menu

ষাটের দশকে বিচরণ-

কবি মানস ও কাব্য ভাবনা

মারুফ কামরুল

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৯
image

শিল্পী : সমর মজুমদার

পঞ্চাশের একটা ছাপ ষাটের দশকে পড়লেও এই দশকের আলাদা বৈশিষ্ট্য দাঁড়িয়েছে; কিছু প্রতিভা উঠে এসেছে। পঞ্চাশ ও ষাটের একটা মিশ্র প্রবণতার কারণ এমনটা হতে পারে যে, যাঁরা পঞ্চাশে কবিতা চর্চা করেছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অনেকেরই প্রথম কবিতার বই ষাটের দশকে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁদের চর্চার ঢেঁকুরটা মূলত ষাটের দশকে। এঁদের মধ্যে শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, আল মাহমুদ, শহীদ কাদরী, ফজল শাহাবুদ্দীন, হাসান হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

সারা বিশ্বে ষাটের দশক এক বিস্ময়কর জাগরণের, আবিষ্কারের, অর্জনের, নতুনের এবং উদ্ভাবনের। রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, দর্শন, সমাজের ভেঙে যাওয়া নতুনরূপ, গঠন-পুনর্গঠনের একটি মনন তখন তৈরি হয়েছিলো। শিল্প-সাহিত্য নির্মাণে নতুন নতুন চেতনার ঢেউ। এদেশে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধতা ও ঘৃণার স্তম্ভ তৈরি হতে শুরু করেছে। গণতন্ত্র. সমাজতন্ত্র, স্বায়ত্তশাসন এই শব্দগুলো মানুষের স্বপ্ন হয়ে ওঠে। এবং এদেশে ৬ দফা, ১১ দফা প্রণীত হয়। এবং এই ঢেউটা কিন্তু একদিনে তৈরি হয়নি। ’৪৭-এর দেশ ভাগের পর থেকে ধীরে ধীরে এই স্র্রোত তৈরি হয়েছে। নির্মিত হয়েছে ষাটের দশকের কবি ও কবিতার একটা নিজস্ব ভাষা ও মানস। দেশ ভাগের পরে কেউ কেউ পাকিস্তানি চিন্তায় প্রভাবিত হয়েছেন। এবং তারা পাকিস্তান-এর হাত ধরে মুক্তি ও সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। অন্যদিকে আরেক দলের হাতে ভাষা আন্দোলনের চিন্তা দানা বাঁধতে শুরু করে। নিজের ভাষা, স্বজাতির ঐতিহ্য এসব তাদের কবিতায় উঠে আসে এবং একটি একটি নিজস্ব ধারায় একেকজন কবির অবস্থান তৈরি হয়।

আমরা ষাটের দশকে বিচরণ করতে করতে সে দশকের গুরুত্বপূর্ণ কবিদের কবিতা ভাবনা বা কবি মানস নিয়ে কথা বলবো। আলোচনার সুবিধার্থে রফিক আজাদ, মুহম্মদ নূরুল হুদা, মোহাম্মদ রফিক এঁদের পাশাপাশি রেখে কবিতা নিয়ে কথা বলা আরামদায়ক। ষাটের দশকের সবার থেকে এই তিনজনের স্বরটা কবিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এদের আলোচনায় যাওয়া আগে এটুকু স্পষ্ট ধরণা থাকা দরকার, ষাটের অনেক প্রতিভাবান কবি শেষ পর্যন্ত তাদের স্রোতে থাকতে পারেননি। প্রতিভার ধর্ম হলো নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া। এই ছাড়িয়ে যাওয়ায় অনেকে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই দীর্ঘ চল্লিশ অধিক বছর পার করে এখনো উজ্জ্বল হয়ে আছেন, রফিক আজাদ, মুহম্মদ নূরুল হুদা, মোহাম্মদ রফিক। তবে এরাই শেষ কথা নয়। এই তিনজনের পাশে আছেন অনেক সৃষ্টিশীল কবি। তাদের অবদান অসামান্য। তবে তারা নিজেদের কতটুকু ছাড়িয়েছেন বিবেচ্য বিষয়। যে ভাষা ও বিষয়বোধ নিয়ে তারা আর্বিভূত হয়েছেন কেউ কেউ সেই গণ্ডিতেই ঘুরপাক খেয়েছেন। কেউ হারিয়ে গেছেন উজ্জ্বল কিছু পঙ্ক্তি লিখে। আবার কারোর আত্মসমর্পণ প্রতিক্রিয়াশীলতায়।

