menu

ক্যারল অ্যান ডাফির কবিতা

ভাষান্তর : উদয় শংকর দুর্জয়

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৪ জুলাই ২০১৯
image

তাঁর মুক্তাগুলোকে উদ্দীপ্ত করা

আমার নিজের ত্বকের পাশে, তাঁর মুক্তা খচিত গহনা। আমার শ্রীমতী

আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সেগুলোকে পরে উষ্ণ করার জন্যে,

যতক্ষণ না সন্ধেয় আমি তাঁর চুলের সংসারে বিলি কাটছি। সূর্য প্রস্থানের সময়

আমি সেগুলোকে তাঁর শীতল শুভ্র গলায় পরিয়ে দেই। সারাটা দিন আমি তাঁকে নিয়েই ভাবি,

হলদে ঘরটাতে অবসাদ তুলে রাখি, গভীরভাবে মনস্থ করি আজ রাতে কোন গাউনটা...

রেশমি অথবা নাইলন? সে নিজেই নিজের ভক্ত যতক্ষণ না আমি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করি,

আমার ধীর উষ্ণতা প্রতিটি গহনার ভেতর প্রবেশ করে। আমার গ্রীবাদেশে হেঁটে যায় তাঁর রজ্জুর মন্থর স্পর্শ।

সে একজন সুন্দরী রমণী। আমি তাঁকে আমার

চন্দ্রশালার বিছানায় স্বপ্ন দেখি; তাঁর ছবি নাচছে

প্রাংশু লোকেদের সাথে, আমার সংবিৎ দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ে,

