menu

হেনরি জেমস

দুঃসাধ্যের স্থপতি

কামরুল ইসলাম

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯
image

ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক হেনরি জেমস (১৮৪৩-১৯১৬)
জেমস-এর জীবদ্দশায় তাঁর খুব বেশি পাঠক ছিল না। ১৯৪০-৫০-এর দশকে বলতে গেলে তাঁর পুনরুজ্জীবন ঘটে এবং বিশ শতকের শেষের দিকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফিকশন রাইটার হিসেবে তিনি বৃহত্তর পাঠক সমাজে পরিচিতি পান, তাঁর শিল্পীসত্তার ব্যাপকতা নিয়ে লেখালেখি হয় এবং ‘চেতনাপ্রবাহ’ টেকনিকের অগ্রদূত হিসেবে তাঁকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়

আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক হেনরি জেমস (১৮৪৩-১৯১৬) তাঁর বেশ কিছু লেখার মধ্য দিয়ে উনিশ শতকের ফিকশনের জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটান এবং তাঁরই পথ ধরেই পরবর্তীতে ইউরোপ-আমেরিকার ফিকশনে দেখা যায় যুগান্তকারী পরিবর্তন। তাঁকে বলা হয় ‘Harbinger of the stream of consciousness technique’ চেতনাপ্রবাহ বা ‘স্ট্রিম অব কনশাসনেস’ শব্দবন্ধটি ইউলিয়াম জেমস সর্বপ্রথম জাগ্রত মানবমনের অখন্ড অনুভূতি, চিন্তন, বিমূর্ত কল্পনা এবং বোধগম্যতার প্রবাহ বোঝাতে ব্যবহার করেন তাঁর ‘প্রিন্সিপলস অব সাইকোলজি’ (১৮৯০) গ্রন্থে। তারপর থেকেই আধুনিক ফিকশনে এর ব্যবহার শুরু। কোনো কোনো সমালোচক ‘স্ট্রিম অব কনশাসনেস-এর পরিবর্তে একই অর্থে ‘ইনটেরিয়র মনোলগ’ শব্দবন্ধটিও ব্যবহার করে থাকেন। এই ‘চেতনাপ্রবাহ’ টেকনিক ফিকশনের একটি টেকনিক হিসেবে বিকশিত হয় বিশ শতকের দ্বিতীয় দশক থেকে এবং জয়েসের আগে স্যামুয়েল রিচার্ডসন, হেনরি জেমস এবং ফরাসি লেখক এডওয়ার্ড ডুজার্ডিন প্রমুখের লেখায় এই টেকনিকের নিদর্শন পাওয়া যায়। তবে আমেরিকান ঔপন্যাসিক হেনরি জেমসই এই টেকনিকের সফল প্রারম্ভিক রূপায়ন ঘটিয়ে যান এবং পরে যা জয়েস-উলফ-ফকনারে একটি সার্থক টেকনিক হিসেবে পূর্ণতা পায় এবং বিস্তৃত হয় নানাভাবে। ডরোথি রিচার্ডসন তাঁর ‘পিলগ্রিমেজ’-এ (১২ খন্ডে সমাপ্ত, ১৯১৫-৩৮ পর্যন্ত লেখা), উইলিয়াম ফকনার ‘দ্য সাউন্ড এ্যান্ড দ্য ফিউরি’ (১৯২৯)-তে এই টেকনিকের অভিনব সাফল্য দেখিয়েছেন। ভার্জিনিয়া উলফ ‘টু দ্য লাইট হাউস’সহ তাঁর বেশকিছু উপন্যাসে এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। জেমস জয়েস ইউলিসিস-এ এই টেকনিকের সর্বাধিক প্রসার ঘটান।

