menu

বিশ্বসাহিত্য বাগানে এক আগন্তুকের ধীর পায়ে চুপিচুপি হেঁটে চলা

মিলন আশরাফ

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৪ এপ্রিল ২০১৯

http://print.thesangbad.net/images/2019/April/03Apr19/news/Untitled-7.jpgসীমা নির্ধারণে সাহিত্যের কোনো বাউন্ডারি নেই। সব দেশের সব ভাষার নির্দিষ্ট কিছু সাহিত্য কিংবা দর্শনবিষয়ক রচনা আমাকে আলোড়িত ও আলোকিত করেছে। কিছু রচনা হৃদয়কে করেছে বিগলিত, আর কিছু মগজকে করেছে ঊর্বর। মগজকে শিরিষ কাগজ দিয়ে কড়া ঘষা মেরেছে অসাধারণ কিছু বই। সেসব বইয়ের মধ্য থেকে আমাকে সবচেয়ে প্রভাবিত করার কয়েকটি বইয়ের সম্বন্ধে আলোকপাত করছি।

চিন্তাচেতনাকে শাণিত করার প্রথম যে বইটির কথা মনে পড়ছে সবার প্রথমে সেটি হলো, মনস্তত্ত্ব বিষয়ক ‘দি ইন্টারপ্রিটেশন অব ড্রিম’। বইটির লেখক সিগমন্ড ফ্রয়েড। পৃথিবীকে নতুন চিন্তার বাঁকে ফেলে দেবার অন্যতম নায়ক ফ্রয়েড। তাঁর জন্ম মোরাভিয়াতে। অস্ট্রো হাঙ্গেরিয়ান এর একটি সাম্রাজ্যের অংশ এটি। ১৮৫৬ সালে তিনি পৃথিবীতে আসেন। পেশাগত পরিচয় ডাক্তার হলেও তিনি বৈজ্ঞানিক গবেষক ও থিয়োরি প্রণেতা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় তিনি সবার পিতা। কোকেন নামক মাদকদ্রব্য যে বেদনা নিবারণ করে- এই আবিষ্কার প্রথম করেন সিগমন্ড। বেদনা নিবারণি শক্তি পরীক্ষা করতে করতে তিনি মানুষের অবচেতন মনের ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ায় সন্ধান পান। ১৯০০ সালে প্রকাশ পায় উল্লিখিত গ্রন্থটি। বইটি মানুষকে নতুন চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে। অবচেতন মনের এই গবেষণা তাকে পৃথিবীজোড়া খ্যাতি এনে দেয়। অস্তিত্ববাদের নতুন দলিল হিসেবে এই বইটি বেশ সাড়া ফেলে। মানুষের কামনা-বাসনা নিয়ে এমন নিখুঁত ব্যাখ্যা তার আগে আর কেউ দিতে পারেনি। বইটির পুরো অংশজুড়ে আছে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখা ও জেগে উঠে দিবা স্বপ্ন দেখার সুনিপুণ ব্যাখ্যা। অবদমিত কামনা-বাসনার ভিন্ন ভিন্ন রূপ ও বিভিন্ন আসক্তি সবই আছে এই স্বপ্নতত্ত্ব বিষয়ক বইটিতে। ফ্রয়েডের এই যৌন বিষয়ক ব্যাখ্যা বিশ্বকে ঘাবড়ে দেয়। এটাকে অতিরঞ্জিত হিসেবে দেখে কেউ কেউ। বাড়াবাড়ি হয়েছে বলে কেউ দেন খারিজ করে। প্রথমে স্বীকৃতি না পেলেও নতুন এই চিন্তাধারার জন্য তিনি থাকলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশ্বজুড়ে এখনো গবেষণার টেবিলে ফ্রয়েডের চিন্তা ছাড়া পূর্ণতা পায় না। বুদ্ধিজীবীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অনায়াসে চলে আসে সিগমন্ড ফ্রয়েডের নাম। ফ্রয়েডের লেখায় বার বার এসেছে চেতন ও অবচেতন মনের দালিলিক প্রমাণ। আমাদের যৌন জীবন ও মানসিক গঠনের উপর রয়েছে ফ্রয়েডের ২৪ খন্ডের বিশাল এক মনোস্তাত্ত্বিক গ্রন্থ। ফ্রয়েডের যৌন বিষয়ক গবেষণার পর পৃথিবী জুড়ে ইডিপাস কমপ্লেক্স, পেনিস এনভি, কাসট্রেশন কমপ্লেক্স, ফ্যালিক সিম্বল, শব্দগুলো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