তাঁর ফরাসী সুগন্ধীর নিচে জমে থাকে অটল সৌরভ আর ধবধবে সাদা পাথর গুচ্ছ।

ঘরগোশের পায়ের স্পর্শে তাঁর গ্রীবাদেশীয় ধুলো সরাই,

অবলোকন করি তাঁর ত্বকের মধ্য দিয়ে লজ্জারুণ আভা

যেন এক খন্ড অনুষ্ণ ত্রপা। তাঁর আয়নার মধ্যে দেখি

আমার রক্তিম ঠোঁট যুগল যেন আমি কথা বলতে চাই।

ভরা পূর্ণিমা। তার সওয়ারি তাঁকে বাড়িতে আনে, আমি দেখি

তাঁর প্রত্যেক চলনবিধি, আমার মস্তিষ্কে বেজে ওঠে...। পোশাক উন্মুক্ত করে ফেলা,

গহনার দলকে এক এক করে খুলে রাখা, তাঁর পাতলা হাত বাক্সটির জন্য বাড়িয়ে দেয়া,

নগ্ন অবস্থায় বিছানায় ঘুমিয়ে পড়া, যেভাবে সে সবসময় এগুলো করে।

এবং আমি এখানে হ্যালান দিয়ে শুয়ে থাকি

জানি মুক্তোর গহনারা উষ্ণতা হারাতে বেসেছে, এমনকি

এখন এই ঘরে যেখানে আমার শ্রীমতী ঘুমায়। প্রতি রাত্রে

আমি সেসবের অনুপস্থিতি অনুভব করি এবং আমি দগ্ধ হই।

ভ্যালেন্টাইন

কোনো রক্ত গোলাপ নয় অথবা কৌশিকি হৃদয়

তোমাকে একটা পিঁয়াজ দেবো।

এটা একটা চাঁদ যা বাদামী কাগজে মোড়া।

এটা আলোর কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

যেভাবে ভালোবাসা তার পালকগুলোকে সযতেœ খুলে ফ্যালে।

এখানে,

অশ্রুস্রোত তোমাকে অন্ধ করে দেবে

প্রেমিকের মতো।

বিষাদের কম্পিত ছবির মতো

তোমার প্রতিবিম্ব তৈরি করবে।

আমি সত্যপরায়ণ হতে চেষ্টা করছি।

কোনো আকর্ষণীয় কার্ড অথবা অভিনবত্বের চুম্বন নয়।

আমি তোমাক একটা পিঁয়াজ দেবো।

তোমার ঠোঁট ছুঁয়ে পড়ে থাকবে এর ক্রুদ্ধময় চুম্বন,

সম্বন্ধীয় এবং বিশ্বস্ত

যেমন আমরা,

যতক্ষণ আমরা আমাদের জন্য।

গ্রহণ করো।

বিবাহ বন্ধনের এটি একটি প্লাটিনাম ধাতুর ফাঁস,

যদি তুমি সম্মত হও।

মারাত্মক প্রাণঘাতী।

এর ঘ্রাণ তোমার আঙুলের ভাঁজে জড়িয়ে থাকবে,

থাকবে তোমার ছুরির শরীর ঘিরে।

প্রথমত

আমরা আমাদের নিজেদের দেশ থেকে এই লাল রঙের ঘরটায় এসেছিলাম

যেখানে আমাদেরকে প্রান্তরের মাঝে পাতিত করা হয়েছিল, আমাদের মাতা

আমাদের পিতার নাম...

আমার ভাইয়েরা কেঁদেছিল, তাদের একজন খুব চিৎকার করে কেঁদেছিল, বাড়ি,

বাড়ি, বিজন দূর তবু যেন তীব্রবেগে ফিরে গিয়েছিল

শহরে, রাজপথে, গৃহশ্রেণিতে, নিঃসঙ্গ কামরায়

যেখানে আমরা কখনও জীবনযাপন করিনি। আমি শুরুটা করেছিলাম

একটা অন্ধ খেলনার চোখ থেকে, এবং এর থাবা ধারণ করে।

সমস্ত শৈশবই হচ্ছে অভিবাসিত। আর কিছু জীবন ধীর গতির,

সড়কের উপর দাঁড় করিয়ে রেখেছে তোমাদের, নিরুপায়

যেখানে কেউ অপেক্ষা করে না তুমি জান। অন্যরা অপ্রত্যাশিত।

তোমার উচ্চারণ অশুদ্ধ। পথের বাঁকগুলো, যা দেখতে পরিচিত,

অকল্পনীয় রাজ্যের বর্ধিত দেয়ালের উপর পলেস্তারা, বড় বড় ছেলেরা

মেরুদ-হীন পোকামাকড় খাচ্ছে আর চিৎকার করে শব্দ ছুঁড়ে দিচ্ছে

তোমরা কিছু বোঝ না।

আমার মাথার মধ্যে বাবা-মা’র উদ্বিগ্নতা নড়েচড়ে ওঠে ঠিক নড়বড়ে দাঁতের মতো।

আমি বলি, আমি আমার নিজের একটা দেশ চাই।

কিন্তু তুমি ভুলে বসে থাকো, অথবা পুনরায় মনে করতে চাও না, অথবা পরিবর্তন করতেও রাজি হও না,

আবার, তোমার ভাইকে আঘাত সহ্য করতে দেখে

শুধু গ্লানির স্প্লিনটার অনুভব করো। আমি আমার জিহ্বাকে স্মরণ করতে পারি

এর ত্বক ছায়াবৃত করে আছে যেন সাপের মতো কিছু, আমার কণ্ঠস্বর শব্দায়মান

শ্রেণিকক্ষের মধ্যে যেন তা শ্রান্ত।

ভাবি আমি কি শুধু নদী, সংস্কৃতি, বাকশক্তি হারিয়েছি?

প্রথম অধিকরণের অনুভূতি হারিয়েছি এবং তা কি আমার যথার্থ বাসস্থান?

