menu

গল্পে মাতৃপ্রেম

মা

সাঈদ আজাদ

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ আগস্ট ২০১৯
image

ওই দেখো, বাবা কখন এসে উঠানে ঘোড়ানীমগাছের তলে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আছে। আজ খুব বাতাস। বাতাসের ঝাপটায় গাছের সব পাতা একবার সামনে যাচ্ছে, আবার পিছিয়ে আসছে। বাবার চুলও উড়ছে। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখছিল রাজু। বাবার পরনে হলুদ একটা শার্ট। কালো প্যান্ট। ভোঁস ভোঁস করে সিগারেট টানছে বাবা।

দুপুরে সহজে ঘুমায় না রাজু। আজ যে কেমন করে ঘুমিয়ে গেল! স্কুল ছিল না বলে ঘুমিয়েছেও অনেকক্ষণ। নানী তাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে টিউবওয়েলে নিয়ে হাতমুখ ধুইয়ে, বুকে পিঠে পাউডার দিয়ে চুল আঁচড়ে লাল গেঞ্জি পরিয়েছে। লাল গেঞ্জিতে তাকে খুব সুন্দর দেখায়, সবাই তাই বলে। রাজুর এখন ঘুড়ি ওড়াতে যাওয়ার কথা। হারুন, ইবরাহীম, মুন্না অপেক্ষা করছে। এখন এসব বাদ দিয়ে বাবার সামনে গিয়ে বসতে হবে।

বাবা আসে মাসে একবার। যে দিন আসে রাজুকে আদর করে খুব। কপালে গালে চুমো দেয়। দশ পার হয়ে এগারোতে পড়বে রাজু। কী যে লজ্জা লাগে তার। বাবা অনেক খেলনাও আনে। কাপড় আনে, চকোলেট আনে। শহরের খেলনা-চকোলেট-কাপড়। সেসব খেলনা কাপড় যেমন সুন্দর, চকোলেট তেমনি ভারি মজার।

কিন্তু বাবাকে কেমন জানি অপছন্দ অপছন্দ লাগে। গায়ে ঘামের গন্ধ। যখন চুমো দেয় মুখ থেকে সিগারেটের গন্ধ আসে। তার উপর বাবার গোঁফ আছে। মুখে সুড়সুড়ি লাগে। তাহলেও যেতে হয়। বাবা যে!

পায়ে পায়ে এগিয়ে যায় রাজু। কাছে যেতেই বাবা কেমন চোখ বড় বড় করে তাকায়।... রাজুদের স্কুলে একটা লোভী ভিক্ষুক আসে প্রায়ই। টিফিনে ওরা যখন জিলাপি কী গজা কিনে খায়, তখন ভিক্ষুকটা এমন চোখেই তাকায়। ও হ্যাঁ, রাজু ক্লাস ফোরে পড়ে। তা ছাত্র ভালই। প্রতি বছরই প্রথম দ্বিতীয় হয়।... তার অনেক কমিকের বই আছে। ছোট মামার কিনে দেওয়া সব। রাজু বই পড়ে খুব। ক্লাসের অন্যরা তার মত না। ক্লাসের বাইরে কেউ কোনরকম বই পড়ে না।

কাছে গেলে বাবা রাজুর কপালে চুমু খেয়ে বলে, কত বড় হয়ে গেছ!

বাবা প্রতিমাসে একই কথা বলে। এক মাসে রাজু আর কত বড় হবে?

দুপুরে কী দিয়ে ভাত খেয়েছো বাবা?

মাষকলাইয়ের ডাল আর মুরগির মাংস।

আজ স্কুলে গিয়েছিলে বাবা?

আজতো বন্ধ ছিল স্কুল।

ও তাই। আচ্ছা, তোমার কে কে আছে বলত বাবা?

কপালে বোধহয় থুথু লেগেছে। রাজু বাবার চোখ বাঁচিয়ে কপাল মুছে বলে, নানী, ছোট মামা, খালাম্মা।

আর বাবা বুঝি বাদ। বাবা খুব পচা তাই না?

না বাবাও আছে, লাজুক স্বরে বলে রাজু। আর ফরিদ মামাও।

ফরিদ মামা কে?

অই যে, বাড়িতে সারাদিন কাজ করে।... আমাকে ঘুড়ি বানিয়ে দেয়। ডাব খেতে চাইলে গাছে উঠে পেড়ে দেয়। বর্ষার সময় নৌকায় বেড়াতে নিয়ে যায়। বুলবুলির বাচ্চা এনে দেয়।

বাবা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, তোমার ছোট দুটো বোন আছে, মা আছে মনে নেই বুঝি?

