menu

জীবন প্রলয়ী সিলভিয়া প্লাথ

মিলটন রহমান

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯
image

আমার অন্তর্গত অনুসন্ধান এবং পর্যবেক্ষণিক সিলভিয়া প্লাথের বয়স বাইশ বছরের কম নয়। প্রথমদিকে কাব্যের চেয়েও বেশি অনুরক্ত এবং আসক্ত হয়ে পড়ি তাঁর জীবনের প্রতি। এতো বৈচিত্র্যময় এবং আত্মহত্যাপ্রবণ কবিজীবন আমি এর আগে পাঠ করিনি। যে কবি কেবল কবিতা রচনা করতে চেয়েছেন জীবনের প্রতিটি সময়ে, যে কেবল ভালোবাসতে চেয়েছেন প্রেমিক কিংবা সহধর্মীকে, যে কেবল আত্মহত্যা করতে চেয়েছেন জীবনের বিভিন্ন সময়ে। তাঁর আগে-পরে আমি আরো অনেক বিদেশি কবি-সাহিত্যিক, দার্শনিকের রচনায় আসক্ত হয়েছি। নব্বইয়ের দশকে ব্রিটিশ কবি উইলিয়াম ব্লেক, অস্ট্রিয়ান মনোবিজ্ঞানী সিগমন্ড ফ্রয়েড, আমেরিকান ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও সাংবাদিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, কলম্বিয়ান ঔপন্যাসিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজসহ অসংখ্য লেখক কবি-সাহিত্যিক-দার্শনিক আছেন যাঁদের পাঠ করে বিদেশি সাহিত্য পাঠে আরো আগ্রহী হয়ে উঠি। একই সময়ে আমেরিকান-ব্রিটিশ কবি সিলভিয়া প্লাথ এবং ব্রিটিশ কবি টেড হিউজও পাঠ করেছিলাম। সেই থেকে এই দুই কবিকে অনুসরণ করাটা আমার একরকম অভ্যেসে পরিণত হয়। এর প্রধানতম কারণ দু’জনের প্রণয় ও অপ্রণয়ঘটিত জটিল জীবনের আখ্যান এবং একে ঘিরে তাদের কাব্যসাহিত্য চর্চা। সেই সাথে তাঁদের বিষয়ে বিভিন্ন সমালোচকের রচিত গদ্যও আমার আগ্রহে উঠে আসে। ২০০৭ সালের এক জানুয়ারি আমি লন্ডনে আসি। আসার কয়েক দিন পরেই অক্সফোর্ড সার্কাস রেল স্টেশন সম্মুখে পত্রিকার স্টলে ডেইলি মেইলে আমার দৃষ্টি আটকে যায়। দেখি প্রথম পাতার এক পাশে টেড হিউজের ছবি। কিনে নিই পত্রিকাটি। উল্টে দেখলাম মধ্যখানে প্রায় দুই পৃষ্ঠাজুড়ে টেড হিউজ এবং সিলভিয়া প্লাথ বিষয়ে একটি রচনা। রচনাটি কার ছিলো তা এখন আর মনে করতে পারছি না। তবে সেই রচনা পাঠের পর আমি নতুন করে দুই কবির শহর লন্ডনের গন্ধ নিতে থাকি। কেবলই মনে হতো এই বুঝি টেড হিউজ হেঁটে যায়, এই বুঝি সিলভিয়া প্লাথ হেঁটে যায়। রিজেন্টপার্ক চিড়িয়াখানার পাশে গেলেই খুঁজি সেই ছোট্ট ফ্ল্যাট। যেখানে বসবাস ছিলো সিলভিয়া প্লাথ ও টেড হিউজের। প্লাথের মেধা আমাকে সব সময় মোহিত করেছে। তাঁকে পাঠ করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে, কবি হয়েই তিনি জন্মেছিলেন। আট বছর বয়সে বোস্টনের ‘দি হেরল্ড’ পত্রিকার শিশু পাতায় প্রথম কবিতা প্রকাশ, তাঁর সেই মেধারই ছাপচিহ্ন। শিক্ষাজীবনে যার সফলতা ছিলো ঈর্ষণীয়। পুরো শিক্ষাজীবনই তিনি পেয়েছেন মেধাবৃত্তি। একাডেমিক পড়াশোনার পর পেশায়ও ছিলেন একজন সফল শিক্ষক। আমেরিকা থেকে ফুলব্রাইট কমিশন স্কলারশিপ নিয়ে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেই পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় টেড হিউজের সাথে। সেই সম্পর্ক ১৯৫৬ সালের ১৬ জুন রূপ নেয় প্রণয়ে। দু’জন শুরু করেন সংসার। বিয়ের পর আমেরিকার বোস্টন শহরেই বসবাস শুরু করেন। পরে আবাস গড়েন লন্ডনে। সিলভিয়া প্লাথ তাঁর মেধায় প্রতিটি স্তর উৎরে এলেও একেবারে নিজস্ব মনোদৈহিক সংকটে সব সময় ছিলেন ঝুঁকিতে। কলেজ জীবনের শেষ দিকে ‘নার্ভাস ব্রেকডাউন’ আক্রান্তের কারণে চিন্তায় সব সময়ই কাজ করতো আত্মহত্যা। জীবনের বিভিন্ন সময় তিনি আত্মহত্যা করতে চেয়েছেন। এই সংকটঘন প্রবণতাই বিধৃত হয়েছে তাঁর একমাত্র উপন্যাস ‘দি বেল জার’ (১৯৬৩)-এ। আর এই উপন্যাসটির যুক্তরাজ্য প্রকাশনের এক মাস পরেই আত্মহত্যা করেন সিলভিয়া প্লাথ। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় সিলভিয়া প্লাথের ছদ্মনাম ‘ভিক্টোরিয়া লুকাস’ নামে। প্লাথের মা এবং টেড হিউজ চাইতেন না সরাসরি তাঁর নামে উপন্যাসটি প্রকাশিত হোক। ব্রিটেনে ১৯৬৭ সালে প্রথম ‘দি বেল জার’ প্রকাশিত হয় সিলভিয়া প্লাথের নামে। আমেরিকাতে সরাসরি তার নামে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় আরোও পরে ১৯৭১ সালে। প্লাথের মনস্তাত্বিক এই উপন্যাস বিশ্বের ডজনের বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। স্কুলপাঠ্য বইয়ের মর্যাদা পেয়েছে আমেরিকা এবং যুক্তরাজ্যে। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র এসথার গ্রীনউড মূলত সিলভিয়া নিজেই। এই চরিত্রই যেনো প্রকাশ-বিকাশ করেছে তাঁর আবেগ, চিন্তা ও দর্শন। এই উপন্যাসটিই জানান দেয় তাঁর লাগামহীন আবেগের খবর। প্রেম ও যৌনময়তার মধ্যে সেখানে বিশ্ববীক্ষাও রয়েছে। রয়েছে দ্বিখণ্ডিত বিশ্বের চেহারা। ধর্মীয় বিভেদ, গণতন্ত্র-স্বৈরতন্ত্র, সাদা-কালো মানুষের বিভেদ, নারী পুরুষের শ্রেণিকরণ, কারো সাথে রাত্রিযাপন করা-না-করা- এসব বিষয় ‘দি বেল জার’-এ উঠে এসেছে। সিলভিয়া প্লাথ পঞ্চাশের দশকের এই চেহারা অবলীলায় এঁকে গেছেন। আমরা পাঠক হিসেবে এর ভেতর দিয়েই পরিমাপ করেছি তাঁর আবেগ এবং মানসিক যন্ত্রণার ঘনত্ব কিংবা উত্তাপ। নজের কৌমার্য থেকে রেহাই পেতে এসথারের যৌনসঙ্গী খোঁজার বিষয়টি যেভাবে উপন্যাসে এসেছে তাতে একে আমার অসঙ্গত মনে হয় নি। আমার সাথে অন্য পাঠকের মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু আমার মনে হয়েছে এসথার এখানে অনেক বেশি সৎ। এই সততার খোঁজে আমি সিলভিয়া প্লাথকে আরো বেশি আবিষ্কার করি। তাঁর প্রেমিক হয়ে উঠি। ত্রিশ বছরে তাঁর মতো ধীমানের মহাপ্রস্থান আমাকে কেবলই ব্যথিত করে। তখন আমি টেড হিউজকে প্লাথের আত্মহত্যার জন্য দায়ী করি। মৃত্যুর পাঁচ বছর আগে থেকে দু’জনের দূরত্বে বসবাস, টেড হিউজের অন্য নারীর দিকে ঝুঁকে যাওয়াÑ এসবই আত্মহত্যার কারণ। সিলভিয়া প্লাথের মৃত্যুর খবর যখন পান, তখন টেড হিউজ ছিলেন অন্য নারী শয্যায়। প্রচ- অভিমানী আমেরিকান-ব্রিটিশ এই কবি (প্রায় সবাই প্লাথকে কেবল আমেরিকান কবি বলে, আমি মনে করি তাঁর কবিতার উল্লেখযোগ্য উত্তরণ ব্রিটেনেই হয়েছে। তাই তাঁকে ব্রিটিশ কবি বলে সম্বোধন করতে চাই।) জীবনের বিভিন্ন সময় আত্মহত্যা করতে চেয়েছেন। ১৯৬৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি গ্যাস চেম্বারে মাথা সেঁধিয়ে আত্মহত্যা আসলেই কি করতে চেয়েছিলেন তিনি? তিনি অপেক্ষায় ছিলেন হিউজ ফিরে আসবেন। সেই ফিরে না আসার অভিমান তাঁকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলো মৃত্যুঅগ্নিকু-ে। সমালোচক এ আলভারেজ তাঁর ‘দি সাভেজ গড আ স্টাডি অব স্যুইসাইড’ গ্রন্থে তাই বলেছেন, সিলভিয়া প্লাথ বাঁচতে চেয়েছিলেন। বাঁচার আকুতি শোনে নি টেড হিউজ। ফলে তাঁর মৃত্যু নিয়ে একটি অমীমাংসিত প্রশ্ন থেকেই গেছে। যে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এখনো। তাছাড়া আত্মহত্যার আগে সিলভিয়া প্লাথ টেড হিউজকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন ডাকে। তাতে একটি লাইন ছিলো, ‘এটি তোমাকে লেখা আমার শেষ চিঠি। তুমি ফিরে এসে আমাকে আর পাবে না।’ এই চিঠিটি টেড হিউজ প্লাথের আত্মহত্যার আগে পেয়েছিলেন কিনা জানা যায় না। যদিও সিলভিয়া প্লাথের মৃত্যুর পর টেড হিউজ নিজের প্রেম-ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন ভাষ্যে। মৃত্যুর পর বলেছিলেন, ‘এখানেই আমার জীবনের শেষ’। এছাড়া ১৯৮৯ সালের ২০ এপ্রিল দি গার্ডিয়ান পত্রিকায় একটি রচনায় টেড হিউজ নিজের স্বীকারোক্তিতে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। সেই সাথে নিজের দিকে ধেয়ে আসা তীর সমলাতে নিজের অবস্থানও পরিষ্কার করেছেন। এছাড়া তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘বার্থডে লেটার’-এর ছত্রে ছত্রে খুঁজে পাওয়া যায় সিলভিয়া প্লাথকে। এই কাব্যপাঠে বুঝতে কষ্ট হয় না অন্য নারীতে আসক্ত হলেও তাঁর ভালোবাসার মূল খুঁটিটা পোঁতা ছিলো সিলভিয়ার মাঝেই।