হেনরি জেমস ১৮৪৩ সালের ১৫ এপ্রিল নিউইয়র্কের ওয়াসিংটন স্কয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হেনরি জেমস সিনিয়র উনিশ শতকের মধ্যভাগে আমেরিকার একজন স্বনামধন্য বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তরুণ বয়সেই জেমস জেনেভা, লন্ডন, প্যারিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় পন্ডিত শিক্ষকদের কাছে নানা বিষয়ে অধ্যায়ন করেছেন। জেমস-এর ছিল এসব জায়গার ভাষার ওপরে দখল আনার এবং ইউরোপকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে চেনার অভিপ্রায়। পরিবারের ইউরোপের নানা দেশ ভ্রমণের সুবাদে জেমস যেভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নানা বিষয়ে জানার সুযোগ পান, সেরকম সুযোগ আমেরিকার খুব কম লোকের ভাগ্যেই জুটেছে। জেমস ছিলেন খুব লাজুক স্বভাবের এবং পরিশ্রমী পাঠক। অল্প বয়সেই তিনি হথর্ন এবং বালজাক গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন। ১৮৬০ সালে তাঁর পরিবার নিউপোর্টে পৌঁছালে তিনি পেইন্টার জন লা ফার্গ-এর সাথে পরিচিত হন এবং তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। লা ফার্গ তাঁকে ফরাসি সাহিত্যের নানাদিকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সেসময়ে তিনি বালজাকের লেখার সাথেও পরিচিত হন। পরে তিনি বলেছেনও যে বালজাকের লেখা যেভাবে তাঁকে প্রভাবিত করেছে তা আর কারো লেখা করেনি। ১৯ বছর বয়সে তিনি হার্ভার্ড আইন স্কুলে এক বছর পড়াশোনা করেন এবং এসময়ে তার মনে হয়েছিল- আইন নয় তাঁর আনন্দটা বরং সাহিত্যের দিকে।

২১ বছর বয়সে নিউইয়র্কের ‘কন্টিনেন্টাল মান্থলি’-তে বেনামে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম ছোটগল্প ‘আ ট্র্যাজিডি অব ইররস’। এর পরে এক দশক ধরে তাঁর নানাবিধ নিরীক্ষাধর্মী গল্প, সাহিত্য সমালোচনা ও নানা বিষয়ে প্রবন্ধ-নিবন্ধ ‘নেশন’ ও ‘আটলান্টিক মান্থলি’তে প্রকাশিত হতে থাকে। এ-সময়ে আটলান্টিক মান্থলি’র সম্পাদক উইলিয়াম ডিন হাওয়েলস-এর সাথে তাঁর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে এবং এই দুই বন্ধুর মাধ্যমেই ‘আমেরিকান রিয়ালিজম’ যুগের সূত্রপাত ঘটে। ২৫ বছর বয়সেই জেমস আমেরিকার একজন শক্তিশালী দক্ষ ছোটগল্পকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। গল্প লিখিয়ে হিসেবে এতসব সাফল্যের পরেও তিনি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস লেখার ক্ষেত্রে ধীর গতি নীতি অবলম্বন করেছিলেন। ইউরোপ ভ্রমণের পর ১৮৭১ সালে তিনি তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘ওয়াচ অ্যান্ড ওয়ার্ড’ লিখেন। ১৮৭৫ থেকে ১৮৭৬ পর্যন্ত তিনি প্যারিসে কাটান এবং সেখানে রাশিয়ান ঔপন্যাসিক ইভান তুর্গেনেভ-এর সাথে পরিচিত হন। উল্লেখ্য, সেসময়ে ১৮৪০ ও ১৮৫০-এর দশকে জার নিকোলাস-এর শাসনকালে রাশিয়ার অনেক লেখকই ইউরোপে পাড়ি জমান জীবনের ভয়ে। জেমস আগে থেকেই তুর্গেনেভ-এর ভক্ত ছিলেন। প্যারিসের এই সময়টাতে তিনি এমিলি জোলা, আলফনজ দদেত, মোপাসাঁসহ অনেক লেখকের সাথে পরিচিত হন। এই সব লেখকের লেখার সংস্পর্শে এসে জেমস গল্পের ভেতরে চরিত্রের প্রাধান্য নিয়ে তার বিশ্বাসের জায়গাটিতে ভরসা খুঁজে পান। সেসময়ে সমালোচকরা অবশ্য বলে যাচ্ছিলেন- জেমস মনোজগৎ নিয়ে যতোটা ভাবিত, জীবনের স্বাভাবিক ক্রিয়া-কর্ম নিয়ে ততোটাই পিছিয়ে। তিনি তাঁর নিজের মতো করে তাঁর নিজস্ব শিল্পের জগৎ গড়ার অনুধ্যানে সারাজীবন ব্যাপৃত ছিলেন। তাঁর প্যারিস-বাসের সময়টায় তিনি ব্যক্তিগত এবং পেশাগত- উভয় দিক থেকেই লাভবান হয়েছিলেন। আমরা জানি যে, পরে তিনি ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং বিয়ে, ঘর-সংসার বাদ দিয়ে শুধু লেখালেখিতেই নিজেকে নিবেদিত রাখেন। ব্যক্তি জীবনে জেমস খুবই বন্ধুবৎসল ও সামাজিক মানুষ ছিলেন। তিনি ইতালিতেও বেশ কয়েকবার গিয়েছেন এবং ইতালির শিল্প-সাহিত্যে নিয়ে তার আগ্রহ দেখা গেছে।

