেমন লালের পাশে সবুজ বা নীলের পাশে হলুদ এমনটি হলেও যেন পরস্পরবিরোধী কোনো অবস্থান তৈরি করে না বরং ছন্দোময় প্রকাশধর্মী বৈশিষ্ট্যে তা আবিষ্ট হয়।

শিরোনামহীন, শিল্পী সোমনাথ হোড়

http://print.thesangbad.net/images/2019/March/13Mar19/news/Untitled-3.jpgনকশাধর্মী রংলেপনেও বিভিন্ন রঙের পারস্পরিক আবেদন হয়ে ওঠে একতাবদ্ধ। রং সুর আরোপ করে থাকে চিত্রের জমিন জুড়ে আর রং যে ছন্দোময় সুরের আলাপন নির্মাণ করে এই বিষয়টা এতটাই গুরুত্ববহ যেন রূপের আদলের কাঠামোটাও অনেক সময় রংনির্ভর মনে হতে পারে। যেমনটা আমরা দেখতে পাই শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর চিত্রকর্মে। শিল্পীর ছবিতে রং দিয়ে রূপ নির্ণয়ের বিন্যাস প্রক্রিয়া লক্ষণীয়। ছবির বিষয়গত বিন্যাস অনেক সময়ই চিত্রের অবজেক্ট নির্ভর যেখানে প্রাধান্য পেয়ে থাকে রং। অর্থাৎ রঙের পরিস্ফুটনেই শিল্পী ভাবের আদলকে অনেক বেশি সক্রিয় করে তোলে। সুন্দরের প্রতি ভালোলাগার দৃষ্টিকে আবদ্ধ করে অনুভূতিকে ছড়িয়ে দেয় রং নির্ভর রূপ নির্মাণের দ্বারা। ক্যানভাস জুড়ে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী যে রূপকে নির্মাণ করে থাকেন তা হৃদয়ানুভূতির সাথে একাত্ম হয়ে ওঠে। রং ব্যবহারে যদি ছন্দের মাত্রায়ন ঘটে এবং উপস্থাপনায় নতুন দ্যোতনা আরোপিত হয় তবে তা কাব্য নিশ্চিতভাবেই কাব্য হয়ে ওঠে। শিল্পকর্মে “রূপ” যে আবহ তৈরি করে এবং যে অর্থ ধারণ করতে দর্শককে আলোড়িত করে সেই রূপই কাব্যের মতো মনের মধ্যে উপলব্ধির আলিঙ্গন ঘটিয়ে থাকে।

আবার কবিতার নির্মাণ এবং চিত্রকর্মের নির্মাণের মধ্যে যদি পার্থক্য নির্মাণ করতে চাই তবে প্রায় সবক্ষেত্রেই সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। তফাৎ শুধু মাধ্যমের এবং ভাববিন্যাসের প্রতিচ্ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে। এই প্রসঙ্গে শ্রীশচন্দ্র দাশ বলেছেন, “মানব মনের ভাবনা কল্পনা যখন অনুভূতি রঞ্জিত যথাবিহিত শব্দ সম্ভারে বাস্তব সুষমাম-িত চিত্রাত্মক ও ছন্দোময় রূপ লাভ করে, তখনই উহার নাম কবিতা।”

