menu

নিমাই সরকার

আগুনের পরশমনি

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২০
image

হঠাৎ করেই ভেঙেচুরে কিছু একটা পড়ার শব্দ। কী হলো, কী হলো! আর কিছুই না, কিরীটি পড়ে গিয়েছেন চেয়ার থেকে। সবাই গিয়ে তাঁকে ধরে ওঠান।

শরীরটা যেন চলে না। কয়েক দিন ধরেই তরুণীর এই অবস্থা। এরই মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে আসছে রোগী। এক এক করে দেখে নিচ্ছেন কিরীটি। ভিড় কমছে না।

কাজেই বিশ্রামের সুযোগ কোথায়!

জ্বর জ্বর শরীর। দাঁত, নাক, কানেও ব্যথা। নারী একটু অবলম্বন খোঁজেন। বসেন অফিসের এক কোণে এক চেয়ারে। পা দুটো টান টান করে দেন। চোখে তন্দ্রা নেমে আসে। তারপরই মাথায় ঝিমুনি খেয়ে এই আছাড়।

রংপুর হাসপাতালের চিকিৎসক কিরীটি অনামিকা অনুশ্রী। এক বছর হলো বি সি এস এর মাধ্যমে চাকরি নিয়েছেন। পেডিয়েট্রিক বিভাগ। তরুণী দেশের এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে করোনা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।

কিরীটি রবীন্দ্র সংগীত চর্চা করেন। স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যও। বিশুদ্ধ কিছুর পেছনে ছোটে মন। কথা বলছেন, কাজ করছেন, এরই মধ্যে গান গেয়ে ওঠেন নারী। আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে। ...

এবার চাইছিলেন নববর্ষে সুন্দর একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে দিলো সব। সেদিন সকালেই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাশ্বতী সেনের ফোন। দিদি, খবরের কাগজ দেখেছেন? এবার কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে নববর্ষে অনুষ্ঠান হচ্ছে না। বাসায় বসা তখন। কিরীটি চায়ে চুমুক দিতে দিতে টেবিলের ওপাশ থেকে দৈনিকটি সামনে টেনে আনলেন।

চোখ বুলিয়ে গেলেন অক্ষরের ওপর দিয়ে।

বাংলা নববর্ষ উদযাপনে রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান হচ্ছে না। করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবারের বর্ষবরণ আয়োজন বাতিলের কথা জানিয়েছে ছায়ানট। উদীচীর বেলায়ও একই কথা।

ফোনের ওপার থেকে শাশ্বতী সেন যোগ করলেন ভালো লাগা অথবা না লাগার কথা। স্বাধীনতার পর এই প্রথম রমনায় ছায়ানটের অনুষ্ঠান হচ্ছে না।

কিরীটিরও সুখ এবং বেদনার অনুভূতি। কিছু বলতে যাচ্ছিলেন। সে কথা কেড়ে নিয়ে ওপার থেকে শাশ্বতী সেন বললেন, বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের খরচ দুস্থদের মাঝে দান করবো আমরা। কিরীটি সমর্থন দিলেন, উদীচী এই কাজটি ভালোভাবেই করতে পারবে।

কিরীটিরও সুখ এবং বেদনার অনুভূতি। কিছু বলতে যাচ্ছিলেন। সে কথা কেড়ে নিয়ে ওপার থেকে শাশ্বতী সেন বললেন, বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের খরচ দুস্থদের মাঝে দান করবো আমরা। কিরীটি সমর্থন দিলেন, উদীচী এই কাজটি ভালোভাবেই করতে পারবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এছাড়া সংস্কৃতিকর্মীদেরও নিরাপত্তার প্রশ্ন আছে। সব মিলিয়ে রমনা বটমূলে এবার অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত সঠিক। এই প্রেক্ষিতে নারী আরেকটু ভিন্নভাবে সাজাতে চান নিজেকে। কিরীটি ওই দিনই সিদ্ধান্ত নেন, হাসপাতালে করোনা রোগীকে সেবা দেবেন।

হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা ২০০টি।

এখানে করোনার উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের জন্য বহির্বিভাগ খোলা হয়েছে। এখন আর মিটিং করার সময় নেই। ডিরেক্টর সামনে। কাজ তদারকি করছেন। বয়সের পার্থক্য নিজেই তুলে নিয়েছেন। চিকিৎসা নয় শুধু ব্যবস্থাপনায়ও এই নিয়ম। এটাই আধুনিকতা। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা হয়।