আমার মাতো মরে গেছে! নানী বলে যে সব সময়।

তা ঠিকই বলে। ...তবে তোমার আরেকটা মা হয়েছে। নতুন মাই বলতে পার।

মা... বোন... কখনো দেখিনি তো!

ওরাও তোমাকে দেখেনি। বলে সবসময় দেখার কথা। আমি গিয়ে তোমার কথা বলি ওদের। তুমি পড়ালেখায় কত ভাল! ভাল ঘুড়ি ওড়াতে পার।... তোমাকে খুব দেখতে চায় বোনেরা। মাও বলে সবসময় নিয়ে যেতে।... যাবে বাবা আমার সাথে? বাবা কেমন গলায় বলে।

যাব? অনেক দূর না? নানী আর ছোট মামা যাবে না?

ওরা কী আর যেতে পারবে? এখানে ওদের কাজ আছে না?... ও ভুলেই তো গেছি, মা তোমার জন্য একটা শার্ট কিনে দিয়েছে। দেখো পছন্দ হয় কিনা। আর এই মার্বেলগুলো। একটা গাড়িও দিয়েছে।

শার্টটা কী সুন্দর! রঙটা আকাশের মত নীল। আর গাড়িটা নিশ্চয়ই ব্যাটারি লাগালে চলে। জানে রাজু। তাহলেও জিজ্ঞেস করে, গাড়িটা কি ব্যাটারিতে চলে?

চলে। ব্যাটারি লাগানোই আছে। চালিয়ে দেখ না। দাও, আমি দেখিয়ে দেই। কীভাবে চাবিটা ঘোরাতে হবে।

বাবা চাবি ঘুরিয়ে গাড়িটা মাটিতে রাখে। গাড়িটা শব্দ করে চলে। আর লাল নীল আলো জ্বলে। রাজু মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকে। গাড়ি দেখতে দেখতে মনটা একটু খারাপ হয় ওর। এবার বোধহয় বাবা চকোলেট আনেনি। আনলে এতক্ষণে দিত। তা চকোলেট খাওয়ার বয়স কি তার আছে! বড় হচ্ছে না রাজু।

তুমি গাড়িতে চড়েছো রাজু?

বড় গাড়ি! সত্যিকারের? ...সিএনজি আর রিকশায় চড়েছি আমি। আর ইজিবাইকে।

বাসে চড়োনি। রেলগাড়ি? ...না বোকার মতই জিজ্ঞেস করছি আমি। তুমি তো দূরে কোথাও যাওনি। বাসে রেলগাড়িতে চড়বে কীভাবে!... আমার সাথে যাবে রাজু? আমরা রেলগাড়িতে চড়ে যাব। রেলগাড়িতে চড়ার মজা কি জান? তুমিতো বসে থাকবে গাড়িতে, গাছপালা বাড়িঘর দেখবে কেমন দৌড়ে দৌড়ে পেছনদিকে চলে যাচ্ছে।

রাজু, বাপকে ঘরে আসতে বল, নাশ্তা দিয়েছি। নানী ঘর থেকে গলা উঁচু করে বলে।

সেই কখন থেকে রাজু আর হারুন ডোবাটায় ছিপ ফেলে বসে আছে। দুজনেই চুপ। কথা বলার প্রয়োজন হলে ইশারায় কাজ সারছে। শব্দ করে কথা বললে শব্দে যদি মাছেরা পালায়। তাই ওরা কোন রকম শব্দ করতে চায় না। কেউ এখনো মাছ পায়নি একটাও। যদিও একবার হারুনের বড়শিতে একটা বড় ট্যাংরা আটকে ছিল। কিন্তু হ্যাঁচকা টান দিতেই মাছটা বড়শি থেকে ছুটে পানিতে পড়ে গেছে। তারপর কোন মাছেরই দেখা নেই। বড়শিতে কেঁচো গেঁথে ছিপ ফেলে দুজনে বসে আছে তো আছেই। পায়ে পিঁপড়া কামাড়াচ্ছে খুব। সাবধানে একটু নড়েচড়ে বসে রাজু।

