menu

মিনার মনসুরের কবিতা

আমার আজব ঘোড়া

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

http://print.thesangbad.net/images/2019/February/06Feb19/news/Untitled-27.jpgগল্পগুলোর ডানা ছিল

ঘোড়াটিই আমাকে নিয়ে গিয়েছিল রূপকথার সেই মাঠে। দিগন্তছোঁয়া তার পৌরুষ। সেখানে উড়ত দূর পৃথিবীর স্বপ্নরাঙা রাজকন্যাদের গল্প। দুঃখ ও বিলাসের বিচিত্র হীরকখচিত নেকাবে ঢাকা থাকত তাদের মুখ। সূর্যের রথে চেপে তারা আসতেন। আর ধূলি ও অগ্নির মধ্যে পৃথিবীর দীর্ঘতম সেতু হয়ে আশ্চর্য সব আলো ছড়াত তাদের সোনালি চুল।

কৃষকের এসবে আগ্রহ ছিল না। সকালসন্ধ্যা তারা মগ্ন থাকত স্বর্ণমুদ্রা সংগ্রহে। তার মায়াবী আভায় ঝলমল করে উঠত তাদের বঞ্চনার ছানি পড়া চোখ। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, দারিদ্র্যের চাবুকে পিঠ রক্তাক্ত হলেও বংশানুক্রমিক বৈরাগ্যের মাদুলিটি তারা কখনোই হাতছাড়া করেনি। ধীরে, আশ্চর্য এক সাংগীতিক লয়ে, তারা স্বোপার্জিত সেই স্বর্ণমুদ্রা জড়ো করত বাড়ির আঙিনায়। চাষি-বউয়ের কামরাঙা পায়ের স্পর্শে স্বর্ণমুদ্রাও শিহরিত হতো। কিন্তু আমাদের অপাপবিদ্ধ চোখ থাকত ইঁদুরের কোষাগারে। কী যে মধুর ছিল সেই দ্বৈরথ!

কত দ্রুতই না ফুরিয়ে যায় সব! কৃষক বিষণ্ন চোখে দেখত রূপকথার সোনাঝরা সেই মাঠজুড়ে গ্রীষ্ম ও বর্ষার বর্গিদের তা-ব। কিন্তু গল্প ফুরোত না। কেননা কালান্তরের গাঢ় দীর্ঘশ্বাসে মোড়া খেজুরগুড়ের সুঘ্রাণ মাখা সুস্বাদু সেই গল্পগুলোর ডানা ছিল।

পৃথিবীতে তারা একবারই জন্ম নেয়

সার্ত্রের নিঃশব্দ নরকে কীভাবে ঠাঁই হলো সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। এখন সেখানেই কাটে আমাদের শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা আর আনন্দ-বিষাদের সব দিনরাত্রি। আসলে সেখানে একটাই ঋতু- একটাই রং। গানও একটাই। ভারি শেকলের ভোঁতা আর্তনাদ। একমাত্র কবরবাসী মানুষই তার প্রকৃত স্বাদ পায়।

আমার ঘোড়াটার রকম-সকমই আলাদা। আমার সঙ্গেই আছে অর্ধশতক ধরে। কিন্তু তার অগ্নিবর্ণ দেহে দৃশ্য-অদৃশ্য কোনো শেকলের চিহ্নমাত্র নেই। সত্যিকারের আগুনকে শেকলবন্দি করে সাধ্য কার! সেই-ই প্রথম আমাকে বসন্ত চিনিয়েছিল। সেটা ছিল লালপাড়ের সাদা শাড়ি পরা সদ্য কৈশোর-উত্তীর্ণ আশ্চর্য এক নারী। পৃথিবীতে তারা একবারই জন্ম নেয়। সেও শুধু পরম সৌভাগ্যবান কোনো প্রেমিক বা পূজারীর জন্যে।

ঘোড়াটি লাফিয়ে উঠেছিল। আর মাটিতে ক্রমাগত পা ঠুকে ঠুকে আমার অসার ব্যস্ততাকে অভিসম্পাত দিচ্ছিল। কারণ একমাত্র সেই জানত এ মুহূর্তটির জন্যে সারাজীবন আমাকে দগ্ধ হতে হবে অনুশোচনায় চিতায়।

