menu

জালনা সিরিজের লেখক মাজো ডি লা রচ

সুব্রত কুমার দাস

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ নভেম্বর ২০১৮
image

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে কোনো কানাডীয় লেখক যদি সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করে থাকেন, তিনি হলেন মাজো। মাজো তাঁর জালনা উপন্যাসগুলোর উৎস নিয়ে কখনোই কিন্তু স্পষ্ট করে বলেননি। বললেও এক এক সময় তাঁর ভাষ্য একেক রকম ছিল

বিংশ শতাব্দির প্রথমার্ধের জনপ্রিয় লেখকদের মধ্যে কানাডীয় কথাসাহিত্যিক মাজো ডি লা রচ (১৮৭৯-১৯৬১) বিশেষভাবে উল্লেখের দাবিদার। টরন্টো শহরের নিকটবর্তী নিউমার্কেট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী এই লেখকের প্রথম উপন্যাস ছাপা হয়েছিল ১৯২২ সালে। ‘এক্সপ্লোরার্স অব দ্য ডন’ নামের সে উপন্যাস প্রকাশের পরের বছর তিনি লেখেন ‘পজেশন’। ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয় ‘ডেলাইট’ নামের তৃতীয় উপন্যাসটি। সে সময় পর্যন্ত তিনি ছিলেন একজন অপরিচিত অবিক্রিত লেখক। কিন্তু তাঁর লেখা চতুর্থ উপন্যাসটি লেখকের জীবনকে বদলে দেয় রাতারাতি। লেখকের সমগ্র জীবনের ২৮টি উপন্যাসের মতো সেটিও প্রকাশিত হয়েছিল আমেরিকা থেকেই। ‘জালনা’ নামের সে উপন্যাসটি আজ থেকে নব্বই বছর আগে দশ হাজার ডলার পুরস্কার লাভ করে। পুরস্কারটি এসেছিল ‘আটলান্টিক মান্থলি’ পত্রিকা থেকে। সে বছরই প্রথমবারের মতো ‘আটলান্টিক প্রাইজ নোভেল’ পুরস্কার প্রদান শুরু হয়। জমা পড়েছিল ১১১৭টি পান্ডুলিপি। এ পুরস্কারের কারণে পাঠকের দাবি বাড়তে থাকে। তারা ‘জালনা’র মতো একের পর এক উপন্যাস দাবি করেন। সে দাবি পূরণ করতে মাজো হোয়াইটওক পরিবার এবং তাদের বাড়ি জালনাকে আশ্রয় করে মোট ষোলোটি উপন্যাস লেখেন। উপন্যাসগুলো ‘জালনা সিরিজ’ নামে খ্যাত। জানা যায়, জালনা সিরিজের উপন্যাসগুলো মূল ইংরেজি এবং মোট ৯৩টি বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ হয়। তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত মোট বিক্রি হয়েছিল এক কোটি দশ লাখ কপি। ২০১৩ সালে জানালা সিরিজের সবক’টি উপন্যাসকে এক মলাটে প্রকাশ করেছে টরন্টোর বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা ডানডার্ন। জানালা সিরিজ ছাড়াও মাজো আরও সাতটি উপন্যাস, ১৩টি নাটক এবং পঞ্চাশের বেশি ছোটগল্প লিখেছেন।