ঝিম দুপুর। হিজল গাছের তলে বসেছে ওরা। জায়গাটায় বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা। একটু একটু বাতাসও আছে। ওরা দুজন ছাড়া এই জায়গাটার খোঁজ কেউ জানে না। জানলে উপায় ছিল? সবাই এসে বড়শি ফেলে বসে থাকত। কোথায় যেন ঘুঘু ডাকছে। ঘুঘুর ডাক শুনলে কেন জানি মন খারাপ হয় রাজুর। তখন মায়ের কথা মনে হয়। এখনো মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। এক দৃষ্টিতে ফাতনার দিকে চেয়ে থাকে রাজু। তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ পানিতে ভরে ওঠে ওর। চোখের পাতা ফেললেই টপ করে পানি পড়বে এখন।

মা কবে মারা গেছে! মায়ের মুখ মনে করতে পারে না রাজু। মায়ের কথা ভাবলে নানীর মুখটাই ওর মনে ভেসে ওঠে।... অথচ নানীর ঘরেই মার বড় একটা ছবি বাঁধাই করে টাঙানো আছে। রোজই দেখে রাজু। ছবিতে মার কোলে ছোট রাজু। রাজুকে ঠিক চেনাও যেন যায় না। ছোট বিড়ালছানার মতো যেন দেখতে। রাজু কি কখনো এত ছোট ছিল! বিশ্বাস হতে চায় না রাজুর।

এই রাজু, টান দে। হারুন চাপা স্বরে বলে।

রাজুর ছিপের ফাতনাটা পানিতে প্রায় ডুবো ডুবো। রাজু হ্যাঁচকা টান দেয়।... না দেরি হয়ে গেছে। পুঁটি মাছটা পানির হাতখানেক উঁচু থেকে লাফ দিয়ে ঝপাৎ শব্দে পানিতে হারিয়ে যায়।

কত বড় পুঁটিটা! তুই দেখলি না রাজু। এতক্ষণ বড়শি টানছিল। তাকিয়ে ছিলি কই? চাপা স্বরে হারুন বলে।

মা-র কথা ভাবছিলাম। তাই ঠিক খেয়াল করি নাই।... জানিস রাজু, বাবা আমাকে নিয়ে যেতে চায়।

তোর বাবা তো অনেক দূরে থাকে।

হ্যাঁ, অনেক দূর। ছোট মামা বলছে রাঙ্গামাটিতে। যেতে নাকি একদিন লাগে।

হেঁটে যাবি?

দূর গাধা। অতদূরে হেঁটে যাওয়া যায় নাকি। গাড়িতে যেতে হবে। বাবা বলেছে, রেলগাড়িতে যাওয়া যায়।

তোর বাবা না আবার বিয়ে করেছে? তোর তো সৎ মা।... জানিস তো আমার মাও ছোটবেলা মরে গেছে। সৎ মা কথায় কথায় আমাকে মারে। আর খাবার দেয় সবার শেষে। তোর সৎ মাও এমন করবে। সৎ মায়েরা খুব খারাপ হয়। তুই বাবার কাছে যাবি না। নানীর কাছেই থাক।

কিন্তু আমার সৎ মা তো আমার জন্য শার্ট পাঠায়। সুন্দর সুন্দর খেলনা পাঠায়। বাবা যখন আসে নিয়ে আসে।... এই দেখ, এই নীল শার্টটা এবার এনেছে।

ওই সব পাঠায় তোকে লোভ দেখানোর জন্য। লোভ দেখিয়ে তোকে কাছে নিয়ে যেতে চায়। একবার গেলে আর আসতে দিবে না। নিয়ে গিয়ে তোকে দিয়ে সারাদিন কাজ করাবে। কথায় কথায় মারবে। ক্ষুধা লাগলে খেতে দিবে না। আমার মাও এমন।... মা আমাকে মারলে বাবা কিছু বলে না। মাকে অনেক ভয় পায় বাবা।

দূর তোর যেমন কথা। আমি যাচ্ছি নাকি। নানীকে ছেড়ে আমি থাকতে পারব না।

আর ওইখানে মাছ ধরতে পারবি, ঘুড়ি ওড়াতে পারবি? হয়তো পানিই নেই সেখানে। এমন পুকুর কী সব জায়গায় থাকে নাকি? আর সেখানে তোর ঘুড়ির সুতায় কে মাঞ্জা দিয়ে দিবে?