তার শিহরণ কাকে না চঞ্চল করে

ভ্রমণটা মন্দ না। বিশাল বিলবোর্ডে শায়িত কামনামদির রমণীর অবাধ্য স্তনের হাতছানি যতই প্রলুব্ধ করুক, এমন নির্ভার নিখরচা ভ্রমণের নিশ্চয়তা তোমাকে কেউ দেবে না। ভিসা-পাসপোর্ট-টিকেটের ঝক্কি নেই। অলৌকিক বিমান নামিয়ে দেওয়া মাত্রই খুলে গেছে প্যান্ডোরার বাক্স। যদি বলি আরব্য উপন্যাসও তুচ্ছ তার সরাইখানার অভিনবত্ব আর দিনরাত্রির অনিশ্চয়তার কাছে- তাহলে একটুও বাড়িয়ে বলা হবে না।

সমস্যা হলো তোমার ক্ষুধা- যা দৈত্যাকার তিমির চেয়ে আগ্রাসী ও বিচিত্র। তিমি বা হাঙর যাই বলো না কেন, জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়াই ওদের চেনা যায়। কিন্তু তুমি হলে এমন একটি গ্রন্থ- যা তোমার জন্মদাত্রীর কাছেও দুর্বোধ্য। হাঁটার মতো মজবুত দুটি পা আর দেখার মতো দুই জোড়া চোখ- পর্যটকের জন্যে এই কি যথেষ্ট নয়? সবই তুমি পেয়েছিলে অযাচিতভাবে। কিন্তু বাক্স-পেটরার ভারে তুমি এখন হাঁটতেই পারছো না।

দূরে নাঙ্গা পাহাড়ের জটা ধরে হ্রদের উষ্ণ জলে লাফিয়ে পড়ছে শত শত শ্বেতবস্ত্র মেঘের যুবতী। তার শিহরণ কাকে না চঞ্চল করে! অথচ তুমি হাঁড়ি-পাতিলের হিসাব মেলাতে ব্যস্ত। তোমার হাঁসফাঁস দশা দেখে আমার ঘোড়াটিও লজ্জা পায়।

http://print.thesangbad.net/images/2019/February/06Feb19/news/Untitled-28.jpg

  • হাসান আজিজুল হকের সাক্ষাৎকার

    ‘আমি যা কিছু লিখেছি-
    মাটি থেকে পেয়েছি’

    সাক্ষাৎকার গ্রহণ : ওবায়েদ আকাশ, কাজী রাফি, খন্দকার মুনতাসীর মামুন

    newsimage

    ওবায়েদ আকাশ : লেখকদের মধ্যে একটা ব্যাপার দেখা যায় যে, এ কাজটি

  • বিপুল জীবনানন্দ

    আজও অসম্পূর্ণ উত্তরপত্রের এক সুদীর্ঘ প্রশ্নপত্র

    এমিলি জামান

    newsimage

    ১৯৯৯ সনে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সর্বাধিক পাঠকপ্রিয় শক্তিধর কবি জীবনানন্দের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপিত

  • বইমেলার পরিবেশ ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধি

    ওবায়েদ আকাশ

    newsimage

    বইমেলা যখনই কোনো রাজনৈতিক সুস্থ পরিবেশে অুনষ্ঠিত হয়েছে; তখনই এর ফলাফল নিয়ে

  • অসীম সাহার কবিতা

    newsimage

    অমৃত-গরল জ্যোৎস্নাকে ফেরাতে নদী ছুটে যাচ্ছে সমুদ্রের কাছে! টাইটানিক গতি তার। ডুবে যাচ্ছে বেদনার তীব্র

  • ধারাবাহিক উপন্যাস ৬

    ‘মৌর্য’

    আবুল কাসেম

    newsimage

    পূর্ব প্রকাশের পর মন্দাকিনী মহামূল্যবান একজোড়া জুতো পরিয়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে বললো।

  • ক্যান্ডি

    মূল: নয়নরাজ পান্ডে
    অনুবাদ: ফজল হাসান

    newsimage

    জেলার প্রধান কার্যালয়ের সামনে পাজেরো গাড়ি থেকে নেমে আমার ব্যক্তিগত সহকারী এবং

  • মহাদেশের মতো এক দেশে ৬

    কামরুল হাসান

    newsimage

    হক্‌সবুরি রিভার স্টেশনে একা বসে আছি প্রকৃতির অমলিন ঔদার্যের ভিতর। স্টেশনের ওভারব্রিজ