কিরীটি বলেন, রোগীদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র এবং কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস দেওয়ার অধিকতর সুবিধা জরুরি। যে সুবিধা আছে তা যথেষ্ট না। হাসি তাঁর মুখে।

ডিরেক্টর না বলেন না। সেটার জন্য ওপরে আলোচনা চলছে। জরুরি কাজ জরুরি ভিত্তিতেই করা হবে।

যত সুযোগ সুবিধা, তত রোগী। সুতরাং চাপ কমছে না। তাই...

কিরীটি আরও কিছু বলবেন কিন্তু তার আগেই সে কাজটি সেরে নেন ডিরেক্টর। বলেন, এবং তা আরও বাড়বে।

তাহলে প্রস্তুতিটা চাই আগেভাগে। কিরীটি কিছুটা ক্লান্ত। তরুণী তখন জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছিলেন।

ডাক্তাররা এখানে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। ডিরেক্টর সন্তোষ প্রকাশ করেন। সেবার জন্যই চিকিৎসক। আর কাজই দিতে পারে আনন্দ। দূরে তাঁর চোখ।

গেটের সামনে একটু ভিড় মনে হচ্ছে। আমি গর্বিত তোমাদের নিয়ে, বলতে বলতে এগোন তিনি।

ভিড় বেড়ে গেছে। মানুষ ধৈর্য হারিয়েছে। পিপিই নিয়ে গেলো বেশ ক’টা দিন। চিকিৎসা বিঘিœত হলো। সেই প্রশ্ন তুলেছেন এক রোগী বান্ধব। আপনারা কি ভালো করলেন? এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেয়া যায় না। ডিরেক্টর বললেন, দেখুন বিষয়টা মীমাংসিত। আমাদের ডাক্তাররা এখন রাত দিন কাজ করে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি আপাতত প্রশমিত হলো।

সত্যিই তাই। ঢাকার হাসপাতালেই অভিযোগ উঠেছিল তাঁদের পিপিই নামে যা দেওয়া হয়েছে সেই গাউন এবং পায়জামায় পানি ঢাললে চুইয়ে পড়ে। অথচ এমন কাপড় বা পদার্থে এটি তৈরি হতে হবে, যার মধ্য দিয়ে কোনো তরল পদার্থ গলে যেতে পারবে না। কি দুর্ভাগ্য চিকিৎসকের!

এন-৯৫ মাস্ক নিয়েও একই ঘটনা ঘটেছে। দেখা গেছে ওই নামের মাস্কের প্যাকেটে সাধারণ মানের মাস্ক। পরে সেসব নিয়ে মাথা ঘামাননি ডাক্তাররা।

সান্ত¡না নেন, সার্জিক্যাল মাস্ক হলেই হয়। কিরীটীরও এতো কিছু ভাববার সুযোগ নেই। মানুষ এখন বিপদে। তারা এর ভিতর থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।

মহৎ এক পেশা ডাক্তারি। সেই অর্থে নারী ভাগ্যবান। মানুষের কাছাকাছি থাকার সুযোগ আছে তাঁর। বুঝে গেছেন, সেবার মধ্য দিয়েই আত্মতৃপ্তি। তাঁর ভেতরে সুর অনুরণিত হয়। ... এ জীবন পুণ্য কর দহন দানে। ...

এখন পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলার ফুসরত নেই। কিন্তু এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব হয়ে ওঠে না। বলেন, ওরা এমন এক মেধাবী প্রজাতি, শূন্য দিয়ে লক্ষ বানাতে হয় না দেরি।

তরুণীর আছে অঙ্গীকার। মানুষের জন্য তাঁর করণীয় বিস্তর। সেসব কেবলই তাঁকে খোঁচায়। তাইতো অবিরাম ছুটে চলা। এরই মধ্যে পেছন থেকে নারী কণ্ঠ। বলে, এই মেয়ে জানো কি খবর, কী হচ্ছে দেশে বিদেশে!