ভাল কথা মনে করেছিস। আজকে তো ছোটমামা বলেছে সুতায় মাঞ্জা দেওয়ার কথা। অনেক কাচ গুঁড়ো করে রেখেছি আমি। বিকাল হলে আবার ছোটমামা ক্রিকেট খেলতে বের হবে। কী যে নেশা মামার ক্রিকেট খেলার! নানী এত বকে, তবুও বিকেল হলেই খেলতে যাওয়া চাই-ই।

চল যাই। আমি দেখব তোর মামা কীভাবে মাঞ্জা দেয়।... কতক্ষণ ধরে বসে আছি, একটা যদি মাছ পাই! কালকে অন্য জায়গায় যাব। তোকে বলেছি না, একটা ভাল জায়গা দেখেছি, চারপাশে বেতঝোঁপ। বড়শি ফেললেই টপাটপ মাছ। আমি একবার একা একা গিয়েছিলাম, তোর কদিন জ্বর ছিল না, তখন। বড় বড় কতগুলো শিংমাছ, বেলে মাছ পেয়েছি। রুই কাতলাও থাকতে পারে। বেতগাছে অনেক ফলও আছে। খেতে কী মজা! একটু টক টক অবশ্য।...হারুন দাঁড়িয়ে ছিপ গুটায়।

বাইরে বৃষ্টি পড়া শুরু হয়েছে। রাজু এক দৌড়ে ঘরে ঢুকে থমকে দাঁড়াল। নানীর বিছানায় সুন্দর এক মহিলা বসা। পাশে দেখতে একই রকম পুতুলের মত ছোট দুটো মেয়ে। মহিলা নানীর সাথে হেসে হেসে কথা বলছে।

এটা রাজু না! দেখেছেন মা, দেখেই চিনেছি। ওর বাপ এত বলেছে ওর কথা।... কী সুন্দর দেখতে। ঠিক মা-র মতো। আহা, স্বামী সন্তানের সুখ কপালে ছিল না বোনটার। কী হয়েছিল মা? মারা গেল কীভাবে?

কী জানি মা। কী রোগ যে হয়েছিল, আমরা ঠিক বুঝতে পারিনি। হাত পা শরীর ফুলে গিয়েছিল পানিতে। বাজারে যে ডাক্তার বসে তাকে দেখিয়েছিলাম। ডাক্তারের দেওয়া ওষুধে বুঝি কাজ করারও সুযোগ পেল না। চারদিন না যেতেই শেষ রাতে... নানী আচঁলে চোখ মুছেন।

বাবা রাজু, দূরে দাঁড়িয়ে আছো কেন! বোনদের কাছে এসো বসো। তোমার কথা খুব বলে বোনেরা। বাবার কাছে গল্প শুনে তো। তুমি নাকি খুব ঘুড়ি উড়াও!

রাজুর পা যেন মাটির সাথে আটকে আছে। নড়তে পারে না রাজু। এ নিশ্চয়ই সৎ মা। ভুলিয়ে ভালিয়ে তাকে নিয়ে যেতে এসেছে। অবাক কাণ্ড, নানী কেমন দুঃখী দুঃখী মুখে কথা বলছে সৎ মায়ের সাথে। বাচ্চা দুটো কেমন জুলজুল চোখে রাজুর দিকে তাকিয়ে আছে।... কোন কথা না বলে রাজু এক দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়।

বিকালের দিকে ঘরে ঢুকে দেখে রাজু, বাবা মোড়া পেতে নানীর কাছে বসে আছে। রাজুকে দেখে নরম স্বরে বলল, রাজুকে ওর নতুন মা নিয়ে যেতে এসেছে মা।

নানী আঁচলে মুখ চেপে ফুঁপিয়ে ওঠে। যার ধন সে তো নিয়ে যাবেই বাবা। আটকাবো সে সাধ্য কি আছে?

রাজু অবাক। নানী এত সহজে রাজি হয়ে গেল। আর রাজু যে রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল, একক্ষণ না খেয়ে রইল, এই নিয়ে কেউ কোন কথাই বলছে না। রাজুর দুচোখ পানিতে ভরে ওঠে। সৎ মা কি এর মধ্যেই সবাইকে ভুলিয়ে ফেলল?

খুব সকালে তেলাওয়াতের শব্দে ঘুম ভাঙ্গে রাজুর। নানী সুর করে কোরআন পড়ছে। আজ রাজু বাবার সাথে চলে যাবে। নানী, ছোটমামা, হারুন, ইবরাহীম, মুন্না, এই বাড়িÑ সব ছেড়ে। ভাবতেই কাঁদতে ইচ্ছে করছে। তা চাইলেই কি এখন রাজু কাঁদতে পারে আগের মত? এখন ও বড় হয়ে গেছে না!

