menu

মুহম্মদ খসরুর সাথে মাহবুব আলমের কথাবার্তা

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৪ এপ্রিল ২০১৯
image

মুহম্মদ খসরু

(পূর্ব প্রকাশের পর)

মাহবুব : আপনি বোধহয় মেইন স্ট্রিমের ছবির কথা বলছেন...

খসরু : অবশ্যই, ফিল্ম মানেই মেইন স্ট্রিমে থেকে ছবি করা। ঐসব শর্টফিল্মের নামে বিকল্প ধারায় কিছু হবে না। মূল ভূমিতেই কাজ করতে হবে। সৃজনশীল কাজ। পরিচ্ছন্ন ছবি করারও যে একটা ধারা আগে ছিল, এখন সেটাও নেই। ষাটের দশকের ছবিগুলোর কথাই ধর, তখন তো জেদ করে, উর্দু ছবির সঙ্গে, ভারতীয় ছবির সঙ্গে লড়াই করে ছবি করতে হতো। জহির রায়হান, সালাহউদ্দিন, সুভাষ দত্ত, খান আতার ছবিগুলোর কথাই ধর, এদের ছবির গানগুলোর কথাই ধর, আমি তো মনে করি খান আতা একজন শক্তিশালী সুরকার। তার প্রত্যেকটা ছবির গান অত্যন্ত জনপ্রিয়। আজকে গানের মধ্যে কী আছে? এগুলো সব অপসংস্কৃতি। রেডিও তো খোলাই যায় না, টেলিভিশন তো দেখাই যায় না। আর রেডিও-টিভি অহর্নিশ ভারতীয় সিনেমার এ নকল গানগুলো প্রচার করে যাচ্ছে। এগুলো হচ্ছেটা কী? আর এখন যে হারে ডিশ অ্যান্টেনা চালু হয়েছে, এটাই গিলে খাচ্ছে সব। বাংলাদেশ টেলিভিশন কে দেখছে? সুতরাং এগুলো টেলিভিশনের ভাবার ব্যাপার আছে। টেলিভিশন একটা লাভজনক প্রতিষ্ঠান। টেলিভিশনের ছবি করার উদ্যোগ নেয়া উচিত। অন্যান্য দেশে টেলিভিশন পূর্ণাঙ্গ কাহিনিচিত্র প্রযোজনা করে থাকে। তুমি দেখ জার্মানিতে, অধিকাংশ ছবির প্রযোজনা হলো জার্মান টেলিভিশন। আমাদের বিটিভিরও বছরে অন্তত দশ-বারোটি ছবি নির্মাণ করা উচিত। এ প্যাকেজ নাটক-ফাটক এখন যেভাবে হচ্ছে এতে কিছু হবে না। টিভির ছবির নিয়মকানুনের খোলনলচে একদম পাল্টে ফেলতে হবে। চাই নির্মাণের স্বাধীনতা। আর চিত্রনাট্য দেখেই টাকা দিতে হবে।

মাহবুব : টেলিভিশন নিয়ে আমরা ভাবছিলাম পরে কথা বলব। যাই হোক, কথাটা উঠলই যখন, আসলে শিল্প-সংস্কৃতি হলো একটা জাতির জীবনে বহতা নদীর মতো। একটা মাধ্যম আরেকটাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে টিভি কি চলচ্চিত্রকে সেই সহায়তাটুকু দিয়েছে?

খসরু : না, অবশ্যই দিতে পারে নাই এবং আজ পর্যন্ত কোনো কিছু দেয়ার কর্মসূচিও গ্রহণ করে নাই। কিন্তু দেখ, ভারতবর্ষে যে কথাটা আগেও বলেছি, ওখানে টিভিতে আর মুভিতে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। টিভি ভালো ছবি বানাচ্ছে, এবং সেসব ছবি সিনেমা হলে দেখাবার ব্যবস্থা হচ্ছে। প্রত্যেকটি রিজিওনে টেলিভিশনের জন্য ফিল্ম করার আলাদা বাজেট আছে। তারা যে ছবিগুলো বানায় এবং যাদের দিয়ে বানায় প্রায় প্রত্যেকটা ছবিই উল্লেখযোগ্য। যেমন ‘দাসী’ ছবিটার কথাই আবার বলি, দেখেছ ছবিটা?

