menu

বসতভিটে গো ভালোবাসা নাও

দিলারা মেসবাহ

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯
image

অলঙ্করণ : শতাব্দী জাহিদ

বসতভিটে গো ভালোবাসা নাও

দিলারা মেসবাহ

লোকমুখে শুনি আমাদের অবসন্ন ভিটে ক্ষয়রোগে

শয্যাশায়ী প্রায়! আহা সে স্মৃতিভুক আমাদের

দরদালান। অফুরন্ত স্মৃতিরসে নোনা ধরে গেছে বুঝি

সমূহ আস্তরে। আমি জানি মাতামহীর ধূপের গন্ধময়

জলচৌকি অমর! ছাদে লতিয়ে ওঠা মধুমঞ্জরি সেও

অমার আমাদের বছরভর খুঁনসুটি।

ফালি ফালি ইলিশের সর্ষেবাটার স্বাদ।

চতুরঙ্গ চচ্চড়ি, ঝিঙে পটোলের গলাগলি লাবড়া।

মুরগির রান সংক্রান্ত লড়াই চিমটি ইত্যাদি।

ভাইয়ের কফিন ধরে আদিগন্ত হু হু করা শোক!

আমাদের জ্বরজারি, দাঁতব্যথা, মাথাব্যথা।

ফেনা ভাত, মাগুরের নীলাভ ঝোল।

মায়ের কল্কা পেড়ে আঁচল দীর্ঘতর বলে অযুত অশ্রু

অপত্য স্নেহ, কিছু কিছু বঞ্চনা এঁটে যেত চমৎকার!

রাশভারি বাবার বাইফোকালের তলে জোনাকির

আলো। অক্ষরের ফুলে তিনি গাঁথতেন মসলিন!

স্মৃতিগন্ধে হাঁফ ধরে জাবর কাটি অনুরূপ

রক্তে নাচন লাগে, ভেসে যায় রুটিনের ছক।

নেয়ামতখানায় পাটালিগুড়ের জামবাটি,

হঠাৎ পড়ল মনে, কী অবাক!

বসতাভিটে বিলুপ্ত হয় না কস্মিন!

ভুল তথ্য প্রচারে বিরত থাকুন সাধুজন।

দেখুন ক্ষয়কাশ সামলে সরু চোখে চেয়ে আছে

বসতভিটে, আমাদের বৈঠকঘর বুক পেতে ডাকে!

মাটির চুলার ছাই উড়তে থাকে অনাদিকাল!