আর মানব মনের ভাবনা কল্পনা যখন রং এর মাধ্যমে রঞ্জিত হয়ে চিত্রাত্মক হয়ে ভাব প্রকাশ করে এবং অন্যের ভাবের মাঝে অনুভূতিকে ছড়িয়ে দেয়, তখনই তা চিত্রশিল্প। শিল্পী যখন তাঁর একান্ত নিজস্ব অভিজ্ঞতা, অনুভূতি, ভাবনাচিন্তাকে রং রেখার বেষ্টনীতে চিত্রে উপস্থাপন করেন তখন সেই ক্যানভাস হয়ে ওঠে মৃন্ময় শিল্প। এই শিল্পে শিল্পী নিজের অনুভূতির রূপ নির্মাণ করে থাকেন- যা বিমূর্তও হতে পারে আবার আধা বিমূর্তও হতে পারে। আবার শিল্পী যদি প্রকৃতিকে হুবহু অনুকরণের মাধ্যমে ক্যানভাসে উপস্থাপন করেন এবং প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন তবে তা বাস্তবধর্মীও হতে পারে। শিল্পী যা ভাবেন এবং একান্তই নিজস্ব জ্ঞানকাঠামোর যে রূপাবয়ব তৈরি করেন তাই এক্ষেত্রে দৃশ্যায়িত হয়ে থাকে। এই জাতীয় ক্যানভাসে রঙ কথা বলবে; ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং রেখার গতিময়তা বেশ গুরুত্ব বহন করবে। মৃন্ময় শিল্পের চিত্রকাঠামো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভক্ত হতে পারে আবার ভারি রং, হালকা রঙের পার্থক্য পরিলক্ষিত হতে পারে আবার এইসকল কিছুই দৃশ্যমান বোধগম্যতাকে পাশ কাটিয়ে শুধুমাত্র শিল্পীর চিন্তার স্তরে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে।

শিল্পী যখন বস্তুজগতের হুবহু রূপকে যথাযথরূপে প্রকাশ করেন তখন তাকে তন্ময় শিল্প বলে। যেমন একটি চেয়ারকে শিল্পী এমনভাবে আঁকল যেন দেখে মনে হয় সত্যিই একটি কাঠের চেয়ার যা বাস্তব। আবার অতিবাস্তব কোনো চিত্রকর্ম এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অতিবাস্তবতার পর্যবেক্ষণ নিরীক্ষণ এবং চর্চা সকল কিছুই বাস্তব জ্ঞানের সাথে কল্পলোকের এবং রূপনির্ণয়ের সম্পর্ক স্থাপন করে দেয়। কিন্তু এক্ষেত্রে বাস্তব নির্ভর রূপ নির্ণয় বা অনুকরণকেই গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। অর্থাৎ বস্তুজগতের এমন কোনো বিষয়কে হুবহু চিত্রে রূপায়িত করে যেন অবাক করে দেয় দৃষ্টিকে এবং মনকে তৃপ্তি দান করে। তন্ময় শিল্পের ধারণা থেকেই জড়জীবন চর্চা বা স্টিল লাইফ চর্চার বিকাশ ঘটেছে।

জড় জীবন চর্চার মধ্য দিয়েই বস্তুজগতের যথাযথ “রূপ” প্রকাশ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রূপ এর নির্মাণ এবং বিন্যাসে বস্তুজগতের সামগ্রিকতা ব্যাপকতা পেয়েছে। বস্তজগতের যথাযথ রূপায়ণে পৃথিবীর বস্তুসত্য তথা জীবনকাঠামোর অভিনিবেশ তৈরি হয়। জীবন কাঠামোর সাথে বস্তুর সম্পর্ক প্রয়োজন সাপেক্ষে আর তাই তো বস্তুরূপের নির্মাণ শিল্পে উপস্থিত হয় খুব স্বাভাবিকভাবেই।

শিল্পী অলক রায়ের কাজে মুখাবয়বের উপস্থিতি অনেক বেশি কিন্তু “রূপ” নির্মাণের ক্ষেত্রে বস্তুধর্মকেই বার বার গুরুত্ব দিয়েছেন। পাখির বাসা, হাঁড়ির বাঁক সুলভ গড়ন, পানপাত্র, দৃশ্যপাত্র এতসব কিছু কিন্তু বস্তুগড়নেই নির্মিত।

বস্তুর আকার এবং সামঞ্জস্যতা বিধান করে উপস্থাপন করাটা শিল্পের আওতার মধ্যেই পড়ে আর পুরো কাজটি সম্পন্ন হয়ে গেলে “রূপ” পরিপূর্ণ অর্থ প্রকাশের সামর্থ্য অর্জন করে থাকে। আবার বস্তুর আকার নির্ধারণ করাটাই শিল্পের “রূপ” নয়; বরং তা শিল্পের রূপ নির্ণয়ের একটা প্রাথমিক ধারণামাত্র।