সারা বিশ্বে ষাটের দশক এক বিস্ময়কর জাগরণের, আবিষ্কারের, অর্জনের, নতুনের এবং উদ্ভাবনের। রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, দর্শন, সমাজের ভেঙে যাওয়া নতুনরূপ, গঠন-পুনর্গঠনের একটি মনন তখন তৈরি হয়েছিলো। শিল্প-সাহিত্য নির্মাণে নতুন নতুন চেতনার ঢেউ

ষাটের দশকের প্রথম প্রজন্মের রোমান্টিক কবি রফিক আজাদ। তখন যারা সাহিত্য করতে এসেছে তাদের বিষয়ে আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন- ‘দুটো ‘ন’-এর নেশায় পেয়ে বসেছিলো তাদের- নতুনত্বের আর নষ্টের।’ নতুত্বের খোঁজে নষ্টের পথে পা বাড়ানো কবি রফিক আজাদ। তিনি তাঁর কাব্য সাধনার শুরু থেকে শিল্পিত কবিতার স্বপক্ষে ছিলেন। তাই কবিতার কারুকার্যময় দরোজার গভীরে স্বপ্নের বাস্তবে যাবার কামনায় তিনি তার শিল্পচেতনার নির্মাণ করেন-

দ্বার খোলো, দ্বার খোলো, প্রতিশ্রুত হে প্রিয় দরোজা

শৈশবের পরিত্যক্ত ভো-ভো মাঠ থেকে ধুলো পায়ে

এই দ্যাখো কুড়িয়ে এনেছি আমি হারানো বেলুন

স্মৃতির সহিত সমপদে; দয়া করো, দ্বার খোলো।

দেহ এবং কামনা-বাসনা স্বীকার করেই রফিক আজাদ তাঁর কবিতায় প্রেমকে অন্যতম বিষয়ে পরিণত করেন। কবিতায় রচনা করেন ‘লিবিডো চেতন’। তবে একটা কাঁচা যৌনতার ঘোরে ষাটের কবিরা ছিলেন- তিনি সেটাকে শিল্পে রূপ দিয়েছেন- ‘সমস্ত দেয়াল জোড়া স্বচ্ছ আয়নায় ধরা পরি/ আমরা দু’জনে / বস্ত্রের বাহুল্যহীন শরীরে শরীর ব্যস্ত করে / আমরা দু’জন হই তোলপাড় রোহিত দম্পতি / চুম্বনে চুম্বনে পৌঁছে যাই এক সুখের সৈকতে। / যেমন জেলের জালে ধরা দ্যায় রূপালি ইলিশ / আমরা পরস্পর ধরা দিই চুম্বনের জালে।’ (চুম্বনের জালে)

ঐযে বলেছিলাম- নষ্টের নেশায় পেয়েছিলো তাদের। কলকাতার হাঙরি জেনারেশন, তারই পিঠাপিঠি বাংলাদেশে স্যাড জ্যানারেশন তৈরি হয়েছিলো। রফিক আজাদ বলেন-

ডব যধঃব পড়হাবহঃরড়হধষ ষরভব

We hate conventional life

Or

We are guilty…

We have no friend, we have a faithful friend- CIGARETTE.