এখন, আমি কোথা থেকে এসেছি? আগন্তুক জিজ্ঞাসা করে।

বাস্তবিক-ই? এবং আমি দ্বিধান্বিত হই।

চা

আমি তোমার জন্য কাপে চা ঢালতে, ভারি পাত্রটি ওঠাতে

এবং তোমার দিকে এগিয়ে দিতে পছন্দ করি। আর তোমার

চায়না কাপের মধ্যে যে গলিত সুগন্ধি প্রবাহিত হয়, তাও।

অথবা যখন তুমি বেরিয়ে পড়, অথবা কাজের মধ্যে ডুবে থাক

তখন তোমাকে অনুভব করি, সেই চায়ের কাপে তোমার চুমুক দেয়া,

আর তোমার ঠোঁটের কোনায় লেগে থাকা মৃদু হাসির কথা ভেবে

আমি মূর্ছিত হই।

আমি তোমার প্রশ্নপর্ব পছন্দ করিÑ চিনি? দুধ?

তবুও আমি উত্তরগুলো মন থেকে জানি না

যখন তোমার আত্মাকে ওই চোখের মধ্যিখানে দেখি তখন সব ভুলে যাই।

জেসমিন, গানপাউডার, আসাম, আর্ল গ্রে, সাইলোন,

আমি চায়ের সব নামদের পছন্দ করি। তুমি কোন চা পছন্দ করো?

আমি বলি, যে কোনো চা তোমার জন্য, দিনের যে কোনো সময়ে।

একজন রমণী উ-য়াই পাহাড়ের ঢালে

সবচেয়ে মিষ্টি পাতা সংগ্রহ করে।

এবং আমি তোমার প্রণয়ণী, সেগুলোকে ছেঁচে, ছেঁকে চা প্রস্তুত করি

শুধু তোমার জন্য।

  • বিশ্বসাহিত্য সংখ্যা চার

    ক্যারল অ্যান ডাফি এই সময়ের কবি

    উদয় শংকর দুর্জয়

    newsimage

    আবেগপ্রবণতা অথবা কাঠিন্য, কৌতুকরসবোধ অথবা গীতিবিন্যাস, রীতিবিরুদ্ধ মনোভাব অথবা প্রচলিত ধারা, যাদুবাস্তবতা

  • ওই মহাসিন্ধুর ওপার থেকে

    হাসান অরিন্দম

    newsimage

    একটি চিহ্নিত ভূখন্ডে মানবসন্তানের জন্ম হয়, আর আমরা পাই এক-একটি মাতৃভাষাও। সেই

  • ডব্লিউ এস গ্রাহাম-এর অপ্রকাশিত কবিতা

    ভূমিকা ও অনুবাদ : মিলটন রহমান

    newsimage

    সম্প্রতি স্কটিশ কবি ডব্লিউ এস গ্রাহাম-এর কিছু অপ্রকাশিত কবিতা প্রাপ্তির কথা জানিয়েছে

  • একজন মানুষ

    মূল : ভায়াকম মোহাম্মদ বশীর
    ভাষান্তর : নীতিন রায়

    newsimage

    আপনার নির্দিষ্ট কোন পরিকল্পনা নেই। আপনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে বহুদূরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

  • আষাঢ়ে, বরিষণে

    newsimage

    তোমার কথা ভাবছিলাম বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর তোমার কথা ভাবছিলাম তুমি এলে না, বৃষ্টি এলো সেই

  • নিরাপত্তা

    জান্নাতুল ফেরদৌস

    newsimage

    বেলা এগারোটার দিকে আমি পৌঁছালাম সেই গ্রামটাতে। এখন আমি ভিকটিমের বাড়ির ছোট

  • কানিজ পারিজাতের শিহরন জাগানো গল্পগ্রন্থ ‘জলশিহরন’

    অঞ্জনা সাহা

    newsimage

    কানিজ পারিজাত একজন গল্পকার। কিন্তু তাকে আমি কবি বলেই জানতাম! প্রথম যেদিন

  • ভারতের বুকে বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ

    মাটি চাপা হুঙ্কারের ইতিহাস ও নকশালবাড়ি

    গৌতম গুহ রায়

    newsimage

    (পূর্ব প্রকাশের পর) তেভাগা’র আন্দোলনে জলপাইগুড়ির ডুয়ার্সের ইতিহাস এক ব্যতক্রমী ঘটনা। এখানে কৃষকের