menu

বৃষ্টির সেই অন্ধকারগুলো

গৌতম গুহ রায়

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৯
image

শিল্পী : সঞ্জয় দে রিপন

অন্ধকারের চন্দ্রা, চন্দ্রার অন্ধকার

পুড়ে যাওয়া বা ছেকা খাওয়া রুটির মতো খসখসে সন্ধ্যার ভেতর চন্দ্রা চোখ মেলে, নোনতা দৃষ্টি তার, সবকিছু ঠাহর করতে চেষ্টা করে। ভাসা ভাসা ভাবে নষ্ট ছবির মতো চোখের সামনে নড়ে ওঠে কুকুরটা, চেষ্টা করে নিজেকে অনুভব করার, কিন্তু কোনটা হাত কোনটা তালু, কোনটা আঙ্গুল, কোনটা পা তার হদিস করতেই আরো কিছুটা সময় যায়। কুকুরটা ঘনিষ্ঠ হয়ে ঘেঁষাঘেঁষি করতে থাকে, নিজেকেও মনুষ্যতর ভাবতে থাকে সে। বুকের ওপর থেকে আঁচল খসে গিয়ে ঠাসা বুক দুটি ছেঁড়া ব্রা-ব্লাউসের বাঁধ ভেঙ্গে বেরিয়ে আসছে, সে বুঝতে পারে না, ব্রিজের তলায়, এক কোণে নিজেকে আবিষ্কার করে সে। ব্রিজের ওপর দিয়ে কয়েকটা ছেলের সাইকেলের ঘণ্টি তাকে সচেতন করে দেয়, ছেলেগুলোর নজর দেখে সে বুকের দিকে তাকায়, সামলাতে চায় নিজেকে, নজরে পড়ে শরীরে তার পশুর মত নখ-দন্ত চিহ্নের গভীর ক্ষত, শালা কুত্তার বাচ্চা, শূন্যে গাল দেয় চন্দ্রা। মরাখাওয়া, অদ্ভুত নাম এই নদী তার, শুধু বর্ষায় এর বুকে জল থাকে, অন্য সময় শুখা, যেমন এখন। আঁচলের কাপড়টা গুছিয়ে সে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, বুঝতে পারে এই শরীরটা এক বড় আপদ। দাঁড়াতে দাঁড়াতে কাপড় দিয়ে বুকের ঘামটা মুছতে চেষ্টা করে, নিজের ঘামের থেকেও উগ্র হয়ে ওঠে তার শরীরে লেগে থাকা জগাই মাস্টারের ঘামের দুর্গন্ধ। এখান থেকে তার মহল্লা আরো ২ কিমি, এই মরাখাওয়া নদীর ব্রিজটা থেকে ২কিমি পূর্বে স্টেশান। মাস্টারটা এমন পশু সে বুঝতে পারলো এই সন্ধ্যা, জানোয়ার। সবকিছু অস্বীকার করে বাসাতেই ফিরছিলো সে। এখন চন্দ্রার কাছে দিন রাত, আলো অন্ধকার কোনো বিষয় নয়, লক্ষ্য একটাই, বেঁচে থাকা। আর কোনো ভয় নাই, কিসের জন্য ভয় পাবে সে? পশুদের মধ্যে নিজেকে বিকিয়ে দিয়েও বেঁচে থাকা দরকার কিনা তা নিয়ে এতদিন ভেবেছে, স্বপ্ন দেখেছে। আজ আর কিচ্ছু নেই, ওই কুকুরটার সাথে তার বেঁচে থাকাটার কোনো পার্থক্য খুঁজে পায় না চন্দ্রা, নদীর দিকে তাকায়, খুব জলের তৃষ্ণা তার গলায়, কিন্তু শুখা মরশুমের নদীতে জল নাই। এমন সময় দূর থেকে বেজে ওঠা উলুধ্বনি শুনতে পায়, কোনো বাস্তু ঠাকুরের পূজা দিয়ে হয়তো কোনো গৃহস্থ মেয়ে তার সঙ্গীদের নিয়ে ভাসান দিতে এসেছে নদীর কাছে। চন্দ্রা তাদের লক্ষ্য করে এগিয়ে যায়। তাকে, সেই চেহারাটা দেখে প্রথমে মেয়েগুলো ভয় পেয়ে যায়, তারপর বুঝে যে এও একটি মেয়ে। চন্দ্রা গিয়ে তৃষ্ণার খোঁজ করে। তারা জলের সাথে বাতাসা দেয়। চন্দ্রা সেটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। মেয়েগুলো নিজেদের মধ্যে কথা বলতে বলতে ফিরে যায়। ওই বিলিয়মান ছায়াদের দিকে তাকিয়ে হু হু করে একটা কান্না তার বুকে গুমরে ওঠে।

ওদিকে অন্ধকার ক্রমশ ঘন হতে থাকে, সে ব্রিজের ঢাল বেয়ে দ্রুত উঠতে চেষ্টা করে, দুবার পড়ে যায়, আবার উঠে দাঁড়ায়। একসময় এভাবেই সে নিজেকে রাস্তায় তুলে আনে। রাস্তার কালো পিচ থেকে পোড়া তেলের গন্ধ নাকে আসে। এই গন্ধ তার ভালো লাগে। দূরে গাড়ির বড় বড় হেড লাইট ক্রমশ এগিয়ে আসতে থাকে। হঠাৎ করে চন্দ্রার পা টলে ওঠে, মরার বাসনা জাগে, কিন্তু হাতের মুঠোটা হঠাৎ গরম লাগে, চকচক করে ওঠে সেই লাল বাতাসাটা, কিছু ভেবে ওঠার আগেই সেটা মুখে দেয়। পাশ দিয়ে নৈশকালীন গাড়িগুলো তীব্র আলো ও শব্দে ছুটে যায়, এ কদম পিছেয়ে আসে সে। পিছনের দিকে তাকায়, ২ কিমি দূরত্বে চিকচিক করতে থাকা নিজস্ব মহল্লা তার কাছে ক্রমশ অপরিচিত হতে থাকে, সে হারিয়ে যায়। ট্রাকের, গাড়ির জংগলে পশুদের মতো, ঘামের গন্ধে আর বমি আসে না তার।

যেভাবে সময় পালটে যায়, মানুষ পাল্টায়

নগর কলকাতা থেকে চার ঘণ্টা দূরের এক মহল্লার ক্রমশ পালটে যাওয়া, মানুষগুলোর পালটে যাওয়া, পালটে যাওয়া মানুষেরা কীভাবে আড়াল পেলেই তাদের জিহ্বা কেমন চেরা জিহ্বার শ্বাপদের মত হিস হিস করতে থাকে। চন্দ্রা ভাবে, লোভ ও আতঙ্ক সর্বস্বতার ভেতর গোপন নিঃসঙ্গতা কীভাবে প্রত্যেককে আলাদা করে ফেলছে, একসময় গোটা মহল্লা প্রায় একটা পরিবার ছিলো, এসব ভাবে সে। রোদে জলে পুড়ে যাওয়া সময়টাকে সে আর কান্নার জলে ভিজাতে চায় না।

সত্যর মতো আনিস মিয়াঁর ভিটাও আজ জংগলে ঢেকে গেছে। কেউ জানে না একরাতে তারা স্বামী স্ত্রী কোথায় চলে গেলো! জমি হারিয়ে, জীবিকা হারিয়ে খাওয়া না-খাওয়ার মাঝে কয়েকদিন লড়াই করেছিলো তারা, গ্রামের এর-তার কাছে থেকে এটা-ওটা চেয়ে চিনতে কয়েকদিন, তার পর আর খোঁজ নেই

মহল্লায় যারা তাকে গোপনে নষ্টা বলে তাদের বাসার সামনে দিয়ে সে বুক চিতিয়ে যায়, লক্ষ করে মন্টু মিয়া পাস দিয়ে যেতে যেতে কীভাবে কামুক চোখের ইশারা বাতাসে ছুড়ে দেয়, সে তখন উল্টো বাতাসে, ফিরেও চায় না। তার নজর ডান দিকের পুকুর পারে, যেখানে নিঃশব্দে ঘাঁপটি মেরে আছে অষ্টাদশী কুসুমের খোয়া যাওয়া টিপ, যেখানে ভাংগা “রেশমী চুড়ি” ছুঁড়ে ফেলে সে জল ছুঁয়ে দেখেছিলো জল কিছুই ধোয় না, দাগগুলো রয়েই যায়। ঘাটের পারে এসে তার খোলা বুকের ভিতর থেকে দীর্ঘশ্বাসটা ছিন্ন ফুলের মতো টপ করে ঝরে পড়েছিলো। চন্দ্রার চোখ সেই শুকনো ফুলটা খোঁজে, খুঁজে বেরায় কাল্লুওর সেই হারানো বউ বিন্দীকে, খুঁজতে চায় কুসুমের কুমু হয়ে ওঠার অন্ধকারটাকে। সেই বিন্দীকে নিয়েই একদিন মহল্লার স্তব্ধতা কেঁপে উঠলো, সেই বর্ষার সময়েই।

এই মানুষ হবে মাধুর্যভজন

লাল ফুলের গাছ ছুঁয়ে চনমনে মহল্লায় কুয়াশারা ভেসে বেড়ায়। বৃষ্টি ভেজা পাখি, তুলসিতলা, কুয়ার জল বা কপালের টিপের মতো যেকোনো বিষয় নিয়ে এখানে কথা উঠলেই পুরোনো কথা ভেসে ওঠে। কথার শেষে সে সময় কি ছিলো আজ কি নেই সবারই কথা এই বিন্দুতে এসে মিলিত হয়। যেমন গ্রামের একমাত্র কুমোড়ের কাজ করা সত্য কুমার। সত্যর তিন ছেলে মেয়ে, এখন সে ছেলেকে নিয়ে শহরে যায়, গ্রামে থেকে আর সংসার চলছিলো না তার, সকালে যায় আর রাতে ফেরে, লোকে বলে ভিক্ষা করতে যায়। বড় মেয়েটা যখন ক্লাস নাইন, শেফালী, সত্যর বউ হঠাৎ মারা গেলো। কারণটা আজো জানা যায়নি, শহরে গিয়ে নিখোজ, বলেছিলো কোন আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছে। তিন দিন পরে তার দেহ এল, সঙ্গে পুলিশ। কিন্তু মৃত্যুর কারণ নিয়ে সবাই চুপ, ফিসফাস এই যে তাকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলে রেখে গেছে “কে বা কাহারা”, পুলিশ বিষয়টি নিয়ে হইচই করতে মানা করেছে, তাই মহল্লা চুপ, মোরল চুপ, দাদারা চুপ, সবাই চুপ। এর কিছুদিন পরের এক সন্ধ্যায় সত্যর মেজ ছেলের চিৎকারে সবাই ছুটে গেলো তার বাঁশের বেড়া দেওয়া ঘরের দিকে, কান্নার রোল উঠলো দিদি ঝুলছে, গলায় গামছা বেঁধে। সত্যের মেজ মেয়ে এখন রাজস্থানে। কাজের খোঁজে, একজনের মাধ্যমে, লোকে যদিও বলে সে আর ফিরবে না, সত্য জানে সেটা। এভাবে অনেকেই আর ফিরে আসে না, মহল্লা নীরবে দেখে যায়, একে একে এভাবেই অনেক মুখ মুছে যাচ্ছে মহল্লা থেকে, নীরবে। সত্যর মতো আনিস মিয়াঁর ভিটাও আজ জংগলে ঢেকে গেছে। কেউ জানে না একরাতে তারা স্বামী স্ত্রী কোথায় চলে গেলো! জমি হারিয়ে, জীবিকা হারিয়ে খাওয়া না-খাওয়ার মাঝে কয়েকদিন লড়াই করেছিলো তারা, গ্রামের এর-তার কাছে থেকে এটা-ওটা চেয়ে চিনতে কয়েকদিন, তার পর আর খোঁজ নেই। এভাবেই ধীরে ধীরে কেমন প্রাণশূন্য হয়ে উঠছিলো মহল্লাটা। শহরমুখি গ্রামগুলো এভাবেই ক্রমশ নিস্ব হতে হতে ফুরিয়ে যাচ্ছে, শূন্য বাংলার গ্রামে হানা দিচ্ছে শহর, এই শহরের মানুষ ঠিক গ্রামের মানুষের মতো নয়, তারা কেমন ফাঁপা ফাপা, রাস্তা পাল্টাচ্ছে, সরকারি অফিস হচ্ছে, টাকা আসছে পকেট বুঝে, গ্রামেও দালান হচ্ছে, পীচ রাস্তা, কিন্তু মানুষগুলো কেমন ফাঁপা হয়ে যাচ্ছে। ফাপা মানুষদের মহল্লায় থেকে কচি-কাঁচাদের চোরচোর, হাডুডু ডাংগুলি খেলার বাচ্চাগুলো বেমালুম মুছে গেছে! এই সব ভাবতে ভাবতে পুকুরের নিস্তরঙ্গ জলের দিকে তাকিয়ে মনটা আরো বিষণ্ন হয়ে যায় কাল্লু মিয়াঁর। এই সব উবে যাওয়ার টুকরো টুকরো কাহিনির মাঝে সে নিজেকে খোঁজে, বেলা আসে বেলা যায়, কাল্লুরা ঝুলে থাকে তাদের স্মৃতির মায়াবৃক্ষে।

সন্ধ্যের পর ওই লাল ফুলে ছেয়ে থাকা গাছটার ছায়ায়, পার্টি অফিসের সামনের বাঁশের মাচায় অনেকে মিলে হাসি ঠাট্টায় সময় কাটাতো। চিঠিপত্র বা সরকারি অফিসের কোনো কাজে দরকার জগন্নাথ মাস্টার ছিলেন উদ্ধারকর্তা। এখন আর কেউ সেদিকে যায় না। সবটায় কেমন সন্দেহ আর রহস্যের অবিশ্বাস। সেই রকম এক ছাড়া ছাড়া সন্ধ্যায় ফিস ফিস করে উঠলো সেই নিঝুম হয়ে পড়ে থাকা বাঁশের মাচাটায় হঠাৎ এসে বসা পাঁচ মাথা। সুবল মিস্ত্রি এর মধ্যমণি, সুবল ইলেক্ট্রিকের কাজ করতো। এখন রেফ্রিজারেটর সারায়, এসি মেকার, শহরেই থাকে গত কয়েক বছর, হঠাৎ তার আসাটায় রহস্যের গন্ধ ছড়ায় মহল্লায়। ঘটনাটা সবাই জেনেই ফেললো, কাল্লুর সেই বেপাত্তা বৌ’য়ের খবর, সুবলের সঙ্গে ঘর বেঁধেছে সে, শহরে। এই কথাটা মহল্লায় চাউর হয়ে যায়। ঘটনাটা আরো চাউর হয় যখন জানা যায়, সুবল জনতার তাড়া খেয়ে পালিয়ে এসেছে, পুলিশ উদ্ধার করে যখন শহরের হাসপাতালে ভর্তি করেছিলো তখন কাল্লুর বৌকে দেখা গিয়েছিলো, সুবলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, হাসপাতালের বেডে। এর পর এক সন্ধ্যার মহল্লায় সে ফিরে আসে, কিন্তু কাল্লুর বৌ? মহল্লায় তাকে আনা যাবে না, ওদিকে সে শহরে ফিরলে গণধোলাইয়ের ভয়। গণের হাতে এই প্রহারের কারণটাও ক্রমশ সবাই জানতে পারলো, অভিযোগ, চোলাই মাল কেনা ও রঙ করে বিক্রির চক্রের মাথা ছিলো সুবল। বিন্দি, কাল্লুর বোউ, যাকে নিয়ে সুবলের পালিয়ে যাওয়া, মহল্লা জানলো প্রায় ১০ বছর পরে, একটা হই হই তখন মহল্লা জুড়ে। কাল্লুর সামনে হঠাৎ আলোর সকালটা, গোধূলির আলোটা কেমন রং-হীন হয়ে গেলো। একদিন ওই গাছগুলো, স্মৃতিগুলো কেমন মিথ্যা হয়ে গেলো। খবরটা কানে আসার পর থেকে সে পুকুর পারেই বসে আছে। দিনগুলোর হিসাব করতে পারে না আর, জমতে জমতে কয়েকটা বছর হবে, বছর ঘুরে গেছে বেশ কয়েকটা বছর, কাল্লু দিন গুনতো, কিসের জন্য তা আজ কিছুতেই মনে করতে পারছে না। সুবল মিস্ত্রিটা ফিরে এসে সবকিছু গুলিয়ে দিলো, বেশ ভালোই তো ছিলো সে। বিন্দিকে দোষ দেয় না সে, কী আর করতো বছর কুড়ির কচি মেয়েটা, সুখতো সবাই চায়। নিজেকেই গাল দিতে থাকে অস্ফুটে, এতদিন মহল্লার সব কাহিনির মধ্যে সে নিজেকে গুঁজে দিতো, খুঁজে নিতো। বেলা উঠতো, বেলা গড়াতো, কাল্লুর জীবনটাও গড়িয়ে যাচ্ছিলো। আজ সে নিজেকে খুঁজে পাচ্ছে না, দমবন্ধ বাতাসের মাধ্যে চোখের সামনে তার হারিয়ে যাওয়া বিবির ওড়না ভেসে যাচ্ছে, চেনা চেনা মুখগুলো ফিস ফিস করছে আধোঅন্ধকারে আলোছায়ার মাঝে। কাল্লু আগের মতই, সকাউকে দোষ দেয় না।

সুবলকে কি মহল্লা আবার আশ্রয় দেবে? এই প্রশ্নটায় মহল্লা দুভাগ। অজ-পাড়া গাঁ, মহল্লা বলেই এত কথা উঠছে, শহর হলে কেউ পাত্তাই দিতো না, জগু মাস্টারের মতো। সুবলের বিরুদ্ধে আসলে অভিযোগটা কি সেই নিয়েই চললো কানাঘুষা। মেয়েটা এখন কোথায়, কীভাবে আছে সেই নিয়ে কেউ কথা তুলছে না। সবাই আশা করছে সুবল ফিরে আসবে, কিন্তু বিন্দি, কাল্লু? সবাই তো এই মহল্লারই অংশ। জটিল হয়ে ওঠে মহল্লার ওই সান্ধ্য আড্ডার ফিসফিসানি। কাল্লুর বাড়ির চারপাশের ক্রমশ ঘন হয়ে ওঠা জংগলের কথাও উঠে আসে, চারপাশ লতা, ঘাস আর জঙ্গলে ভরা সাপ, বাঁদুড়ের ডেরা। আত্মভোলা কালু তো সংসারটাই করলো না আর, সুবোলতো তাও ঘর বেধেছিলো, মেয়েটাকে কদিনের জন্য হলেও সুখ দিয়েছিলো। এই সুখের কথা উঠতেই একটা মিহি তরঙ্গ মহল্লায় ছড়িয়ে যায়। কাকভেজা হয়ে বৃষ্টি মেখে তখন ফিরছিলো কুসুম। কুসুমবালা থেকে শহরের গন্ধ মেখে আজ কুমু। ভোর থাকতেই শহরে চলে যায়, কখন ফেরে কেউ জানে না, কেউ বলে কল সেন্টারে কাজ করে, কেউ বলে বেসরকারি হাসপাতালে। আজ তাকে একটু আগেই দেখা গেলো। রতন কথাটা তার কানে তুলে দেয়। কিছুক্ষণ থমকে থাকে, এর পর বৃষ্টি ভেজা শরীরেই সে পুকুর পারের দিকে এগিয়ে যায়, যে জলের ধারে একসময় হারিয়ে গেছে তার লাল টিপ। জলের ছায়া মুছে কাদা মাটিতে এখনো ছিন্ন কুসুমের শুকনো পাপড়িরা হয়তো মিশে আছে, এখনো। পুকুর পারে মাথা গুঁজে কাল্লুকে বসে থাকতে দেখে কুসুম। বৃষ্টি তখন থেমে গেছে। পাশে গিয়ে বসে। ছোটো বেলার ছবিটা যেনো জলের ছায়ায় দেখতে পায়। ওই মন্দিরের সিঁড়িতে বসে বাবা গাইতেন, আজ মনের সেই ছায়া থেকে উঠে আসছে সেই গানের কলিগুলো, গুনগুন করে সে গায়,

