menu

নীলিমা ইব্রাহিমের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের সাহিত্যমূল্য

নাজনীন বেগম

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৯
image

বাংলাদেশের শিক্ষা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির প্রগতিশীল বলয়ে অন্যতম বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ড. নীলিমা ইব্রাহিমের পুরো জীবন ছিল সার্বজনীন জ্ঞান আর শিল্পচর্চার এক বিকাশমান ধারা। শুধু তাই নয়, তাঁর বর্ণাঢ্য শিক্ষা এবং সাহিত্যচর্চায় তিনি যে মাত্রায় বিচরণ করেন তা যেমন যুগান্তকারী, একইভাবে দেশীয় ইতিহাস আর ঐতিহ্যেরও এক সমৃদ্ধ বৈভব। তীক্ষè মেধাবী নীলিমা ইব্রাহিম সফলভাবে শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। দক্ষতা, নিষ্ঠা এবং বলিষ্ঠ প্রত্যয়ে পেশাগত জীবনেও তিনি সফল হয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর নিঃস্বার্থ অবদান আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। শুধু তাই নয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে অকাতরে সাহায্য সহযোগিতা করাও তাঁর অবিস্মরণীয় কীর্তি। বিশেষ করে যুদ্ধোত্তর বিপন্ন দেশে অসহায় আর লাঞ্ছিত নারীদের নিয়ে তাঁর সময়োপযোগী সক্রিয় ভূমিকা বিপর্যস্তদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে যে যুগান্তকারী কর্মপ্রক্রিয়া তা আজও বিস্ময় জাগায়। এমনকি এসব ভাগ্যবিড়ম্বিত নারীকে নিয়ে তাঁর উল্লেখযোগ্য সৃষ্টিকল্প ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ তৎকালীন সময়ের এক বলিষ্ঠ সামাজিক দলিল। তবে তাঁর সাহিত্য প্রতিভার বিকাশ অতি বাল্যকাল থেকে। বিদ্যালয়ের বার্ষিকীতে তাঁর গল্প আর প্রবন্ধ নিয়মিত ছাপা হতো। তাছাড়া বাংলা সাহিত্যের নিবেদিত শিক্ষক হিসেবে তাঁর মননচর্চায় যে নিমগ্নতা সেখানে প্রাচীনকালের বঙ্গীয় সংস্কৃতির প্রবহমান গতির যে অনবদ্য আলেখ্য তা পাঠক সমাজকে নানামাত্রিকে উদ্বুদ্ধ করে। মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলীর অনুপম রূপকল্পও তাঁর নান্দনিক চেতনায় মূর্ত হয়। সেই শৈল্পিক দ্যোতনার আর এক অভিনব সৃজন সৌধ তাঁর ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের সাহিত্য মূল্য, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের মূল রচয়িতা বড়– চ-ীদাস।

নীলিমা ইব্রাহিমের মতো একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব সুচিন্তিত এবং যৌক্তিকভাবে শ্রীকৃষ্ণ কীর্তনের সাহিত্য মূল্যের বিচার করতে গিয়ে যে মাত্রায় বড়– চ-ীদাসের শিল্পী সত্তাকে নিয়ে গেছেন সেখানে তাঁকে আধুনিক এবং সামাজিক ব্যবস্থার নির্মাতা হিসেবে ভেবে নিতে আপত্তি থাকে না। কৃষ্ণের সমস্ত দেবত্বশক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে তাঁর মানবিক বোধগুলো পাঠকের সামনে হাজির করাই চ-ীদাসের মূল কৃতিত্ব। যেখানে সাহিত্যের বিচার বোধ অনেক উঁচু মাত্রায় চলে গেলেও কৃষ্ণের দৈব মাহাত্ম্যকে ক্ষুণœ করা হয়। রাধিকার মতো একজন সাধারণ বালিকার প্রেমে পড়া কৃষ্ণকেও একজন মানুষ হিসেবে তাঁর আকাক্সিক্ষত প্রিয়ার কাছে যেতে হয়েছে।