দূর দূরান্ত থেকে আমরা করি সোরগোল,

বসতভিটে গো ভালোবাসা নাও।

মায়া

চঞ্চল শাহরিয়ার

গল্প লিখবো এখন। মিতুদের নিয়ে মায়াময়

গল্প। সেই মিতু যার কিশোরী বয়স

আমার হাতের মুঠোয়। যার চোখের ইশারা

লালন মেলার সুখ বয়ে আনে। আনে গড়াই নদীর

উথালপাতাল ঢেউ। চাঁদ সুলতানা উচ্চ বালিকা

বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মিতু চলো সেগুনের বনে

ঘুরে আসি। খুকু ফুফু কিচ্ছু জানতে পারবে না।

বহ্নিবিবিক্ষ

অঞ্জন আচার্য

প্রস্থ নয়, দু’হাত দৈর্ঘ্য করে বলি

প্রেম-ভালোবাসা নিছক কাম ছাড়া অন্য কিছু নয়।

দেহের কামনার পরেও থাকে-

মনের যৌনতা।

মনও সঙ্গমে যায়, যেভাবে মিলিত হয় দেহরা পরস্পরে।

মনের সন্তান হয়, নামকরণও হয় কখনো সখনো

তাই বলে দেহ কেটে মন আলাদা যায় না করা,

তবে যে প্রেম-ভালোবাসা, দেহ ও মনÑ সব বহ্নিবিবিক্ষ হবে আত্মাহুতিতে।

তুমি বরং মানুষই থাকো

রেহেনা মাহমুদ

তুমি বরং মানুষই থাকো

মানুষ হলে চিনতে সুবিধা হয়

মানুষ হলে মানবিকতা খুঁজি না আর

খুঁজিনা খাঁটি প্রেম বা ভালোবাসা, কিংবাÑ

বন্ধুর বাড়িয়ে দেয়া হাতের সহমর্মিতা।

মানুষ হলে স্নেহ খুঁজি না, মায়া খুঁজি না,

কাঁধের ‘পরে মুখ রেখে নির্ভরতা খুঁজি না।

মানুষ হলে হবে বহুরূপী

হবে বহুগামী

মানুষই পারে বন্ধু হতে; মুখোশ এটে

ভালোবেসে হাতটি ধরে একনিমিষে ছেড়ে দিতে

স্নেহ-মায়ায় বিষ মিশাতে।

তুমি বরং মানুষই থাকো

মানুষ হলে খুব সহজে চেনা যায়। বরং-

সাধুবেশে তোমায় বড্ড অচেনা মনে হয়।

তোমার ছবি

আসাদ উল্লাহ

তোমার ছবির দিকে তাকালে জ্যোৎস্না দেখা হয়ে যায়

দেখি রূপসী নারী এক লাবণ্য উড়িয়ে মুখোমুখি দাঁড়ায়,

আমি তার আঙুল ধরে হেঁটে যাই পথ থেকে পথে

পড়ে থাকে সমুদ্র পাহাড়, ব্যথার বুকÑ

ধূলি-বালি পৃথিবী

যেনো ছেঁড়া টুকরো কাগজ।

দেখতে দেখতে ভালোবাসা দুঃসাহসের মহিমা ছড়িয়ে

আকাশ স্পর্শ করে স্বর্গলোকের দিকে চলে যায়।

আমি তোমার ছবির দিকে তাকাই

দেখি জ্যোৎস্নার মাঠে সোনালি স্তনের ওমে

খেলা করে ঘুমায় বিড়াল খরগোশ

মর্তের অমন সবুজ প্রেম পেয়ে গেলে

কে যাবে হায় পৃথিবী ছেড়ে শূন্য স্বর্গলোকে।

অ্যামাজন

ফারহানা রহমান

মুষড়ে পড়ছে মানবতা

হৃদয়হীনতা দিকে দিকে

সাগরের ফেনিল ঊর্মিতে

এখন ভীষণ স্বাধীনতা

আনাচে কানাচে সর্বনাশা

দুঃসহ আগুন লেলিহান

অ্যামাজন পুড়তে পুড়তে

হুলুস্থুল মৃত্যুর উৎসবে

জীবনের পঙ্কিল কাদায়

মানবতা নিয়েছে আশ্রয়

রাস্তার গার্বেজ ক্যানেলেতে

অভিশপ্ত আগুন জ্বলছে-

পুরনো সকল মানচিত্রে

সমস্ত প্রাচীন ইতিহাসে

ঘুমিয়েছে আকাশে বাতাসে

মানুষের বোধের চেতনা

তিমির রাত্রিতে ভুবে গেছে

নিবিড় মমতা ভালবাসা।

জিঘাংসার ছাড়পত্র

মাজেদুল হক

দীর্ঘ নিঃশ্বাসের মাত্রা আর বাড়াতে চাই না-

চাই না এক আনা জীবনে সুরের সিম্ফনী টেনে

অদম্য ইচ্ছের নামতা পড়ার।

চৈত্রের দুপুরে পিপাসিত তটিনির বুকের পাঁজরের

আর্তনাদ শুনতে চাই না।

চাই না দীর্ঘ নিঃশ্বাসের মাত্রা আওড়াতে

চাই না বিন্দু বিসর্গের কোন অভিযোগের শুনানি শুনতে

চাই না তিলে তিলে দগ্ধ হওয়া মৃত্যু বিভীষিকার ফাঁদে পড়তে

অতৃপ্তির বাসনা, বঞ্চনা উপেক্ষা করে

অজস্রবার আসতে চেয়েছি একফোঁটা স্বচ্ছ আলোর দ্রাঘিমায়

অথচ জিঘাংসার ছাড়পত্র ছাড়াই ক্রুদ্ধ হিম

আগুনের হলকায় জ্বলছি...