জেমস ছিলেন বহুপ্রজ লেখক। প্রায় ৫১ বছর ধরে তিনি লেখালেখি করেছেন। লিখেছেন ২০টি উপন্যাস, ১১২টি ছোটগল্প, ১২টি নাটক এবং অসংখ্য সাহিত্য-সমালোচনামূলক প্রবন্ধ-নিবন্ধ। ১৮৭৮ সালে ‘ডেইজি মিলার’ প্রকাশিত হলে আটলান্টিকের উভয় পারেই তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। এই উপন্যাসে এমন একজন নারী মূল চরিত্র হিসেবে এসেছে যে সমাজের প্রতিষ্ঠিত কোনো মূল্যবোধ কিংবা আইন-কানুনের ধার ধারে না। এই উপন্যাস লেখার পরে জেমস একজন আন্তর্জাতিক লিটারেরি ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর নিজের জায়গাটাকে পাকাপোক্ত করে ফেলেন। সেসময়ে তিনি প্রধান ভিক্টোরিয়ান লেখক- আলফ্রেড টেনিসন, উইলিয়াম গ্লাডস্টোন এবং রবার্ট ব্রাউনিংসহ অন্যান্য লেখকদের দলে যোগ দেন। ১৮৮১ সালে জেমস তাঁর লেখক জীবনের প্রথম অধ্যায়েই খ্যাতির শীর্ষে আরোহণ করেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য পোর্টেট অব আ লেডি’ লিখে। এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। এ উপন্যাসে আমরা দেখি ইউরোপিয়ান এবং আমেরিকানদের বৈপরীত্য, ওল্ড ওয়ার্ল্ড ও নিউ ওয়ার্ল্ড-এর দ্বন্দ্ব। এই উপন্যাসের নায়িকা একজন তরুণী। নাম ইসাবেল আর্চার, যিনি ভাগ্যাহত, ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত।

১৮৮৪ সালে তিনি আরেকবার প্যারিস ভ্রমণ করেন এবং প্যারিসে সেসময়ের রিয়ালিস্ট এবং ন্যাচারালিস্ট লেখকদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এইসব ফরাসি লেখকের প্রভাব রয়েছে তাঁর লেখায়। পরবর্তীতে তাঁর লেখা কিছুটা অন্যদিকে মোড় নেয়। এসময়ে তাঁর লেখায় তাঁকে একজন সমাজ-সংস্কারক হিসেবে দেখা যায়, যেখানে অনেক বৈপ্লবিক ধ্যান-ধারণার সন্নিবেশ ঘটে। ‘দ্য বোস্টোনিয়ানস’ (১৮৮৬) উপন্যাসে সামাজিক আন্দোলনের নানা বিষয় প্রতিফলিত হযেছে। ‘দ্য প্রিন্সেস ক্যাজামাসিমা’তে (১৮৮৬) আমরা দেখি সেসময়ের সামাজিক অরাজকতা এবং সন্ত্রাসের ছবি।

এর পর জেমস ফিকশন থেকে নাটকের জগতে ফিরেন, কিন্তু নাটক লিখে খুব বেশি সফলতা দেখাতে পারেননি। ১৮৯০ থেকে ১৮৯৫ পর্যন্ত তিনি নাটকের ওপর কাজ করেছেন। এসময়ে বেশ কয়েকটি নাটক লিখে ফেলেন, কিন্তু ‘গাই ডমভিল’ (১৮৯৫) মঞ্চ-সফল নাটক হিসেবে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি আবারো উপন্যাসের জগতে ফিরে আসেন। তবে তাঁর নাটকন্ডীর্চার সময়টা যে ব্যর্থ হয়েছে তা কিছুতেই বলা যাবে না এ কারণে যে, তিনি নাটকের অভিজ্ঞতাকে ফিকশনে কাজে লাগিয়েছিলেন সুচারুভাবে। এসময়ে তাঁর গল্প-উপন্যাসে নতুনত্ব দেখা গেল। বলার ভঙ্গি গেল বদলে। ‘দ্য স্পয়েলস অব পয়োনটন (১৮৯৭), ‘হোয়াট মেইসি নিউ (১৮৯৭), ‘টার্ন অব দ্য স্ক্রু’ (১৮৯৮) এবং ‘দ্য অকওয়ার্ড এজ’ (১৮৯৯) ইত্যাদি লেখায় তিনি তাঁর অর্জিত নতুন পদ্ধতিতে (বিকল্প ছবি এবং নাটকের দৃশ্যের সমন্বয়) পাঠককে এমন এক জায়গায় নিয়ে যান যেখানে পাঠক কিছু তথ্য পেয়ে যায় সরাসরি চরিত্রগুলোকে দেখে। এ এক জটিল প্রক্রিয়া যেখানে চেতনার এক বিশেষ স্তরে পৌঁছে লেখক তাঁর কাজটি করে ফেলছেন অভিনব কৌশলে।