শুরুতেই নীলিমা ইব্রাহিম শ্রীকৃষ্ণ কীর্তনের ভাব সম্পদের আলোচনা করতে গিয়ে এই কাব্যের আকর্ষণ আর বিস্ময়ের জায়গাটিতে পাঠকের দৃষ্টি ফেরাতে সচেষ্ট হয়েছেন। বড়– চ-ীদাসের কাল পর্বটি ছিল দেবদেবীর আরাধনা, বন্দনা আর স্তুতির এক পরিমিত বলয়। আর সর্ববিধ দৈব শক্তির অধিকারী কৃষ্ণের বেলায় তো সেই নির্দিষ্ট সীমানা ভাঙ্গা আরও কঠিন। কিন্তু চ-ীদাস তাঁর অগাধ পা-িত্য আর অপরিমেয় শিল্প বোধে দেবত্ব বেষ্টিত আঙ্গিনাটি নির্বিঘেœ অতিক্রম করে গেছেন। মানুষের প্রতিদিনের সুখ, দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বিরহের নিরেট বাস্তব ছবি আঁকতে গিয়ে দেবদেবীর বন্দনাকে সেভাবে সামনে আনা সম্ভব হয়নি। আর এখানেই চ-ীদাসের অসামান্য দক্ষতা আর সময়ের বলয় থেকে বেরিয়ে এসে অগ্রগামী চিন্তা করাও এক অভাবনীয় সাফল্য। লেখিকার ভাষার বলা যায়, ‘এ কীর্তন গয়লাপাড়ার প্রেমিক যুগলের প্রেম, মিলন বিরহের অভিনবত্বে মহীয়ান ও গরিয়ান।’ প্রকাশের নির্মাণ কৌশল, ভাষা, ছন্দোময় আবহÑ সব মিলিয়ে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’-এর কবি যেভাবে সমকালীন সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন একইভাবে সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবন ও কর্মপ্রবাহের নৈমিত্তিক ঘটনারও একজন সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষক।

