menu

কবিতায় বঙ্গবন্ধু

আবদুল আলীম তালুকদার

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২০
image

বিশ্বের সর্বকালের সর্বসেরা কবিদের কবি, অভাবিতপূর্ব ও অনন্য সাধারণ জাদুকরী আবৃত্তিকার; মাত্র আঠারো মিনিটের উচ্চাঙ্গ মাত্রার বজ্রনির্ঘোষ আবহ অনুরণনে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের সাড়ে সাত কোটি নির্যাতিত-নিপীড়িত ও শাসিত-শোষিত বাঙালির অন্তরাত্মার মুক্তিবাণী প্রচারে ১৯৭১-এর ৭ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাতৃমুক্তি মঞ্চে দাঁড়িয়ে যিনি স্বাধীনতার মন্ত্রণা দিলেন এবং কবি তাঁর কবিতার উপসংহারে উচ্চারণ করলেন- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম; জয় বাংলা।’

কবি শামসুর রাহমানকে বাংলাদেশের প্রধান কবি বলা হয়। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তাঁর একাধিক কবিতা রয়েছে। তিনি ‘ধন্য সেই পুরুষ’ কবিতায় বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অল্প কথায় অনেক কিছু বুঝিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি কবির যে গভীর শ্রদ্ধাবোধ ছিল কবিতাটিতে তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে

যাঁর নেতৃত্বে একটি জাতির সর্বকালীন মুক্তির উদার আকাশসম একটি মানচিত্রে একটি রাষ্ট্রভিত্তি রচিত হয়েছে; সেই মহান কবি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- যিনি শ্রেষ্ঠ বাঙালির স্বীকৃতি পেয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে দেশ-বিদেশে এতো বেশি লেখালেখি হয়েছে যে, পৃথিবীর অন্য কোনো জাতির বিশ্ববরেণ্য কোনো নেতাকে নিয়ে এত লেখা হয়নি। এমনকি ব্যাপক আকারে লিখতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর উপর হয়েছে বিস্তর গবেষণা। গল্প, প্রবন্ধ, নাটক, উপন্যাস, চলচ্চিত্র এমনকি কবিতাতেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নামটি দেশ-বিদেশে বাঙালি জাতির মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এ যাবতকালে কতজন কবি কত সংখ্যক কবিতা লিখেছেন তার প্রকৃত হিসাব বলা দুষ্কর।

বিশে্বর যে সব খ্যাতিমান কবি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন- সেই সব কবিদের মাঝেও কতিপয় কবির কবিতা আমলে এসেছে। তাছাড়া অসংখ্য কবির কবিতা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও গ্রন্থপটে নানা ভাষায় মুদ্রিত হয়েছে- তার প্রকৃত হিসেব রাখা সত্যিই কঠিন। যার ফলে কবিতায় বঙ্গবন্ধুকে কতটুকু ‘মূল্যায়ন’ করা হয়েছে তার সঠিক মানদ- জাতির সামনে প্রস্ফুটিত হয়নি। তারপরও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মত্যাগ, অবদান ও তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত অগণিত কবি আজাবধি কবিতায় বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরছেন; ধারণা করা যায়, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম অবধি কবিতায় এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

সংবেদনশীলচিত্তে হৃদয় নিংড়ানো আবেগ উচ্ছ্বাস ও অনুভূতিমিশ্রিত আর উপমা-উৎপ্রেক্ষার সমাহারে আমাদের কবিকুল বঙ্গবন্ধুকে এতটাই উচ্চাসনে বসিয়েছেন যার দৃষ্টান্ত বিশে্ব আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। বঙ্গবন্ধুর উপর বেশ ক’জন বাঙালি কবির লেখা কবিতা থেকে উল্লেখযোগ্য পংক্তিসমূহ আলোচ্য আলেখ্যের বক্ষমান অংশে চয়ন করা হলো।

আবহমান বাংলার খ্যাতিমান পল্লীকবি জসীম উদ্দীন তাঁর ‘বঙ্গবন্ধু’ কবিতায় লিখেছেন- ‘মুজিবর রহমান/ঐ নাম যেন বিসুভিয়াসের অগ্নি উগারী বান।/বঙ্গদেশের এ-প্রান্ত হতে সকল প্রান্ত ছেঁয়ে,/জ্বালায় জ্বলিছে মহাকালানল ঝঞ্ঝা-অশনি বেয়ে।... তোমার হুকুমে তুচ্ছ করিয়া শাসন-ত্রাসন-ভয়,/আমরা বাঙালী মৃত্যুর পথে চলেছি আনিতে জয়।’