যেমন ক্যানভাসে একটি ফুলদানি আঁকা হলো কিন্তু ফুলদানিটাই কিন্তু চিত্রের সমস্ত রূপকে দৃশ্যায়িত করে না। এখানে দৃশ্যত উপস্থাপনে আরও বিভিন্ন বিষয় থাকে। ফুলদানির উপস্থাপনার ভঙ্গিটাও গুরুত্বপূর্ণ আর এক্ষেত্রে শিল্পীর চিন্তার ধরনটাই চিত্রের প্রধানরূপ যেখান থেকেই শিল্পের বিকাশ ঘটে থাকে এবং সর্বোচ্চ মাত্রায় উত্তীর্ণ হয়। আলো আঁধারি ছায়ায় বিষয়ের উপর হালকা ধরনের আলোর ব্যবহার বা আলোর সঠিক বিচ্ছুরণ ছাড়া অন্ধকারকে নিমন্ত্রণ জানানো অথবা কখনো কখনো জীবনের ক্লান্তিপথকে বস্তুর আলো-আঁধারি উপস্থাপনে নির্ণয় করে থাকেন শিল্পী যেখানে “রূপ” নির্ণীত হয়। এই উপস্থাপনের ধরণ আঙ্গিক সমস্ত কিছুই শিল্পীর ধারণা নির্ভর। সুতরাং রূপের নির্মাণে আইডিয়া বা শিল্পীর ধারণাই মৌলিক উপাদান। আবার আইডিয়াকে শিল্পের “রূপ” বললেও কিন্তু বাড়িয়ে বলা হবে না। অর্থাৎ ধারণা বা আইডিয়া থেকেই সৃষ্টিশীল কর্ম সম্পাদিত হয় এবং তা আলোচিত ও সমালোচিত হয়। একজন শিল্পীর সার্থকতা সেখানেই, যেখানে কোনো বিষয় নিয়ে শিল্পীর ধারণা বা রূপ নির্ণয় সঠিক ও যুগ উত্তীর্ণ হয়ে ওঠে।

নেপোলিয়ান বোনাপার্ট বলেছেন, “আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দিব”। এই কথাটির যেমন অনেক গভীরতা রয়েছে, ব্যাখ্যা রয়েছে ঠিক তেমনি বোঝার ব্যাপারটিও অনেক বেশি সাবলীল এবং সরল।

শিল্পের ক্ষেত্রে আইডিয়া বা ধারণা হচ্ছে শিল্পের মা। যে মা একটি শিশুর জন্ম দেয় এবং ধীরে ধীরে শিশুটি বড় হয়ে মানুষ হয়ে উঠতে পারে। একটি ছবি ভাস্কর্য বা ছাপচিত্র প্রকৃতপক্ষে শিল্প হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সেই চিত্রের নির্মাণ কাঠামোতে উপস্থিত রূপের আইডিয়াটি বা ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইডিয়া যদি ভালো হয়, তা যদি সময়ের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব কষে সত্য ও সুন্দরের সংযুক্তিতে কালোত্তীর্ণ হয়ে ওঠে এবং বাস্তবতার মাপকাঠিকে জীবনের ধারাবাহিকতার মধ্যে নবতর রূপে স্পর্শ করে তবেই তা মাধ্যমের সঠিক প্রয়োগে পরিপূর্ণ রূপকে প্রকাশ করে। শিল্পের রূপ ঠিক মাটির ভেতর লুকিয়ে থাকা পানির কণার মতো। খুব সহজে দেখা যায় না কিন্তু মাটির গাঁথুনির জন্য পানির অপরিহার্যতা অপরিসীম। শিল্পের “রূপ” প্রকাশের জন্য আইডিয়াও তেমনভাবে অপরিহার্য। অর্থাৎ ধারণা বা আইডিয়ার বিন্যাসটাই শিল্পের রূপকে পরিস্ফুটিত করে। আইডিয়া থেকেই “রূপ”-র গাঁথুনি আবার আইডিয়া থেকেই তা মানুষের মূল্যবোধকে ধারণ করে, সমাজ বাস্তবতাকে স্পর্শ করে ও জীবনের গল্পকথার সাথে নিজের মিল খুঁজে নেয় অতঃপর মানুষের চিন্তাকে নাড়িয়ে দেয়; আকৃষ্ট করে দৃষ্টিকে। আর তখনই তা আবেদনময় হয়ে ওঠে। সুতরাং আবেদনময়তাই শিল্পের “রূপ” যা সৃষ্টির স্পন্দনকে আলোড়িত করে।

