menu

টক অব দ্য কান্ট্রি

পীযূষ কান্তি বড়ুয়া

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২০
image

শিল্পী : সঞ্জয় দে রিপন

কেবলমাত্র একটা তুচ্ছ সন্দেহকে কেন্দ্র করেই তাদের এক দশকের নিশ্চিদ্র দাম্পত্য গেছে ভেঙে। অথচ গভীর প্রেমের টানে তারা দুজনে এক হয়েছিল জীবনের রূপালি সৈকতে। উত্তাল যৌবনে তাদের প্রেম ছিল বাঁধভাঙা। জীবন উপচানো প্রেমের সূচনা সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনেই। কুর্মিটোলায় ডেডিকেটেড কোভিড ১৯ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে সেই যুগলের মহিলা চরিত্রটি। মৃত্যুর আতঙ্ক নয় প্রাপ্তির অপূর্ণতায় গ্রাস করেছে তার মুখ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সে ছিল অর্থনীতির ছাত্রী আর তার সঙ্গী ছিল আইনের ছাত্র। মেধায় দুজনেই তুখোড়। তবে বয়সের ব্যবধান আছে কিছুটা। আইনের ছাত্র আবাহন। সে দুবছর সিনিয়র। অর্থনীতির ছাত্রী আপ্লুতা’র চেয়ে। দু’জনেই ভালো ডিবেটর। সংসদীয় ডিবেটে দু’জনেই অসাধারণ। এ’দুয়ের পারস্পরিক বিতর্কে মাননীয় স্পীকারের সিটে যিনি থাকতেন তিনি আবেশে আকীর্ণ হয়ে যেতেন সর্বদা। সেই নান্দনিক বিরোধিতা দু’জনকে অনুরাগের জালে ফাঁসিয়ে শেষমেশ প্রেমিক-প্রেমিকা যুগলে পরিণত করেছে। পাঁচ বছরের টেনে নিয়ে যাওয়া অপ্রতিরোধ্য প্রেম ছাত্রজীবন শেষে দাম্পত্যে পরিণত হলো পারিবারিক আয়োজনে পরিণয়ের মাধ্যমে। দু’জনেই ভীষণ ক্যারিয়ার সচেতন। একজন আইনের শিক্ষক হয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উঁচু বেতনে ছাত্র পড়িয়ে যাচ্ছে। কর্মের ফাঁকে বিলেতের এক ইউনিভার্সিটি হতে পিএইচডিও তার নামের আগে জুটে গেছে। আর একজন নামকরা এক উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রিসার্চ ফেলো হিসেবে যোগ দিয়েছে। তারও অর্থনীতিতে পিএইচডি হয়ে গছে এর মধ্যে। দশ বছর দুজনেই ব্যস্ত ছিলো নিজেদের ক্যারিয়ার গোছাতে। তাই সত্যিকার অর্থে সংসার তারা করে উঠতে পারেনি। বাসা ছিল যেন হোস্টেল। এভাবেই তাদের জীবন যেত। সেই কোন সকালে বের হয়ে রাত আটটা নয়টার দিকে দু’জনে বাসায় আসতো।