কবি জসীম উদ্দীন ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ‘বঙ্গবন্ধ’ কবিতাটি রচনা করেছেন। ‘বঙ্গবন্ধু’ কবিতায় কবি বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে স্বাধীনতার জন্য বাঙালি জাতি যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেই চিত্রটিই বিবৃত করার প্রয়াস পেয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত কবি অন্নদাশঙ্কর রায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখেছেন- ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান/ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।/দিকে দিকে আজ অশ্রুমালা রক্তগঙ্গা বহমান/তবু নাই ভয় হবে হবে জয়, জয় মুজিবুর রহমান।’ তাছাড়া তিনি তাঁর ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণে’ কবিতায় লিখেছেন, ‘নরহত্যা মহাপাপ, তার চেয়ে পাপ আরো বড়ো/করে যদি যারা তাঁর পুত্রসম বিশ্বাসভাজন/জাতির জনক যিনি অতর্কিতে তাঁরই নিধন। নিধন সবংশে হলে সেই পাপ আরো গুরুতর।’

কবিতার এই পংক্তিগুলো গভীরভাবে উপলব্ধি করলে সহজেই অনুধাবন করা যায়, দিব্যদ্রষ্টা কবি ন্যায়-অন্যায় ও পাপ-পুণ্যের পরিণতির পুরস্কার ও তিরষ্কারের মানদ- নির্ণয়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারেন।

সিকান্দার আবু জাফর ‘ফিরে আসছেন শেখ মুজিব’ কবিতায় লিখেছেন- ‘সাড়ে সাত কোটি বাঙালীর কান্নার পাথরে গড়া/সুমসৃণ পথে ফিরে আসছেন তিনি/ফিরে আসছেন বঙ্গ-ভারতের/সম্মিলিত রক্তস্নাত মহাপুণ্য পথে/বাংলাদেশের মরণ-বিজয়ী মুক্তিসেনানী।’

১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে কবি তাঁর ‘ফিরে আসছেন শেখ মুজিব’ কবিতায় এই পংক্তি বিধৃত করেন সেকালের সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাঙালি জাতির আবেগ উচ্ছ্বাস আর ভালোবাসার প্রকাশ ও চেতনা-চিৎপ্রকর্ষের ইঙ্গিত থেকে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল ‘ডাকিছে তোমারে’ কবিতায় লিখেছেন- ‘এই বাংলার আকাশ-বাতাস, সাগর-গিরি ও নদী/ডাকিছে তোমারে বঙ্গবন্ধু, ফিরিয়া আসিতে যদি/ হেরিতে এখনো মানবহৃদয়ে তোমার আসন পাতা/এখনও মানুষ স্মরিছে তোমারে, মাতা-পিতা-বোন-ভ্রাতা।... তোমার শোণিতে রাঙানো এ-মাটি কাঁদিতেছে নিরবধি/ তাইত তোমারে ডাকে বাংলার কানন, গিরি ও নদী।’

১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের ১৫ আগস্ট কতিপয় পথভ্রষ্ট সেনা কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর কবি সুফিয়া কামাল এই কবিতাটি রচনা করেন। কবি সুফিয়া কামাল তাঁর কবিতার প্রতিটি পংক্তিতে স্বজন হারানোর ব্যথা মর্মে মর্মে বাজে, স্বজন বিয়োগের বিরহে হৃদয় মন পুড়ে খাক্ হয়ে যায় এবং অনুভূতিহীন চেতনা সবাইকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।

কবি আবুল হোসেন তাঁর ‘থাকো, আরও কিছুদিন থাকো’ কবিতায় লিখেছেন- ‘চিরকাল যদি না-ই থাকো, আরও/কিছুদিন থাকো আমাদের সঙ্গে,/দিয়ে যাও আলো আর কিছু গান,/হাসিখুশিহীন এ স্বাধীন বঙ্গে।’ কবি আবুল হোসেন মনে-প্রাণে কামনা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু আরো অনেকদিন জীবিত থাকবেন। এজন্য কবি তাঁর কবিতায় আশীর্বাদ কামনা করেছেন। কিন্তু নিষ্ঠুর নিয়তির নির্মম পরিহাস! হায়েনারা বঙ্গবন্ধুকে বেশিদিন বাঁচতে দেয়নি।

কবি শামসুর রাহমান তাঁর “ধন্য সেই পুরুষ” কবিতায় লিখেছেন- ‘ধন্য সেই পুরুষ যাঁর নামের উপর পতাকার মতো/দুলতে থাকে স্বাধীনতা,/ধন্য সেই পুরুষ যাঁর নামের উপর ঝরে মুক্তিযোদ্ধাদের জয়ধ্বনি।’