বিশ শতকের প্রারম্ভে জেমস তাঁর ফিকশন রচনার নিজস্ব টেকনিককে সুসংহত করে ফেলেন। তার আগের দশকটি মোটামুটি তিনি নিরীক্ষার মধ্য দিয়েই অতিবাহিত করেছেন। তাঁর পরের তিনটি উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তাঁর লেখক-জীবনের শেষ অধ্যায়টি শেষ হয়। তাঁর এই পর্যায়ের উপন্যাসগুলোয় আমরা চরিত্রের সংখ্যা খুব কম দেখি এবং এসব উপন্যাসের চরিত্রগুলোকে তিনি নানা কর্নার থেকে দেখেছেন। বিভিন্ন উল্লেখ-উদ্ধৃতিসহ নানামাত্রিক প্রতীকী চিত্রকল্প নির্মাণের মধ্য দিয়ে এই উপন্যাগুলোতে এসেছে তাঁর আরো পরিণত শিল্পসত্তার স্ফুরণ। ১৯০৩ সালে লেখা ‘দ্য অ্যামব্যাসাডর’ তাঁর মতে তাঁর শ্রেষ্ঠ শিল্প-কর্ম। ‘দ্য উইংস অব দ্য ডাব’ (১৯০২) উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল ‘দ্য অ্যামব্যাসাডর’-এর পরে কিন্তু প্রকাশিত হযেছিল আগে। এই উপন্যাসে আমরা দেখি একজন হতভাগ্য নারী কীভাবে তাঁর সারল্যের কারণে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তার উত্তরাধিকার সূত্রে যা পাবার কথা ছিল তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ‘দ্য গোল্ডেন বৌল’ (১৯০৪) জেমসের শেষ উপন্যাস। এই উপন্যাসে দেখা যায় অভিজাত সমাজের অবৈধ যৌনাচার।

একটানা কুড়ি বছর ইংল্যান্ডে বসবাসের পর তিনি আমেরিকা ভ্রমণে আসেন এবং আমেরিকাকে একটি বৃহৎ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও পলিটিকাল শক্তি হিসেবে দেখে তিনি বিমর্ষ হয়েছিলেন। এসময়ে আমেরিকার মানুষের যান্ত্রিক জীবনবোধ ও অত্যাধিক নগরায়নে তিনি খুশি হতে পারেননি। আমেরিকা থেকে ফেরার পর তিনি ভ্রমণকাহিনি লিখতে শুরু করেন এবং তিনটি গ্রন্থে সেগুলো সংকলিত হয়। গ্রন্থ তিনটি হলো- ‘আ লিটল ট্যুর ইন ফ্রেন্স’ (১৮৮৫), ‘ইংলিশ আওয়ার্স’ (১৯০৫) এবং ‘দ্য অ্যামেরিকান সিন’ (১৯০৭)। একজন বোদ্ধা সাহিত্য সমালোচক হিসেবে তিনি লেখক সম্বন্ধে বলতে গিয়ে বলেছেন যে, লেখককে অবশ্যই বুঝতে হবে তার লেখায় কতোখানি তিনি সচেতনভাবে এবং কতোটুকু তিনি অসচেতনভাবে নিজেকে সমর্পিত করেছেন। জেমস-এর মতে, a text must first and foremost be realistic and contain a representation of life that is recognisable to its readers. তিনি বালজাক থেকে শুরু করে তার সময়ের অনেক লেখককে নিয়েই লিখেছেন।