ব্যাগ কাঁধে একগাদা সৃষ্টিশীল চিন্তা মাথায় নিয়ে শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ঘোরাঘুরির সময় হাতে আসে ‘দি আউট সাইডার’। নীলক্ষেত থেকে কেনা বইটির লেখক বিশ্বসাহিত্যের জাঁদরেল পুরুষ আলবার্ট ক্যামু। সৃষ্টিশীলতার যন্ত্রণায় সমাজ-সংসার থেকে একপ্রকারের বিচ্ছিন্ন মুহূর্তে ‘দি আউট সাইডার’-এর প্রেমে মজে যাই। মানব চরিত্রের বৈপরীত্য খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বের করেছেন ক্যামু। বিচ্ছিন্ন মানুষকে ঘুরেফিরে সভ্য মানুষ হিসেবে দেখিয়েছেন ‘দি আউট সাইডারে’। নিজের জীবনের বিচ্ছিন্নতা মিলিয়ে মিলিয়ে ‘দি আউট সাইডার’ বুঁদ হয়ে পড়তাম তখন। উপন্যাসের নায়ক মারসাআল্টকে মনে হতো খুব আপনজন। হিরো নয়, সে ছিল আধুনিক অ্যান্টি হিরো। শত কাজ, অন্যের সঙ্গে বসবাস পাশাপাশি খুন করে নিশ্চিন্তে সময় পার করে মারসাআল্ট। আমাদের জীবনের নায়ক সে। সমাজ, দেশ পরিবার সবকিছু থেকে সে নিজেকে ইচ্ছাকৃতভাবে সরিয়ে রাখে। নিজ শিকড় বিচ্ছিন্ন করে সংযোগহীন জীবনযাপনে তার আনন্দ। উপন্যাসের শুরুর কয়েকটা লাইন পড়লে যে কেউ চমকে উঠবে। লাইনগুলো এমন, ‘আজ মা মারা গেছেন। কিংবা কালও হতে পারে। সঠিকটা জানি না আমি। একখানা টেলিগ্রাম পেয়েছি বাড়ি থেকে। চলে গেছেন মা। ফিউনারাল আগামীকাল।’