কবি শামসুর রাহমানকে বাংলাদেশের প্রধান কবি বলা হয়। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তাঁর একাধিক কবিতা রয়েছে। তিনি ‘ধন্য সেই পুরুষ’ কবিতায় বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অল্প কথায় অনেক কিছু বুঝিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি কবির যে গভীর শ্রদ্ধাবোধ ছিল কবিতাটিতে তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।

সব্যসাচী লেখক ও কবি সৈয়দ শামসুল হক ‘মুজিব! মুজিব!’ কবিতায় লিখেছেন- ‘কুটিরে পাথারে নগরে ও গ্রামে পায়ে পায়ে হেঁটে যায়- / অবিরাম হেঁটে চলেছে মুজিব রক্তচাদর গায়।/মুজিব! মুজিব! জনকের নাম এত সহজেই মোছা যায়!’

সৈয়দ শামসুল হক ‘মুজিব! মুজিব!’ কবিতায় বোঝাতে চেয়েছেন জীবিত মুজিবের চেয়ে মৃত মুজিব অনেক বেশি শক্তিশালী। বাঙালির মন থেকে, ইতিহাসের পাতা থেকে, জায়া-জননী ও ভগ্নির অনুভূতি থেকে তাঁর স্মৃতি ম্লান করা সহজ নয়। তাই তিনি তাঁর কবিতায় বুঝাতে চেয়েছেন- মুজিব চিরঞ্জীব।

কবি রফিক আজাদ তাঁর ‘পাঠ্য বইয়ে যে কথা নেই’ কবিতার শেষার্ধে লিখেছেন- ‘এদেশেরই ধূলিকণায় অঝোর ধারায় থাকবে যে নাম বহমান,/প্রিয় সে মুখ আর কেউ নয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’

আমরা বড় বড় মনীষীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে যাই অথবা গুরুত্ব সহকারে বিচার-বিশ্লেষণ করি না। যে কারণে অনেক অজানা বিষয় নজরে আসলেও সেসব বিষয় প্রতিষ্ঠিত করতে মতামতের জন্য বৈঠক বসাতে হয়। ‘পাঠ্য বইয়ে যে কথা নেই’ কবিতায় কবি যেন সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন।

কবি নির্মলেন্দু গুণ তাঁর ‘আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি’ কবিতায় দৃঢ়কণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন- ‘সমবেত সকলের মতো আমিও গোলাপ ফুল খুব ভালবাসি,/ রেসকোর্স পার হয়ে যেতে সেই সব গোলাপের একটি গোলাপ/গতকাল আমাকে বলেছে,/আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।/আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।’

কবি নির্মলেন্দু গুণ একজন আপাদমস্তক ভাবলেশহীন কবি। বঙ্গবন্ধুর প্রতি ছিল তাঁর অপত্য ভালোবাসা এবং গভীর শ্রদ্ধাবোধ। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ থেকে শুরু করে অনেক বিষয়ের উপর তিনি কবিতা লিখেছেন। আলোচ্য কবিতার বক্ষমান অংশে কবি বঙ্গবন্ধুর যেনো জীবনালেখ্য বর্ণনা করতে চেয়েছেন; এই কবিতায় আমরা তারই ইঙ্গিত পাই।

কবি মহাদেব সাহা তাঁর ‘মুজিব ফিরে আসে’ কবিতায় লিখেছেন- ‘যখন ভোরে আকাশ জাগে শিশির পড়ে ঘাসে/পাখিডাকা সেই সকালে মুজিব ফিরে আসে,/নদীর বুকে বৃষ্টি নামে যখন ওঠে ঢেউ/মুজিব বলে, আসছি আমি, ডাকছে আমায় কেউ।’

কবি মহাদেব সাহা তাঁর কবিতায় যেন প্রিয় বঙ্গবন্ধুকে কাছে পাবার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন। আর এই প্রতীক্ষার আকর্ষণ যেনো বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি করতে পারছেন। তাই যেনো তিনি প্রকৃতির সাথে মিশে সময়ের তরী বেয়ে বার বার ফিরে আসেন এই বাংলায়, বাঙালির মাঝে।