তাঁর সমস্ত লেখা ২৪ খন্ডে প্রকাশিত হয় এবং ১৯০৬ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত তিনি তাঁর আগের লেখাগুলো ঘসামাজা করেন। তিন খন্ডে প্রকাশিত আত্মজীবনী- ‘আ স্মল বয় আ্যান্ড আদার্স’ (১৯১৩), ‘নোটস অব আ সন অ্যান্ড আ ব্রাদার’ (১৯১৪) এবং ‘দ্য মিডল ইয়ার্স’ (১৯১৭)। ১০১৫ সালে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পান এবং ১৯১৬ সালে তাঁকে দেওয়া হয় ‘অর্ডার অব মেরিট’। বেশ কয়েকবার নোবেল পুরস্কারের শর্টলিস্টে নাম এসেছিল তাঁর। ১৯১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ অসুস্থতার পর একটি স্ট্রোকে তাঁর মৃত্যু হয়। জেমস-এর জীবদ্দশায় তাঁর খুব বেশি পাঠক ছিল না। ১৯৪০-৫০-এর দশকে বলতে গেলে তাঁর পুনরুজ্জীবন ঘটে এবং বিশ শতকের শেষের দিকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফিকশন রাইটার হিসেবে তিনি বৃহত্তর পাঠক সমাজে পরিচিতি পান, তাঁর শিল্পীসত্তার ব্যাপকতা নিয়ে লেখালেখি হয় এবং ‘চেতনাপ্রবাহ’ টেকনিকের অগ্রদূত হিসেবে তাঁকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তিনিই প্রথম তাঁর আখ্যানে সচেতনভাবে এই টেকনিকের সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন। তাঁর লেখা অনেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তিনি প্রকৃতপক্ষেই দুঃসাধ্যের স্থপতি, তাঁর লেখায় এমনসব অভিনব লেখনকৌশলের খোঁজ পাওয়া যায়, যা এক জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এবং তা অন্য কারো লেখায় সেভাবে পাওয়া অসম্ভবই বটে।

  • নজরুলের ‘বিদ্রোহী’

    মঈনউদ্দিন মুনশী

    newsimage

    ‘বিদ্রোহী’ নজরুল ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা। ‘বিদ্রোহী’ যখন প্রথম প্রকাশিত হয়, তখন

  • বিশ্বসাহিত্যের সাম্প্রতিক প্রবণতা

    ইকোক্রিটিসিজম ও ইকোফিকশন

    মাহফুজ আল-হোসেন

    newsimage

    ইকোলজি বিষয়টি মানুষের পরিবেশ সচেতনতার মধ্য দিয়ে একটি শাস্ত্রে রূপান্তরিত হয়েছে ঊনবিংশ

  • ওসামা অ্যালোমারের অণুগল্প

    অনুবাদ: ফজল হাসান

    newsimage

    লাথি দু’জন প্রশ্নকর্তা কয়েদীকে কক্ষের এক কোণে জবুথবু অবস্থায় ফেলে যায়। কয়েদীর ক্ষত

  • স্লোভেনিয়ান কবি গ্লোরিয়ানা ভিবারের সাক্ষাৎকার

    ‘বাংলাদেশ আমাকে গোলাপের কথা মনে করিয়ে দেয়’

    newsimage

    সম্প্রতি একুশে বইমেলায় মার্কিন প্রবাসী বাংলাদেশী কবি ও অনুবাদক রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে

  • আমার আছে বই ৮

    মালেকা পারভীন

    newsimage

    গতবার ইরানি কুর্দিশ লেখক বেহরুজ বুচানি সম্পর্কে লিখেছিলাম। অনেকেই বুচানি বা তাঁর

  • অসম্পূর্ণ গল্প (পর্ব ৪)

    মুজতাবা শফিক

    newsimage

    (পূর্ব প্রকাশের পর) সপ্তম অধ্যয় মুমিনের ক্লাস ফাইভের বৃত্তি পরীক্ষার সময়, আব্দুল হক সাহেব

  • নির্মম যম

    অনুবাদ : শামসুজ্জামান হীরা

    newsimage

    আমি এক দন্ডপ্রাপ্ত ভবঘুরে আত্মা। এক অস্থির আত্মা। এখানে সেখানে অনবরত ঘুরে

  • কামরুল হাসানের কবিতা

    newsimage

    উনিশ বছর একটি পাখির আর কতটুকু বয়স? উনিশ বছর অনাঘ্রাত রোম নিয়ে বসন্তের বাগানে

  • পথচারী

    রে ব্র্যাডবেরি

    newsimage

    নভেম্বরের রাত আটটায় কুয়াশা ঢাকা শহরের নীরবতায় ডুব দেওয়া, কংক্রিটে মোড়া ফুটপাথে

  • চয়ন শায়েরীর কবিতা

    newsimage

    স্কিজোফ্রেনিয়া : দুই একটা হাত হ্যাঁচকা টানে মগজ বের করে আনে গাছ গজিয়ে ওঠে

  • এ সংখ্যার কবিতা

    হৃদযন্ত্র নভেরা হোসেন তোমার ঘরের পাশেই আরেকটি ঘর তার পাশে আরেকটি তার