মাহবুব : হ্যাঁ, দূরদর্শনে দেখেছি, ক্রীতদাসীদের নিয়ে তোলা ছবি...

খসরু : নরসিমার করা ছবিটা। বহু প্রশংসিত, বহু বিতর্কিত ছবি এটা। কেরালা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রথম ওর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। আর্ট কলেজ থেকে পাস করা। ইতিমধ্যে ৩-৪টা ডকুমেন্টারি ছবি বানিয়েছে। ‘দাসী’ ছবিটা আমার খুব ভালো লেগেছে। যে সময় ক্রীতদাস কেনা-বেচা চলত সে সময়কার ঘটনা নিয়ে ছবি।

তুমি দেখ, ইন্ডিয়াতে ভালো ছবি করার মোটামুটি একটা সুযোগ আছে। এই যে ওদের টেলিভিশন ছবি প্রযোজনা করছে, এনএফডিসি করছে, আবার দু’জনে মিলে যৌথভাবে ছবি প্রযোজনা করছে। এছাড়া রাজ্য সরকারও আলাদাভাবে ছবি করার জন্য টাকা দিচ্ছে। একবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার তো একাই বেশ কিছু ছবি তৈরি করল কত কোটি টাকা খরচ করে। অথচ আমাদের এখানে সেই যে কবে অনুদান দেয়া হয়েছিল, যার কল্যাণে ফিল্ম সোসাইটির ছেলেদের হাত দিয়েই বেরিয়ে এসেছিল একটি আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র ‘সূর্যদীঘল বাড়ী’ তারপর দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে এখন যে নিয়মে অনুদান দেয়া হচ্ছে তা একটা স্বেচ্ছাচারমূলক খবরদারি চাঁদা প্রদান ছাড়া আর কিছু নয়। এতে ভালো ছবি নির্মাণে কতটা সহায়ক হবে সে বিষয়ে আমার ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। নতুন নিয়মে ভালো ছবি নির্মাণের নামে বিএনপি সরকার পার্টিবাজি শুরু করেছিল। মুখ চিনে যারা বিএনপি-র লোক তারাই শুধু অনুদান পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হতো। ভাবতে অবাক লাগে, আওয়ামী লীগও বিএনপি সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করল। ভেবেছিলাম আওয়ামী লীগ সরকার হয়তো কিছুটা হলেও সুস্থ চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। কিন্তু কই, কিছুই তো হলো না। বলতে গেলে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ মাত্র। এটা খুবই হতাশাজনক। সুস্থ চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে আমরা আরও বিচক্ষণ পদক্ষেপ আশা করেছিলাম। হাসান আজিজুল হকের কাহিনি অবলম্বনে ‘নামহীন গোত্রহীন’-এর যে চিত্রনাট্য জমা দিয়েছিলাম তা উভয় সরকারের আমলে অযোগ্য বলে বিবেচিত হলো। অথচ ছবি করার জন্য অনুদানগুলো যারা পেল তাদের নামও কোনো দিন শুনি নাই।

মাহবুব : এ প্রসঙ্গে খান আতা কিন্তু একটি সুন্দর মন্তব্য করেছিল। তার বক্তব্য ছিল যে, ‘সরকারের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় সুস্থ চলচ্চিত্র নির্মাণের ধারায় কোনো ঢল নামবে না। সরকারি কোনো উদ্যোগেই কোনো সৎ শিল্প নির্মাণের প্রবাহ বেগবান হয়নি। কারণ সরকারি অনুদানের পেছনে ক্ষমতাসীন দলের যে তদ্বিরের দৌরাত্ম্য থাকে তাতে করে সত্যিকার অর্থে যারা সুস্থ চলচ্চিত্র নির্মাতা তারা অনুদান পান না।’