কবি আসাদ চৌধুরী তাঁর ‘দিয়েছিলে অসীম আকাশ’ কবিতায় লিখেছেন- ‘সেই দুঃসময়ে/খরখরে খরায়/গাছ-ওপড়ানো ঝড়ের মধ্যে/ তুমি একটি নির্মল আকাশের স্বপ্ন বুনেছিলে/আমাদের তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখে।’ মিষ্টি মনের কবি আসাদ চৌধুরী উদারহস্তে বিবৃত করেছেন বাঙালি জাতির দুঃসময়ের দুঃখ-দুর্দশা ঘুচাতে বঙ্গবন্ধু যে অবদান রেখেছেন সেই প্রেক্ষাপটসহ প্রকৃত চিত্র।

কবি কামাল চৌধুরী তাঁর ‘সেই মুখখানি কবিতার বড় ছিল’ কবিতায় লিখেছেন- ‘সেই মুখখানি স্বাধীনতা প্রিয় ছিল/সেই মুখখানি মিছিলে মানব হতো/ উত্থিত হাতে স্লোগানে চলায় মিলে/ সেই মুখখানি অগ্নির সাথী ছিল।’

রোমান্টিক কবি কামাল চৌধুরী বাংলাদেশের সকল আন্দোলন-সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে একমাত্র প্রেরণা হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে দেখেছেন। আর তাই তিনি তাঁর কবিতায় সাবলীলভাবে সেই মুখখানির কথা তুলে ধরেছেন। কবি ও ছড়াকার আলম তালুকদার তাঁর ‘মহান মুজিবুর’ ছড়ায় লিখেছেন- ‘বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখায়/ নেই হিসাবে ভুল।/ কোনটা দোয়েল কোনটা কোকিল/কণ্ঠে বুঝি সুর-/ তেমনিভাবে চিনতে পারি/মহান মুজিবুর।’ আলম তালুকদার মূলত একজন শিশুতোষ সাহিত্যিক। শিশুদের জন্য তাঁর অনেক লেখা রয়েছে। ছোটদের কাছে ছড়ার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে পরিচয় করিয়ে দিতে তিনি সহজ-সরল ভাষায় উপমা-উৎপ্রেক্ষার মাধ্যমে তিনি এই মহান নেতার অমর কীর্তি তুলে ধরেন।

১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হবার সংবাদ শুনে স্বাধীনতা দশকের কবি তালাত মাহমুদ তাৎক্ষণিকভাবে লেখা তাঁর ‘অঙ্গীকার’ কবিতায় প্রথম প্রতিবাদী উচ্চারণ করেছেন এভাবে- ‘আমার চন্দ্রকে ওরা হত্যা করেছে/হত্যা করেছে অনেক তারার একটি আকাশ/আমার সূর্যকে ওরা গ্রেফতার করেছে/ গ্রেফতার করেছে রক্তরাঙা একটি ইতিহাস।’

সাড়া জাগানো জিলবাংলা সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি, সংবাদিক ও কলামিস্ট তালাত মাহমুদ মূলত একজন পুরোদস্তুর সাংগঠনিক ব্যক্তি। সাহিত্যচর্চা তাঁর স্বভাবজাত প্রবৃত্তি থেকে উৎসারিত। আলোচ্য কবিতায় সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যা করায় কবি ব্যথিতচিত্তে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে এই মরমী কবিতায় বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিয়োগান্তক ঘটনা তুলে ধরার প্রয়াস পান।

কবি ও ছড়াকার আনজীর লিটন তাঁর ‘জাদুকর’ ছড়ায় লিখেছেন- ‘কোন জাদুকর তুমি?/আমার কোন জাদুকর তুমি?/কোন জাদুতে এনে দিলে লাল সবুজের ভূমি?/বলল হেসে বঙ্গবন্ধু-/আমি হলাম সেই জাদুকর/বাংলার অন্তরে/রাঙা স্বপন দেই জাগিয়ে/বাঙালিদের ঘরে।’

আনজীর লিটন ছড়াকার হিসেবে সত্যিই সিদ্ধহস্ত। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা তাঁর অনেক ছড়ার মাঝে ‘জাদুকর’ একটি উল্লেখযোগ্য ছড়া। এ ধরনের ছড়া ছোটদের কাছে বঙ্গবন্ধুকে সহজেই পরিচয় করিয়ে দিতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, আলোচ্য আলেখ্যের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর বহুমাত্রিক চিন্তাচেতনার ইঙ্গিত দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো তাঁর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে উচ্চাসনে সমাসীন হতে পারতো। আর এই না পারার বেদনা নিয়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার পর থেকে যে কষ্টের যাত্রায় শামিল হয়েছে আমাদের কবি ও ছড়াকারগণ সেই ঘটনাপ্রবাহ, কষ্ট আর বিরহের কথাই ব্যক্ত করতে চেষ্টা করেছেন তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে।