menu

কবি রফিক আজাদের শেষ ৫৮ দিন এবং ইতিপূর্ব

দিলারা হাফিজ

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০
image

রফিক আজাদ / জন্ম : ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২; মৃত্যু : ১২ মার্চ ২০১৬ প্রতিকৃতি : মাসুক হেলাল

তুমি যখন গভীর ঘুমের অতল সমুদ্রপাতে

আমি যখন থাকবো না, তোমার মতোই লুকিয়ে যাব গভীর ঘুমের অতল সমুদ্রপাতে।

তখন কি তোমার সঙ্গে দেখা হবে আমার?

সকল বিরহ-বিষাদের সরোবর পেরিয়ে,

শিশিরে ভেজা অনবদ্য কোনো এক সোনারঙ ভোর-সকালে আবারো দেখা হবে আমাদের?

যখন শিল্পীর রঙ তুলিতে আঁকা অসাধারণ এক সোনালি সূর্য-ওঠা আনন্দময় ভোর রাঙিয়ে দেয় মানুষের মন। সে রকম একনিসর্গ-প্রাণ সময়ে?

তখন তোমার আমার মন চিরন্তনী সঙ্গীতে পাবে কি ছাড়া?

“আমার রাত পোহালো শারদও প্রাতে,

আমার রাত পোহালো,

বাঁশি, বাঁশি, তোমায় দিয়ে যাবো কাহার হাতে?”

আমার রাত পোহালো শারদও প্রাতে।”

তখন কি তোমার বুকেও বাজবে সেই সুরধ্বনি। নাকি আগেই বেজেছিলো, আমিই কেবল বুঝতে পারিনি। তোমার কি মনে আছে, ভাঙা ডিম থেকে কীভাবে পিছলে বেরিয়ে আসে অপূর্ব রঙিন কমলার মতো ডিমের কুসুমটি? সেই ভাঙা ডিমের দিকে তাকিয়ে এখনো কি মনে পড়ে তোমার সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে। যার কবিতা একসময় তোমার প্রেরণার উৎস ছিলো। জানোই তো, কাব্যসমালোচকেরা এখনো তোমাকে সুধীন্দ্রীয় ঘরানার কবি বলতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ঐ যে, ক্রন্দসী কাব্যের সেই “উটপাখী” কবিতাটির কথাই তো বলছি, “আমার কথা কি শুনতে পাও না তুমি” এই প্রথম পংক্তি থেকে পাঠ শুরু করে বারোটি পংক্তি তুমি চমৎকার আবৃত্তি করে শেষ দুই পংক্তিতে এসে হঠাৎ থেমে যেতে- ধীরে ধীরে ছয় মাত্রার মাত্রাবৃত্তকে টেনে প্রায়অক্ষরবৃত্তের মতো অতি ধীর লয়ে পাঠ করতে। স্বগোক্তির মতো-

“ফাটা ডিমে আর/তা দিয়ে কী ফল / পাবে?

মনস্তাপেও /লাগবে না ওতে / জোড়া”।

আমি পরের আটটি চরণ খুব উৎসাহের সঙ্গে পাঠ করতাম

... ... ...

তার চেয়ে আজ আমার যুক্তি মানো,

সিকতাসাগরে সাধের তরণী হও;

মরুদ্বীপের খবর তুমিই জানো,

তুমি তো কখনও বিপদপ্রাজ্ঞ নও।

নব সংসার পাতি গে আবার চলো

যে-কোনও নিভৃত কণ্টকাবৃত বনে।

মিলবে সেখানে অন্তত নোনা জলও,

খসবে খেজুর মাটির আকর্ষণে ॥

তুমি তখন আমার মুখের দিকে এমনভাবে নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকতে যে, মনে হতো তুমি বোধ হয় অনিন্দ্য সুন্দর এক ভোরবেলাকার সূর্য দেখছো সবিস্ময়ে।

আজ মনে হয়, এই কবিতা তো শুধু অলৌকিক রসাত্মক বাক্য ছিলো না সেদিন, তা ছিলো আমাদের ব্যঞ্জনাময় জীবনকে ঘিরে দুর্দান্ত এক প্রণয়-লাবণ্যের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যের চাষাবাদ। আমরা দু’জনেই ছিলাম আমরণ সেই অমরাবতীর যুযুধান।

আজ এতোকাল বাদে সেই অনিন্দ্য এক ‘সুন্দর’কে আমি দেখে ফেললাম কী করে? একা, একাকী।

কেন দু’জনে মিলে দেখা হলো না সেই অপূর্ব সুন্দর এক সকাল?