একদিন কবি শামীম আজাদ আমাকে নিয়ে যান সাউথ ব্যাংকের পোয়েট্টি লাইব্রেরিতে। সেখানে কবিতা সংক্রান্ত লক্ষ লক্ষ বইয়ের মাঝে আমি খুঁজে খুঁজে সিলভিয়া প্লাথ ও টেড হিউজের গ্রন্থ পাঠ করি। তাঁদের নিয়ে রচিত গ্রন্থ পাঠ করি। বিশেষ করে কাব্যগ্রন্থ ‘দি কোলাসাস এন্ড আদার পোয়েমস’ এবং ‘এরিয়েল’ পাঠের পর সিলভিয়া প্লাথকে আমি প্রতিটি পদক্ষেপে দেখি। প্রায় প্রতিটি মানুষের মধ্যে দেখি। সেই ট্যাবু, মানসিক যন্ত্রণা, যৌনকাতরতা এবং আত্মহত্যার প্ররোচনা। আমেরিকায় ১৯৫০-এর দিকে সিলভিয়া প্লাথের মতো একই মতাদর্শের কয়েকজন কবি নিজেদের রচনায় ভিন্নতার চিহ্ন রাখেন। তাঁদের কবিতা স্বীয় মনস্তত্ত্বের স্বীকারোক্তি। যেটিকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘কনফেশনাল’। তাঁদের কারণেই ওই ধারাকে চিহ্নিত করা হয় ‘কনফেশনালিজম’ নামে। আবার তাদের উত্তরাধুনিক কবি হিসেবেও ধরা হয়েছে। এই দলভুক্ত ছিলেন, রবার্ট লোয়েল (১৯১৭-১৯৭৭), সিলভিয়া প্লাথ (১৯৩২-১৯৬৩), জন বেরিম্যান (১৯১৪-১৯৭১), এন সেক্সটন (১৯২৮-১৯৭৪), এলেন গীনসবার্গ (১৯২৬-১৯৯৭) এবং ডব্লিউ ডি স্নোডগ্রাস (১৯২৬-২০০৯)। সিলভিয়া প্লাথের উল্লিখিত কাব্যগ্রন্থ দু’টি পাঠের পর কবিতায় আমি নতুন শব্দ শুনেছি। করাতে গাছ কাটার মতো, মগজে হাতুড়ি পেটানোর মতো, বুকে ছুরি বিঁধে যাওয়ার মতো। নবচিন্তা ও দর্শনে আমি টের পেয়েছি মনোদৈহিক চিন্তার নানামুখি উৎসারণ। প্রায় প্রতিটি কবিতায় আমি সিলভিযা প্লাথের শূন্যতা অনুভব করেছি। বুঝতে চেয়েছি তাঁর অপূর্ণ জীবনের শেষের আকুতি কেমন ছিলো। তাঁকে পাঠ করতে করতে আবার মনে হয়েছে, কোন মানুষই জীবনের পূর্ণতায় তৃপ্ত হতে পারে না। জীবনের প্রতিটি ভাঁজে কোথাও না কোথাও হা করে থাকে শূন্যতা। আমি সিলভিয়া প্লাথের দীর্ঘশ্বাস টেনে রচনা করি একটি কবিতা।