এই লাইনগুলো পড়ার পর ক্যামুর নিজের এক উক্তির কথা তুলে ধরার প্রয়োজনবোধ করছি ‘মায়ের ফিউনারালে কাঁদে না যে মানুষ, তাকে পেতে হয় মৃত্যুদ-।’ জীবনকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করার মানুষ নয় ক্যামু। তিনি দার্শনিক। ভাষা ব্যবহারে যথেষ্ট সচেতন তিনি। আলজিরিয়ার গনগনে সূর্যের বর্ণনা। উপত্যকার নানারকম ঘটনা, উড়ে চলা বেলাভূমি, কারুকাজ খচিত কফিন এসব আমাদের নিয়ে যায় বিচ্ছিন্ন এক অন্য পৃথিবীতে। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে ঠাসা আউট সাইডার। এত ঘটনার ভেতর থেকে মারসাআল্টের কোনো ভাবান্তর নেই। নিষ্পৃহ, নিষ্ক্রিয় যেন চেহারাবিহীন এক বিপরীত মানুষ। চার চারটা গুলি করে এক আরবীয়কে। এক নারী দালালের প্রতিও ঝুঁকে পড়ে সে। অফিসের বসের কোনো কথা কানে তোলে না মারসাআল্ট। পদোন্নতি দিয়ে তাকে প্যারিসে পাঠাতে চাইলে প্রত্যাখ্যান করে সে। উপন্যাসের নারী চরিত্র ম্যারির বিয়ের প্রস্তাব সে ফিরিয়ে দেয়। জানায়, সে নাকি কখনো ম্যারিকে ভালোই বাসেনি। কোনো কিছুতে আস্থা রাখতে পারে না মারসাআল্ট। যাকে বলা যায় বিংশ শতাব্দির ফাঁপা মানুষ। অ্যালিয়েনেশনের পাঠ নিতে ক্যামুর আউট সাইডার পড়া অতি জরুরি। ভালোবাসা ও ঘৃণার পার্থক্য সে বোঝে না। সে চায় মৃত্যুর পর তার উপর ঘৃণার পুষ্পবৃষ্টি ঝরুক। কেন সে এমন প্রার্থনা করে? এসব বিষয় পাঠককে বেশ ভাবনায় ফেলে দেয়। এরকম এক ভাবনার জগতে ডুবে মারার জাদুকর আলবার্ট ক্যামু ১৯১৩ সালে আলজিরিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। ভালোবাসতেন সুন্দরীদের সঙ্গ। নোবেল পুরস্কার পান ১৯৫৭ সালে। বুদ্ধিদীপ্ত ঔপন্যাসিক আলবার্ট ক্যামু মোটর দুর্ঘটনায় মারা যান। সালটা ১৯৬০।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আরেকটি বইয়ের কথা মনের ভেতর বারবার উঁকি দিচ্ছে। যে কোন দেশ, সরকারপ্রধান, প্রশাসন, আইনকানুন সবার জন্য কঠিন সাবধান বাণী উচ্চারণ করে গ্রন্থটি। বইটি ফ্রাঞ্জ কাফকার ‘দি ট্রায়াল’। লেখক এটি লেখা শুরু করেছিলেন ১৯১৪ সালে। প্রথম প্রকাশ জার্মানিতে ১৯২৫-এ। এরপর দ্বিতীয় প্রকাশ ১৯৩৭ সালে ইংল্যান্ডে। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র জোসেফ। পড়াশোনা শেষে সে আইনপেশা বেছে নেয়। কিন্তু আইনজ্ঞ হিসেবে দেশের এজেন্ট হয়ে কাজ করা সে পছন্দ করতো না। মোটকথা এসবের বিরুদ্ধে দাঁড়াতো সে। মানুষের প্রতি বিশ্বাসের কমতি ছিল জোসেফের। সবাইকে গুপ্তচর ভাবতো। একা একজন জোসেফকে দেখি বড় বড় শক্তির বিরুদ্ধে লড়ে লড়ে ক্লান্ত হয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। তাকে উদ্ধারের কোনো নামগন্ধ নেই। সকল নিয়ম-নীতির ভেতরেই ঘটে যাচ্ছে একের পর এক বিচারবহির্ভূত কাজ। আইনের কোনো ভুল ধরতে পারে না জনগণ। উপন্যাসের ভাষায় নির্দোষ অপরাধী জোসেফ এক গভীর প্যাঁচে পড়ে হাসফাঁস করে। সেই প্যাঁচ সে খুলতে পারে না। তার অপরাধের কোনো নির্দিষ্ট রূপ নেই, কখনো সত্যিকারভাবে তাকে ধরা হয়নি, সত্যিকারের বিচারের মুখোমুখি দাঁড়ায়নি কখনো সে। হয়তোবা এখনো তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। কিন্তু জোসেফ লক্ষ্য করলো সন্ধেবেলায় তার বাড়িতে দু’জন অপরিচিত লোক। মাথায় বড় হ্যাট, ফ্রক কোট পরে তার জন্য অপেক্ষারত। ইশারায় জোসেফকে জানায়, তার সামনে অনেক বড় খাদ। লোক দুজনের চোখে ক্রূর চাহনি। জোসেফ আস্থাহীন, ভরসাহীন মানুষ। তাকে নিত্য তাড়া করে ফেরে বিচারক, আদালত। জোসেফের মনে হলো, দুইজন অপরিচিত মানুষের একজনের চাকু তাঁর হৃৎপিন্ডে আরেকজনের হাত তার গলায়। নাজি, সোভিয়েত ক্যাম্প, কমুনিস্ট চায়না এদের শাসনযন্ত্রের তলে পিষ্ট হয়ে বিভ্রান্তিতে মানুষের চিন্তাভাবনা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। ট্রায়াল যে শুধু একনায়কত্বের কথা বলে তা নয়, বরং এরচেয়ে বেশি সত্য অর্থহীন আইন আর মানুষের অর্থহীন দুর্ভোগের কথা মনে করিয়ে দেয় বারবার। খটখটে আবেগহীনভাবে সেসব সত্য বর্ণনা করেছেন কাফকা। এসব কষ্ট যে অর্থহীন তা ঠাট্টার ছলে ইনিয়েবিনিয়ে বলে দিয়েছেন ‘দি ট্রায়ালে’। আমাদের সময়ে বিচারের এই প্রহসন সবই পাওয়া যায় কাফকার চিন্তায়।

http://print.thesangbad.net/images/2019/April/03Apr19/news/Untitled-8%20%281%29.jpg জার্মানির প্রাগে ফ্রাঞ্জ কাফকা জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮৩ সালে। পড়াশোনা আইনশাস্ত্রে। রমণীদের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই ভালোভাবে শেষ হয়নি। রমণীদের ব্যাপারে দ্বিধায় ভুগতেন। এভাবে ১৯২৪-এ এসে হলেন যক্ষায় আক্রান্ত। তখন তার তিনটি প্রধান উপন্যাস লেখা শেষ। কিন্তু কী এক অদ্ভুত কারণে বন্ধু ম্যাক্স ব্রোডকে সব নষ্ট করে ফেলতে বলেছিলেন। নিজে পারতেন নষ্ট করতে। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে পারেননি। তবে তার বন্ধু ব্রোড এ আদেশ মানেননি। তিনি খুব যতেœর সঙ্গে উপন্যাসগুলো সম্পাদনা করে প্রকাশের ব্যবস্থা করেছিলেন।