অমলিন নিসর্গের অসীম উদারতা, যেখানে জড়িয়ে ছিলো হিরন্ময় এক অলৌকিক জ্যোতিধারা, ছিলো মর্তের মাটিতে ঝরাশেফালির অফুরন্ত বিশুদ্ধতা।

অকস্মাৎ আজ আকাশের জরায়ু ফেটে নানা বর্ণিল ছটায় গোলাকার সূর্য যেন বেরিয়ে পড়েছিলো ডিমের কুসুমের মতো এক। তুমি কি দেখেছিলে এমন দৃশ্য কখনো। দিনাজপুরের জ্যোৎস্না দেখেছো জানি। বিরাট গোলাকার চাঁদ ও মস্ত খোলা আকাশ দেখেছো মানি,

পলা ও আধিয়ারদের জীবন-বিন্যাসসহ আরো কত কি দেখেছো তুমিও একা ও একাকী।

মানি, সে প্রতীক্ষা ছিলো আমারই জন্যে। কবিতার শেষে কি চমৎকার করেই না বলেছো। আর আমি বোকার মতো তোমার কবিতার সেই অঙ্গীকারকে বিশ্বাসও করেছিলাম।

“আমাকে তুমি প্রতীক্ষা করতে বোলো

আমি ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকবো অমল বিশ্বাসে,

দাঁড়িয়ে থাকতে-থাকতে আমার পায়ে

শিকড় গজাবে-

আমার প্রতীক্ষা তবু ফুরাবে না...

কিন্তু শেষ পর্যন্ত তুমি তোমার কথা রাখলে না। আমাকে ফেলেই অনন্ত ঘুমের শিশিরে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লে তুমি। আমি তো জেগে আছি আজো।

আমাকে সঙ্গে নিয়ে আর একটিবারও কি দেখবে না, অমন সোনা ঝরা আকাশ- যা পৃথিবীতে স্বর্গ এনে দিতে পারে আচম্বিতে।

আর একটিবারও কি পৃথিবী ফিরে তাকাবে আমার পানে?

না- জানি, তার হাতের সময় ফুরিয়ে এসেছে, কৃষ্ণপক্ষের সময় এলে জ্যোৎস্না যেমন হারিয়ে যায় অসময়ে।

বলো তো কেন, এভাবে চলে যেতে হলো তোমাকে?

জলে-স্থলের কোথাও হারিয়ে যাবার ঠিকানা পাইনে বলে কি আমরা চলে যাই গভীর ঘুমের অতল সমুদ্রপাতে? জগত সংসারের টানাপোড়নে আমরা কি খুব বেশি ক্লান্ত, ক্লিষ্ট হয়ে পড়ি? সে জন্যে কি অন্য এক “তাঁহার”কাছে ফিরে যেতে এতো তাড়না বোধ করি।

নাকি শেষের দিকে জীবন অতিশয় অর্থহীন মনে হয় বলে মহাভারতের ভীষ্মের মতো ‘ইচ্ছে মৃত্যু’কে আমরা ডেকে নিই কাছে?

আমাদের মায়াডোর কেন ছিন্নপত্রের মতো ভেসে যায় এতো অনায়াসে। কে বলবে আমায়, বলো তো!!

কিন্তু তুমি তো যেতে চাওনি।

তখনো ড্রইং রুমে বসে টিভি দেখছিলে আয়েস করে। আমি বাথরুমে। শুতে যাবার আগে মুখে পানির ছিঁটা দিচ্ছিলাম, আর আয়নায় তাকিয়ে মুখের দাগগুলোর হাল দেখছিলাম। প্রতিদিন একটু একটু লক্ষ্য করছিলাম বয়স বেড়ে যাচ্ছে, বয়স বেড়ে যাচ্ছে। অজান্তেই একটি দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাস ছুটে এসে দুষ্টু কিশোরীর মতো আয়নায় কুয়াশা ছড়িয়ে দিলো। আমার মুখটা তখন ততোধিক ঝাপসা হয়ে মিলিয়ে গেলো যেন সময়ের হাতে হাত রেখে।

কী মনে করে যেন সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে গিয়ে বুঝতে পেরেছিলে তোমার বাঁ দিকের পাটা নড়ছে না, টেনেও যখন তুলতে পারছিলে না, তখনই আর্ত চিৎকারে ‘মুমু’ ‘মুমু’ বলে আমাকে তিনবার ডেকে উঠেছিলে।

এই ডাকটি ছিলো সকল অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে বাঘের সামনে পড়ে যাওয়া মানুষের শেষ আর্তনাদের মতো। আমি দৌড়ে এসে ধরতে না ধরতে তোমার পাশে দাঁড়ানো আমাদের গৃহকর্মী মারমা মেয়ে পেঁইছানো তোমাকে ধরে তুলতে চেষ্টা করছিলো। আমাকে কাছে পেয়ে আমার কাঁধে হাত রেখে বেডরুমের দিকে আসতে চাইলে, পাশাপাশি কথা বলার জন্যে অনর্গল চেষ্টা করছো যতো, ততো জড়িয়ে যাচ্ছিলো তোমার কথারা। সেই অসহায় মুহূর্তটিকে আমি ভাষায় আঁকতে পারলাম না, অন্য কেউ পারবে কিনা আমি জানি না।

২ ॥ পর্ব: শেষবার তুমি ঠোঁট ছোঁয়ালে

শব্দের শিল্পী যেজন,

“একটি শব্দের জন্যে ক্রমাগত তিরিশ বছর যিনি একটানা দীর্ঘ কালো রাত পার করেছেন নিদ্রাহীন লাল চোখে,

৩০ বছর ব্যয় করে যার জানা হয়নি “ভালোবাসা” এর মতো একটি মৌল শব্দে কি হয় তার প্রকৃত অর্থ- সেই কবির মুখ ফুটে বেরুচ্ছে না একটিও কাক্সিক্ষত শব্দ, এ যে কী ভয়ানক মর্মান্তিক অসহায়ত্ব, চোখে না দেখলে ধারণা করা যায় না।

একটা প্রচ- ধাক্কায় মানুষ পড়ে গিয়েও যেমন তার আঘাতের ভয়াবহতাকে অস্বীকার করে উঠে দাঁড়াতে চায়, আমাদের দু’জনেরই তখন সেই অবস্থা।

অথচ, দেখো আমাদের দু’জনেরই ঐদিনে ডিনারসহ নিমন্ত্রণ ছিলো বাংলাদেশ ও নেপাল ফ্রে-শীপ সোসাইটির একটা প্রোগ্রামে। শিল্পকলায়।

তুমি যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে। তবু আমি অনুরোধ করে বললাম,

: আমি গাড়ি পাঠিয়ে তোমাকে ডিনারের সময় বাসা থেকে তুলে নেবোক্ষণ, নেপালের বিদায়ী এ্যান্বাসেডর কিন্তু খুব আশা করেছিলেন তুমি যাবে এবং কবিতাও পড়বে।

: না, না আমি আজ বাসায় থাকি। তুমি শাহবাগ থেকে লাকিকে তুলে নিয়ে গিয়ে নিমন্ত্রণ রক্ষা করে এসো। আমার একদম যেতে ইচ্ছে করছে না।

২০১২ সালে নেপালের সাহিত্য-সংস্কৃতি সোসাইটির আমন্ত্রণে যখন কাঠমন্ডু গিয়েছিলাম তাদের রাষ্ট্রীয় অতিথি হয়ে, তখনই সেখানকার কবি-সাহিত্যিক এবং বিশেষভাবে এ্যাম্বাসেডরের সঙ্গে একটা চমৎকার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছিলো। যার প্রেক্ষিতে তিনি যাবার আগে ফরমাল অনুষ্ঠান করে “বাংলাদেশ নেপাল ফ্রে-শীপ সোসাইটি”কে কাগজপত্রে বৈধতা দিয়ে যেতেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন।

অনুষ্ঠানটি ছিলো ২০১৬-এর ১৪ জানুয়ারি। আমরা এই ঘটনার মাস খানেক আগে অর্থাৎ ১৩ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছি সন্তানদের প্রবাস শহর টরন্টো থেকে। বিদায়ের দিন পিয়ার্সন এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে অভিন্ন বললো: বাবা, আগামী সামারে কিন্তু চলে আসবে। শীত সহ্য করতে পারো না বলে কিন্তু যেতে দিলাম, মনে রেখো বাবা।

: না, না আমি আর আসবো না, বাংলাদেশের গাছ-পালা পথ-ঘাটের ধুলোবালি আমার জন্যে অপেক্ষা করে আছে না? তারা আমাকে হাত নেড়ে ডাকছে। আপাতত, ওদের কাছে কিছুদিন থাকি, পরে দেখা যাবে বাবা।

দেশে ফেরার দু’দিন আগে এইটিন ইয়াঙের বাসায় বসে আড্ডার মুডেই অভিন্নকে ডেকে বললে তুমি,

: বাবা আমার জন্যে যে ব্লু লেভেল কিনে রেখেছো , যাবার আগে সেটা খেয়ে যাবো না?

: না, বাবা। দু’দিন পরেই তুমি ফ্লাই করবে। এখন সামান্য খেলেই তুমি অসুস্থ হয়ে পড়ো, এতো বড় জার্নি, ধকল নিতে পারবে না তোমার শরীর। বাবা বাদ দাও না এ যাত্রায়।

জানোই তো তুমি, আমি তো নিজে কিছু পান করি না বাবা। তোমার জন্যে তোমার প্রিয় পছন্দের ড্রিঙ্কসগুলো কিনে কিনে জমা করে রাখি। তোমার শরীরটা আর একটু ঠিক হয়ে এলেই খেতে পারবে তুমি।

অভিন্নের মুখে এমন অনিচ্ছুক কথাবার্তা শুনে তোমার মুখটা সেদিন মলিন এক পর্দায় কে যেন ঢেকে দিয়ে গেলো।

তোমার সেই অসহায়, কাতর, করুণ মুখ দেখে আমি নিজেই বাধার লাগাম ছেড়ে দিয়ে অভিন্নকে বললাম,

: বাবা, দাও একটু খেতে, এতোদিন ধরে আশা করে বসে আছে আনন্দ করে খাবে বলে। নিরাশ করো না। তোমার বন্ধু শায়ের, নাভিন এবং শায়েরের শ্বশুরকে ডাকো, ছোটো খাটো একটা আড্ডা হয়ে যাক, আমাদের চলে যাবার আগে।

ব্লু লেভেলের সোনালি শিশিরে এই শেষবার তুমি ঠোঁট

ছোঁয়ালে।

এরপর বাংলাদেশে ফিরেও আর পান করোনি। অভ্যেসবশত আড্ডার জন্যে “সাকুরা”য় দু’দিন গিয়েছিলে বটে, তবে হাতে ছিলো ফ্রেশ ওয়াটারের বোতল। তোমার ভক্তরাও খুব অবাক হয়েছিলো, চাইলে তুমি এতোটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারো নিজেকে। ভাবাই যায় না।

বলা বাহুল্য যে, তখন তোমার “সাকুরা” যেতেও তেমন মন নেই আর।

সামার এলে আবার সন্তানদের কাছে যাবে বলে জানালে আমাকে। কেননা, সন্তানদের যত্ন-আত্তি, ভালোবাসার কলরব ছেড়ে এসে খুব নিঃসঙ্গবোধ করছিলাম দু’জনেই।

তোমার সোনালি শিশির পানে ডাক্তারেরও নিষেধ ছিলো। লিভারে তোমার ৬৭% ভাগ চর্বি জমে গেছে। কাজেই একটু খেলেই শরীর খারাপ হয়ে যেতো বলে তুমি নিজেও আগ্রহ কিছুটা হারাচ্ছিলে দিনে দিনে। হয়তো জীবনের প্রতিও নিজের অজান্তেই মায়া কাটাতে শুরু করে দিয়েছিলে কি? বছর দেড়েক থেকে দিনের বেশিরভাগ সময় শুয়ে কাটাতে। কিছুক্ষণ পর পর উচ্চকণ্ঠে মা-আ-আ-আ... বলে ডেকে উঠতে। অনেক সময়ই রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সেই পাগলা মেহের আলীর কথা মনে পড়তো আমার। বেশকিছু দিন এই সশব্দ মা ডাক শোনার পরে একদিন খুব আলতো ভঙ্গিতে তোমায় জিজ্ঞেস করেছিলাম।

: মনে পড়ে?

: তুমি যখন এভাবে ডেকে ওঠো, তখন তোমার ভেতর অন্তরে কেমন অনুভূত হয়? বলবে তুমি আমায়?

তুমি বলেছিলে,

: তখন ভেতরটা খুব হালকা লাগে, মা ডাকের সঙ্গে সঙ্গে বড় করে শ্বাস নিতে পারি।

ভাবলাম, মায়ে অনুরক্ত সন্তান বুঝি এভাবেই ‘মা’ বলে ডেকে ডেকে হৃদয়ে শান্তি পায়। যেভাবে ইচ্ছে সেভাবেই ডাকো তুমি। তোমার ঈশ্বর, আল্লাহ, খোদা অথবা প্রকৃতি যাই বলি না কেন, সবই তো খুঁজে পেয়েছিলে তুমি, তোমার মা নামক ঈশ্বরে। নিরাকার ঈশ্বরকে তো দেখতে পাইনে আমরা, কল্পনায় তাকে বানাই নিজের মতো করে। কিন্তু জন্মদায়িনী মাকে দেখতে পাই ঈশ্বরের ছায়ারূপে, আকারে-সাকারে।

চূড়ান্ত ঘটনা ঘটবার ঠিক দু’দিন আগে এক স্বপ্ন দেখার কথা বললে তুমি। তোমাদের এক চাচা ছিলো। তোমরা সকলে তাকে ডাকতে টুপা কাক্কু বলে। ছোটবেলায় সে খুব দুষ্টু প্রকৃতির মানুষ ছিলো বলে তাকে ভয় পেতে, এমনকি এড়িয়েও চলতে খুব। বহুকাল আগেই গত হয়েছেন তিনি। সেই টুপা কাক্কু কিনা তোমার শয্যা পাশে পায়চারী করছিলেন বার বার। আর তুমিও ছোটবেলাকার মতো ভয়ে সেঁধিয়ে যাচ্ছিলে। জীবদ্দশায় তাকে দেখে তুমি শিশুকাল থেকে ভয়ও পেতে ভীষণ। এ রকম স্বপ্ন দেখে তুমি নিজেও খানিকটা ভীত সন্ত্রস্ত ছিলে যেন।

“ও কিছু না” বলে তোমাকে সান্ত্বনা দিলেও মনে মনে প্রমাদ গুনছিলাম সেদিন। মৃত্যুর আগে এবং পরে পরিবারে বা বন্ধু বান্ধবের পরিবারের আত্মীয়-স্বজনের যতো গল্প বা ঘটনা শুনেছি, জেনেছি তার সঙ্গে এই স্বপ্ন-সিরিয়ালেরও বড্ড বেশি মিল খুঁজে পেয়েছিলাম।

কিন্তু কিচ্ছু তো করার নেই আমাদের। সময়ের জন্যে অপেক্ষা করা ছাড়া। এতোটাই অসহায় প্রকৃতির সন্তান বা মানুষ আমরা।

৩ ॥ পর্ব : দুঃস্বপ্নের রাত

বেডরুমে ঢুকেই অস্থির তুমি, খাটের বাম পাশে যেখানে ঘুমাতে প্রতি রাতে, সেই প্রিয় স্থানটিতে বসে পড়লে প্রথমে, পরক্ষণেই উঠে দাঁড়ালে বাথরুমের দিকে যেতে, নাহ্, আবার শয্যায় ফিরে এলে। যেন তুমি দ্রুত পালাতে চাইছো কোথাও।

অতর্কিতে পুলিশ এসে হ্যা-কাপ পরালে যে অবস্থা হয় একজন নির্দোষ মানুষের, সেই অবস্থায় যেন হাবুডুবু খাচ্ছিলে তুমি কেবলি। ততক্ষণে আমি বুঝতে পারছিলাম কোন্ দিকে নৌকা আমার পাল তুলেছে।

তোমাকে বসিয়ে রেখে ৩/৪ টি কল করলাম। প্রথম কলে ড্রাইভার, দ্বিতীয় কলে ভাতিজি লাকি, ভাগনে বাবর, আমার বোনঝি সোহাগ ও তার স্বামী রোমিওকে আসতে বললাম। ছোটভাই শীতলকে সরাসরি শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে অপেক্ষা করতেবললাম।

প্রাথমিক পরীক্ষা নীরিক্ষার পরে বারডেম কর্তৃপক্ষ জানালো, মাথার ভেতরে রক্তপাত হয়েছে, কাজেই তার আইসিইউর সাপোর্ট লাগবে। কিন্তু এখানে কোনো বেড খালি নেই, এখনি অন্য কোথাও নিয়ে যেতে হবে তাঁকে।

বাবর, শীতল, রোমিও লাকি চারজনে মিলে বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ বেড খুঁজতে বেরিয়ে পড়লো। পাশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালসহ গোটা পাঁচেক হাসপাতালে তল্লাশী দিয়ে রাত দুটোয় আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিতে নিতে তোমার অবস্থার আরো অবনতি হলো। এর মধ্যে বিদেশে অবস্থানরত তোমার সকল সন্তান আমাকে ফোন করে বার বার খোঁজ নিচ্ছিলো। এক হাত ফোনে, অপর ডান হাতটি অভয় মুদ্রার মতো তোমার বুকের বাম পাশে পেতে দিয়ে রেখেছি। কথা বলতে পারছো না বলে এক পর্যায়ে লিখে বোঝাবার চেষ্টায় খাতা কলম চাইলে হাতের ইশারায়। হাতের কাছে পাকা বাঁশপাতা রঙের একটা মোটা খাম ও কলম ধরিয়ে দিতেই- প্রথম শব্দটি স্পষ্ট অক্ষরে লিখলে “খাবার”।

পরের আরো লেখার প্রচেষ্টা থেকে কোনো লেখার জন্ম হলো না, পক্ষান্তরে তা মর্ডান আর্টের মতো আঁকিবুঁকিতে পরিণত হলো। তুমি খাতা-কলম ছুঁড়ে ফেলে দিলে মাটিতে। জানি না সেই হাত দিয়ে এখনো তুমি কি কবিতা লেখো?

কে তোমার প্রথম পাঠক?

সবুজ নালি দূর্বাঘাস, না কবরের সোনামাটিজল?

কে তোমার প্রিয়, প্রিয়তর???

দু’চোখের জল সরোবরে ধরে না যে আর! তাকেও আজ শুষে নেয় আত্মবিধ্বংসী সব কবিতার চরণ... শিল্পের অনুচ্চারিত বক্তব্য, বস্তু আর ভাবের অন্তরালে কখন যে হারালো আমার প্রেম, বুঝতেই পারলাম না। নিজের ভেতরে দেখতে পাই আত্মার সেই চিরাচরিত শূন্যতার এ্যালবাম।

এখনো খুব স্পষ্ট মনে আছে ২০১৬ সালের ১২ মার্চ মাসের বেলা ১:২০টা সেদিন।

তুমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তমতলার আইসিওতে। আমি ৬১১ নং কেবিনে। ১৪ জানুয়ারি (২০১৬) তোমার স্ট্রোকের পাঁচদিন পরেই গায়ে প্রবল কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এলো, সেই জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম ঐ হাসপাতালে। সিদ্ধান্তটি ছিলো আমাদের প্রথম সন্তান অভিন্নের।

দুই দিন আগে তোমার অসুস্থতার কথা শুনে টরন্টো থেকে ছুটে চলে এসেছিলো অভিন্ন।

ধানমি র বাসায় আমি তখন একাকী জ্বরে পড়ে আছি, দহনে পুড়ছি সর্বক্ষণ। বিবর্ণ সব পাতারা আমার পাহারায়। সন্তানের আদর্শ পিতা শুয়ে আছে তার সব চাইতে অপ্রিয় জায়গা, আইসিইউতে। মা পড়ে আছে ধানমণ্ডির প্রাচীন দেয়ালে ঠেকিয়ে মাথা, যেন জড় ও চৈতন্যের দ্বৈরথ। কাকে রেখে কাকে দেখবে সে,- কাজেই আমাকেও ঐ হাসপাতালে ভর্তি করে দিলো অভিন্ন, যেন দুই শয্যাশায়ী রোগীকে সে একাই দেখভাল করতে পারে। অব্যয় তখনো এসে পৌঁছেনি।

এই সময়ে আমার পাশে এসে দাঁডালো আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বন্ধু হাসিনা আখতার লিলি ও সাঈদা বেগম। লিলিরস্বামী ড. সিদ্দিকুর রহমান ছিলো আমাদের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বডভাই।

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন। বলা নেই কওয়া নেই তরুণ বয়সে চলে গেলো সে কোলন ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে।

চল্লিশোর্ধ বয়সে স্বামীকে হারিয়ে লিলি একাকী ছোট ছোট দুটো সন্তান নিয়ে জীবন সংগ্রামে প্রতি মুহূর্তে ধ্বস্ত, বিড়ম্বিত তবু আমার খুব অসহায় মুষড়ে-পড়া মুহূর্তগুলোতে লিলি প্রায়ই জাহাঙ্গীরনগর থেকে চলে আসতো হাসপাতালে। নিঃশব্দে আমার পাশে বসে শক্ত করে হাতটি আমার ধরে থাকতো।

কখনো কখনো লিলিকে নিয়ে সকাল সন্ধ্যায় ডেটল-গন্ধের বিষণ্ণতা উপেক্ষা করে হাসপাতালের কড়িডোরে পায়চারী করে বেড়াতাম। দুঃখ-কষ্ট-বেদনা ভুলে তোমার সুস্বাস্থ্য ফিরে পেতে সুসময়ের জন্যে প্রহর গুনতাম।

শেষের দিকে তুমি আমি দু’জনেই আমরা এই বন্ধুটির জন্যে অপেক্ষা করতাম। লিলির কন্যা যেদিন আসতো, ওর অস্থিরতায় আমাদের হৃদ-স্পন্দন টের পেতাম। রিমঝিমকে তুমিও খুব পছন্দ করতে, নিজকন্যার মতো ভালোবাসতে।

আহা! জন্মের ৩/৪ বছর বয়সেই মেয়েটি বাবা হারিয়েছে। পিতৃস্নেহহীন বেড়ে ওঠা মেয়েটি তোমার কাছ থেকে পিতার আদর-আবদার পেয়ে কেমন যেন লতার মতো আহ্লাদিত ছিলো।

অভিন্ন, অব্যয় দু’জনেই দেশের বাইরে থাকে, ২০০৪ সালে অভিন্ন পড়তে চলে গেলে, অব্যয়টা তখন পাশে ছিলো। ২০০৯ সালে অব্যয়টাও যখন পড়তে চলে গেলো টরন্টোতে, ভাইয়ের কাছে; তখন তুমি আরো বেশি নিঃসঙ্গ হলে মননে ও প্রজ্ঞায়। লেখার উৎসাহ উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলছিলে দিন দিন।

জানোই তো তুমি, অব্যয়টা কত ন্যাওটা ছিলো তোমার। তুমিও তাকে ছোট সন্তান হিসেবে এতো প্রশ্রয় দিয়েছিলে যে তোমাদের পরস্পরের আচরণ ছিলো জুনিয়র সিনিয়র বন্ধুর মতো। তোমার পেটের মধ্যে ওর ছোট্ট আঙুল দিয়ে খোঁচা দিয়ে কী যে অনাবিল আনন্দ পেতে দু’জনে। এযুগে পিতা-পুত্রে এমন সম্পর্ক গড়ে ওঠে কিনা জানি না আমি।

তোমার অসুস্থতার খবর পেয়ে অভিন্ন দুদিনের মাথায় চলে এলো বটে, অব্যয়কে অভিন্ন অপেক্ষা করতে বললো, এ কারণে যে যদি তোমার অসুস্থতা দীর্ঘ মেয়াদী কোনো অবস্থার সৃষ্টি করে, তবে, তারা দু’ভাই মিলে বাই রোটেশন ঢাকায় যাওয়া-আসা করবে। সেক্ষেত্রে চাকরিটা রক্ষা হবে দু’জনেরই।

কিন্তু অসুস্থতার খবরে সকাল-বিকাল ফোনে, ভিডিও কলে খবর নিয়েও খুব বেশিদিন আর স্থির থাকতে পারলো না অব্যয়। সাতদিনের মাথায় চলে এলো প্রেমিকা তুলিকে সঙ্গে নিয়ে।

অভিন্ন, অব্যয়কে যখন তুমি এক সঙ্গে দেখলে তখন বললে, কেন এলে তোমরা?

আমি বলেছিলাম, বাবা-মায়ের সংকট মুহূর্তে আসবে না তো কখন আসবে? মানুষ তো সন্তান চায়, এজন্যে যে, বাবা-মায়ের অসুস্থতায় অথবা যে কোনো সংকটকালে দুর্দিনে, দু:সময়ের মুখোমুখি হলে অবশ্য যেন তারা পাশে থাকে। ওরা ওদের দায়িত্বপালন করেছে।

তুমি নির্লিপ্ত চোখে তাকালে শুধু। মুখের ভাষা তখন তোমার হারিয়ে গেছিলো, চোখের ভাষায় বলতে সব। অব্যয় আসার সময়আধুনিক এক ডিজিটাল সে্লট নিয়ে এসেছিলো, তুমি যেন চাইলে আঙ্গুল ঘুরিয়ে লিখে বোঝাতে পার তোমার ইচ্ছে-অনিচ্ছের সবকথা। প্রথম ২/৩ দিন লিখে বোঝাতে চেষ্টা করেছিলে, পরে আর সেটিও সম্ভব হচ্ছিলো না।

আমরা যখন তোমার ইশারার ভাষা, সবটা বুঝতে পারতাম না, তখন যেন সগৌরবে ফিরে আসতো তোমার সেই দ্রোহ, রাগ এবংক্ষোভের অন্তর্দহন। এই রাগ, ক্ষোভ দ্রোহই তো —নতুন রূপে ভাষা পেয়েছিলে তোমার কবিতায়।

প্রাচীন আলংকারিকদের মতামতে কবিতার নির্ধারিত বিষয়বস্তু ছিলো প্রেম, নয়তো আদর্শ। পুরোনো বিষয়বস্তু ও ধারণাকে পাল্টে দিয়ে দুঃখ, ক্ষোভ, দ্রোহ থেকে জাত গালিও যে কবিতার বিষয়বস্তু হতে পারে তা দেখিয়েছিলে তুমি চূড়ান্ত এক শৈল্পিক দক্ষতায়।

অত কাল আগে সুকান্ত ভট্টাচার্য ক্ষুধা ও সৌন্দর্যের দারুণ এক মিথস্ক্রিয়ায় লিখেছিলো সেই অমর পংক্তি- “ক্ষুধার রাজ্যে পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।”

তুমি লিখলে:

ভীষণ ক্ষুধার্ত আছি: উদরে, শারীরবৃত্ত ব্যেপে

অনুভূত হতে থাকে- প্রতিপলে — সর্বগ্রাসী ক্ষুধা!