খসরু : সুতরাং, এইসব অনুদানের ভড়ং নয়, ভালো ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারকে নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসতে হবে। একজন ভালো চলচ্চিত্রকার যাতে সম্পূর্ণ সরকারি টাকায় স্বাধীনভাবে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পারে সেই ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে হবে আগে। তারপর ধর টেলিভিশনের কথা। টেলিভিশন এখন একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। কারণ বিজ্ঞাপন-জট। একবার কোন ঈদে যেন ঝাড়া এক ঘণ্টা বিজ্ঞাপন দেখাল। আমিও ইচ্ছাকৃতভাবে রাগ করে দেখলামÑ দেখি শালা কতক্ষণ চলে! সেই দেখলাম যে এক ঘণ্টার মতো বিজ্ঞাপন চলল। আমি ঘড়ি ধরে রেকর্ড করে রেখেছিলাম। এটা একটা ঘটনা আর কি?

মাহবুব : টিভির অনুষ্ঠানসূচিতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালায় এই ম্যারাথন বিজ্ঞাপন প্রচারের কথা উল্লেখ থাকা উচিৎ ছিল...

খসরু : এতো পচা, এতো বাজে অনুষ্ঠান আমি জীবনেও কোনোদিন টেলিভিশনে দেখি নাই। অবশ্য টেলিভিশন তো এখন ক্রমশই খারাপের দিকে যাচ্ছে। ভালো একটাই হতে পারে যদি তারা বছরে অন্তত কিছু ছবি করতে পারে। এসব ছবি দিয়ে তো তারা আর্থিকভাবেও লাভবান হতে পারে। ইন্ডিয়ান টেলিভিশনের ছবি তো বিদেশে চলছে। বিদেশে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিযোগিতায় যাচ্ছে। ‘দাসী’ বিদেশে অনেক পুরস্কার পেয়েছে। ‘পিরাভী’ ছবিটা, যেটা এনএফডিসি করেছে, সেটা লাখ লাখ টাকা ব্যবসা করেছে। সত্যজিতের পর ভারতবর্ষে এত প্রশংসিত ছবি এ যাবৎ আর কেউ করতে পারেনি। ছবির পরিচালক শা জি একদম নতুন। ফেস্টিভ্যালে তার সঙ্গে পরিচয় এবং পরিচয়ের সূত্রে বন্ধুত্ব। হি ইজ ওয়ান অফ দ্য ফাইনেস্ট ক্যামেরাম্যান, আই হ্যাভ এভার সিন ইন ইন্ডিয়া। ক্যামেরার কাজ এত সুন্দর। খুব তরুণ বয়েস, পুনে থেকে স্বর্ণপদক পেয়ে পাস করা। তুমি নিজে দেখলে বুঝতে ওটা কি এক মুগ্ধকর ছবি। কাহিনি, অভিনয়, অকল্পনীয় ব্যাপার। এখানে টেলিভিশন নিয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা তো নেই-ই, তারপর দেখ শিল্পকলা একাডেমি, যাদের কার্যক্রমে চলচ্চিত্র একটি আবশ্যিক বিষয় তারা যাত্রা, নাটক, সঙ্গীত, চিত্রকলা নিয়ে যথেষ্ট হৈচৈ করলেও ফিল্মের ব্যাপারে একটি পয়সাও খরচ করেছে বা ফিল্ম নিয়ে কোনো সেমিনার-সিম্পোজিয়াম আয়োজন করেছে এমন ঘটনা আমার অন্তত জানা নেই।

মাহবুব : শিল্পকলা একাডেমির কথা বাদই দিলাম, এরা যা করছে করুক, কিন্তু এফডিসি যেখানে বাণিজ্যের বেসাতি করছে সেখানে ডিএফপি অন্তত সুস্থ চলচ্চিত্র নির্মাণে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারত। আসলে এ প্রতিষ্ঠানটি করছেটা কী?

