menu

নতুনের গন্ধ

রাহমান ওয়াহিদ

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯
image

এই গপ্পোড্যা হামি কবার (বলতে) চাচ্চিনু না। হামি মুক্যু সুক্যু মানুষ। হাল আবাদ করি। প্যাটের দানা ফলাই। বোউক সাজায়্যা গুছায়্যা রাখি। সোন্দর বউ। দুড্যা ছোল হবার পরেও বোউড্যা হামার এ্যাকোনও কি টস্টসা! বিয়্যা হছে- কবারই পারবি না কেউ। তে হামার (আমার) সুকের অভাব কী? হামাক কিসোক বদ্ গপ্পো কওয়া লাগবি? কিন্তু কী করমু- হারামির বাচ্চা ফজল ঘরামি হামার এ্যাতোই নিন্দ্যা করব্যার লাগিছে যে হামি আর লোক্ (চুপ) কর‌্যা থাকব্যার পারনু না। ওই হারামি ক্যাঙ্ক্যা কর‌্যা এই গাঁওত থাকে সেড্যা হামি এ্যানা দেখব্যার চাই। আচ্চা, আপনেরাই কন্- হামার এ্যাতো সুক দেখ্যা গাঁওর ডাংগোর ডাংগোর ছুঁড়িরা যুদিল হামার দিগ টাস্কি ম্যর‌্যা চায়্যা থাকে, মিড্যা মিড্যা কতা কবার চায়, সেড্যা কি হামার দুষ? হামি তো ফজল ঘরামির লাকান (মতো) লুক্যা লুক্যা বজ্জাতি করি না। অল্পেয়ানা কতা কলেই হামি খারাপ হয়্যা গেনু? এড্যা ক্যাংক্যা (কেমন) বিচার? ফজল ঘরামি সারা গাঁওত এই কয়্যা হামার বদনামি করিচ্চে যে হামি নাকি সকিনার সাতোত লিক্যা বসিছি। এটি ওটি যাবার কতা কয়্যা হামি নাকি লোক্ কর‌্যা সকিনার ঘরোত যাই। কুন্টি (কোথায়)? কুন্দিন হামি অর ঘরোত গ্যানু? এ্যাতো বড় মিছ্যা কতা! পোম্মান দিব্যার পারবি ওই ব্যাটা ফজল ঘরামি? হামার বোগ্দা (বোকা) বোউড্যা এড্যা শুন্যাই সেই যে কান্দন জুড়্যা দিছে আর থামিচ্চেই না। কত্বার কনু, ‘শুন্যা শুন্যাই কাঁন্দিচ্চো ক্যা? সকিনার বাড়িত লোক্ কর‌্যা যায়্যাই তো জ্যান্যা আসপ্যার পারো- কতাড্যা সত্যি, না মিছ্যা। হামি যুদিল যায়্যাই থাকি, বাড়ির ক্যাবা না ক্যাবা (কেউ) তো জানবিই। সোগলিই (সবাই) তো আর চোক মুন্জ্যা থাকপি না। দেকপিই। কিন্তু না। উঁই যাবি না।’ অর এ্যাক কতা, ‘হামি মান্ষের বাড়িত যায়্যা ওগ্ল্যান জানব্যার যামু ক্যা? গাঁওত আরো তো ব্যাট্যাছোলেরা আছে, তারকেরের লিয়্যা কেউ তো কিছু কয় না। আপনেক লিয়্যা কয় ক্যা?’