হুদা তৈরি করে নিয়েছিলেন নিজস্ব এক ভাষা জগৎ। মধ্য মিলের চকিত ও চেষ্টাহীন প্রয়োগ, প্রথাগত অলঙ্কারের সাথে অপ্রচলিত শব্দের মিশেল। সমকালীন কাব্যভাষার উপভাষিক ও মৌখিক ভাষার প্রয়োগ ইত্যাদি মিলে তার কবিতা আলাদা হয়ে উঠেছে। এর সাথে যোগ হয়েছে, এই অঞ্চলের নৃতাত্ত্বিক অতীতের প্রতি বিশেষ এক আগ্রহ। সেই সাথে তিনি শব্দকে একটি সামাজিক উপযোগিতার একক হিশেবে দেখেছেন। তাই তাঁর কবিতার কমিউনিকেশনের দিক থেকে প্রত্যক্ষ অভিঘাতে ঋদ্ধ। কবি কামগন্ধহীন এক হৃদয় নিয়ে বলেন-

নারীর ভেতর আমি খুঁজেছি শেফালি

শেফালির মধ্যে তবু রমণী ফোটেনি

কামগন্ধহীন কোনো শেফালিকা নারী

পৃথিবীতে কখনো ফোটেনি

(শেফালিকা নারী)

তবে এদেশীয় সমালোচকরা কবিদের খুব স্বল্প পরিসরে আটকাতে ভালোবাসে। মুহম্মদ নূরুল হুদার ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। তাঁকে জাতিসত্তার কবি বলে একটা ক্যাটাগরিতে আটকে ফেলেছে। যেনো আমরা তামাটে জাতি লেখাটা ভুল হয়েছিলো!

কবিতাকে মোহাম্মদ রফিক বলেন- দেহহীন লাবণ্যময় ভাস্কর্য। তাঁর কবিতা বাংলাদেশের মেঘ-কাদা-জল-হাওয়ার ভেতর থেকে গড়ে ওঠা চেতনশীল নান্দনিক সৌন্দর্যের অনুভূতিমালা। ষাটের দশকের প্রধান ধারাটিও প্রশ্চাত্য ধরনের কিন্তু মোহাম্মদ রফিকই বাংলা কবিতার প্রাকরণিকতা ও নান্দনিক চেতনার দেশজ রীতির ও চিত্রকল্পের প্রণয়ণ করে একটি নতুন ধারার সূচনা করেন। তিনি তৈরি করেন এক নতুন কাব্যভাষা; যে কাব্যভাষায় প্রচুর আঞ্চলিক শব্দ মিলেমিশে রয়েছে। এটা আল মাহমুদের কবিতার মধ্যেও পাওয়া যায়। তবে দু’জনের পথ ভিন্ন। মোহাম্মদ রফিকের কবিতায় প্রেমচেতনা আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক চেতনা থেকে উদ্ভূত। আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক চেতনার দৃষ্টিভঙ্গিতে ভালোবাসার মমত্ব প্রণয়ণ করেই তার কবিতায় প্রেম একটি নান্দনিক তাৎপর্য উর্ত্তীণ। যখন তিনি লেখেন-

ওলো ও বেগুনী, তোর নাগর এসেছে আজ ঘরে

চুড়ো করে খোঁপা রাঁধ, ওই শোন জোয়ারের জল

শাঁই শাঁই ছোট খ্যাপা কীর্তিনাশা আশ্লেষে আতুর,

উষ্ণ ঘন শ্বাস ফেলে শাওনি পূর্ণিমার ভরা চাঁদ;

হাতের পেশিতে ঢেউ নেচে ওঠে আদিম ফেনিল

ঘামে ভেজা বুকের পাঁজরে হাওয়া মত্ত শন-শন,

ওলো ও বেগুনী, আজ সেজেগুঁজে নোংরা বেপাড়ায়

অবশ দু-পায়ে ক্লেদে অপেক্ষার নেই প্রয়োজন;

(কীর্তিনাশা)

অথবা

এমন আতঙ্কে রাতে শরীর উথলিয়ে ওঠে বাবু

শরীর শরীর শুধু তোমার কি মন নেই বউ!