কংসবধের জন্য কৃষ্ণ ও বলরামের পৃথিবীতে আসার পৌরাণিক কাহিনীর সূত্র ধরেই এই দেবতুল্য অবতারের আবির্ভাব। জন্মলগ্নেই পিতা বাসুদেব কৃষ্ণকে নন্দ গোপের ঘরে রেখে আসে মা যশোদার কাছে। গর্ভধারিণী মা দেবকী পুত্র বিচ্ছেদে কাতর হলেও দৈব রানীর আগাম বার্তাকে অস্বীকার করতে পারেনি। সঙ্গত কারণে কৃষ্ণ তাঁর সুরেলা বাঁশির মূর্ছনায় নিমগ্ন থেকে বৃন্দাবনে গরু চরাতে লাগলেন। ইতোমধ্যে কংসও জেনে যায় তাকে যে বধ করবে সে বড় হচ্ছে গোকুলে। কৃষ্ণ হত্যায় উন্মত্ত হলেও কংস বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। একইভাবে দৈব নির্দেশে রাধারও ধরাধামে আগমন এবং অভিমন্যু বা আইঅনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। এই অবধি চ-ীদাস দেবতার অমৃত বাণীর সীমাবদ্ধ আলয়েই নিজেকে নিমগ্ন রাখেন। কৃষ্ণকীর্তনের আলোকে পরবর্তীতে পাঠকের দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন কীভাবে চ-ীদাস নিঃসঙ্কোচে বৃন্দাবনকে অতিক্রম করে এক মানবঘনিষ্ঠ সামাজিক আঙ্গিনায় বিচরণ করেছেন। এর আগে দেবত্ব শক্তি প্রয়োগে যেসব কাব্য তার শৈল্পিক মহিমায় অধিষ্ঠিত হয়েছে সেখানে দেবতাই প্রধান মানুষ তার অনেক পেছনে। চ-ীদাস নিজস্ব শৈল্পিক সম্পদ আর অসাধারণ জ্ঞান সাধনায় সেই দেবত্ব শক্তি পরিবেষ্টিত অলঙ্ঘ্যনীয় পথপরিক্রমাকে অসম সাহসে ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেনÑ যা সমকালীন সমাজ ব্যবস্থায় এক দুঃসাহসিক অভিযাত্রা। আর চ-ীদাসের এই অভাবনীয় সাফল্যই কৃষ্ণকীর্তনের অন্যতম শৌর্য। রাধা-কৃষ্ণের প্রেম, মিলন, বিরহ আর আত্মদানের কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে চ-ীদাস যেভাবে সামাজিক অভিশাপে নারী নিপীড়ন থেকে শুরু করে বিদ্যমান সমাজ আর মননের যে চিত্র পরিস্ফুট করেছেন তা যেমন বাস্তবোচিত পাশাপাশি মানবীয় চরিত্রের বিকাশ, ছন্দপতন, ন্যায়-অন্যায়বোধ, জবর-দখলের মনোবৃত্তি কিংবা জাগতিক পাপ-পুণ্যেরও এক স্বচ্ছ প্রতিবেদন। দেবতার অসীম বলয় থেকে মানুষ আর সমাজের নির্ধারিত আবহকেই পাঠকের সামনে বাস্তবসম্মত উপায়ে উপস্থাপন করা হয়। শ্রীকৃষ্ণের মর্ত্যে আবির্ভাবে তাঁর যে স্বর্গীয় আর অলৌকিক ক্ষমতা তাকে চ-ীদাসের কাব্যে কোনভাবেই খুঁজে পাওয়া যায় না, বরঞ্চ রাধার প্রতি তার একাধিপত্যের নির্মমতায় পাঠককুল বিমর্ষ হয়। প্রথমদিকে রাধা মোটেও কৃষ্ণের প্রতি অনুরুক্ত ছিল না। সতী সাধ্বী, কুলবধূর জীবনাচরণে সে এতটাই নিমগ্ন ছিল যে দেবতাসদৃশ কৃষ্ণ তাকে স্পর্শ পর্যন্ত করতে পারেনি। কিন্তু একসময় কৃষ্ণের প্রবল আকাক্সক্ষার কাছে রাধা নিজেকে সমর্পণ করে। এটাও পুরুষশাসিত সমাজের এক অলঙ্ঘ্যনীয় প্রথাÑ যা শুধু মানবীয় বোধকেই তাড়িত করে না সমকালীন সমাজকেও নিজস্ব স্বরূপে উন্মোচন করে। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য সে বোধেরই এক অনবদ্য উপস্থাপন। কাব্যের নানামাত্রিক অভিব্যক্তিত্বে শ্রীকৃষ্ণের দেবত্বশক্তি কতভাবে যে খর্বিত হয়েছে তাও আলোচকের লেখায় স্পষ্ট হয়। রাধা প্রেমে পাগল কৃষ্ণ যেভাবে ছায়ার মতো রাধাকে অনুসরণ করেছেন বহন করা থেকে শুরু করে মাথায় ছাতি ধরা, নৌকায় পার করা, নিজের প্রাণ তুচ্ছ করে কালিনাগকে বধ করা শেষ অবধি তাকে জয় করার জন্য বাণও নিক্ষেপ করতে হয়েছেÑ যা একজন দেবতাকে তার সমস্ত শক্তি থেকে অন্তর্হিত করে দেয়। এই দেবত্ব শক্তি হরণ কৃষ্ণকে মানবিক অনুভবে যে পর্যায়ে নিয়ে যায় সাহিত্যিক বিচারে তার দাম অসামান্য। নীলিমা ইব্রাহিমের সরাসরি উক্তি এখানে উল্লেখ্য, ‘কৃষ্ণ চরিত্রের এই অক্ষমতা, দুর্বলতা এবং অসহায়ত্ব তাঁকে দেব মাহাত্ম্য থেকে বঞ্চিত করেছে সত্য কিন্তু সাহিত্যে তাঁকে মানবিক অনুভূতিতে চিরভাস্বর করে রেখেছে। কোন কোন ভক্ত দুঃখ করে বলেছেন ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে’ কীর্তন আছে কিন্তু কৃষ্ণ নাই।’ শ্রীকৃষ্ণ হীরামুক্তা মাণিক্য খচিত বাঁশি হারিয়ে অঝরে কান্না করছেন। যে রোদন রাধিকাকেও বিষণœ আবেশে বিমর্ষ করে দেয়। কিন্তু এইখানে আলোচকের প্রশ্ন সর্বজ্ঞানী দেবতার তো অগোচরে থাকার কথা নয় তাঁর বাঁশি কোথায়? কেনইবা তিনি রাধার কাছে জোড় হাতে বাঁশির অনুসন্ধান জানতে চাইলেন? সমস্ত মানবীয় বোধ দিয়ে বড়ু চ-ীদাস যেভাবে কৃষ্ণচরিত্রের মাহাত্ম্য থেকে স্খলন সবই সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে অবলোকন করতে চাইলেন সেখানে তিনি একজন সুদক্ষ কাব্য নির্মাতা, শৈল্পিক দ্যোতনায় নিবেদিত এক মানবীয় সত্তাÑ যা দৈব শক্তিকে কোনভাবেই তার ছন্দোবদ্ধ অলঙ্করণের অনুষঙ্গ করতে একেবারে নারাজ। শুধু কৃষ্ণই নয়, মানবতাবাদী কবি রাধাকেও বিশেষ বিশেষ জায়গায় বাস্তব নারীর মর্যাদায় রূপায়ণ করেছেন যেখানে তাঁর সৃজন আর মননশক্তি উভয়েই সম্পূরক। এমনও হয়েছে কাব্যের গতিময়তায় শৈল্পিক সত্তা কবির মননশীলতাকে স্পর্শ করার অবকাশও পায়নি। অবতার কৃষ্ণের প্রেমে নিজেকে সমর্পণ করে রাধাকে তো সামাজিক কোন বিধি কিংবা অনুশাসন কাবু করার কথা নয়। কিন্তু কাব্যের শৈল্পিকশৈলীতে তাই হয়েছে। বিবাহিত রাধা তার স্বামী আইঅনের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত। কৃষ্ণের দেবত্ব শক্তির অমিত তেজে মানবিক দুর্বলতা কিংবা আশঙ্কার কোন অবকাশ থাকে না। কাব্যের অনিবার্য পরিণতিতে রাধাকে পেছনে ফেলে কৃষ্ণ যখন মথুরার দিকে অগ্রসরমান তখন কৃষ্ণের প্রতি বড়ায়ির যে ভর্ৎসনা কিংবা অভিযোগ তাও দেবতার প্রতি কোন বন্দনা বা স্তুতি নয়।