পছন্দের তালিকায় স্থান পাওয়া এবারের বই জর্জ অরওয়েলের ‘অ্যানিম্যাল ফার্ম’। রাশিয়ান বিপ্লবের ব্যর্থতার গল্পই হলো এর প্রতিবাদ্য বিষয়। একনায়কত্ববাদের কোমরে কষে বাড়ি মারে বইটি। সারা পৃথিবীতে ‘অ্যানিম্যাল ফার্ম’ ব্যঙ্গাত্মক রচনা হিসেবে দাপটের সঙ্গে টিকে আছে এখনো। পৃথিবীর প্রায় সব ভাষায় ‘অ্যানিম্যাল ফার্ম’ অনূদিত হয়েছে। বিক্রি হয়েছে মিলিয়ন মিলিয়ন কপি। শুরুতে এ বইয়ের ‘এ ফেয়ারি স্টোরি’ নামে একটি সাবটাইটেলও ছিল। রাজনীতি নিয়ে এমন ব্যাঙ্গাত্মক রচনা দ্বিতীয়টি মেলা ভার। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মাত্র ৪৮। জানা যায়, সেই সময়ের অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে এমন শীর্ণকার সাইজের বই লিখেছিলেন জর্জ অরওয়েল। প্রথমে পাবলিশাররা তাঁর এই বইটি ছাপাতে চায়নি। এগিয়ে আসলেন পাবলিশার ফ্রেড ওয়ার বার্গ। তিনি বইটি ছাপলেন। আগস্ট মাসে ‘ভিক্টোরি ইউরোপের’ পরের দিন বইটি আলোর মুখ দেখে। সালটা ১৯৪৫। ওই একই মাসে হিরোশিমা ও নাগাশাকিতে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এই ব্যঙ্গচিত্রটির মূলে রয়েছে রাজনীতি। রূপকথার ঢঙে সত্য মানুষের সঠিক মূল্যায়ন ফুটে উঠেছে ৪৮ পৃষ্ঠার বইটিতে। কাহিনির ভেতরে ঢুকে আমরা দেখা পাই প্রধান পশু চরিত্র মেজর বক্সার, ক্লোভার এটঅল। তাদের ভাষ্য মতে, চার পা ভালো, দুই পা খারাপ। আর পশুরা সবাই সমান। মনে পড়ে সাদা মধ্য বয়স্ক শূকরের কথা। কৌতুক করে সে বলে, “করুণ পরিশ্রমে পূর্ণ আমাদের জীবন। যেটার আয়ু খুব কম। কমরেড, এটা কি পরিষ্কার নয় যে, মানবজাতি আমাদের সকল দুখের কারণ। আমাদের দুঃখ-দুর্দশার একমাত্র কারণ ওদের অত্যাচার। মানুষকে যতদিন শেষ করতে না পারবো, ততদিন আমরা আমাদের পরিশ্রমের ফল ভোগ করতে পারবো না। তারা শেষ হলে আমরা ধনী হতে পারবো, সঙ্গে মুক্তও। দিনরাত খাটছি। এই কারণে আমাদের কী করা উচিত? এখনো কেন ওদের উৎখাত করছি না?” পাঠ্যবই হওয়ার সুবাদে যুগে যুগে অনেক ছাত্রছাত্রী এসব ডায়লগ প্রায় মুখস্থ করে ফেলেছে।

বিশ্বসাহিত্যের আরেকজন মহান লেখক ‘গ্যালিভার ট্রাভেলস’-এর স্রষ্টা জোনাথন সুইফট উক্ত গ্রন্থটি সম্পর্কে বলেন, ‘এ গল্পে কোনো ভাঁজ নেই। তোবড়ানো ঘটনা কিংবা বাক্য নেই।’ অর্ধশতাব্দিরও অধিককাল ধরে এটার জনপ্রিয়তা কমেনি। রূপকথার মতো যে বাণীগুলো তিনি আমাদের মগজে গেঁথে দিয়েছেন তা আজীবন ভাবাবে নিঃসন্দেহে।

‘অ্যানিম্যাল ফার্ম’-এর স্রষ্টা জর্জ অরওয়েল জন্মগ্রহণ করেন ভারতবর্ষে। তাঁর পিতা কাজ করতেন ভারতের সিভিল সার্ভিসে। অরওয়েল পড়াশোনা করেন ইটনে। বার্মার পুলিশ বিভাগে কাজ করেছেন। জীবনযাপন করেছেন লন্ডন ও প্যারিসে। স্প্যানিশ সিভিল ওয়ারে আহত হন তিনি। মারা যান ১৯৫০ সালে লন্ডনে।

ভালোলাগার এই বইটির শিরোনাম এককথায় যুদ্ধ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা গ্রন্থটি। ১৯২৯ সালে বার্লিনে প্রকাশিত হয় এটি। গ্রন্থটি পাঠ শেষে উপলব্ধিতে আসে শান্তির কামনা। বারবার চমকে উঠেছি, বিস্ময়ে লক্ষ্য করেছি যুদ্ধের ভেতরে কতশত কুচিন্তা লুকিয়ে থাকে। যুদ্ধের ভেতরে কতসব ভয়ংকর খাবার খেয়ে আমাশয় ভুগতে হয় যোদ্ধাদের। পচা এইসব খাবার বিক্রি করে অর্থ লুটছেন মুনাফাভোগিরা। মস্তবড় একটি যুদ্ধের পটভূমি আঁকা রয়েছে বইটির ভেতরে। লেখক যেন পৃথিবীর সব যুদ্ধ থামাতে এই গল্পের অবতারণা করেছেন। বইটির ভেতরে ঢুকলে আমরা দেখতে পাই, কিছু বিপথগামি বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ ও সেনাপ্রধান ছাড়া আর কেউ এই যুদ্ধ চায়নি। আশ্চর্য সব সাধারণ সৈন্যের গল্প আছে বইটিতে। আর এটা তো জানা সত্য, সাধারণ http://print.thesangbad.net/images/2019/April/03Apr19/news/Untitled-9%20%281%29.jpgমানুষের বোধে আসে না, কেন যুদ্ধ হয়? কিংবা যুদ্ধের পর কী লাভ হতে পারে? চোখের সামনে হাজারো মানুষের মৃত্যু। ইঁদুরের ছোটাছুটি, ট্রেঞ্চের উপর আহত মানুষের আহাজারি, রাত্রে বাইরে বের হলে গা ছমছমে ভাব, সময়গুলো আতঙ্কে ভরা। পরিখার পাশে গুলিবিদ্ধ সৈনিক ঢলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে। চারপাশে অসংখ্য পরিচিত স্বজন মারা যাচ্ছে। যুদ্ধের মর্মমূলে পৌঁছে লেখক অন্য এক যুদ্ধের গল্প শোনান। মর্টারের আঘাতে প্রাণে বেঁচে যাওয়া মানুষদের দুর্বিসহ জীবনের অসহ্য বেদনার কান্না। যেন ধড়ে প্রাণ নেই, জীবনটাই যা আছে। যুদ্ধের একটি সর্বগ্রাসী শক্তি আছে। নড়েচড়ে সেসবের কথা বর্ণনা করেছেন লেখক। গ্রন্থটি সম্পর্কে লেখক মুখবন্ধে জানান, ‘কাউকে দোষারোপ করার জন্য এ বই লেখা হয়নি। অথবা নিজের দোষ স্বীকারের গল্পও এটি নয়। যারা যুদ্ধে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে তাদের কথা বলার জন্য এই লেখা। কিংবা যারা মর্টার শেলের আঘাতের পরও আজও বেঁচে আছে। জীবনটা খালি আছে তাদের, নেই কোনো প্রাণ। অথবা প্রাণ আছে জীবন নেই।” লেখক গল্পে বারবার বলতে চেষ্টা করেছেন যুদ্ধের ভয়াবহ খারাপের কথা। বইয়ে ইঙ্গিতে যুদ্ধ নয়, আছে শান্তির অভয় বাণী। যুদ্ধের ভেতরে থেকেও শান্তির গল্প বলার উল্লিখিত বইটির নাম ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’। লেখক এরিখ মারিয়া রেমার্ক। লেখকের জন্মসাল ১৮৯৮। জন্মস্থান ওসনাবার্ক। টিচার্স ট্রেনিংয়ে পড়ার সময় যুদ্ধের ডাকে সাড়া দিয়ে যান ফ্লান্ডার্সে। নাজিরা তাকে জার্মানি থেকে তাড়িয়ে দেন। গ্রন্থটি যখন সিনেমা হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে তখন নাজিরা তাঁর প্রতি নাখোশ হয়। দেশ থেকে বিতাড়নের ফলে হলিউডে গিয়ে এক মেয়ের ভালোবাসায় বুঁদ হলেন। বিয়ে করেছিলেন তাকে। এরিখ মারা যান সুইজারল্যান্ডে।

