menu

মহাদেব সাহার কবিতা

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮
image

[মহাদেব সাহা ষাটের দশকের অত্যন্ত জনপ্রিয় কবি। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতায় একটি সরল ও স্বতন্ত্র এক কাব্যভাষার আবিষ্কারক; প্রেম-কাতরতা যার অন্যতম অনুষঙ্গ। বাংলাদেশ, স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু তাঁর কবিতার প্রাণ। শুধু বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই লেখেন দুটি কবিতার বই। সম্প্রতি দীর্ঘদিন কানাডা বাস শেষে অসুস্থতা নিয়েই দেশে ফিরে আসেন; শুধু কবিতা ও মাটির টানে তাঁর এই ফিরে আসা। এসেই তিনি তাঁর লেখা প্রথম গুচ্ছ কবিতা সংবাদের জন্য প্রেরণ করেন। দীর্ঘজীবী হোন কবি]

কৃতজ্ঞতার পাঠ

এই যে শস্যকণা, শীতের উদ্ভিদ দিয়েছে এতো স্বাস্থ্যসঞ্জীবনী,

আমি একবারও কৃতজ্ঞতা শব্দটি বলিনি,

এই যে পরমা প্রকৃতি আমাকে দিয়েছে প্রাণরস, উজ্জ্বল সৌরভ

আমি নুয়াইনি মাথা, কৃতজ্ঞতায় হইনি আনত;

মরমী মেঘের কাছে এই যে পেয়েছি আমি জলধারা, আকাশের

কাছে মুক্তবায়ু,

একবারও কৃতজ্ঞতার একটি বাক্য তাদের বলিনি,

দুটি হাত যুক্ত করে পৌরাণিক ঋষিদের মতো

তাদের উদ্দেশে করিনি স্তুতিপাঠ

এই যে বৃক্ষবনভূমি আমাকে এমন সুগন্ধে সুঘ্রাণে ভরে দিল, ভরে দিল

অন্তরে আত্মায়

তবু একবারও যুক্ত করে কৃতজ্ঞতায় হয়ে যাই নত।

এই যে পেলাম অফুরন্ত আনন্দসুখ, দেহে মনে পরম প্রশান্তি

এই পেলাম বল, উদ্যম, উৎসাহ, প্রাণের প্রবাহ

পেলাম জীবনীশক্তি,

তবু আমি কৃতজ্ঞতার একটি শব্দও কখনো বলিনি, ওখানে একবারও

হই নাই নত।

২৬/১০/২০১৮

আমি কোথাও যাইনি

আমি কোথায় যেতে পারি? কোথাও না, কোথাও আমার মন

বসে না, পড়ে থাকে এই জলমাটিতে,

ভেজা মাটি, বাণের জলে

আমার মন পড়ে থাকে;

কোথাও যেতে পারি না আমি, এই ঝোঁপে জঙ্গলে ঘুরঘুর

করতে থাকি

আমি যেখানেই যাই, ছুটতে ছুটতে এখানেই চলে আসি

আমার পাখার শব্দ শুনতে পাওনি?

শীতের দেশে গেলে আমি সঙ্গে নিয়ে আসি শীতের সেরেনাদ,

অটামের হলুদ পাতা

বো নদীতে বরফ পড়ে, আমার চোখে ভেসে ওঠে থৈ থৈ বর্ষা;

আমি কোথাও যেতে পারি না, দু’পা বাড়ালেই জড়িয়ে ধরে

তৃণগুল্ম

চোখের পাতায় নাচতে থাকে সন্ধ্যাতারা

হয়তো কখনো দূরে যাই, কখনোই ছেড়ে যাই না।

এতো ঘ্রাণ, এতো গন্ধ আমার বুকের মধ্যে, এতো

শোঁ শোঁ ঝাউবন,

আমার মন পড়ে থাকে তোমার কাছে, মাটির উঠানে,

আমি কোথাও যাইনি, কোথাও যেতে পারি না।

১৪/১০/২০১৮

ফুলের বৃত্তান্ত

ফুল ফোটার আনন্দে কী যে মগ্ন ছিলাম ঝরে পড়ার

কথা ভাবিনি,

ফুল ঝরে গেলে অন্ধকার;

ফুলের পাপড়ি খুঁজতে খুঁজতে দিন গেল, বুঝতে পারিনি

ফুল ফোটে, ফুল ঝরে যায়।

ঝরাফুলের গন্ধে আমি কোথায় মুখ লুকাই?

ফুলের বৃত্তান্ত খুব মর্মস্পর্শী, সবাই সৌন্দর্য বোঝে, তার বেদনা

বোঝে না,

ভেবেছিলাম ফুল আর গন্ধ অভিন্ন,

সবই হারিয়ে যায়, গন্ধ, শোভা, সৌন্দর্য

সেজন্যই হয়তো আমি এমন পুষ্পকাতর।

আমি ফুল ফুটতে দেখেছি, ঝরে যাওয়ার দৃশ্য দেখিনি

ফুল ঝরে গিয়েও অবিনশ্বর;

ফুল ফোটার আনন্দে আমাদের মন ভরে থাকে

আমি তার ঝরে পড়ার কথা বলতে চাই না।

২৫/১০/২০১৮

  • সিকদার আমিনুল হক সম্পর্কে

    বাল্যবন্ধু পীযূষকান্তি সাহা

    সাক্ষাৎকার

    newsimage

    [কবি সিকদার আমিনুল হকের ডাকনাম দীপক। দীপকের বাল্যবন্ধু পীযূষকান্তি সাহা। বর্তমানে তিনি

  • আজ সিকদার আমিনুল হকের ৭৭তম জন্মদিন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

    সিকদার আমিনুল হকের গদ্য রচনা

    ফারুক মাহমুদ

    newsimage

    সিকদার আমিনুল হক মূলত কবি। ‘বিপুলপ্রজ’ কবি হিসেবে তাঁর খ্যাতিও রয়েছে। বেঁচে

  • আমার বাবা উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হবেন

    সালমান তারিক মিশা

    newsimage

    ছোটবেলা থেকে আমি খুব একা থাকতাম। স্কুলে ভর্তি হই ১৯৭৫ সালে গভর্নমেন্ট

  • নিরাপত্তা রক্ষী

    এম নাঈম

    newsimage

    লাশটি মাটির ওপর মুখ থুবড়ে পড়ে আছে আর গ্রামের মানুষরা চারিদিকে জটলা

  • অজানার ডাকে

    কণিকা রশীদ

    newsimage

    গত সতের দিন ধরে অন্ধ রজব আলী বসে আছে বকুল গাছের তলায়।

  • মহাস্থানের হাজার বছর

    সৌম্য সালেক

    newsimage

    নাটককে প্রাচীন কলাশাস্ত্রবিদগণ ‘দৃশ্যকাব্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। নাটকের মধ্যে বিশেষ কালপ্রবাহ আসতে

  • এ সংখ্যার কবিতা

    newsimage

    চতুর্দশপদী চিঠি মার্গারিটার কাছে ফাউস্ট মাহফুজ আল-হোসেন আমায় তুমি ক্ষমা কোরো না গ্রেচেন, আর করবেই