কাব্যের আলোচক তাঁর সর্বশেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছান প্রাসঙ্গিক ধারাবাহিকতায় যেখানে অধ্যাত্ম দর্শনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য ভক্তের মনোজগতের স্তুতি বা আরাধনার চাইতেও সমধিক গুরুত্ব পেয়েছে জাগতিক ভাবচেতনা তার সঙ্গে মানবকিতার এক অবিমিশ্র সম্পৃক্ততা। কৃষ্ণের কীর্তন শুধু ভক্তিরসের নিরবচ্ছিন্ন গতিধারাই নয়, বরং নর-নারীর চিরায়ত প্রেম, দুঃখ-বঞ্চনা আর মিলন-বিরহের এক অপূর্ব মানবীয় বৈভব। শুধু মানব সম্পৃক্ততাই নয়, সামাজিক অবয়বের এক বিদগ্ধ অনুভবও চ-ীদাস দক্ষ হাতে নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। একজন পুরুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে কোন অবোধ বালিকার নিজস্ব ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিরোধ এতটাই তীব্র যে যা সমকালীন চিন্তানায়কদের নানামাত্রিকে উদ্বিগ্ন করে। বড়ু চ-ীদাস সেই মাপেরই একজন সফল সৃষ্টিশীল স্থপতি যেখানে দেবত্বকে ছাড়িয়ে সামাজিক বিধান, অনুশাসন সামনে চলে আসে। পরস্ত্রী রাধা কৃষ্ণ প্রেমে যখন বিভোর সেখানে সংসার থেকে আরম্ভ করে বৃহত্তর সামাজিক আঙ্গিনাও তার বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়, সর্বজনের কাছে কুলটা হিসেবে তাকে নিন্দিতও হতে হয়। এই সামাজিক দায়বদ্ধতাকে কৃষ্ণকীর্তনের স্রষ্টাও এড়িয়ে যেতে পারেননি। আবহমান বাংলার চিরন্তন বৈভবতার যে নৈসর্গিক সম্ভার বড়– চ-ীদাস সেই সম্পদকেও উপেক্ষা করেননি। যেখানে পূর্ববর্তী কাব্যগুলোতে সে সবের অনুপস্থিতি আমাদের বিস্মিত করে। চ-ীদাস সেখানেও আপন নৈসর্গিক চেতনায় নিমগ্ন। কবির চৈতন্য, ভাষা ও শব্দচয়নের অভাবনীয় নির্মাণশৈলীতে সমকালীন আবহকে অতিক্রম করা সব মিলিয়ে কৃষ্ণকীর্তন কাব্য বাংলা সাহিত্যের যুগোত্তীর্ণ এক সৃজন মহিমা। যা শুধু সময়ের গতিধারাকেই নিয়ন্ত্রণ করে না কালের অগ্রযাত্রাকেও মহিমান্বিত করে। নীলিমা ইব্রাহিমের মতো একজন দক্ষ আলোচক, বাংলা সাহিত্যের এক প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব যেভাবে বড়ু চ-ীদাসের ‘কৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের সাহিত্যমূল্য আলোকপাত করেছেন তা যেমন অসাধারণ একইভাবে বাংলা সাহিত্যের বিকাশমান ধারার এক অতুলনীয় সম্পদ।