ক্যাথেড্রাল

মুর্শিদা জামান

গোপনে যে আগুনে পুড়ি

সেখানে ক্যাথেড্রাল তুমি

পুনঃ পুনঃ ব্যথায় কাতর আস্ত বনভূমি আর আমার,

হাহাকার, সে তো কোরাসের তাল ভেঙে উঁচু

কোন সুরে একা মিলিয়ে যায়।

ও কাঠুরে আবার প্রস্তুত হও

হৃদয় কাটার শব্দে তুমিও গেয়ে ওঠ

সহস্র শতাব্দির শোকগাথা।

স্মৃতিগন্ধা রাত

রাকিবুল রকি

শিংয়ের ডগায় জেগে আছে রাত

মৃদু হাওয়ায় কাঁপছে গাছের পাতা

বুকের ভেতর কেন অকস্মাৎ

উল্টাতে চায় পুরানো সব খাতা

অচেনা এক নদী ছিল তখন

অসময়ে ভেজাত মন-পাড়া

সেই স্মৃতিটা আজকে অনুক্ষণ

রন্ধ্রে রন্ধ্রে দিচ্ছে ভীষণ নাড়া

স্মৃতির ঘরে খিল দিতে চাই যত

তত খোলে হাজার দুয়ার কপাট

তসবি দানায় ঘুরছে অবিরত

তোমার নামের হারানো রাজ্যপাট

হু হু হাওয়া-কোলাজ

অনন্য কামরুল

ঝোলানো রাত আলগোছে দে’ ঘুম

নির্জনতা হামলে পড়ে ঘরে;

দূরের ছায়া পোড়ায় মায়ামোম

চাঁদের বাড়ি হাপিত্যেশে মরে।

ভাঙা নদীর চাপা অভিপ্রায়

উস্কে ওঠে মরা পাতার টানে

হু হু হাওয়াÑ কোলাজ বয়ে যায়

কোন জোয়ারে? কিবা অভিজ্ঞানে?

বন-কপোতে ডানায় নিয়ে মেঘ

বাসায় গড়ে বৃষ্টি-কারুলিপি;

ঝাউশাখাতে লুকানো উদ্বেগ

খামছে ধরে ধুতরাফুল-ছিপি।

  • জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের ৮০

    নিজের মতো করেই ভাষা তৈরি করতে হবে

    newsimage

    জ্যোতিপ্রকাশ দত্তজ্যোতিপ্রকাশ দত্ত বাংলা কথাসাহিত্যের অপরিহার্য উচ্চারণ। তাঁর গল্পের স্বাতন্ত্র্য ও কাব্যনির্ভরতা

  • জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের রচনা-

    শূন্যে সেই উদ্যান

    newsimage

    এক পর্বতসানুদেশে এক পর্ণকুটিরের কথা শোনা ছিল। ক্ষীণস্রোতা তটিনীর তীরে। পাইনের বন সারি

  • গিরিশ কারনাড

    সমাজ সংস্কৃতির অম্লান আলো

    গৌতম গুহ রায়

    newsimage

    হতে পারতেন ইংরেজি ভাষায় কবিতা লেখা সফল ভারতীয় কবি, হতে পারতেন দর্শনের

  • পোস্টমডার্নিজম, উত্তরআধুনিকতা এবং উত্তরচেতনা

    জিললুর রহমান

    newsimage

    (পূর্ব প্রকাশের পর) খ. পোস্টমডার্নিজম পোস্টমডার্নিজমের ‘Post’-শব্দটি এসেছে লাতিন ভাষার ‘postis’ থেকে। ‘postis’-এর অর্থ

  • তাহাদের কথা

    মাকিদ হায়দার

    newsimage

    মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশ হাজার হাজার বছর আগে। এক সময় এই মানুষেরা বনজঙ্গলে

  • স্মৃতিতে অনন্য জীবনানন্দ

    ওবায়েদ আকাশ

    newsimage

    এখনো পর্যন্ত বাংলা কবিতার প্রধানতম কবি জীবনানন্দ দাশ। তিনি এই আসন অলঙ্কৃত