... ... ...

দু’বেলা দু’মুঠো পেলে মোটে নেই অন্য কোনো দাবি,

অনেকে অনেক-কিছু চেয়ে নিচ্ছে, সকলেই চায়:

বাড়ি, গাড়ি, টাকা কড়ি- কারো বা খ্যাতির লোভ আছে;

আমার সামান্য দাবি : পুড়ে যাচ্ছে পেটের প্রান্তর-

ভাত চাই- এই চাওয়া সরাসরি- ঠাণ্ডা বা গরম,

সরু বা দারুণ মোটা রেশনের লাল চালে হ’লে

কোনো ক্ষতি নেই- মাটির শানকি-ভর্তি ভাত চাই:

দু’বেলা দু’মুঠো হ’লে ছেড়ে দেবো অন্যসব দাবি।

... ... ...

ভাত দে হারামজাদা, তা-না হ’লে মানচিত্র খাবো ॥

- এই রাগ, দ্রোহ তখনো তোমাকে ছেড়ে যায়নি। আইসিইউর অসহায় বেডে শুয়েও সেদিন দর্পভরে ফুসে উঠতে দেখেছিলাম তোমাকে। প্রকৃতির বিরুদ্ধে, শেষ নিঃশ্বাসের আগে তোমার জবান কেড়ে নেয়ার বিরুদ্ধে ছিলো তোমার দ্রোহ। দ্রোহ ছিলো হাসপাতালের চিকিৎসা ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও। এক রাতে তিনবার নাকে ঝোলানো রাইসটিউব তুমি খুলে নিয়েছিলে সহ্য করতে না পেরে। হাসপাতালের নাছোড় ডিউটিরত ডাক্তার সামান্য বিশ্রাম না দিয়ে, অমানবিক ও নিষ্ঠুরের মতো সঙ্গে সঙ্গে তিনবারই তা পুশ করেছে তোমার নাসিকান্দ্রিয়ে। আমরা জানতে পেরেছি পরের দিন সকালে যখন তোমাকে দেখতে যাবার অনুমতি পেয়েছি।

এজন্যে হাসপাতালে কিছুতেই থাকতে চাচ্ছিলে না তুমি। সন্তানদের বার বার তুমি অনুরোধ করছিলে বাড়িতে নিয়ে আসতে।

ভেবেছিলে, তোমার বাধ্য-অন্ত প্রাণ, আদর্শ সন্তান, তারা বুঝি তোমার কথা রাখবে। কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শের বাইরে তো আমরা কেউ যেতে পারছিলাম না। আমাকে তো আরো বিবেচনায় রাখতে হয়েছিলো, তুমি তো কেবল রাহুল, রাজীব, অভিন্ন, অব্যয়ের পিতা নও, আমার হৃদয় রাজ্যের সস্রাট নও কেবল। একজন মহান মুক্তিযোদ্ধা। কাব্য জগতের অন্যতম অধিশ্বর, ভক্ত-পাঠককূলের অতি প্রিয়জন, দেশ ও দশের সম্পদ। আমি অথবা তোমার সন্তানেরা ইচ্ছে করলেই কি তোমাকে বাড়ি নিয়ে এসে রাখতে পারি কাছে?

তখন শতমুখে বলবে সকলে, বিনে চিকিৎসায় তোমাকে আমরা মেরে ফেলেছি, যারা হৃদয়হীনভাবে এসব কথা বলবে, সেই মিডিয়াজগতের সামাজিকতাকে অগ্রাহ্য করার সাধ্য কি আমাদের ছিলো?

আমাকে ভাবতে হয়েছে আরো অনেক কিছু।

আগামীকাল পহেলা ফাল্গুন

রফিক আজাদের ৭৯তম জন্মদিন

শ্রদ্ধাঞ্জলি

তাছাড়া প্রতিদিনই তো আমরা তোমার আরোগ্য লাভের অপেক্ষায় ছিলাম। আর ডাক্তার যা বলেছে, যেমন যেমন পরীক্ষানীরিক্ষা, ঔষধের রদবদল করতে বলেছে, সেভাবেই বিনা বাক্যে তাই করেছি কেবল তোমার সুস্থতা ফিরে পাবার আশায়। ক্রমশ...