জায়গাটার নাম শাসনগাছা, বাবা বলেছে তাকে। খুব সকালবেলা শাসনগাছা থেকে ট্রেনে চড়ে ওরা। বাপরে, এতবড় কোন গাড়ি হয়! গাড়িটা নাকি লোহার রাস্তায় চলে। কত কত লোক উঠছে। শুধু উঠছেই। বোন দুটো রাজুর দুপাশে বসেছে। দুজনেরই ঝুটি বাঁধা। কেমন পুতুলের মত লাগছে দেখতে। ক্লাসের তাহমিনার এমনই একটা পুতুল দেখেছে রাজু। ওটা নাকি তাহমিনার মামা বিদেশ থেকে পাঠিয়েছে।

মনটা কেমন করছে রাজুর। শুধু কান্না পাচ্ছে। ছোট বোনদের সামনে বলে কাঁদতে পারছে না। বাবা ওকে রাঙ্গামাটি না কোথায় যেন নিচ্ছে। ও চলে গেলে নানীর হাঁসের শামুক কে কুড়িয়ে আনবে? পানিতে ডুবিয়ে ডুবিয়ে খালাম্মার জন্য কে শালুক তুলে আনবে?... আসার সময় নানী বাড়ির নামায় দাঁড়িয়ে মুখে আঁচল চেপে কেঁদেছে। দূর থেকেও দেখেছে রাজু।

রাজুকে বিদায় দিতে সবাই সড়কে এসে দাঁড়িয়ে ছিল। নানী, খালাম্মা, ছোট মামা, মুন্না, ইব্রাহীম। কারো মুখেই হাসি ছিল না। রাজুর খুব ইচ্ছে করছিল, দৌড়ে নানীর কাছে ফিরে যেতে। কিন্তু বাবা ওর হাত ধরে রেখেছিল।

রাজু কোন দিন নানী ছাড়া কারো কাছে ঘুমায়নি। নানীর গায়ের গন্ধ ছাড়া ওর ঘুম আসবে? প্রতিদিন নানীর কোরআন পড়ার শব্দে ঘুম ভাঙ্গত।... নানীর মত কেউ কি ওকে ভালবাসবে? গাছগুলো কেমন পিছনে সরে সরে যাচ্ছে। যেন রাজুকে যেতে মানা করছে। ...সব ছেড়ে কোথায় যে যাচ্ছে রাজু! ভাবতে ভাবতে এসব, কখন যে কাঁদছে রাজু। বুঝতে পারেনি নিজেও।

ছি বাবা, এভাবে কাঁদতে আছে! যাচ্ছো তো আপনজনদের কাছেই। সৎ মা রাজুর মাথাটা বুকে নিয়ে মাথায় হাত বুলায়। রাজু এবার শব্দ করে কেঁদে উঠে। কাঁদতে কাঁদতে সৎ মায়ের কোলে মুখ লুকায়। কেমন একটা গন্ধ পায় রাজু। রাতে নানীর কোল ঘেঁষে শুলে এমনই গন্ধ পেত। কেমন মা মা গন্ধ!

ও মুখ তুলে তাকায় সৎ মায়ের দিকে। দেখে সৎ মা ওর দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। রাজুর মনে হয়, ওর মা বেঁচে থাকলে মনে হয় এভাবেই হাসত।

  • গল্পে দেশভাগ

    উদ্বাস্তু

    পলাশ মজুমদার

    newsimage

    আমার সঙ্গে বিক্রমপুর যেতে পারবেন? কেন নয়! অবশ্যই পারব। কখন যেতে চান? আগামীকাল

  • গল্পে মুক্তিযুদ্ধ

    গোমতী নদীর তীরে

    ফারহানা রহমান

    newsimage

    গোমতী নদীর আইল বরাবর খুব সাবধানে পা ফেলে ফেলে প্রায় সীমান্তের কাছে

  • ধারাবাহিক

    অভিযাত্রিক

    মুজতাবা শফিক

    newsimage

    (পূর্ব প্রকাশের পর) নবম অধ্যয় মডেল স্বপ্নার সঙ্গে মুখোমুখি বসে আছে একে চৌধুরী। কিন্তু

  • এ সংখ্যার কবিতা

    newsimage

    হাহা হাহা হাহা হাহা আনোয়ারা সৈয়দ হক হাহাকারে জর্জরিত সময়ের নদী উত্তাল তরঙ্গ আর বাতাসের

  • প্রত্যয়ী ভবিষ্যতের বাতিঘর

    মুনীরুজ্জামান

    newsimage

    ‘প্রত্যয়ী স্মৃতি ও অন্যান্য’ কবি প্রবন্ধকার শিল্পসমালোচক আবুল হাসনাতের নতুন গ্রন্থ। প্রকাশ