‘এই মানুষ হবে মাধুর্যভজন

তাই তো মানুষ রূপে গড়লো নিরঞ্জন”।

কাল্লু মুখ তুলে তাকায়, একবার, আবার একবার জলের দিকে, ছোটো ছোটো চক্রাকারে জলের মধ্যে ঢেউ ঘুরছে, জলপোকারা ঘুরে ঘুরে খেলছে সেই পাকের সঙ্গে। নিজেকে একসময় ওই জলপোকা ভাবে সে। একবার তাকায় কুসুমের দিকে, দুই হাঁটুর মাঝে মুখ গুঁজে কাঁদে, আবার হেসে ওঠে, অদ্ভুত একটা সুখের আহ্লাদে ভিজতে থাকে কাল্লু। কুসুমের হাতটা তার মাথায়। ভারমুক্ত মনের ফুর্তিভরা হাসির এই ঘন রসের কোনও তুলনা ছিলোনা

  • কমলকুমার বিষয়ে ভাব প্রকাশ

    মামুন হুসাইন

    newsimage

    আমাদের জন্মের বছর সুনীল গাঙ্গুলী ঘোষণা করলেনÑ ‘কমলকুমার মজুমদারের অন্তর্জলী যাত্রা এ বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ কবিতার বই এবং উপন্যাস

  • ষাটের দশকে বিচরণ-

    কবি মানস ও কাব্য ভাবনা

    মারুফ কামরুল

    newsimage

    পঞ্চাশের একটা ছাপ ষাটের দশকে পড়লেও এই দশকের আলাদা বৈশিষ্ট্য দাঁড়িয়েছে; কিছু প্রতিভা উঠে এসেছে। পঞ্চাশ ও ষাটের একটা

  • অঞ্জনা সাহার কবিতা

    newsimage

    অভিসন্ধি, চৈতন্যলোকে, জয়যাত্রা

  • সবার জন্য নন্দনতত্ত্ব

    আবদুস সাত্তার

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হয়েছে বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল। কিন্তু এখনও প্রাচ্যকলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের

  • সাময়িকী কবিতা

    বাণিজ্য নগরীর দিকে গোলাম কিবরিয়া পিনু একটি গাভী, তার বাছুরের সাথে থাকতে পারে

  • নীলিমা ইব্রাহিমের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের সাহিত্যমূল্য

    নাজনীন বেগম

    newsimage

    বাংলাদেশের শিক্ষা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির প্রগতিশীল বলয়ে অন্যতম বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ড. নীলিমা ইব্রাহিমের পুরো জীবন ছিল সার্বজনীন

  • পতনের পর

    আসমা চৌধুরী

    newsimage

    ঘরে ঢুকে মিষ্টি একটা গন্ধ পায় শরীফ। রান্নাঘরে ভালোকিছু রান্না করছে সায়মা। মন