menu

লুইস গ্লুকের কবিতা

‘তাজা বাতাসে জড়ানো নতুন পৃথিবী’ অনুবাদ : অশোক কর

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২০
image

গ্রিটেল, অন্ধকারিত্বে

এমন পৃথিবীই আমরা চেয়েছিলাম।

যারা আমাদের মরে যেতে দেখেছিলো, ওরা

এখন মৃত। ডাকিনীর কান্না শুনতে পাই

একচিলতে চিনির টুকরো ভেদ করে ছড়িয়ে পড়া

চন্দ্রালোকে: ঈশ্বরের কৃপা!

ওর জিহ্বা কিলবিলিয়ে উঠছে গ্যাসে...

এখন, প্রমিলা বাহুডোর

আর নারী স্মৃতিকাতরতা থেকে দূরে, বাবার চালাঘরে

আমরা ঘুমাই, ক্ষুধা আমার পায় না কখনই। ভুলতে পারি না কেন আমি?

বাবা দরজায় খিল দিয়ে রাখেন, এই ঘরের অনিষ্ট

আগলে রাখেন, বছর পর বছর।

কেউ আর স্মরণ করতে পারে না। এমন কি ভাই আমার, তুমিও না,

গ্রীষ্মের বছরগুলোতে আমার দিকে চেয়ে যেন

বোঝাতে চাইতে তোমার বিদায়ের ক্ষণ উপস্থিত,

যদিও, বাস্তবে তেমনটি ঘটেনি কখনোই।

তবু খুন করেছি তোমার জন্য। সশস্ত্র দেবদারুদের দেখি

চিমনিতে প্রতিফলিত সর্পিল আলোর প্রভা-

রাতে পাশঘুরে ঘেঁষে থাকি আলিঙ্গনে রাখবে বলে

কিন্তু তুমি আর সেখানে নেই।

আমি কি নিঃসঙ্গ? গুপ্তচরেরা

ফিস্ ফাস্ করে স্তব্ধ নীরবতায়, হ্যানসেল,

ওখানেই আমরা আছি এখনো, সেটাই অন্বর্থ, সত্যভাষণ,

এই কালো বনভূমি আর দাবানলই গূঢ় বাস্তবতা!

সান্ধ্য উপাসনা

জানি, তোমার অভিপ্রায় কী ছিলো, কী করতে চেয়েছিলে তুমি, আমাকে শেখালে

কী করে পৃথিবীকে ভালবাসতে হয়, অসম্ভব করে তুলতে হয়

পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নেয়া, কীভাবে ফের চিররুদ্ধ করে তুলতে হয়-

সর্বত্রই তাই; যেই আমি চোখ ঢাকি,

পাখিদের কূজন, আগমনী বসন্তে লাইল্যাকের সুগন্ধ, গোলাপের সুবাস;

প্রতিটি ফুল তুমি তুলে নিতে চাইতেই পারো, পৃথিবীর সাথে সকল সংলগ্নতা-

কেন কষ্ট আহত করবে আমাকে, কেন তুমি চাইবে আমাকে

নিরাসক্ত করে তুলতে অবশেষে, আমাকে প্রত্যাশায় ক্ষুধায় জ্বালিয়ে মারতে

আমি নিজেকে অস্বস্তিকর পরিবেশে দেখতে অস্বীকার করবো

যখন সবকিছুর শেষে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, আমি বরং ধরে নেব

তুমি অবশেষে চলেই গেছ আমাকে রেখে।

এস্টার ঋতুকাল

সে এক সুনসান নৈঃশব্দ্য... শুধু বড্ড মাতামাতি

গুল্মলতাদের, সুগন্ধি উষ্ণ হাওয়া মেলে উপকূলবর্তী আমাদের

সুবাসিত রেখেছে। দেখছি বন্ধুদের করতলের বিস্তারমান নিস্তব্ধতা।

ওয়েস্টচেস্টারে, ক্রোকাস ফুলগুল্ম ক্যান্সারের মতো ছড়ায়!

এ যেন আমার কাছে মৃত্যুসমান। অনুভবে বুঝি, পাতারা গুটিয়ে নিচ্ছে,

উপর-নিচ, চারপাশ থেকে অঙ্গীকারকে ঘিরে ধরছে বিপদ।

না, সত্যি নয়। কুঁড়ির সবুজ বীজের গুটি, বুনো ঘুঘুর পুচ্ছ

ঝরে যায় একসময়ে। আর উদ্গম হয় বাকি সব কিছুর!

প্রথম তুষারপাত

শিশুদের মতো, ঘুমাতে যাচ্ছে পৃথিবী,

অথবা এভাবেই গল্প এগিয়ে যায়।

কিন্তু আমি তো ক্লান্ত না, ও বলে।

আর মা বলে, তুমি হয়তো ক্লান্ত না, কিন্তু আমি অবসন্ন-

মায়ের ক্লান্তিমাখা মুখ দেখতেই পাও, সবাই দেখে।

শীতে তুষারপাত হতেই হয়, ঘুমও আসে।

কারণ মায়েরা জীবনভর মৃতপ্রায় রোগাক্রান্ত

আর নিস্তব্ধতা প্রত্যাশী।

তুষারবিন্দু

তুমি কি জানো আমি কী ছিলাম, কেমন আমার জীবনযাপন? জানো কি

হতাশা কাকে বলে; তাহলেই

শীতকাল তোমার কাছে অর্থবহ হয়ে উঠবে।

বেঁচে থাকার তেমন কোনো প্রত্যাশা ছিলো না,

পৃথিবী সংযত করেছে আমাকে, আশাও করি নি

কোনদিন ফের জেগে উঠবো, অনুভব করবো

ভেজা মৃত্তিকার নিচে আমার দেহ

সাড়া দিতে পারবে আবার, স্মৃতিতে জাগবে

কতকালের ব্যাবধান শেষে ফের মেলে ধরা

আশু বসন্তের

শীতার্ত আলো আভায়-

ভয়, হ্যাঁ, তবু তোমাদের সাথেই আবার

চেঁচিয়ে বলছি হ্যাঁ সম্ভাব্য ঝুঁকি উল্লাস

তাজা বাতাসে জড়ানো নতুন পৃথিবী।