কেউ পারে না দিতে জীবনের শেষ চুম্বন

অন্তহীন অন্তেই মধ্যরেখা মিলায়ে যায়,

আত্মহননের পর দৃশ্যমান চুম্বনগুলো

উল্কাপিণ্ডের মত মিশে যায় জল ও মৃত্তিকায়।

যারা দৌর্দ- খোয়াবী রাতে কুড়িয়েছে ওইসব তারকাখ-

তারাও একা একা চলে যায়

নভোম-লের নিষুপ্ত জানালায় রেখে যায় পদছাপ,

মেঘের শরীরে আলোর সুঁই দিয়ে যারা নকশা এঁকেছিলো

তাও প্রাচীন গুহার মত ম্লান হয়ে গেছে

জলের খোলস থেকে উঠে গেছে চুম্বনের দাগ

একদা রোদের বারুদ ঘষে যে মাটি অঙ্গার হতো

সেখানে স্মৃতি ও শ্রাবণের জবা ফুটে আছে,

যেসব রমণীরা মঞ্জুষায় রেখেছিলো অলৌকিক যান

তারাও প্রোজ্জ্বল লণ্ঠন হাতে মিলায়ে গেছে মাঝপথে

উষ্ণপারদে এঁকে রেখে গেছে খচিত বিশ্বাস

শতচন্দ্র বছর পরও কেউ পথ শেষ করে না

মাঝপথে চুম্বন রেখে চলে যায়

আমার মত ভিখেরি কিংবা প্রেমিকের জন্য।

(অমিয়, স্নোড্রপ চুম্বনেরা)

সিলভিয়া প্লাথ আমার মাঝে এ রূপেই স্থাপিত হয়ে আছেন। মেটাফোরিক্যাল ফর্মে তাঁর মতো প্রকৃতির ইমেজ তৈরির কাব্য আমি আর পাঠ করিনি। তাঁর কবিতা পাঠ করি আর নানান রঙের বিস্তারে-আলাপে দেখি আত্মজৈবনিক ও প্রাকৃতিক রূপ। ১৯৪৬ সালের ১৬ জানুয়ারি। তিনি পিয়ানো ক্লাস থেকে ফেরার পথে প্রকৃতির রূপে মুগ্ধ হয়েই আমেরিকার ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির বন্ধু ফ্রাঙ্ক স্কোবারকে চিঠি লিখতে গিয়ে রচনা করেন কবিতা। চিঠিতে এক লাইনের সম্বোধন ছাড়া স্থান পায় কবিতা ‘এ উইন্টার সানসেট’।

‘Over the earth’s dark rim

The daylight softly fades

The sky from orange to gold

And then to copper shades.