ষাটের দশকের কবিদের কিছু অংশ তাত্ত্বিকতাপ্রবণ। অনেকেই মেধাবী সুধীন্দ্রনাথের দ্যুতিকঠিন বৈদগ্ধ্যে আকৃষ্ট হয়েও কার্যত আবিষ্ট হয়েছিলেন জীবনানন্দের ধূসর পৃথিবীতে। এই ধারার আত্মজৈবনিক-রোমন্টিক কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ। বহুত্ববাদী দৃষ্টিকোণই তিনি বেঁধে নেন তাঁর কবিতার জগৎকে, শব্দকে, অনুভূমিকে। কবি লেখেন-

একতিল বিশ্বাস নেই, উল্টে আছে দোতলা জাহাজ...

মগজের করুণ তিতিরে

সারে সারে অস্থির পেরেক

আগুনে ঝলসায় মানুষের ডানাগুলি যতগুলি ডানা আছে

সৃষ্টির অতীত যাবে বলে

(জন্মান্ধের মতো)

সিকদার আমিনুল হককে অনেকে ষাটের দশকের নেপথ্যচারী ও অন্তর্মূখী কবি বলেন। কেউ কেউ তাকে কবিদের কবি হিসেবেও আখ্যায়িত করেন। তার কাব্যভাষা ফরাসি কবিতার আদলে গড়ে উঠেছে বলে অনেকের ধারণা। ষাটের কবিতায় তিনি লিরিক কবিতা ও গদ্য কবিতায় বিশেষ পারঙ্গমতা দেখিয়েছেন। তিনি লেখেন-

আমাকে পেয়েছো তুমি

জন্মান্তর তাই (মিথ্যে হোক)

যুক্ত করো ভূমি

পেয়েছো সত্য ঈপ্সিতা

পৃথিবীর চিরসত্য (নীলালোক)

তুমি নিবেদিতা।

ষাটের দশকের শেষ প্রজন্মের কবি নির্মলেন্দু গুণ। ষাটের দশকের আর্থ রাজনৈতিক শাসনে বেড়ে ওঠা এই কবি, তাঁর কবিতার সূচনালগ্নে কোনো প্রাকরণিক কিংবা নান্দনিক চর্চার পথ ধরে কাব্য ক্ষেত্রে এগিয়ে আসেন নি। ষাটের অধিকাংশ কবিরা নিজস্ব কণ্ঠস্বর নির্মাণে পাশ্চাত্য জ্ঞানের প্রেরণায় ভিন্ন ভিন্ন পথের অভিযাত্রী হয়েছেন, নির্মলেন্দু গুণ খুবই সাদামাটাভাবেই কবিতায় প্রচলন করতে চেয়েছেন এক সহজিয়া সাধনপথে-

তোমার পায়ের নিচে আমিও অমর হবো

আমাকে কী মাল্য দেবে দাও।

এই নাও আমার যৌতুক, এক বুক রক্তের প্রতিজ্ঞা।

ধুয়েছি অস্থির আত্মা শ্রাবণের জলে, আমিও প্লাবন হবো,

শুধু চন্দনচর্চিত হাত একবার বুলাও কপালে।

নির্মলেন্দু গুণএর পাশাপাশি আমরা আবুল হাসানকে আনতে পারি। ব্যক্তি জীবনে এরা একসাথে পথ চলেছেন। একে অন্যের কাব্যের সহযাত্রী হলেও তাদের কাব্যধারা এক নয়। অল্প বয়সে চলে যাওয়া কবি আবুল হাসানকে এখন আমাদের বিশ্লেষণ করা সহজ। কারণ তার দেয়ার পথ বন্ধ। আবার এই বিচার থেকেও মুক্ত, যাদের ক্ষেত্রে বলেছি; তারা শেষ পর্যন্ত প্রতিভা ধরে রাখতে পারে নি। আবুল হাসান মননশীল কবি। তাঁর কবিতায় সরাসরি উত্তেজনা, প্রতিবাদ নেই কিন্তু, অসাধারণ আত্মক্লেদ ও গ্লানিতে, বিমর্ষতা ও যন্ত্রণায় বিদ্ধ হয়ে অবিরল লিখেছেন তিনি। সময়ের উপদংশে কাতর এই কবি হতাশা, নিঃসঙ্গতা ও বিপন্নতাবোধের শিখরকে মর্মে বিপুলায়তন দান করেছেন; আধুনিক বাংলা কবিতাকে দিয়েছিলেন নতুন উৎসার ও দেদীপ্যমানতা। তিনি ‘আবুল হাসান’ নামের কবিতায় আত্ম-অনুসন্ধানী মনে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করেন:

এটা সেই পাথরের নাম নাকি? এটা তাই?