খসরু : এ প্রতিষ্ঠান আমার তো মনে হয় কিছুই করছে না। একটা সাদা হাতি পালা হচ্ছে। সরকার এখন যেমন একটা ভূমিকা নিয়েছে যে, সরকারি খরচ কমাবার জন্য কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে লোক ছাঁটাই করছে, আমার তো মনে হয় ডিএফপি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়া উচিত। একটা গরিব দেশে এর পেছনে কেন এত টাকা খরচ করা হচ্ছে? ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত এ প্রতিষ্ঠানের আউটপুটটা কী, তা আমার জানা নেই। এর একটা ল্যাব আছে, খুব আধুনিক ল্যাব। কিন্তু এর কাজ দেখলে তুমি বমি করে দেবে, এতো জঘন্য এর কালার কোয়ালিটি, আমি তো এ প্রতিষ্ঠানের কোন কিছুরই হদিস খুঁজে পাই না। এটা একদম বন্ধ করে দেয়া উচিত। আগে যেমন আমরা প্রতি সপ্তাহে একটা ছোটখাটো নিউজ রিল দেখতাম, সিনেমা হলে যেমন দেখায়, যদিও এর সবটাই সরকারি প্রপাগা-া। এখন তো সিনেমা হলে যাওয়াই যায় না এবং সেই নিউজ রিল আদৌ দেখায় বলে মনে হয় না। বাংলাদেশে এত আকর্ষণীয় বিষয় পড়ে রয়েছে, যার দ্বারা হাজার হাজার ডকুমেন্টারি ছবি তৈরি করা যায়, সেগুলো বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যায়। আজকাল গোটা পৃথিবীর টেলিভিশন এইসব ছবি কেনার জন্য একপায়ে দাঁড়ানো। তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় চ্যানেল খোলা হয়েছে বিভিন্ন টেলিভিশনে। ফ্রান্স টেলিভিশনে দেখলাম বাংলাদেশের ওপর কিছু ডকুমেন্টারি। সুতরাং এসব ছবির অনেক চাহিদা বিদেশে।

মাহবুব : কিন্তু আমাদের দেশের ফিল্ম মেকাররা তো বলে এসব ছবি দিয়ে তেমন বিদেশি পয়সা আসবে না, কারণ টেকনিক্যালি আমরা অনেক পিছিয়ে আছি।

খসরু : আরে করে দেখাও না, বিদেশে দেখানোর জন্য, বিদেশিদের আকৃষ্ট করার জন্য সেরকমই ছবি করতে হবে। টেকনিক্যালি হয় তো আমরা ওদের ধারে কাছে যেতে পারব না, কিন্তু বিষয়বস্তুর দিক দিয়ে অন্তত একটা ভালো কাহিনি, ভালো লোকেশন এবং টেকনিক্যালি উন্নতমানের হতে পারছিই না-বা কেন? প্রায় ২৫-২৬ জন বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র কুশলী এখানে বসে বসে মশা মারছে। এদের কোন কাজে লাগানো হচ্ছে না কেন?

মাহবুব : প্রজ্ঞাসম্পন্ন লোক দিয়ে ছবিটা করানো, যার চলচ্চিত্র জ্ঞান এবং সংস্কৃতি বোধ আছে।

খসরু : হ্যাঁ, প্রজ্ঞাসম্পন্ন লোক দিয়ে এরকম একটা ভালো রুচিসম্মত ছবি করলে সেটা বিদেশে চলবে। বিদেশিদের দেখানোর জন্য বিদেশের গু-মুত নকল করে আমরা ওদের দেখাব, আর ওরা ওটা দেখবে, এটা কি হয়? কিংবা ইন্ডিয়ার তৃতীয় শ্রেণির ছবি নকল করে যদি ইন্ডিয়ার দর্শকদের দেখাতে যাই তবে অবস্থাটা কী হবে? আমাদের করতে হলে, আমরা যাই করি...

মাহবুব : নিজস্ব জিনিস...