একসময় দুজনের ক্যারিয়ারে একটা স্থিতি আসলো। এবার তাদের নজর গেছে সংসারে। কিন্তু ক’দিনের মাথাতেই গণ্ডগোল। সেদিন আবাহনের মোবাইল ফোন বাসায় রেখে ভুলে সে চলে গেছে ক্লাসে। খুব তাড়া ছিল তার। ছাত্রদের পরীক্ষা শুরু। সে-ই এবার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। তাই তার দায়িত্ব অনেক। আপ্লুতা’র অফিস ছিলো বন্ধ। তাই সে সারাদিন বাসায় একা একা। এটা সেটা করতে করতে এবার তার মনে হয় একটা বাচ্চা দরকার। অনেক তো হলো সাফল্যের সোনার হরিণের পেছনে ছোটা। এবার জীবনের চাহিদাকে নিজেদের দাম্পত্যে অনুবাদ করে নেয়ার পালা। সংসারটাকে দুটো যন্ত্রের বিশ্রাম কক্ষ না বানিয়ে দুটো মানুষের বিচরণক্ষেত্রে পরিণত করা দরকার। সেদিন বাসায় থেকেও আপ্লুতা একা বসেছিল খেতে। একা খাওয়া যে এতো বিরক্তিকর তা আগে জানা ছিল না। কোনোমতে পেটের জ্বালানি জুটিয়ে সে উঠে পড়ে টেবিল থেকে। একটু পায়চারি করে, একটু গান শুনে একটু বিছানায় গা এলিয়েও রেল লাইনের মতো লম্বা দিনটা যেন শেষ হতে চায় না। বারান্দা হতে ঘরে ঢুকে বসার কক্ষে গিয়ে তার চোখে পড়ে আবাহনের ফোনটি। তার অবশ্য ফোন দুটো। একটা অ্যান্ড্রয়েড আর একটা অ্যানালগ। অ্যান্ড্রয়েড ফোনটাই সে রেখে গেছে ভুলে। যতœ করে ফোনটা নিয়ে রাখতে যাবে সে বেডরুমে যেখানে সাধারণত রাখে, ঠিক সে সময় একটা মেসেজ এলো ফোনটাতে। আপ্লুতা আবাহনের ব্যক্তিগত ফোন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার মতো হীন মানসিকতার নয়। বিষয়টাকে সে সেভাবে দেখেওনি। তার কোন আগ্রহ ছিল না ফোনটাকে নেড়েচেড়ে দেখার। আবাহনও তাকে ফোন দেয়নি যে সে তার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটা বাসায় রেখে গেছে ভুলে- এ’কথা বলতে। কিন্তু মেসেজের প্রেরকের নামে নারীর নাম থাকায় তার কৌতূহল হলো। নামটা খুব সুন্দর। অধুনা। অধুনা মেয়েটি কে তা জানতে এবার আপ্লুতার কৌতূহল আর দমানো গেল না। সে তাই অশোভন কাজটা করেই বসলো। অনুমতি ছাড়াই আবাহনের ফোন ঘাঁটাঘাঁটি করা শুরু করলো। ঐ মেয়েটার মেসেজে লেখা আছে, প্লিজ কাম শার্প অ্যাট ফাইভ পিএম ইন ইয়্যুনিভার্সিটি ক্যাফেটেরিয়া। পরপর বিশটা মতো মেসেজ দেখতে পেলো বিভিন্ন তারিখে। শুধুই অধুনা মেয়েটির। সবকটি মেসেজেই হয় ক্যাফেটেরিয়া নয় কোন রেস্টুরেন্টে যাওয়ার ডিরেকশন। পাঁচ বছর প্রেম করা আপ্লুতার কাছে এসব আলামত নতুন নয়। সে তার স্বামীর রোগ ডায়াগনোসিস করে ফেলেছে। এবার অ্যান্টিবায়োটিক অ্যাকশানের জন্যে তৈরি।

রাতে বাসায় এলো আবাহন। স্বাভাবিকভাবেই বললো, আজকে বাসায় মোবাইল ফোনটা ভুলে রেখে গিয়েছিলাম। পরে যখন মনে হলো তখন আর খেয়াল নেই যে তুমি আজ বাসায় থাকবে, তোমার আজ ছুটি। আমি অবশ্য অন্য মোবাইল দিয়ে কাজ চালিয়ে নিয়ে গেছি। আবাহনের কথায় আপ্লুতা নিস্তরঙ্গ হয়ে রইল। আবাহন তা খেয়াল করেনি। সে নিজেকে ফ্রেশ করে আপ্লুতাকে বললো একটু চা খাওয়াও প্লিজ। এবার আর আপ্লুতা রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ে নেই। সোজা একটা ছক্কা হাঁকিয়ে বললো, কেন তোমার অধুনা কি তোমাকে কফি খাওয়ায়নি আজকে? আপ্লুতার কথায় আবাহন অবাক হয়ে যায়। এমন কথা তো সে আগে কখনো বলেনি! আবাহন বলেলে ওঠে, ওহ্! আমার অনুমতি না নিয়েই আমার মোবাইল সার্জারি করে ফেলেছো? তাই না? তুমি যে এতো অসভ্য তা জানতাম না। এবার লেগে গেলো ধুন্ধুমার বাক্যবাণ আর শব্দশর। কে কখন কার সাথে হেসে কথা বলেছে, কে কখন কার সাথে আউটিংয়ে গেছে সেসব অর্থহীন কথার দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়ে গেল। ফলাফল নিম্নচাপ। দুজন রাতে দুইঘরে। সমস্যা হলো এই, যখন দু’জন সুশিক্ষিত মানুষ ঝগড়া করে তখন তাদের মধ্যে শয়তান ইগোর দ্বন্দ্ব ঢুকিয়ে দেয়। ফলে ঝগড়াটা মেটাতে গেলেও মিটে না। উদার তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়া এ-ধরনের ঝগড়া মিলনান্তক কোন পরিণতি পায় না। আবাহন আর আপ্লুতার ক্ষেত্রেও তাই। ব্যক্তিসত্তার চাপে ভালোবাসার নম্রতা উবে গেছে কর্পূর হয়ে। তা ছাড়া যদি দুজনে অশিক্ষিত হতো তবে যৌনতার জন্যে হলেও তারা তাদের ঝগড়া মেকিভাবে মিটিয়ে নিতো। এমন অনেক নজির আছে, দম্পতির মধ্যে ভালোবাসা নেই কোনো, তবুও তাদের ছেলেমেয়ের সংখ্যা কম নয়। অথচ জীবন তাদের কাটে অমীমাংসিত ঝগড়ায়। কিন্তু এ’দুয়ের ক্ষেত্রে তা সমাধান হওয়ার নয়।

পরদিন কোন বাক্যব্যয় না করেই ব্যাগ গুছিয়ে আপ্লুতা সোজা চলে গেল তার মায়ের কাছে। বাবার মৃত্যুর পর মা প্রায় একা থাকে তার ফ্ল্যাটে। সে গেলে মায়ের উপকার হবে বরং। যেতে যেতে ভাবে তাকে কত না ঠকিয়েছে আবাহন দিনের পরর দিন! সে যখন তার কথা ভেবে মগ্ন ছিল তখন হয়তো আবাহন ঐ অধুনার সাথে বাহুলগ্ন হয়ে কফিপানে মত্ত ছিল। ওফ্! রাগে-ক্ষোভে তার নিজের চুল নিজে ছিঁড়তে মন চাইছে। এদিকে আবাহন যথারীতি তার ক্লাস নিতে বের হয়ে গেল।দুজনের মধ্যে কোন কথা বিনিময় হলো না। আবাহন ভাবে,এতো নীচু মানসিকতায় পেয়ে বসলো আপ্লুতাকে! সে তাকে অবিশ্বাস করতে শুরু করলো? একবারও তার প্রতি আবাহনের লয়্যালটি দেখলো না! নাহ্! নিজেকে আর ছোট করা নয়। যতদিন সে নিজে না আসবে ততদিন সে আর সেধে তাকে ফোনও দেবে না, আনতেও যাবে না। কথা ফাইনাল।

দিন গড়িয়ে যায়। বছরও গড়ায়। এভাবে চলে যায় পাঁচ পাঁচটা মূল্যবান বছর। এর মধ্যেই চীনের উহানে শুরু হলো করোনা ভাইরাসের মহামারী সংক্রমণ। এটি আদতে প্রাকৃতিক সংক্রমণ নাকি চীনের তৈরি কৃত্রিম জীবাণু অস্ত্র তা বোধগম্য নয়। এ নিয়ে কথা হচ্ছে বিস্তর। জার্মানি ও আমেরিকা এ ধারণাকে গভীরভাবে বিশ্বাস করে চলেছে। শুধু অকাট্য প্রমাণের বাকি। বাংলাদেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশকে ভালোবেসে দিয়ে গেছে করোনার বীজ। সেই ভালোবাসার জের টানতে হচ্ছে দেশকে। টেনে যাচ্ছে আপ্লুতাও। তাকে কীভাবে কোভিডে পেলো তা তার বোধগম্য নয়। পত্রিকায় খবর এলো, আনিস স্যারও কোভিডের শিকার। আহা! বাঙালির শিক্ষক মানুষটা এই ধকল নিতে পারে কি না কে জানে? হাসপাতালে কোভিড পেশেন্ট নিয়ে আসলে ডাক্তারদের কিছু করার নেই। এটা অনেকটা ওয়াচ এন্ড সি এর মতো ব্যাপার। অবস্থা যেমন হবে তেমন চিকিৎসা। আপ্লুতার অবশ্য তেমন কিছু হয় নি। শুধু জ্বরটা কমছে না আর মাঝে মাঝে নিঃশ্বাসে কষ্ট হয়। মনে হয়ে অনেক বিশাল একটা পাথরের চাঁই সে নিঃশ্বাস দিয়ে তুলছে। এরই মাঝে আরো একটা ঘটনা তাকে ব্যথিত করে তুলেছে। অথচ এটা ছিল একটা সুখের খবর। কিন্তু এত দেরিতে এলো খবরটা! আজ সে হাসপাতালে করোনার করুণার ওপর চেয়ে আছে আর ওদিকে আজই টেলিফোন এলো, সে এ শহরে একটা বড় অ্যাপার্টমেন্টের মালিক। হ্যাঁ মালিকই। যদিও একটা টাকাও সে দেয়নি। এমনকি একটা মিনিটের জন্যেও সে ভাবেনি এ বিষয়ে। অথচ আজ সে প্রায় দু’কেটি টাকার একটা ফ্ল্যাটের মালিক সে। সকালে হাসপাতালের দেয়া নাশতা খেয়ে সে বসেছিল বেডের ওপর। এ সময় ফোন এলো একটা অপরিচিত নম্বর হতে। হ্যালো বলে রিসিভ করতেই ওপার থেজে বলে উঠলো, ম্যাডাম, আমি অধুনা সমিতির সেক্রেটারি বলছি। একটা পুরুষ কণ্ঠ বেজে উঠলো ও-প্রান্তে। বলে কী লোকটা! আপ্লুতা নড়েচড়ে বসে। জ্বী বলেন। ও’প্রান্তে বলছে, অধুনা হলো লাইসিয়াম ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের একটা সমিতি যা শিক্ষকদের জন্যে গত পাঁচ বছর ধরে অ্যাপার্টমেন্টের ব্যবস্থা করে আসছে। গত পাঁচ বছর ধরে একশোবারের মতো হবে স্যারেরা মিটিং করেছেন বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট বা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাফেটেরিয়ায়। আবাহন স্যার তাঁর ফ্ল্যাটের মালিকানায় আপনার নাম লিখেছিলেন পাঁচ বছর আগে। আগামীকাল আমাদের সেই ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার পালা। আপনার সই লাগবে অনেকগুলো। দয়া করে আগামীকাল একটু আসবেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির অফিসে। ওপারের কথা শুনে সেন্স হারা হয়ে গেল আপ্লুতা। নার্স-ডাক্তারদের ছুটোছুটি শুরু হলো। সবাই দ্রুত তাকে নিয়ে গেল আইসিইউ-তে।

হাসপাতালের আইসিইউ বিষয়টা খুব খটোমটো। মনে হয় একটা মেশিন সারাইয়ের কারখানা। কত নল, কত কেবলস্ আর কত যন্ত্রপাতি! মুখে কেউ কথা বলে না সেখানে। সবাই নিঃশব্দে কাজ করে যায়। আজরাইল এখানে দরবারে বসে রোজ। প্রতিদিন কারও না কারও জীবনে নেমে আসে আজরাইলের দণ্ড। বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ডাক্তার-নার্স ছাড়া কেউ ঢুকতে পারে না এখানে। রোগীর পরিচর্যাকারীরও কোন এন্ট্রি নেই। একটা সাক্ষাৎ মৃত্যুপুরীর মহড়া এখানে। সবার তৎপরতায় আপ্লুতা আইসিইউতে এসে ঘন্টাখানেক পরে ফিরে পায় সম্বিৎ। তার নাকে নল, মুখে নল, হাতে নল। নলময় বেঁচে থাকা। ধীরে ধীরে সে চারপাশে তাকায়। সব মুমূর্ষু রোগীতে ঠাসা আইসিইউ। দশটা বেড এখানে। চোখ ঘোরাতে ঘোরাতে একটা সময় ক্লান্ত হয়ে যায়। তার বেডটাই আইসিইউ’র শেষ বেড। আইসিইউতে সময় চলে যায় ঘুমে জাগরণে। দিন পার হয়ে নতুন এক ভোর হয়। জানে না এ জীবনে আর আবাহনের সাথে দেখা হবে কি না। আইসিইউতে প্রবেশের পথে ডাক্তার-নার্সের ভিড়। কথা হতে বোঝা যায়, নতুন খারাপ রোগী এসেছে। তার ভেন্টিলেটর দরকার। কিন্তু আইসিইউতে কোন বেড খালি নেই। কীভাবে কী করা যায়? পেশেন্টটা গতরাতে ভর্তি হয়। আজ ভোরে খারাপ হয়ে যায় তার অবস্থা। একটু ভিড় হালকা হলে আপ্লুতা দেখতে পায় নতুন রোগীর মুখ। তার বুক ধক্ করে ওঠে। অনেক দিনের চেনা এই মুখ। তার বাঁচার প্রেরণা। এই মুখটাই তার এ জীবনের সঞ্চয়। নতুন রোগীকে নিয়ে ডাক্তার-নার্সদের ঘাম ছুটছে। একটা আইসিইউ বেড লাগবেই। নইলে বাঁচানো যাবে না কোনোমতেই। আপ্লুতা ইশারায় ডাক্তারকে ডাকে। ডাক্তার কাছে আসে। তারপর কানে কানে বলে কিছু। ডাক্তার মাথা ঝাঁকায়। অর্থাৎ আপ্লুতা যা বলছে তাতে ডাক্তার রাজি নন। কিন্তু আপ্লুতা তাতে থামে না। সে আরো অস্থির হয়ে ওঠে। অবশেষে ডাক্তার রাজি হয়। কিছুক্ষণ পরে নার্সরা স্বস্তি ফিরে পায়। এবার আইসিইউ থেকে বের করে আনা হলো আপ্লুতাকে। তার জায়গায় বেডে তোলা হলো নতুন রোগীকে। আপ্লুতার চোখে গড়িয়ে পড়ে জল। মুখের কোনায় তিরতির করে কেঁপে উঠছে অব্যক্ত কষ্টে।

পরদিন সকালে ডাক্তারের টেবিলে পত্রিকা আসে। নার্স-ডাক্তার সবার নজর কাড়ে সংবাদ শিরোনাম। ‘কুয়েত মৈত্রী ডেডিকেটেড কোভিড ১৯ হাসপাতালে মারাত্মক অসুস্থ স্বামীর জন্যে আইসিইউ বেড ছেড়ে দিলেন লাইফ সাপোর্টে থাকা স্ত্রী।’ মুহূর্তেই শিরোনামটি হয়ে ওঠে টক অব দ্য কান্ট্রি।

  • লুইস গ্লুকের কবিতা

    ব্যক্তি থেকে বিশ্বজনীনতায় রূপায়ন

    অনন্ত মাহফুজ

    newsimage

    পঁচিশ বছর বয়সে লুইস গ্লুকের প্রথম কবিতাগ্রন্থ ফার্স্টবর্ন প্রকাশিত হবার পর কবিতাঙ্গনে

  • বিশেষ সাক্ষাৎকার

    বাক্য নিজেই কথা বলার একটি উপায় খুঁজে নেয়

    সাক্ষাৎকারে লুইস গ্লুক ভূমিকা ও অনুবাদ : ফজল হাসান

    newsimage

    ২০২০ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের দৌড়ে আন্তর্জাতিক পাঠকমহলে পরিচিত একাধিক কথাসাহিত্যিক এবং

  • লুইস গ্লুকের কবিতা

    ‘তাজা বাতাসে জড়ানো নতুন পৃথিবী’ অনুবাদ : অশোক কর

    newsimage

    গ্রিটেল, অন্ধকারিত্বে এমন পৃথিবীই আমরা চেয়েছিলাম। যারা আমাদের মরে যেতে দেখেছিলো, ওরা এখন মৃত।

  • লুইস গ্লুকের কবিতা : ২

    ‘সেটিই নগর যেখানে আমি হাওয়া হয়ে যাই’ অনুবাদ : মুজিব রাহমান

    বাগান বাগান তোমাকে সমীহ করে। তোমার খাতিরে সে নিজেই মেখে নিয়েছে সবুজ রঞ্জক, গোলাপের লাল

  • শ্রদ্ধাঞ্জলি রশীদ হায়দার

    শরতের মেঘের মতো বিনয়ী ছিলেন যিনি

    আদিত্য নজরুল

    newsimage

    ‘মাত্রা’ গল্পের মাধ্যমেই রশীদ হায়দারের সাথে আমার পরিচয়। আমার আগ্রহ বেড়ে যায়

  • বিস্মৃত রাজনৈতিক মঞ্চের কথক মহিয়সী জায়নাব আখতার

    মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ

    newsimage

    প্রথমেই বলে রাখা প্রয়োজন বইটি সাধারণ অর্থে অব্যাহতভাবে লেখা কোনো স্মৃতিকথা নয়।

  • সোনাভানের কাসিদা

    দিলারা মেসবাহ

    newsimage

    ‘অ ব্যাটা - ব্যাটারে। তোর মাওডা মইর‌্যা গেল কেমনে? সোনার মানুষডা