ইংরেজি সাহিত্যে পড়ার সুবাদে পাঠ্যবই হিসেবে হাতে আসে ‘এ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া’। জাতিভেদের ওপর এরচেয়ে চমৎকার বই পৃথিবীতে নেই বললেই চলে। ই. এম. ফস্টার এই বইটির জনক। সারাজীবন অবিবাহিত থাকা ফরস্টার জন্মগ্রহণ করেন ১৮৭১ সালে। যথাক্রমে টনব্রিজ ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। ১৯২১ সাল থেকে ভারতের একটা ছোট রাজ্যে সেক্রেটারি হিসাবে কাজ করতেন। এই চাকরিই তাকে উপন্যাসটি লিখতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে। চাকরির সুবাদে ভারত সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান ও তথ্য আহরণ করেন তিনি। এই সমস্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ঢেলে পুরো উপন্যাস সাজিয়েছেন। গ্রন্থটির প্রকাশকার ১৯২৪। ভারতে থাকাকালীন ‘ওয়েব্রিজ সারেতে’ এক মুসলমান পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই বাড়িতে তিনি টিউশনি করতেন। যে মুসলমান ছেলেটিকে তিনি পড়াতেন সে ১৯০৬ সালে অক্সফোর্ড পরীক্ষায় পাস করবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। জাতিতে জাতিতে কুসংস্কার ও সংকীর্ণতায় বিস্তার পাঠ এই সময়টাতে নিয়ে নেন তিনি। ভারতীয় মুসলমানকে বাড়িতে এনে পড়াচ্ছে দেখে তার এক আত্মীয় কাঁটা চামচ চুরি করে কিনা? এরকম এক মন্তব্য ছুঁড়ে দেয়। জাতিভেদের এই সূক্ষ্ম সমীকরণ তখনই তাঁর উপলব্ধিতে ধরা দেয়।

সম্পূর্ণ ভারতবর্ষের গল্প ‘এ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া’। প্রেম-ভালোবাসা-ঘৃণা, সম্পর্কের স্বচ্ছতা সবকিছু ছাপিয়ে লেখকের মুক্তচিন্তার সম্প্রসারণ ঘটেছে আলোচ্য উপন্যাসটিতে। উপন্যাসের ভেতরে প্রবেশ করে ভারতীয়দের প্রতি একধরনের ভর্ৎসনার চিত্র দেখতে পাই আমরা। ভারতীয়দের সঙ্গে বন্ধুত্ব হতে পারে না এরকম মনোভাব দেখি সাদা ও বাদামির ভেতর। একজন কালো মানুষ ব্রিটিশ মেমকে অপমান করবে এটার বিরুদ্ধে তারা বেশ সোচ্চার। মারাবার গুহাঞ্চলে ডাক্তার আজিজ ও ইংরেজ কন্যা এ্যাডেলা কোয়েস্টেডের মধ্যে কী ঘটেছিল? সেটা লেখক রহস্যে ঢেকে রেখেছেন। এ্যাডেলা ছিল চন্দরপোরের ম্যাজিস্টেটের বাকদত্তা। অবশ্য ঔপন্যাসিক একবার বলেছিলেন, আসলে ডাক্তার আজিজ একটু দুষ্টুমি করেছিলেন। কিন্তু এর ফলে চন্দরপোরে আলোচনার পর আলোচনার ঝড় ওঠে। জাতিভেদের সীমারেখা অংকিত হয়। যেন সাম্রাজ্যের পতন ঘটবে এখনি। লেখক এখানে দ্বিতীয় শ্রেণির মেমদের স্বার্থপরতা, অসহিষ্ণুতা ও উন্নাসিকতা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন উপন্যাসটিতে। ঔপন্যাসিক জানান, ‘যে ঈশ্বর রাজাকে বাঁচায় তার হাত রক্ষা করবে পুলিশকেও।’ দুই জাতির ভেতর ভালোবাসা ও ঘৃণার গল্প বলে যান লেখক। উপন্যাসটি নিয়ে চমৎকার সিনেমাও বানানো হয়েছে। সিনেমা হওয়াতে অনেক ডায়লগ মানুষের মুখে মুখে ফেরে। বিশেষ করে প্রেম নিয়ে একটি উক্তি প্রায় ক্লাসিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফরস্টার বলেন, ‘আত্ম-সচেতন হলে প্রেম দুর্বার হয় না, আর প্রেম দুর্বার না হলে তারচেয়ে বড় বিড়ম্বনা আর কী হতে পারে!’ জাতিভেদের সূক্ষ্ম পাঠ নিতে এ বই অবশ্য পাঠ্য।