ঢে...র জানি। টেনে টেনে উত্তর এই তরুণীর।

দূর থেকে কণ্ঠ আসে। সে কণ্ঠ ধীরে কিন্তু মিহি স্বরে জানিয়ে দেয় খবর। এ বেলার সর্বশেষ আকাশ বাণী।

আগের যে গ্রুপ ইনটেনসিভ কেয়ারে ঢুকেছে, তারা অন্যদের কাছে থেকে বিদায় নিয়ে ঢুকেছে। অন্তরের দাহকে চাপা রেখে তাদেরকে সম্মিলিত হাততালির মাধ্যমে সাহসের সঙ্গে ওখানে পাঠানো হয়। একইভাবে এই গ্রুপও তাদের আগের গ্রুপকে পাঠিয়েছিলো।

একজন চিকিৎসক আইসিইউতে প্রবেশ করে রোগীদের সেবা দিতে দিতে কিংবা সেখান থেকে লাশ বের করতে করতে ইনফেক্টেড হয়ে যায়। ইনফেক্টেড হয়ে যাবার পরেও তার সর্বশেষ শক্তি দিয়ে রোগীদের জীবন বাঁচানোর জন্যে যুদ্ধ করতেই থাকে।

কী, ভয় হচ্ছে? জ্বলে ওঠা কণ্ঠ তার।

না ... না। ... মানে ... তরুণী বুঝি একটু ভড়কে যান।

আবার সেই কণ্ঠ।

একসময় তাকেও আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়। যাদের ভাগ্য ভালো তারা সুস্থ হয়ে ফিরে এসে আবার কাজে যোগ দেয়।

আর যাদের ভাগ্য খারাপ, জিজ্ঞেস করেও করেন না নারী। কী উত্তর বেরিয়ে আসবে সেই আশংকায়!

তারা অন্যান্য রোগীর মতো লাশ হয়ে আইসিইউ থেকে বের হয়। বাণীর নারী লাগা তার বলে যায়।

তারপর?... তারপর? বড় জানতে ইচ্ছে করে। তাকে কি তৃষার মতো ক্রেনে নিয়ে সৎকার করা হয়, নাকি অন্য উপায়ে! তবে এবার সাহসে কুলোয় না।

তরুণী গা ঝাড়ি দিয়ে উঠতে চান। দাঁতে দাঁত রেখে সামনে তাকান।

আমার এই দেহখানি তুলে ধরো, তোমার ওই দেবালয়ের প্রদীপ করো ... নিশিদিন আলোক-শিখা জ্বলুক গানে। ...

তারপর তৈরি থাকা নতুন গ্রুপ মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে আইসিইউতে প্রবেশ করে। বাণীর নারী বলতে বলতে দৌড়ে যায় সামনের দিকে, দূরে বহু দূরে।

কিরীটি ওদিক ছোটেন না। তাহলে কি ভয় পেলেন? সে কথা থাক। নারীতো একজন সাংস্কৃতিক কর্মীও। আছে নিজের সংগঠন। যারা যোগায় সবার অন্ন, আমরা কি তাদের জন্য? হ্যাঁ, এও এক পরীক্ষা। শাশ^তী সেনের সঙ্গে কালও ফোনে কথা হলো। অর্থ সংগ্রহ চলছে, অন্যদিকে চাল ডাল বিতরণের বিষয়টিও থেমে নেই। নারী নির্ভার হন। অন্য চিত্র আসে চোখের সামনে।

কিরীটির বেলায় এই ব্যাপারটি ঘটে। এও বুঝি সংগঠনের প্রভাব।

তরুণী আরও আরও বিপদ দেখেন। এ বিপদ নতুন নয়। জানালার ফাঁক দিয়ে দেখেন, দোয়েল এসে বসেছে। গল্প জুড়ে দেন তারই সঙ্গে। বলেন, ভারতে সেবার লক্ষ লক্ষ লোক ইনফ্লুয়েঞ্জায় মারা গিয়েছিল। কলকাতাতেও এত মারা গিয়েছিল যে, শ্মশানে দাহ করার স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। গঙ্গার পাড়ে আধ মাইল জুড়ে মড়ার খাঁগুলো রাখা ছিল।