কী আর কমু কন্। ফজল হারামি যে দুষ্পুনি কর‌্যা মিছ্যাই এগল্যান বদনামি করিচ্চে সেড্যা অক বুঝ্যামু ক্যাঙ্ক্যা কর‌্যা? আর গাঁওর মানুষগুল্যানও যে ক্যাংক্যা বুঝি না- ফজলের মিছ্যা কতাগুল্যাই অস্গোল্লার লাকান (মতো) গপ্গপ্ কর‌্যা গিলিচ্চে আর হামার কাছোত অ্যাস্যা অ্যাস্যা পুছিচ্চে, ‘ক্যা বারে কলিম মিয়া, এগল্যান কী শুনিচ্চি? ঘরোত সোন্দর বউ থুয়্যা ডুব্যা ডুব্যা কাঁচা পানি খাচ্চো নাকি?’ হামি আগ কর‌্যা কই, ‘হামাক ক্যা পুছ্ব্যার আচ্চো, বা-রে? লিজেরা এ্যানা (একটু) চোক খুল্যা দেখব্যার পারো না কুটি (কোথায়) কী করিচ্চি?’ সকন আর তারা কিছু কয় না। আবার হামাক লিয়্যা অরকেরের ফুসুর ফাসুরও থামে না। এ্যাক অক কয়্যা জান্ব্যার চায়, সত্যিই হামার লিক্যা হছে কি, হছে না। আরে ব্যাট্যা, হামার লিক্যার দরকারড্যা কি? হামার বোউ এর শরীল কি চোত মাসের ফাটা লোদি হয়্যা গ্যাছে? এঙ্ক্যা নিন্দ্যা শুন্যা শুন্যা বোউডা আর হামার কাছোত শুতব্যারও চায় না। কাছোত ট্যানা লিব্যার চ্যালেই ঝাম্টি ম্যার‌্যা কয়, ‘হামাক আবার টানেন কিসোক? সকিনার কাছোত যান না ক্যা? ওটি যান। অর গলা ধর‌্যা যত ইচ্চ্যা শুত্যা থাকেন।’

কী শরোমের কতা, কন্ তো! তে বোউক আর দুষ দিমু কি? আতদিন অর কানোত নিন্দ্যার বিষ ঢাললে উঁই কী করবি? দুক্কে কাঁনতে কাঁনতে বোউড্যা হামার শুক্যা শুক্টি হয়্যা যাচ্চে। আর ওদিগ সকিনা শরোমে সেই যে ঘরোত হুরক্যা (খিল) দিয়্যা শুতিছে, হাগা মোতা (পায়খানা-পেসাব) ছাড়া বারই হয় না। এ্যাক জাগাত বিয়্যার কতা পাকা হছ্লো, এ্যাকোন সেড্যাও শুনিচ্চি আর হবার লয়। ছুঁড়িড্যার জেবন তো গ্যালোই, হামার সুকের সোংসারড্যাও যায় যায় অবস্তা। সব সব্বোনাশ ওই হারামিড্যার জন্যে। ওই ফজল হারামিরও কি সুক আছে? নাই। ঘরোত পুন্নিমার লাকান বোউ আছ্লো। ঘরডাও আছলো আহা কি সোন্দর! সেই ফজল এক জাউর‌্যা ছোলের কোবান (মার) খাওয়া দেখ্যা মাতাটা এঙ্ক্যাই গরম কর‌্যা ফালালো যে বুড়্যা মোড়ল চাচার পাছাত দুই দুইড্যা লাত্তি ম্যার‌্যা বসলো। এড্যা কি কুনু জায়েজ কাম হলো? জাউর‌্যার ছোল কোবান খ্যালো ক্যা, সেড্যা তো বোঝা লাগবি। উঁই আন্দার আতোত (রাত) মোড়ল চাচার বাড়িত ঢুক্যা মুরোগ চুরি করব্যার চাছ্লো। মুগ্রির ঘরা খুল্যা এ্যাড্যা মুরোগের লোল্লি (গলা) চিপ্যা ধরব্যার য্যাতেই মুরোগড্যা যেই না ‘কুক্কুরু’ কর‌্যা উঠিছে, আর যাবু কুটি। বাড়ির সোগলির নিন্ (ঘুম) গ্যালো ভ্যাঙ্যা। ‘চোর চোর’ কয়্যা দোড়্যা আসে সোগলি। মোড়ল চাচা লাইট মারতেই জাউর‌্যাড্যা আর লড়ব্যার পারে না। তাপর আর কি? মোড়ল চাচার হাউল্যা পান্টির (লাঠি) এই কোবান তো সে-ই কোবান। এ্যাড্যাও মাটিত পড়েনি। জিউ (জান) যায় যায় অবস্তা জাউর‌্যাড্যার। চুরি করলে কোবান তো খাবিই। ল্যাজ্জো বিচার। ফজল হারামির এ্যাতো দরদ লাগে কিসোক? ক্যাবা ক্যাবা (কেউ) কবার লাগিছে- ছোলডা নাকি অর লিজেরই। কিন্তু হামি সেড্যা কবার চাই না। আন্দাজের কতা কবার যামু ক্যা? হামি তো আর দেখব্যার যাইনি কার শরীলোত উঁই মোউজের পানি ঢালিছে? কতা সেড্যা লয়। মোড়ল চাচার পাছাত্ উঁই যে লাত্তিডা মারলো, সেড্যা কুন সাঅসে- এড্যা ভ্যাব্যা কুনু কুল পাই না। কী সাংঘাতিক কতা রে বারে! পুঁটি মাচ হয়্যা বোলের (বোয়াল) গোয়াত চিমটি! যা তা ব্যাপার এড্যা! হামার তো শুন্যাই ভয়ে বুক ঢিপ ঢিপ করিচ্চিল। আর ফজল শালা? উঁই তো কাকু মান্যি গনিই্য করে না। সেই লাত্তি মারার পর ব্যাটা ছাতি (বুক) ওসার (চওড়া) কর‌্যা কছ্লো কী জানেন? কছ্লো-