একটা সময় সিদ্ধান্ত নিলাম পৃথিবীর সকল নিষিদ্ধ বই পড়ব। তার-ই ধারাবাহিকতায় হাতে এলো ‘লেডি চ্যাটারলিস লাভার’। লেখক ডি.এইচ লরেন্স। সাহিত্যে যৌনতা কতটুকু আসতে পারে তার-ই অন্যতম উদাহরণ লেডি চ্যাটারলিস লাভার। ‘লেডি চ্যাটারলিস লাভার’ বইয়ের মাধ্যমে তিনি আমাদেরকে জানান দিচ্ছেন যে, ‘আমি এমন পুরুষ এবং মহিলা দেখতে চাই, যারা সৎ, স্বচ্ছ এবং পরিষ্কারভাবে যৌন চিন্তা করে।’ যৌন বিষয়কে অবলম্বন করে এমন বলিষ্ঠ সাহিত্য তাঁর সমকালে আর কেউ রচনা করেন নি। খোলাখুলি যৌন ঘটনাবলীর বর্ণনা দেওয়াতে তাঁর অধিকাংশ বইকে নিষিদ্ধ করা হয়। যৌন তৃষ্ণাকে তিনি সবসময় স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পরামর্শ দেন। আমাদের ভালো থাকার জন্য অবশ্যই মনোদৈহিক একটি সম্পর্কের প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ‘লেডি চ্যাটারলিস লাভার’ বইটি একটা দুর্দান্ত উপন্যাস। খোলামেলা সঙ্গমের দৃশ্য বর্ণনা এমন দুঃসাহসিকভাবে তাঁর আগে কেউ দেন নি। দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ থাকার পর ১৯৬০-এ কাটছাঁটের মাধ্যমে তা প্রকাশ করতে দেওয়া হলো। দাম রাখলেন সাড়ে সতেরো পেন্স। ভায়াগ্রার মতো সবার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখলেন। এক সপ্তাহের মধ্যে এক মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়ে গেল। বইটি ১৯২৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। তিনি তাঁর উপন্যাসগুলোতে দেখাতে চেয়েছেন জীবনের প্রত্যেকটির অধ্যায়ের মূলে রয়েছে যৌনশক্তি।

বড় বড় প্যারাগ্রাফে যৌনতার স্বতঃস্ফূর্ত বর্ণনা পাঠককে আটকে রাখে। সঙ্গে কয়লাখনির আঞ্চলিক ভাষায় লেডি চ্যাটারলি ও তার সাধারণ প্রেমিকের কথোপকথন বাড়তি আগুন ধরায়। হঠাৎ করে নৈতিকতার মৌচাকে ঢিল পড়ায় অগ্নিমূর্তি ধারণ করে সমাজ। উচ্চশ্রেণির আঁতে ঘা লাগে। অশ্লীলতার দায়ে কাঠগড়ায় ওঠে লেডি চ্যাটারলিস লাভার। অভিযুক্ত পাবলিশার পেঙ্গুইন মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন। হার হলো সরকার পক্ষের। কী এমন ছিল যাতে আইনের মুখোমুখি হতে হলো ‘লেডি চ্যাটারলিস লাভার’কে? কাহিনিতে উঁকি দিলে আমরা দেখতে পাই, বিয়ের ঠিক এক মাস পর ফ্ল্যান্ডার্স যুদ্ধে সব হারিয়ে হুইল চেয়ারসহ স্বামীকে ফেরত পায় চ্যাটারলি। স্বামী স্যার ক্লিফোর্ড উচ্চ শ্রেণির প্রতিনিধি। অন্যদিকে চ্যাটারলির পরিচয় ঘটে বাগানের মালি মেলেরোর সঙ্গে। এক মিলনে বেশ কয়েকবার আন্দোলিত ও পুলকিত হলো চ্যাটারলির শরীর। আসনফাসনের ধার না ধেরে বন্য-আদিম সঙ্গমে মিলিত হতো তারা। তার উদ্ধত-উদ্দীপ্ত পুরুষাঙ্গ শক্তিহীন অক্ষম উচ্চশ্রেণিকে কাচকলা দেখাল। কয়লাখনির মতো প্রাচীন ও শক্তিশালী এই যৌনশক্তি। লরেন্স পুঁজিবাদী সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বললেন, ‘উচ্চশ্রেণির এ ক্ষমতার বাহাদুরি কোথায়?’