এই মড়কের মধ্যেও কলকাতায় যুদ্ধজয়ের উৎসব করেছিল ইংরেজ সরকারের আমলারা। বিজয়ী মহারানী খুশি হবেন যে! আজও কি ভিন্ন চিত্র? চাল চোরেরা শঙ্খ বাজিয়ে বস্তা সরিয়ে রাখে। পার্থক্য, চোর আগে চুরি করতো গায়ে তেল মাখিয়ে আর এখন করে পিতার উত্তরীয় পরে। বুঝেছিস বুদ্ধু? তরুণীর দিকে মনোযোগ তার ষোলো আনা। বলে, তাতো বটেই তাতো বটেই।

কথা চলে, পিতার বসন গায়ে জড়ালে সব ভয় দূরে যায়। তরুণী আলোচনা হঠাৎ করেই অন্য দিকে আনেন। পিতার উদারতাকে কাজে লাগিয়েছো, রক্ষা! পিতার কন্যাকে চেনোনি। বাঘে ধরলে এক ঘা আর নন্দিতার হাতে পড়লে নিশ্চিত একশো ঘা।

শ্যামবাজারের ঘাটে পোড়ানো হয়েছিল সেই আমলের লক্ষ টাকার বিলেতি আতশবাজি। আলোকিত হয়ে উঠেছিল রাতের আকাশ। কলকাতা শহর এত লাশ কখনো দেখেনি। জাহাজ ভরে ইউরোপ থেকে আতশবাজি এসেছিল। মাসজুড়ে। কিন্তু ওষুধ আসেনি, চিকিৎসার সরঞ্জামও নয়।

উড়তে উড়তে নয় বরং হাঁটতে হাঁটতে দোয়েল আসে আরও কাছে। সরঞ্জাম নিয়েই কথা।

উজির প্রসঙ্গে খুব আগ্রহ দোয়েলের। আরেক মুল্লুকের আরেক উজিরের সঙ্গে বন্ধুত্বের সংলাপ চলছিল।

বাংলাদেশের করোনা প্রস্তুতি কেমন? উজির বললেন, তিন মাস আগে থেকে প্রিপারেশন নিয়ে রেখেছি।

হাসপাতালে ভেন্টিলেটর কেমন আছে? কী পরিমাণ আছে?

ঢাকায় হাসপাতালগুলিতে তো আছেই, জেলা উপজেলা পর্যায়ে আরও বেশি ভেন্টিলেটর আছে- বোঝেনই তো, ধুলাবালির এলাকা, মানুষের শ্বাসকষ্ট হতেই পারে ষ হায়রে উজির, মান মর্যাদা রসাতলে গেলো!

আরও এক উজির? ওর আকর্ষণ শেষ হয় না। উড়তে উড়তে নয়, লাফ দিয়ে প্রায় কাছে এসে দাঁড়ায়। এক উজির বলেন, আমরা করোনার চেয়ে শক্তিশালী। সেও সত্যি। করোনায় আক্রান্ত মানুষের চেয়ে চাল চোরদের সংখ্যা বেশি। গুরুগৃহে পাঠ নেয়ার সময় ছিল কুড়ালের চোটপাট। নিজেরই রক্তের বিরুদ্ধে। সেসময় চলে গেছে। এই বয়সে এখনও কি একই খেলা! অনুশ্রী হাসেন।

আঁধারের গায়ে গায়ে পরশ তব

সারা রাত ফোটাক তারা নব নব। ...

এই ইনফ্লুয়েঞ্জার আগে এসেছিল প্লেগ।

উনিশ শতকের শেষভাগের কথা। বাংলায় প্লেগ রোগ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্পোরেশন থেকে সবাইকে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি হওয়ার আহ্বান জানানো হলো। আজকের কোয়ারেন্টাইন। বুঝলি দুষ্টু?

দোয়েল লেজ দোলালো। তাইতো তাইতো।

কিন্তু শহরবাসী তাতে রাজি হলো না। গুজব ছড়াতে লাগল, যারা পাপী কেবল তারাই প্লেগে মরবে। মাছি আর মড়া ইঁদুর থেকে জীবাণুতো ভদ্রলোকের গায়ে আসবে না।

আর প্লেগ হবে কেবল ছোটলোকের, ডোম, মেথর ভিস্তিওয়ালাদের। সজ্জন ধর্মভীরু নিরামিষভোজী কারও এই পচা অসুখ হওয়ার কথা নয়।

আজই বা কি হচ্ছে? ধর্মগ্রন্থ আর ধর্ম ভবনের আশ্রয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

শারীরিক দূরত্ব আবার কী, কোয়ারেন্টাইন কোন ছাড়?