মাজোকে নিয়ে লেখা জোয়ান গিভনারের বইতে ‘জানালা’র পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টির বিস্তারিত রয়েছে। ‘মাজো ডি লা রচ : দ্য হিডেন লাইফ’ নামে সে বইতে জোয়ান জানিয়েছেন ১৯২৭ সালে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দিকে মাজোর হাতে পড়ে আটলান্টিক মান্থলি পত্রিকার একটি কপি। পত্রিকায় চোখে পড়ে প্রতিযোগিতাটির কথা। দশ হাজার ডলার পুরস্কার ছাড়াও ঘোষণা ছিল পুরস্কৃত পান্ডুলিপি ধারাবাহিকভাবে প্রথমে পত্রিকায় প্রকাশিত হবে এবং শেষে বই আকারে প্রকাশ করা হবে। ম্যাকমিলানের সাথে পূর্ব যোগাযোগের কারণে মাজো নতুন লেখা এই বইয়ের পান্ডুলিপিটি ম্যাকমিলানকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। প্রকাশের সিদ্ধান্তও হয়েছিল। ম্যাকমিলান তাঁকে সুযোগ দেয় পান্ডুলিপির একটি কপি আটলান্টিক পত্রিকায় বিচারকমন্ডলীর উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিতে। দুই মাস ধরে বিপুল সংখ্যক পান্ডুলিপি পরীক্ষণের পর বিচারকমন্ডলী বারোটির একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করেন। পরে সেটি ছয়টিতে সীমাবদ্ধ করা হয়। সবশেষে এপ্রিল মাসের ১২ তারিখে বিজয়ী হিসেবে মাজোর নাম ঘোষিত হয়। কানাডীয় সাহিত্য জগতে এই সংবাদ বিপুল আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রথমবারের মতো সত্যিকার অর্থে কানাডীয় সাহিত্যের জন্য তাদের মধ্যে একটি গর্ব করার মতো সংবাদ ছিল সেটি।

হিথার তার বইতে লিখছেন সে প্রতিযোগিতায় সারা পৃথিবী থেকে পান্ডুলিপি জমা পড়লেও পুরস্কারটি পেয়েছিলেন কানাডীয় একজন ঔপন্যাসিক। ১৯২৭ সালে ১১ এপ্রিল তারিখে টরন্টো স্টারে প্রথম পৃষ্ঠায় ছবিসহ শিরোনাম ছিল: ‘Toronto woman wins $10,000 Atlantic Monthly Novel Price’। ব্যাপারটি এমন হয়ে যায় নিভৃতচারী সেই লেখকের বাড়ির দরজায় সারাদিন ধরে বেল বাজতে থাকে। টেলিগ্রামের পর টেলিগ্রাম আসতে থাকে। নতুন নতুন ফুলেল বাক্স নিয়ে অতিথিরা উপস্থিত হতে শুরু করেন। সাক্ষাৎকার নেবার জন্য ভিড় জমে যায় সাংবাদিকদের। একথা সত্য তিনি তখনই কানাডিয়ান অথরস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন এবং মর্লি কালাহান বা জি ডি রবার্টসের মতো লেখক-কবিদের সাথে তাঁর সংযোগ ছিল। কিন্তু তারপরও তিনি ছিলেন একাকী-থাকা একজন মানুষ। ১৯২৬ সালে টরন্টো স্টার উইকলিতে এক সাক্ষাৎকারে লেখক হবার জন্য যে মাজোর পরামর্শ ছিল ‘নির্জনতা খোঁজা’ সেই মাজো নিজেই স্বীকৃতির হৈ-চৈ-এর মধ্যে পড়ে গেলেন অপ্রত্যাশিতভাবেই, যেটি চলে গিয়েছিল তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কানাডার সীমার বাইরে একজন লেখকের এই স্বীকৃতি প্রাপ্তি কানাডীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমের এক নতুন আলোড়ন তৈরি করল। ২৯ এপ্রিল তারিখে প্রধানমন্ত্রী ম্যাকেনজি কিং তাঁকে প্রশংসা করে পত্রও লেখেন। চতুর্দিক থেকে একের পর এক সংবর্ধনা আসতে থাকে। আজ অটোয়া, তো কাল লন্ডন, তো পরশু টরন্টো। ভ্রমণ আর বক্তৃতা চলতে লাগল মাসের পর মাস। বইটি বাজারে আসে অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে। এক মাসের মধ্যে পঁচাশি হাজার কপি বিক্রি হয়ে যায় বইটি। কানাডা জুড়ে মাজোকে নিয়ে উল্লাস-উদ্দীপনা চলতে থাকে। ব্যাপারটা এমন হয়ে গেল যে, বছর ঘোরার আগেই মাজো ভীষণভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এই অসুস্থতা এমন পর্যায়ে গেল যে মাসের পর মাস তিনি একটি পোস্টকার্ড লিখতেও অক্ষম হয়ে গেলেন। ইলেকট্রিক শক থেরাপিও নিতে হয়েছিল ক্রমাগতভাবে বলে জানিয়েছেন জোয়ান। (পৃ. ১২৪)।