শিল্পীর ভাব-কল্পনার সাথে বাস্তবতার একটি যোগ-সাজশ আছে। কিন্তু বাস্তবতার সাথে ব্যক্তিমানুষের মনের গল্পকথাগুলোর মিল যেমন থাকে আবার অমিলও থাকে। কখনো কখনো বাস্তবতার বাইরেও চলে যেতে পারে। এক্ষেত্রে বাস্তবতাকে নিজের করে নেবারও কিছু বিষয় থাকে; যেখানে শিল্পীর চিন্তার প্রতিষ্ঠা নির্ভর করে থাকে। এখানে বিশেষ এবং সাধারণ শব্দ দুইটি প্রয়োগ করাই যৌক্তিক।

অর্থাৎ সাধারণ দৃষ্টি আর শিল্পীর বিশেষ দৃষ্টি আবার সাধারণ অনুভূতি আর শিল্পীর বিশেষ অনুভূতির মধ্যে যে গভীরতা রয়েছে তাই চিত্রের রূপ নির্মাণে সহায়ক। দৃষ্টির এবং চিন্তার এই পার্থক্যই বিশেষ “রূপ”কে প্রকাশ করতে সমর্থ হয়। অনুভূতির ব্যবচ্ছেদ করে তা নিয়ে শিল্পী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে থাকে এবং অবশেষে কোনো না কোনো “অবয়ব” দান করে। আর তখনই অনুভূতি শিল্পের রূপকে দৃশ্যমানকে করে তোলে।

শিল্পী ভ্যানগগ “সূর্যমুখি” ফুল নিয়ে অনেক ছবি এঁকেছেন। কখনো ফুলদানির গুরুত্ব প্রকাশ পায় আবার কখনো ফুলদানির গুরুত্ব হ্রাস পায়। আবার সূর্যমুখির ভিন্ন ভিন্ন অবস্থার উপস্থপনা ভিন্ন ভিন্ন সময় ও রূপকেই আলিঙ্গন করে থাকে। মূলত শিল্পী জীবন অনুভূতির হরেক রকমের রসবোধ একই বিষয়ের আলিঙ্গনে অনুরণিত করেছেন। এক্ষেত্রে শিল্পের রূপ শুধু সূর্যমুখি ফুলটি কিন্তু নয়। শিল্পের প্রকৃত রূপ হচ্ছে সূর্যমুখির বিশেষ বিশেষ অবস্থা যার ভিতর দিয়ে শিল্পী ভ্যানগগ অনুভূতির রূপকে প্রকাশ করতে চেয়েছেন।

অনুভূতি দিয়েই শিল্পের রূপ আরোপিত হয় এবং অনুভূতির আবেষ্টনীতে শিল্পের আঙ্গিনা ব্যাপৃত হয়। সদাসর্বস্ব কৃত্রিমতা ছাড়িয়ে জীবনের বোধ আর আকাঙ্ক্ষা সত্যের অভিপ্রায়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়। সুতরাং শিল্পের সৃষ্টিমূলে “রূপ” অনুভূতির মানদন্ডেই বিকশিত হয় এবং শিল্পীর চিন্তাকে বা সৃষ্টিপ্রাণকে সার্থক করে তোলে। শিল্পী স্বপ্ন বিলাসী, অতিবাস্তববাদী এবং অতি ঈন্দ্রিয়বাদী হলেও অনুভূতির রূপটাই তাকে সৃষ্টির অবয়ব বা সৃষ্টিরূপকে মজবুত করে তোলে।

http://print.thesangbad.net/images/2019/March/13Mar19/news/Untitled-5.jpgবিশিষ্ট শিল্পসমালোচক রজার ফ্রাই (Roger Fry) যে কথা বলেছেন, তা থেকে আমরা শিল্প সম্পর্কে একটি নৈর্ব্যক্তিক এবং নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পেয়েছি।

রজার ফ্রাই বলেছেন যে, “শিল্প সৃষ্টির সময়ে শিল্পীকে একটি নিরপেক্ষ বস্তুভিত্তিক নির্মোহ দৃষ্টি অর্জন করতে হবে”।

আমরা সাধারণভাবে এই বিশ্বজগতে যে বস্তুকে যেভাবে দেখি শিল্পদৃষ্টি তা থেকে পৃথক। শিল্পী শুধুমাত্র বস্তুজগৎকে আলোকচিত্র (Photography)-র মতো Copy করে না, অথবা আপাতত দৃশ্যমান বস্তুজগৎকে ঠিক সেভাবেই দেখে না যা সাদা চোখে দেখা যায়। অনেকটাই আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে শিল্পী এই বস্তুজগৎকে নিজের মধ্যে নতুনভাবে সৃষ্টি করেন- যা সাধারণভাবে চোখে দেখা যায় তাকেই সত্য বলে মেনে নেন না।

দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় তাঁর “রূপ রস সৌন্দর্য” গ্রন্থেও ২৪ পৃষ্ঠায় বলেছেন- “যে দিক থেকেই বলি না কেন, শিল্পের বিশ্লেষণ করলে দেখানো যায় যে রূপ ও রসের সংযোগ রসকে যেমন রূপের খাঁচায় বন্দী করে না, রসও তেমনি নিজস্ব, স্থির ও অন্তর্লীন রূপ ব’লে কোনো কিছুকে শিল্পী কল্পনার পটে অনিবার্যভাবে প্রক্ষেপ করে না।”

মূলত শিল্পী হচ্ছে একজন রূপকার। আর রূপকারের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রূপ দান করার মাধ্যম এবং রূপকারের কাছে প্রধান হচ্ছে বিষয়বস্তু বা উপাদান। কারণ বস্তু ছাড়া রূপ সজ্জা হয় না এবং এমনটি ভাবা স্ববিরোধী পরিকল্পনার অংশ।

রূপ কী?

অবশ্যই এটা অলীক কোনো কিছুর অবয়ব নয়। দৃশ্যমান কোনো বস্তুর অবয়ব থেকে অথবা প্রকৃতি থেকে শিল্পী তাঁর সৃষ্টি রূপকে পরিগ্রহ করে থাকেন। আর বস্তুর সাথে শিল্পীর সম্পর্কটা কী সেটাও নির্ণয় করার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা যা দেখি, যা কিছু স্পর্শ করি সবকিছুর মধ্যেই চিন্তার রসদ থাকতে পারে বা অবয়ব নির্মাণের ধারণা থাকতে পারে। বিছানার চাদর, জানালার পর্দা সুন্দর হতে পারে; টেবিলের উপর রাখা বইগুলো দেখতে ভালো লাগতে পারে আবার দেয়ালে যে চমৎকার ক্যালেন্ডারটি ঝুলছে বা জানালা দিয়ে যে গোলাপ গাছটি দেখা যাচ্ছে এই সব কিছুতেই মনের সুন্দরের কোনো না কোনো সুন্দরের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। প্রত্যক্ষ বস্তুরূপ এবং সেটার গুণাগুণ আমাদের দৃষ্টিতে আকর্ষণ তৈরি করে, যার ফলে বস্তুর সাথে মনের সম্পর্ক নির্ধারিত হয়ে যায় এবং এই সম্পর্কের হাত ধরেই বস্তুর রূপ নির্ণয়ে শিল্পীর চেতনা বিধৌত জ্ঞান সৃষ্টিরূপ নির্ণয়ে শিল্পীকে আগ্রহী করে তোলো। এই সম্পর্কের বিশ্লেষণের মাত্রাতেই শিল্পী রূপকে প্রকাশ করে থাকেন।