  • কমলকুমার বিষয়ে ভাব প্রকাশ

    মামুন হুসাইন

    newsimage

    আমাদের জন্মের বছর সুনীল গাঙ্গুলী ঘোষণা করলেনÑ ‘কমলকুমার মজুমদারের অন্তর্জলী যাত্রা এ বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ কবিতার বই এবং উপন্যাস

  • ষাটের দশকে বিচরণ-

    কবি মানস ও কাব্য ভাবনা

    মারুফ কামরুল

    newsimage

    পঞ্চাশের একটা ছাপ ষাটের দশকে পড়লেও এই দশকের আলাদা বৈশিষ্ট্য দাঁড়িয়েছে; কিছু প্রতিভা উঠে এসেছে। পঞ্চাশ ও ষাটের একটা

  • অঞ্জনা সাহার কবিতা

    newsimage

    অভিসন্ধি, চৈতন্যলোকে, জয়যাত্রা

  • সবার জন্য নন্দনতত্ত্ব

    আবদুস সাত্তার

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হয়েছে বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল। কিন্তু এখনও প্রাচ্যকলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের

  • বৃষ্টির সেই অন্ধকারগুলো

    গৌতম গুহ রায়

    newsimage

    পুড়ে যাওয়া বা ছেকা খাওয়া রুটির মতো খসখসে সন্ধ্যার ভেতর চন্দ্রা চোখ

  • সাময়িকী কবিতা

    বাণিজ্য নগরীর দিকে গোলাম কিবরিয়া পিনু একটি গাভী, তার বাছুরের সাথে থাকতে পারে

  • পতনের পর

    আসমা চৌধুরী

    newsimage

    ঘরে ঢুকে মিষ্টি একটা গন্ধ পায় শরীফ। রান্নাঘরে ভালোকিছু রান্না করছে সায়মা। মন