খসরু : একটা মৌলিক জিনিস দিতে হবে তো! সেই সব জিনিসের ব্যাপারে তো এখানকার ফিল্ম-মেকারদের ঐরকম বুদ্ধিও নাই, চিন্তাও করে না। যেমন একটা অবাক ব্যাপার দেখ, ন্যাশনাল মিডিয়াগুলোতে, টেলিভিশনে সিনেমার গান দেখানো হয়, কী একটা অনুষ্ঠান যেন?

মাহবুব : ছায়াছন্দ...

খসরু : তো ঐ ‘ছায়াছন্দে’ একের পর এক নকল গান বাজানো হচ্ছে। এতে লজ্জায় ঘেন্নায় আমি আমার মাথা কান ঢেকে রাখি। রেডিওতে একের পর এক নকল গান বাজানো হচ্ছে। হিট গানগুলোর হিন্দি ভাষাটাকে স্রেফ বাংলা করে দিয়ে হুবহু একই গান বাজানো হচ্ছে। এগুলো কী করে সেন্সর বোর্ড অনুমোদন করছে? ঋত্বিকের ছবি ‘যুক্তি তক্কো গপ্পো’ দু’বার নিষিদ্ধ করল সেন্সর বোর্ড। এই কি সেন্সর বোর্ড নাকি? একটা স্বাধীন দেশে, এখন তো আবার কথায় কথায় গণতন্ত্রের কথা বলা হচ্ছে, এই কি গণতন্ত্র নাকি? বিদেশি, অর্থাৎ ভারতীয় হিন্দি ছবির নকল গানগুলো একের পর এক মাল খেয়ে পাস করে যাচ্ছে তারা। আমার মনে হয় সেন্সর বোর্ডে একজন সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ রাখা উচিত, যে এ নকল গানগুলো ধরবে এবং প্রত্যেকটা গান ব্যান করা উচিত। যেখানে ছবি সেন্সর হচ্ছে, ছবির পোস্টার সেন্সর হচ্ছে, ছবির স্টিল সেন্সর হচ্ছে, হোর্ডিং সেন্সর হচ্ছে সেখানে গানগুলো কেন সেন্সর হচ্ছে না? এটা কোন ধরনের নিয়ম? সেন্সর বোর্ডের বিরুদ্ধে অচিরেই আন্দোলন করা উচিত যে তোমরা গান সেন্সর কর। এটা আমাদের জন্য তো একটা জাতীয় লজ্জা! বিদেশি গানের নকল করা, কেন আমাদের দেশে কি গীতিকার নাই? সুরকার নাই? গায়ক নাই? আমাদের সঙ্গীতের ঐতিহ্য নাই? কেন আমরা অন্যের গান নকল করব? কোথায়, আগে তো ফিল্মে এত নকল গান ছিল না? আগেকার ছবিতে তো অনেক সুন্দর সুন্দর গান ছিল। এখন চিন্তা করে দেখ আগেকার ছবিগুলো, কত পরিচ্ছন্ন ছিল, মেইন স্ট্রিম ছবিগুলো, যেমন সালাহউদ্দিন, খান আতা, সুভাষ দত্ত এদের ছবিগুলো...

মাহবুব : তারপর জহির রায়হান

খসরু : জহির রায়হানের তো তুলনাই হয় না। এরা এখনকার তুলনায়, এখন তো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি অনেক মডার্ন হয়েছে। কত ভালো কাহিনিকার আছে, কত আর্টিস্ট, কত টেকনিশিয়ান। খোদ এফডিসির প্রডাকশনের মাথায় বসে ছিল পুনে ফেরত এক বিরাট শিক্ষিত লোক। কী আউটপুট এদের? এখনকার ছবি কি দেখা যায়? কোন পাতে তোলা যায়? কোন দিক দিয়ে, না এগুলো টেকনিক্যাল, না স্টোরি, না মিউজিক সবই তো রদ্দা মার্কা । কী হিসেবে তুমি এগুলো কাউন্ট কর? এই তো ঘটনা আর কি! শালা বস্তাপচা ভুসি মাল। (আগামী সংখ্যায় পড়ুন)