প্রকৃতিগত বা বস্তুজগতের যে কোনো কিছুর বর্ণ, গন্ধ, আকার-আকৃতি, ছন্দ, ভঙ্গিমা প্রভৃতি গুণাবলি শিল্পীর চেতনালব্ধ জ্ঞানের ভান্ডারে জমা হয়। আর শিল্পী সেই সকল অভিজ্ঞতার আলোকে ও কর্মস্পৃহার অনুনাদে বস্তু রূপকে শিল্প রূপে পরিণত প্রাপ্ত করে তোলে। কোনো একটি বস্তুরূপ ঠিক তখনই শিল্প হয়ে ওঠে যখন তাতে সুন্দরবোধের সংযুক্তি ঘটে এবং সময়ের ঘটনা প্রবাহ ও জীবন প্রবাহের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে থাকে। আর এভাবে ভাবনা প্রসূত জ্ঞানকে সৃষ্টির নিমিত্তে যখন সুন্দরকে ক্যানভাসে বা কাগজে অথবা যে কোনো মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে তখনই রূপের সার্থকতা ব্যাপক পরিসরে মুক্তি লাভ করে থাকে।

এখানে আরেকটি প্রশ্ন উত্থাপন করা যেতে পারে। প্রশ্নটি হচ্ছে...

সুন্দর কি শিল্পীর তৈরি নাকি শিল্পরূপের ধর্মই হচ্ছে বস্তুসৌন্দর্যকে উপস্থাপিত করা। আর শিল্পী যদি বস্তুর সৌন্দর্যকে নিয়ে কাজ করে থাকে তবে সেই সুন্দরের রসবোধতো অনুভূতির অন্তঃদৃষ্টির হয়েই বেঁচে থাকার কথা। অর্থাৎ শিল্পীর মনের ভেতরকার বা চিন্তার অথবা দর্শনের ভাবটাই শিল্পীর কর্মের মধ্যে সুন্দর হয়ে দৃশ্যমানতায় আসে।

ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইংরেজ সাহিত্যিক অস্কার ওয়াইল্ড বলেছেন, “The Artist is the creator of beautiful things. reavel art and conceal the artist is the artist aim. There is no such thing as a moral or immoral book. Books are well written or badly written.”

অর্থাৎ শিল্পের কাজ হচ্ছে সুন্দর বস্তু নির্মাণ করা, এছাড়া তার আর কোন দায়িত্ব নেই;... শিল্পের সাথে একমাত্র যুক্ত বিষয় হচ্ছে সৌন্দর্য।

সুন্দরের উপলব্ধি থেকে শিল্পের জন্ম এবং সুন্দরের প্রকাশেই শেষ।

তাহলে আমি বলব যে, “শিল্পের যে কোনো রূপ-ই হচ্ছে শিল্পীর মনের মধ্যে ভাসমান বা গেঁথে থাকা চেতনার প্রতিভাস অথবা চিন্তার প্রতিরূপ।” বিষয়টি শিল্পের দার্শনিক পক্ষের ‘Art for Art Sake’ তত্ত্বের অনুসারি। এই তত্ত্ব আবার শিল্পের সর্বজনীনতাকে পাশ কটিয়ে যায়। এই বিষয়ে পরবর্র্তী অধ্যায়ে আমার বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

“Art form is creative interpretation of life & reality”- অর্থাৎ শিল্পের রূপ হচ্ছে জীবন ও বাস্তবতার সৃজনশীল অভিব্যক্তি।

ঋণস্বীকার

১. দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, রূপ রস ও সুন্দর

২. নন্দলাল বসু, শিল্পকথা, ১৯৪৪, কলকাতা; রূপাবলী, ১৯৫৫, কলকাতা

৩. ডঃ সাধন কুমার ভট্টাচার্য, শিল্পদর্শন ও সাহিত্য আলোচনা, ২০০৪, কলকাতা

৪. অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাগীশ্বরী শিল্প প্রবন্ধাবলী, ১৯৯৯, কলকাতা

৫. Dessoir, Max, Aesthetics and theory of Art