দ্বন্দ্বটা শ্রেণিগত। একদিকে অভিজাত শ্রেণির স্যার ক্লিফোর্ড, অন্যদিকে নিচু শ্রেণির মালি মেলেরোর। সুতরাং উচ্চশ্রেণি মানুষদের এটা হজম হয়নি সহজে। এখানে কোনো সুড়সুড়ি নেই, আছে সত্যকে মেনে নেওয়ার সৎ সাহস। দেহাতীত প্রেম, প্রেম নয়। একথা বোঝাতেই লরেন্সের কলম ধরা। বইটি পড়ার আগে লরেন্সের যৌনতা সম্পর্কে তার বিশ্বাসটা দেখার প্রয়োজন আছে। লরেন্সের জীবনে উঁকি দিলে আমরা দেখতে পাই, বাল্যকালে প্রথম প্রেমে পড়েন ফেসিয়া চেম্বারস নামে এক মেয়ের। এরপর এক বিবাহিত মহিলা এলিস ডাস্কের সাথে প্রথম যৌন সম্পর্ক হয়। সে-ই প্রথম তাঁকে যৌনতা সম্পর্কে সৃষ্টিশীল চিন্তাধারায় সলতেতে আগুন ধরিয়ে দেন। ১৫-এর কোঠায় এসে তিনি লুই বরোজ নামের এক সুন্দরীর প্রেমে পড়েন। যার ফলে আগের সম্পর্কের ছেদ ঘটে।

উল্লেখ্য যে, উপরের তিন নারী-ই তাঁর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কিন্তু ওদের জীবনে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিলেন তিনি। প্রমাণ হিসাবে আমরা দেখতে পাইÑ প্রবঞ্চিতা ফেসিয়া চেম্বারস অবিবাহিতা থেকে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেন। এলিস ডাস্ক সারা জীবন পথ হেঁটেছিল তাঁর উজ্জ্বল স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে। আর লুই বরোজ বিয়ে করেছিলেন লেখক মারা গেলে। লেখক সাধারণ লোকদের মধ্যে যৌন শিক্ষা প্রচারে করতেন। এই বিষয়ে একটা সংঘও গঠন করেছিলেন তিনি। উক্ত সংঘের কাজ ছিল রক্তমাংসের শরীরের ইচ্ছার ক্ষুধাগুলোকে মেটানো। তিনি শেক্সপিয়ারের মতো মনে করতেন, ‘লাভ ইজ দ্য কম্বিনেশন অব বডি অ্যান্ড সোল’। আমাদের ভালো থাকার জন্য অবশ্যই মনোদৈহিক একটি সম্পর্কের প্রয়োজন। তিনি বারবার বোঝাতে চেয়েছেন পাকস্থলির ক্ষুধার চেয়ে যৌন ক্ষুধা মারাত্মক। ব্যক্তিজীবন ও লেখকজীবন একাকার হয়ে মিশে আছে বিশ্বসাহিত্য অঙ্গন উত্তপ্ত করা ডেভিড হারবার্ট লরেন্সের। তিনি নটিংহাম শায়ারে কয়লাখনি অঞ্চলে ইস্টউড নামে এক গ্রামে ১৮৮৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। কাফকার মতো তিনিও যক্ষায় মারা যান ১৯৩০ সালে।

  • বিশ্বসাহিত্য মরমে পশিল যারা

    ফারুখ সিদ্ধার্থ

    newsimage

    ‘ছবিতে ছবিতে গল্প’ আমার প্রথম ভালোলাগা অন্য ভাষার বই। বইটি রুশ শিশুগল্পের

  • বেহরুজ বুচানির বন্দিশালা থেকে ছোড়া বুলেট

    ‘পাহাড় ছাড়া কোনো বন্ধু নেই’

    newsimage

    লেখাটি শুরু করেছিলাম সাহিত্য সম্পর্কিত একটি বিশেষ ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে। সেই

  • মুহম্মদ খসরুর সাথে মাহবুব আলমের কথাবার্তা

    newsimage

    (পূর্ব প্রকাশের পর) মাহবুব : আপনি বোধহয় মেইন স্ট্রিমের ছবির কথা বলছেন... খসরু

  • শোধ

    সুরাইয়া জাহান

    newsimage

    গোধূলির লালচে আভায় যেন পৃথিবীটা মোড়ানো। আকাশ আর প্রান্তরের মধ্যকার জায়গাটা কেমন

  • খুনি

    সানজিদা সিদ্দিকা

    newsimage

    এক সপ্তাহ ধরে কোনো প্রকারের ত্রুটি ছাড়াই রোবটটি প্রতিদিন জাফরের সকল কাজ

  • বাংলা অনুবাদে নওশাদ নূরীর কবিতা

    ওবায়েদ আকাশ

    newsimage

    কবিতা কোথায়? কবিতা কাকে গ্রাস করে? কবি কেন কবিতার দাসত্ব করে? কিংবা,

  • মরিয়ম-এর নিগূঢ় তালাশ

    তমাল রায়

    newsimage

    একজন মানুষ কী আদ্যন্ত একটি রক্তমাংসের শরীর? না কি সে এক অনন্য