‘জালনা’র গল্প নিয়ে সিনেমা তৈরি হয় ১৯৩৫ সালে। ১৯৭২ সালে টেলিভিশনের জন্য রূপান্তরিত হয় সেই কাহিনি। হোয়াইট ওক পরিবারের যে কাহিনিকে মাজো প্রথমে ‘জালনা’ উপন্যাসে চিত্রিত করেন এবং পরে বাকি পনেরোটি উপন্যাসে বিস্তৃত করেন সেটিতে পরিবারটির একশ বছর সময়কে ধরা হয়। ১৮৫৪ সাল থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তুলে ধরা হয়েছে মোট চারটি প্রজন্মকে। তবে লক্ষণীয় যে লেখক সে-কাহিনিকে কালানুক্রমে রচনা করেননি। এবং স্বস্তির যে প্রতিটি উপন্যাসকেই আলাদা আলাদাভাবে উপভোগ করা সম্ভব- কাহিনিকালকে অনুসরণ করে পাঠের কোনো প্রয়োজন হয় না। কালের হিসেবে প্রথমে উপন্যাসটি হবে ‘বিল্ডিং অব জালনা’ (১৯৪৪) এবং শেষটি হবে ‘সেনটেনারি অ্যাট জালনা’ (১৯৫৮) এবং এই হিসাবে ‘জালনা’ সর্বপ্রথম লিখিত হলেও তার অবস্থান সপ্তম। ‘দ্য বিল্ডিং অব জালনা’র কাহিনি শুরু ১৮৫৩ সালে। এরপর ১৮৬৩ সালের কথা এসেছে ‘মর্নিং অব জানালা’তে (১৯৬০)। ঘটনার ক্রমানুসারে বাকিগুলো হলো: ১৮৯৪ সালের ‘মেরি ওয়েকফিল্ড’ (১৯৪৯), ১৯০৬ সালের ‘ইয়ং রেনিং’ (১৯৩৫), ১৯১৮ সাল নিয়ে ‘হোয়াইটওক হেরিটেজ’ (১৯৪০), ১৯২৩ সাল নিয়ে ‘দ্য হোয়াইটওক ব্রাদার্স’ (১৯৫৩)। ‘জালনা’য় এসেছে ১৯২৪ সালের ঘটনা, ১৯২৬ সালের ঘটনা নিয়ে ‘হোয়াইটওক অব জালনা’ (১৯২৯), ১৯২৯ সাল নিয়ে ‘ফিন্টেস ফরচুন’ (১৯৩১), ১৯৩১ সাল নিয়ে ‘দ্য মাস্টার অব জালনা’ (১৯৩৩), ১৯৩৪ সাল নিয়ে ‘হোয়াইটওক হারভেস্ট’ (১৯৩৬), ১৯৩৯ সাল নিয়ে ‘ওয়েকফিল্ড কোর্স’ (১৯৪১), ১৯৪৩ সাল নিয়ে ‘রিটার্ন টু জালনা’ (১৯৪৬), ১৯৪৮ সাল নিয়ে ‘রেনিস ডটার’ (১৯৫১), ১৯৫০ সাল নিয়ে ‘ভেরিয়েবল উইন্ডস অ্যাট জালনা’ এবং সব শেষেরটি ১৯৫৩ সালের ঘটনা নিয়ে যেটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৫৮ সালে।

দ্বিতীয় উপন্যাসে ‘হোয়াইটওকস অব জালনা’র পান্ডুলিপি প্রস্তুত হলে আমেরিকার সাময়িক পত্রিকা ‘কসমোপলিটান’ সেটিকে সিরিয়াল আকারে প্রকাশ করতে আগ্রহ দেখায়। সমাপ্তির অংশটুকু বদলে দেবার শর্তে সম্পাদক মাজোকে পঁচিশ হাজার ডলার প্রস্তাব করেন। মাজো বদলাতে রাজি হননি। শেষে এটিও ‘আটলান্টিক মান্থলি’কে সিরিয়ালি ছাপা হয়। ১৯২৯ সালে বই আকারে প্রকাশিত হলে বেস্ট সেলিংয়ের দ্বিতীয় শীর্ষে উঠে আসে বইটি। এভাবেই মাজোর অগ্রসরণ, যেখানে থেকে আর পেছন ফেরার প্রয়োজন হয়নি তাঁর।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে কোনো কানাডীয় লেখক যদি সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করে থাকেন, তিনি হলেন মাজো। মাজো তাঁর জালনা উপন্যাসগুলোর উৎস নিয়ে কখনোই কিন্তু স্পষ্ট করে বলেননি। বললেও এক এক সময় তাঁর ভাষ্য একেক রকম ছিল। কোনো কোনো সমালোচক বলতে চান তিনি আসলে যতখানি বলেছেন, তার চেয়ে বেশি গোপন করেছেন। মাজো এমনও বলেছেন যে ‘জালনা’ নামের বাড়িটি ছিল একটি কল্পনা। কখনো বলেছেন কল্পিত সে বাড়িটি অন্টারিও ক্লার্কসন এলাকার একটি বাড়ি, যার নাম ছিল ‘বেনারস’ সেটির আদলে তিনি নির্মাণ করেছিলেন। বলে রাখা যেতে পারে যে টরন্টোর নিকটবর্তী শহর মিসিসাগায় অবস্থিত এই বাড়িটি ১৯৯৫ সালে মাজোর স্মরণে যাদুঘর হিসেবে উন্মুক্ত করা হয়। হিথার তাঁর ‘হু ওয়ার দ্য হোয়াইটওকম অ্যান্ড হোয়ার ওয়াজ জানালা’ বইতে জানাচ্ছেন যে ১৯৩৩ সালে মাজো একজন সম্পাদককে জানান যে প্রেক্ষাপটটি আসলে ক্লার্কসন নয় (পৃ. ৫)। বরং সেটি ছিল নায়াগ্রার কাছাকাছি একটি জায়গায়। আর তাই হিথার লিখেছেন, ‘এসবের কোনোটি বিশ্বাস করা যায়? এদের কোনোটিই পূর্ণ ছিল না। সবগুলোই ছিল আংশিক সত্য।’

হোয়াইটওকস পরিবারের যে বাড়িটির নাম জালনা থেকে এই উপন্যাস-সিরিজের নামটি উদ্ভূত হয়েছে সেই বাড়িটি আসলে ভারতে ব্রিটিশ আমলে সেনাবাহিনির গ্যারিসন হিসেবে নির্মিত ‘জালনা’ নামের বাড়ির প্রতিচ্ছায়া। মাজোর প্রপিতামহের বাবা ব্রিটিশ সৈন্যদের একজন হয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। মিসিসাগাতে ১৮৫০-এর দশকে ওই বাড়িটি তৈরি করা হয় যেটির নাম দেওয়া হয় ভেনারস। উল্লেখ করা যেতে পারে, ওই শব্দটি কিন্তু ভারতীয় শহর ‘বারানসি’ থেকেই এসেছে। ওই বাড়িটিকে আশ্রয় করে চার প্রজন্মের শত বছরের কাহিনিকে মাজো তাঁর ষোলোটি উপন্যাসে ধারণ করেছেন।

‘দ্য বিল্ডিং অব জালনা’ যেটি সিরিজের প্রথম উপন্যাস সেটিতে আমরা কিন্তু দেখতে পাই ক্যাপ্টেন ফিলিপ হোয়াইটওক তার নববিবাহিত বধূ অ্যাডেলিনকে নিয়ে ভারত থেকে লেক অন্টারিও-র তীরবর্তী স্থানে অভিবাসী হন। আইরিশ কন্যা অ্যাডেলিন ভারতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে সেনা কর্মকর্তা ফিলিপের প্রেমে পড়েন। পরিণতিতে ১৮৫২ সালে নববিবাহিত যুগল আসেন কানাডাতে। সেখানে তাদের ভবিষ্যত আবাসের তারা নাম দেন ‘জানালা’। হোয়াইটওক পরিবারের চার সন্তান। ক্রমে ক্রমে পরিবারে নাতি-পুতিতে ভরে ওঠে। পরিবারের বিধি মোতাবেক সেখানে যেমন প্রেম ছিল, হিংসাও কম ছিল না। দ্বন্দ্ব এবং ষড়যন্ত্রের উপস্থিতিও স্পষ্ট হতে থাকে পরিবারটিকে ঘিরে। কানাডাভিত্তিক একটি পরিবারের কাহিনি নিয়েই মাজো রচিত এই উপন্যাস-মালা।

বর্তমান প্রবন্ধটি শেষ করার আগে প্রাসঙ্গিক একটি বিষয়ে আলোকপাত করা যেতে পারে। ১৯৩৬ সালে গভর্নর জেনারেল পুরস্কারের প্রবর্তনের সময় মাজো ডি লা রচ কিন্তু কানাডাজুড়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। পুরস্কার প্রদান শুরু হলো। বছরের পর বছর গড়াতে লাগল। নতুন নতুন উপন্যাস দিয়ে উত্তর আমেরিকার পাঠক সমাজকে মাজো মাতিয়ে রাখলেন, কিন্তু গভর্নর জেনারেল পুরস্কার তার কপালে জোটেনি। জোয়ান তাঁর জীবনীতে জানাচ্ছেন, ১৯৩৮ সাল থেকে নোবেল পুরস্কারের বিষয়টি মাজোর মনোযোগে আসে। ১৯৪০-এর দশকের শেষ থেকে ১৯৫০ এর দশকের প্রথম বছরগুলোতে তিনি বিভিন্নভাবে তাঁর প্রকাশকদেরকে এই উদ্যোগে উৎসাহিত করতে প্রচেষ্ট ছিলেন। কিন্তু তাঁর কপালে সেটিও জোটেনি। শেষ পর্যন্ত তাঁকে এই বিশ্বাসে স্থিত হতে হয় যে তিনি যদি ‘আমেরিকান’ হতেন তাহলে নোবেল পেতেন (পৃ. ১৯৯-২০০)।

অনেক প্রাপ্তি এবং অপ্রাপ্তির এই লেখক ‘জানালা’ সিরিজের বাইরে যে উপন্যাসগুলো লিখেছিলেন সেগুলোর মধ্যে ‘লার্ক অ্যাসেন্ডিং’ (১৯৩২), ‘দ্য থান্ডার অব নিউ উইংস’ (১৯৩২), ‘গ্রোথ অব অ্যা ম্যান’ (১৯৩৮), ‘দ্য টু স্যাপলিংস’ বিশেষ উল্লেখের দাবিদার। ‘গ্রোথ অব অ্যা ম্যান’ নিয়ে মাজো খুব আশাবাদি ছিলেন। তাঁকে নিয়ে রচিত জীবনীগুলো থেকে জানা যায়, এই উপন্যাসটি প্রকাশের পর তাঁর প্রত্যয় জন্মেছিল যথাযথভাবে বইটি উপস্থাপিত হলে তিনি নোবেল পেতে পারেন। পুরস্কারটি না পেলেও মাজো যে কানাডীয় সাহিত্যের বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য লেখক সে সত্যটি অস্বীকার করার উপায় নেই। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রধান সাহিত্যিক সুজানা মোদী ও ক্যাথারিন পার ট্রেইল এবং বিংশ শতাব্দীর প্রধান দুই সাহিত্যিক মার্গারেট অ্যাটউড ও মার্গারেট লরেন্সের ভেতর সময়ের সেতুবন্ধ হিসেবে যে লেখক সবচেয়ে মর্যাদাবান তিনি হলেন মাজো ডি লা রচ। অধ্যাপক জোয়ান তাই লিখেছেন, ঊনবিংশ শতাব্দীর পূর্বনারী লেখকরা যখন লেখক জীবন শেষ করছেন তখন মাজো লেখালেখির শুরুতে। আর তিনি যখন লেখালেখির শেষ ধাপে তখন বিংশ শতাব্দির কানাডীয় সাহিত্যের মহীরূহরা লেখালেখি শুরু করেন (পৃ. ২৪২)। হিথার তাই যথার্থই বলেছেন মাজোর সময়ে কানাডীয় সাহিত্যে ‘আর কোনো নারী লেখকের নাম যদি একই মর্যাদায় উচ্চারণ করতে হয় তিনি হলেন লুসি মড মন্টগোমারি। কোনো পুরুষ লেখকের নাম বলতে চাইলে সে নামটি হবে স্টিফেন বাটলার লেকক (পৃ. ১৫২-১৫৩)।