‘মোড়ল মিয়া কি বুযুগ্গু হছে নাকি? উঁই কি ট্যাক্যা খ্যায়্যা অল্যাজ্জো বিচার করে না? গরিবের ছোল এ্যানা মুরোগ খাবার চ্যালেই দুষ? লাত্তি মারিছি তো কী হছে? ঠিকই করিছি। ফরজ কাম করিছি। দেখি কুন শালা কী করব্যার পারে।’

কী তাজ্জবের কতা! ফরজ কামের প্যাদানি যে ক্যাঙ্ক্যা সেড্যা তো ফজল জানিচ্চিল না। মোড়ল চাচা বুড়্যা হলে হবি কি, মাজা তো আর লড়্ভড় হয়্যা যায়নি। দ্যাখায়্যা দিল শ্যাষ আতের জুতের খেল। যেই না আন্দার নামিছে, ফজল ঘরামির সোন্দর ঘরড্যা পুড়্যা শ্যাষ। এক্কেরে ছাই। লুঙ্গি তুল্যা দোম্ম্যার‌্যা (দৌড় দিয়ে) কুনুমতে জান বাঁচাছে ফজল। অর পুন্নিমা বোউডাও পলাব্যার চাছ্লো। কিন্তু পারলো কুটি? আহারে, সেড্যা কবার গেলে চোকের পানি ধোর‌্যা রাখ্ব্যার পারি না। ঝুর ঝুর কর‌্যা ন্যাম্যা আসে। জুয়্যান ল্যাঠ্যালরা আড়ার (জঙ্গল) মদ্যে বোউড্যাক লিয়্যা যায়্যা কুত্তার লাকান কামড়্যা কুমড়্যা মনে কয় কাঁচাই খ্যায়্যা ফালালো! অর লরোম শরীলড্যার কিছু আর রাখেনি হারামিরা। মাজার তলে মোউজের পানি ঢ্যাল্যা ঢ্যাল্যা অর মুকোত এক্কেরে ফ্যানা তুল্যা ছাড়িছে। এ্যানা লিশ্শেশ লিব্যারও দ্যায়নি বোউড্যাক। হুঁশ হারায়্যা পড়্যা থাকলেও কেউ অর কাছোত যাবারও সাঅস পায় নি। ফজল হারামিড্যাও অ্যাগ্যায় নি। অ্যাগ্যাবি ক্যা? মোড়ল চাচার কোবান খাবার সাঅস আছে অর? হয়তে ভাবিছে- বোউ তো আর সেই বোউ নাই। ওড্যা এ্যাকোন ত্যানা ত্যানা (ছেঁড়া) গোস্তের দলা। অক ঘরোত তুল্যা লাব কি? লোতুন টসটসা আরেড্যা বেটিছোল আনলেই হবিহিনি। তে আদ্মরা বোউড্যা আর কী করে? দুক্কে কোদ্দে বাপের বাড়িত যায়্যা পড়্যা থাকলো কদ্দিন। কামলা বাপ কী করবি? ট্যাক্যার জোর নাই। মাজার জোর নাই। কাম থাকলে খাওয়া, না থাকলে নাই। চিকিশ্শ্যা নাই। শ্যাষে বোউড্যা এ্যানা খাড়া হয়্যাই লোক্ কর‌্যা কুটি যে চল্যা গ্যালো কেউ কবার পারে না। উড়্যা উড়্যা (কান কথা) খালি এ্যাকবার শুননু-কুন্ এ্যাক মাগিপাড়াত নাকি অক ক্যাবা দেখিছে। সত্যি, না মিছ্যা কবার পারমু না। হামি তো জানি- ওঙ্ক্যা বেটিছোল উঁই লয়। মর‌্যা গেলেও ওই কুকাম উঁই করব্যার পারবি না। আবার ভাবি- পারবি না কিসোক (ক্যানো)? জান বাঁচাব্যার যায়্যা কত কিছুই না মান্ষে করে। যাক। হামার অত ভাবাভাবির কাম নাই। ভাতার (স্বামী) ফজলেরই যকন কুনু দুক্কো নাই সকন হামার ঠ্যাক্যা কিসের? অই হারামির মনড্যা এঙ্ক্যাই পাত্তর যে দেখলে মনে কয়- কিচ্চুই হয় নি অর। কুনু মাতার (মাথা) বিষ নাই। কেউ জানব্যার চ্যালে গলাড্যা আরো উঁচ্যা কর‌্যা কয়-

‘কী হছে হামার? কিচ্চু লয়। বোউ গ্যাছে, ঘর গ্যাছে, ট্যাক্যা গ্যাছে তো কী হছে? আবার সব হবি। ফজল ঘরামি এগল্যান লিয়্যা এ্যানাও ভাবে না।’

কয় কি শয়তানডা! এঙ্ক্যা জোর উঁই কুন্টি পায়? অর ভাবসাব দেখি বদলায় না। যেঙ্ক্যা (যেমন) আছলো সেঙ্ক্যাই (তেমনি) থাকলো। দিন কয়েক গ্যালো। কুটি থাকলো কুটি খালো জানি না। হটাৎ এ্যাকদিন দেখি- অর পোড়া ভিট্যা আবার লোতুন কর‌্যা জ্যাগ্যা উঠিছে। ফজল আবার লোতুন ঘর তুলিছে। চার চালার (টিনের চাল) ব্যাজায় সোন্দর ঘর। খালি কি ঘর? কুটি থ্যাক্যা য্যান্ দুদে আল্তা অঙের লোতুন এড্যা বোউও অ্যানা তুলিছে ঘরোত। দেখলেই চোখ দু’ড্যা জুড়্যা যায়। তামান (সারা) গাঁওর মানুষ ঝ্যাঁপ্যা পড়িছে লোতুন বোউড্যাক এ্যাক লজর দ্যাখার জন্যে। এ্যাকদল দ্যাখে তো আরেক দল যায়। এ্যাকদল যায় তো আরেড্যা দল আসে। কি তাম্শা! বোউ দ্যাখ্যার য্যান্ ম্যাল্যা ল্যাগ্যা গ্যাছে! সেই ম্যাল্যা আর শ্যাষ হয় না। শ্যাষ হবি ক্যা্ক্যংা কর‌্যা? বোউ তো লয়, য্যান্ ড্যানা কাটা পরী ন্যাম্যা আচ্চে ঘরোত। উপের অস্ এক্কেরে টসটস কর‌্যা ঝোর‌্যা পড়িচ্চে। মান্ষের আর দুষ কী? এ্যাকব্যার দেখ্যা কারু হাউস মিটিচ্চে না। বারবার দেখিচ্চে। চুরি কর‌্যা হামিও যে কয়বার দেখিছি কবার পারমু না। বেশি হাউস করব্যার যায়্যা এ্যাকদিন বোউর চোকেত ধরাও পড়্যা গ্যানু। বোউ হামাক ঝাড়ি ম্যার‌্যা কলো, ‘আপনে আবার এটি ঘুরঘুর করিচ্চেন ক্যা? আপনের সকিনা আছে না? সেটি যান।’ হামি কই, ‘এগল্যা কী কতা কও বোউ? হামি আবার ঘুরঘুর করনু কুটি? তোমাক উট্কাব্যার অ্যাস্যা দেখি তুমি এটি। তুমি ক্যা আচ্চো? লয়্যা (নতুন) বোউক দেখ্ল্যা?’ বোউ হামাক ধাক্কা ম্যার‌্যা কয়, ‘ভাক্কার (তামশা) কতা কন্ ক্যা? কাক্ উটকাব্যার আচ্চেন, হামি বুঝি না ভাবিছেন? চলেন বাড়িত। অই মাগিক দেখ্যার কিছু নাই। আতোত হামাক খুল্যা দেখেনহিনি। হামি ওই মাগির চায়্যা কম সোন্দর লোই।’

দ্যাখেন,কতার কী ছিরি! এড্যা কি হিংস্যার কতা লয়? এ্যাদ্দিন সকিনা সকিনা কর‌্যা কাছোত শুতপ্যার দ্যায় নি। আর আজগ্যা লিজেই অক খুল্যা দেখব্যার কচ্চে। ক্যা, অক খুল্যা দেখ্যার কী আছে? ম্যাল্যাই তো দেখিছি। খালি কি দেখিছি? যা যা করব্যার মন চাছে সবই করিছি। কিন্তু এ্যাড্যাই শরীল কত্বাই আর ভাল্লাগে? এ্যানা লোতুন কিছু দ্যাখ্যার জন্যে কার না মন হাই ফাই করে? হামারও করব্যার পারে। লোতুনের গোন্দ যে লিশ্যার লাকান সেড্যা কুনু বোউই কি বুঝবি? বুঝবি না। বুঝলেও মানব্যার চাবি না। ডাংগোর বেটি সকিনাক লিয়্যা যে এ্যাতো নিন্দ্যা নিন্দি হছে, সেড্যা তো এক্কেরে মিছ্যা লয়। অর শরীলেও যে লোতুনের গোন্দ! সেই গোন্দের লোবে এ্যাডা দুড্যা কতা এ্যানা কবারই পারি। সেই কতাড্যাকই ট্যান্যা লোম্বা কর‌্যা হামার সাতোত লিক্যার গীত বানায়্যা ছাড়িছে ফজল হারামি। সেই নিন্দ্যাত হামার সোংসারোত আগুন ধরলো। সেই আগুন এ্যাকোন এ্যানা কমিছে দেখিচ্চি কিন্তু থামবি না। দিন কয়েক গেলে হয়তে অর লোতুন বোউক লিয়্যাই আগুন ধরাবি ফজল। কবার পারেন- কিসোক? সেড্যার এ্যানা কিচ্চ্যা আছে। হামার বোউড্যাক ফজলই র্পোথম বিয়্যা করব্যার চাছ্লো। শ্বশুর বাবাজি ঘরদুয়্যার দেখব্যার অ্যাস্যা দ্যাখে যে অর কুনু জোতজমি নাই। তাওন্তোর (তা ছাড়া) কামলা ঘরামি। জ্যাঁউই (জামাই) বানালে মেম্বর শশুরের ইজ্জোত থাকে? থাকে না। সেড্যা বুঝ্যাই হামার শশুর ফজলক ল্যায়নি। লিলো হামাক। কিন্তু ফজল ভাবিছে- হামিই তলে তলে শশুরক পটাছি। অক লিয়্যা খারাপ খারাপ কছি। এড্যা কুনু কতা হলো? কুন্ ব্যাট্যা কী দেখ্যা কার কাছোত বেটিক বিয়্যা দিবি সেড্যা কি কেউ কবার পারে? কিন্তু ফজল হারামি এগল্যান কিছু বুঝ্ব্যার চায় না। খালি হিংস্যা। আগ কর‌্যা হামাক ক্যাংক্যা কর‌্যা ব্যাজ্জোতি করা যাবি- খালি সেই চিন্ত্যা অর।

সেই বদ্ চিন্ত্যা কর‌্যাই যুদিল অর হাউস মিট্লোনি, তালেও কুনু কতা আছলো না। ম্যান্যা লিনুহিনি। কিন্তু উঁই যে আরো লিচোত নামব্যার পারে- সেড্যা তো ভাবিনি। ওঙ্ক্যা মাতা (মাথা) খারাপ করা বোউ থুয়্যা (রেখে) ফজল আতোত যায় কুটি? কুটি যায়? বাপ মা মরা মর্জিনার গাও গতরে হটাৎ এ্যাতো চিক্নাই অ্যালো কুটি থ্যাক্যা? সকিনার মুকোত এ্যাকোন এ্যাতো অং (রং) লাগিছে ক্যা? হামার জন্যে অর শরোম গ্যালো কুটি? ঘরের হুড়ক্যা গ্যালো কুটি? হামি কি কিছুই বুঝি না? বুঝি। গাঁওর সোগলিই বোঝে। সোগলিই খালি ফুসুর ফাসুর করে। ফজল ঘরামিক কিছু কয় না। কবার সাঅস পায় না। কিসের ভয়? কুন্টি অর খুঁটি পোঁতা? সেড্যা কেউ জানে না। হামিও জানি না। যত দুষ খালি এই হামার। কুটি কাক্ এ্যানা দ্যাখনু, কতা কনু- সেদিগই চোক সোগলির। ক্যা? সোগলি কি হামাক বলোদ পাছে?

ঠিক আছে- ফজল যা ইচ্চ্যা করে করুক- সেড্যাও কবার চাই না। কিন্তু অর বোউক লিয়্যা এ্যাড্যা কী আরোম্ব করিছে উঁই? ছিক্কো! ছিক্কো! বোউডাক লিজে তো চুষিচ্চেই, আবার আন্দার আতোত অক দিয়্যা গরোম পানির কামও কর‌্যা লিচ্চে। হায় হায়! গাঁওর মদ্যেই লুচ্চ্যামির কায় কারবার! এ্যাতো লিচোত নামিছে উঁই! গাঁওত তো দেখিচ্চি আল্লার গজব পড়বি। কিন্তু হামি এ্যাকলা এগল্যান কয়্যা কী করমু? সোগলিই জানে। কেউ তো কিছু কয় না। খালি মুখ টিপ্যা হাসে। ওটি যায়ও ক্যাবা ক্যাবা। হামি ওই মাগির ঁিছয়্যাও মাড়াই না। তাপরও বোউ হামাক চোককে চোককে রাকিছে। কিসোক? তুমি সোন্দর বউ আছো- ঠিক আছে। লিক্যাও যে কাকু করমু না- সেডাও ঠিক আছে। কিন্তু লোতুনের মিচ্চিয়্যানা (অল্প) গোন্দও লিব্যার দিবা না- সেড্যা কিসোক? এই যে পাড়ার মদ্যে ফজলের বোউড্যা মউজের দুয়্যার খুল্যা রাখিছে- সেড্যা কি? হামি না হয় না গ্যানু,আর সব মরোদ কি হুজুর হয়্যা জুম্ম্যা ঘরোত য্যায়্যা নিন্ পাড়িচ্চে? কে কবি এগল্যা কতা? গাঁওর ময়-মুউব্বিরা দেখিচ্চে। মোড়ল চাচা দেখিচ্চে। চোকিদার বন্দুকয়ালা- সোগলিই দেখিচ্চে। বন্দো করার কতাও শুনি কিন্তু কুটি কি সমাচার? বন্দো তো দেখি না। লুক্যা লুক্যা চলিচ্চেই। আর খালি হামার উপর বড় বড় চোক। ঠিক আছে, যামু না গোন্দ লিব্যার। হামার কিসের অত ঠ্যাক্যা? কিন্তু ফজল হারামিড্যা ক্যাঙ্ক্যা কর‌্যা বোউক আতোত গাই (গাভী) এর লাকান ছ্যাড়্যা দিয়ে রাখে আর অই গাই দেখ্যা কে চোক মুনজ্যা (বন্দ) থাকে- সেডা খালি এ্যানা দেখব্যার চাই। দেখ্যা কিছু করব্যার পারমু না জানি কিন্তু বউডাক খালি এ্যানা কবার চাই-

‘হামাক খালি পওর (পাহারা) দ্যাও কিসোক? গাঁওত আর কুনু মরদ নাই? সেগল্যাক চোকে দ্যাখো না? অরা যুদিল হাউসের মদ্দামি দ্যাখ্যাব্যার পারে, তা-লে হামাকও ঠ্যাক্যাবার পারবা না। ঘাঁটাত (রাস্তা) ডাংগোর গাই চোকেত পড়লে হামি কোলে (কিন্তু) বলোদের লাকান চোক মুন্জ্যা থাকব্যার পারমু না, কয়্যা দিনু।’