The moon hangs, a glob of iridescent light

In a frosty winter sky,

While against the western glow one sees

The bare, black skeletons of the trees’

নিজের লেখার বিষয়ে সিলভিয়া প্লাথের নির্মোহ ভাব তাঁকে একজন প্রকৃত কাব্যচিন্তক এবং সমালোচক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি নিজের অনেক রচনাকেই বাতিল করে দিয়েছেন। বলেছেন, ওই লেখাগুলো কবিতা হয়ে উঠতে চেয়েছে কিন্তু হতে পারে নি। তাঁর কাছ থেকে এই মেডিটেশন আমি গ্রহণ করেছি। মেডিটেশন বলছি এজন্য যে, নিজের কবিতা হলো কি হলো না এ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অনেক পদ্যকারের পক্ষেই কঠিন কাজ। এ বিষয়ে নিবিড় ধ্যান এবং নির্মোহতা না থাকলে সম্ভব নয়। আবার এই নির্মোহতা যখন তাঁর নিজের জীবন সম্পর্কে তৈরি হতে দেখি তখন প্রচ- ব্যথিত হই। বারবার কেনো তিনি আত্মহত্যা করতে চাইতেন? এই প্রশ্নের জবাব তাঁর বিভিন্ন লেখায় পেয়েছি, তারপরও ওই প্রশ্নটির পূর্ণাঙ্গ উত্তরের খোঁজ করি আমি। কেন তিনি বলেন-

I have done it again

One year in every ten

I manage it-

A sort of walking miracle…

I am ony thirty.

And lie the eat I have nine times to die.

This is Number…( Lady Lazarus)

৮৪ লাইনের এই কবিতাটি তিনি রচনা করেছিলেন ১৯৬২ সালের ২৩ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে। আত্মহত্যার মাত্র কয়েক মাস আগে। এতে কোথাও অনুরণন তুলেছে তাঁর স্মায়ুবৈকল্য, কোথাওবা বাঁচার আকুতি। তাঁর শেষের দিকের প্রায় সব রচনাতেই বারবার দেখা দিয়েছে আত্মহননের চিন্তা। ছোটবেলায় পিতার মৃত্যুতে তাঁর মধ্যে রেখাপাত করেছিলো একাকিত্ব বা অসহায়ত্বের ভীতি। এই দৃশ্যই তাঁর জীবনে ক্রমান্বয়ে প্রলম্বিত হয়েছে। কবিতা, ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন সবখানেই ওই একাকিত্বই তটস্থ করে রাখতো তাঁকে। টেড হিউজের সাথে বিচ্ছেদের ঘটনা তাঁর এই বোধকে হতাশার তুঙ্গে নিয়ে যায়। আর এসব ঘটনা প্রবাহের মধ্যে আমার সম্মুখে সিলভিয়া প্লাথের যে মুখাবয়ব এসে দাঁড়ায় তা হলো একজন অনমনীয় এবং সাহসী মানুষের। তাই আত্মবিধ্বংসী এই কবি ঘুরেফিরে আমার কাব্যচিন্তার পাশেই থাকেন।

  • সিলভিয়া প্লাথ

    মৃত্যু, নৈঃসঙ্গ্য ও আত্মবিনাশের কবি

    কামরুল ইসলাম

    newsimage

    সিলভিয়া প্লাথ ছিলেন আমেরিকান কনফেশনাল কবিদের অন্যতম। সাহিত্যে কনফেশন বলতে বোঝায় সেই আত্মজীবনীমূলক রচনা (প্রকৃত

  • সিলভিয়া প্লাথের কবিতা

    অনুবাদ : অশোক কর

    দু’জন, নিঃসন্দেহে ওরা দু’জনই। এখন খুবই স্বাভাবিক বলেই মনে হয়Ñ একজন

  • কমলকুমার বিষয়ে ভাব প্রকাশ

    মামুন হুসাইন

    newsimage

    কৃতি সমালোচকের বাক্য নকল করে বলি- লেখা তার ঈশ্বর সাধনা; নাকি বলবো পুরাণ, ব্রতকথা, ধ্রুপদী সঙ্গীত, মন্দির ভাস্কর্যের

  • ফিরে যাব রাজপথে

    সৌর শাইন

    newsimage

    মৃত্যুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি জীবননাশী দূতকে, যদিও চোখ দুটো বাঁধা। মৃত্যু আমার নিচের ঠোঁটটা আলতো ছুঁয়ে গেল।

  • উত্তাপ

    ফরিদা ইয়াসমিন সুমি

    newsimage

    ঘুম ভেঙে যায় বিথীর। দরদর করে ঘামছে। মনে হচ্ছে সারারাত ধরে স্বপ্ন দেখছিল। এরকমটা হয় মাঝেমাঝে। স্বপ্নের কথা মনে করে ভীষণ লজ্জা

  • সাময়িকী কবিতা

    নোরা টোরভাল্ডের প্রাণ বাঁচিয়েছে। মিস লিন্ডে মৃত্যুশয্যাশায়ী মার পাশে ছিল, তার