এবার কেটে পড়! দোয়েল আর দেরি করে না। ওর ও কাজ আছে। খাদ্য খুঁজতে হবে।

বাণীর নারী এখনো কি দৌড়াচ্ছে? দাঁড়িয়ে উঁকি দিয়ে দেখতে যান তরুণী।

নজরে আসছে না। আফসোস থেকে যায়। তরুণী বিষয়টি পরিষ্কার করতে চেয়েছিলেন। হলো না। তারপরও কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে আসতে চায় ভেতরের কথাটি। ...

মৃত্যুবরণ করেও যদি শেষ একজন চিকিৎসক বেঁচে থাকি, হাসপাতাল ছেড়ে যাবো না।

নয়নের দৃষ্টি হতে ঘুচবে কালো,

যেখানে পড়বে সেথায় দেখবে আলো...

চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ার পর এ দুই দিন বিশ্রামে ছিলেন কিরীটি।

খবর এলো, ঢাকার রিপোর্ট ভালো। দ্বিতীয় ধাপে দশ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছিল। সেই সঙ্গে তরুণীরও। সবার রেজাল্ট নেগেটিভ। রোগীর সংখ্যা বাড়ছে আর বাড়ছে। তরুণী ভাবেন, আর তো বসে থাকা নয়। ঠিক তাই, এবার তাঁর পুনর্যাত্রা। নিজ ভবনে গাছ গাছালির ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো এসে পড়েছে। এ আলোয় স্নান করে তরুণী হয়ে উঠেছেন সুস্থ, সাবলীল।

দরোজার সামনে উদীচী। পেছনে হাসপাতাল স্বজনরা। করোনা কাল বলে দুই জন করে দল। শারীরিক দূরত্ব মেনে। তাঁরা পুষ্প স্তবক রাখলেন টেবিলে। সমবেত কণ্ঠে ধ্বনিত হলো রবীন্দ্রনাথ।

... ব্যথা মোর উঠবে জ্বলে ঊর্ধ্ব-পানে। ... আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে।

  • সাব-অল্টার্ন স্টাডিজের ‘মহামারি’ ভাবনা

    মিল্টন বিশ্বাস

    newsimage

    সাব-অল্টার্ন স্টাডিজ গোষ্ঠীর অন্যতম লেখক দীপেশ চক্রবর্তীর Community, state and the body

  • করোনানিশীথে জ্ঞানদেবীর সঙ্গে

    নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর

    newsimage

    রাতভর জেগে চেষ্টা করছি। কিছুই লেখা হচ্ছে না। জ্ঞানদেবীও বুঝি করোনাকে ভয়

  • অফিসে একদিন

    হাইকেল হাশমী

    newsimage

    অমিত মাত্র বি-বি-এ করেছে। কতো কষ্ট করে এই প্রতিষ্ঠানে দুইটা লিখিত পরীক্ষা তিনটি মৌখিক পরিক্ষা,

  • সাময়িকী কবিতা

    কোয়ারেন্টিনকে আমি বিসংরব বলি। তুমি তো সেই কস্মিনকাল থেকেই বিসংরবে তোমাকে জীবন্ত কবর জীবন্ত চিতায় একা রেখে

  • আমার আছে বই : ১২

    মালেকা পারভীন

    newsimage

    সাহিত্যের প্রতি ভিনসেন্ট এর ভালোবাসা এতোটাই অপ্রতিরোধ্য ছিল যে তাঁর কিছু পোর্ট্রেট/স্থিরচিত্র

  • সোহরাব হাসানের কবিতা

    newsimage

    নারীর ভেতরে দ্রোহ দেখলেন মহান মার্কস তাঁর স্বপ্ন ছিল নারী-পুরুষের সুষম সমাজ

  • গাব্রিয়েলা মিস্ত্রালের কবিতা

    অনুবাদ : অনন্ত মাহফুজ

    newsimage

    বিষণ্ণ মা ঘুমাও, ঘুমাও, প্রিয়তম আমার চিন্তাহীন, ভয়হীন, যদিও আমার আত্মা ঘুমায় না, যদিও