সিবিসি টেলিভিশন চ্যানেল ১৯৭২ সালে ‘জানালা’ সিরিজ নিয়ে যখন চলচ্চিত্রায়ন করে তখন সাকল্যে ব্যয় হয়েছিল দুই মিলিয়ন ডলার। উল্লেখ করা যেতে পারে সেকালে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় বাজেটের সিরিজ। ১৯৯৪ সালে প্যারিসভিত্তিক ফ্রান্স-২ টেলিভিশন যখন জানালা কাহিনি নিয়ে টিভি সিরিজ করে, সেটির বাজেট ছিল ষোলো মিলিয়ন ডলার। এসব দিয়ে এটুকু অন্তত স্পষ্ট হয় মৃত্যুর তিন দশক পরেও ‘জালনা’ সিরিজ এবং এর লেখক মাজো ডি লা রচ ছিলেন বিশেষ মনোযোগের। লেখকের প্রতি সম্মানের সেই ব্যাপারটির চূড়ান্ত ঘটল কানাডার শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা সংস্থা কর্তৃক জানালা উপন্যাসগুলোকে এক মলাটে পাঠকের কাছে উপস্থিত করার মধ্য দিয়ে।

  • গোল্ডফিসপুলে দাঁড়িয়ে কবি ক্লাইভ জেইমস

    উদয় শংকর দুর্জয়

    newsimage

    ‘আনরিলায়বল মেমোরিস’-এর লেখক যিনি কবি এবং উপস্থাপক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত, তিনি হলেন

  • আমার আছে বই-৪

    মালেকা পারভীন

    newsimage

    লেখক হতে গেলে নিয়ম করে প্রায় প্রতিদিন কিছু না কিছু লিখতেই হবে।

  • এ সংখ্যার কবিতা

    newsimage

    চুম্বনের মায়াবী নেশায় অসীম সাহা মহুয়া, মল্লিকা এবং মাধবীর লতা থেকে কোমল বর্ণগুলো মার্চ

  • ভ্রমণ

    ভগবান টিলার পাদদেশে

    রুহুল আমিন বাচ্চু

    newsimage

    খাগড়াছড়ির জেলা সদরের সোজা উত্তরে পানছড়ি উপজেলা। সদর থেকে দূরত্ব ২৫ কি.মি।

  • অন্য ভুবনের বাসিন্দা

    রেজাউল করিম খোকন

    newsimage

    তেইশ চব্বিশ বছর ধরে সযত্নে রেখে দেয়া রুমানার লেখা সবগুলো চিঠি পড়া

  • পূরব দেশের পুরনারীদের কথা

    ওবায়েদ আকাশ

    newsimage

    বাংলাদেশের পাঁচজন মহীয়সী নারীর কথা নিয়ে রচিত ‘পূরব দেশের পুরনারী’ গ্রন্থটি। এটির