এটা কি পাথর নাকি কোনো নদী? উপগ্রহ? কোনো রাজা?

পৃথিবীর তিনভাগ জলের সমান করো কান্না ভেজা চোখ?

মহাকাশে ছড়ানো ছয়টি তারা? তীব্র তীক্ষ্ণ তমোহর

কী অর্থ বহন করে এই সব মিলিত অক্ষর?

(আবুল হাসান)

মূলত আবুল হাসান নিজের অস্তিত্বকে গভীর মর্মমূল থেকে অনুভব করে এক আত্মবিলোপী কল্পনায় জগৎ ও জীবনকে ধারণ করতে চেয়েছেন, যা অনেকটাই রোমান্টিক কবি কিটসের Negative capability-র সঙ্গে তুলনীয়। Negative capability হচ্ছে বিবিধ ধারণায় নিজেকে আত্মবিলোপ করে সেই ধারণারকে অনুভূতি দিয়ে আত্মস্থ করার সামর্থ্য। আবুল হাসান যখন দুঃখী, একা, বিষণ্ন হয়ে বলে ওঠেন:

ওকে আর আগুন দিও না, জ্বলে যাবে, দুঃসময় দেখিও না

ভিক্ষুকের মতো দ্বারে ভিখ মেগে খাবে।

(সবিতাব্রত)

আমরা ফরহাদ মজহারের নাম উল্লেখ করতে পারি গুরুত্বের সাথে। তিনি প্রথম দিকে রাজনৈতিক সচেতন ছিলেন এবং তাঁর কবিতার জার্নিটা ছিলো দারুণ পলিটিক্যাল। পরবর্তীতে তিনি একটা বাঁক বদলের ভেতর দিয়ে গিয়েছেন এবং সেটা সচেতনভাবে। ষাটের দশকে আর যাঁদের নাম আসে আসাদ চৌধুরী, শহীদ কাদরী, সাযযাদ কাদির, হায়াৎ মামুদ, আবুল্লাহ আবু সায়ীদ এবং আল মুজাহিদী। হুমায়ূন আজাদ, অরুণাভ সরকার এবং সানাউল হক খান এরা নিজেদের ভেতর প্রচুর অপচয় হয়েছে। তবে অরুণাভ সরকার কিছু সমৃদ্ধি ঘটিয়েছেন। আর মহাদেব সাহা জনপ্রিয় এবং একই সাথে ষাটের দশকের কাতরতার কবি।

করুণা করেও হলে চিঠি দিও, মিথ্যা করে হলে বলো, ভালোবাসি।

আবৃত্তি শিল্পীদের খোরাক এইসব কবিতা তাঁকে বেশ জনপ্রিয় করেছে। তবে তাঁর এই স্ববৈশিষ্ট্য একটি ভিন্নতা এনেছে। মহাদেব সাহা কবি ওবায়েদ আকাশ-এর নেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটা বলেছেন, নারীতে মজে থাকলে কবিতা হয় না। এই যে নারীতে মজে না থেকেও কবিতায় নারীকে ছোঁয়া যায়, এদিকটা তাঁকে ভিন্নতা এনে দিয়েছে। এ ধারার একজন নির্মলেন্দু গুণ, কিন্তু গুণের রাজনৈতিক চিন্তা ছিলো প্রথম দিকে।

আরো অনেকের নাম অনিচ্ছায় কিংবা কলেবরের কারণে যুক্ত হয়নি, তাঁদের কাব্য সাধনাও আমাদের সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। নতুনত্বের নেশায় যারা নষ্টের পথে পা বাড়িয়েছে, তাঁরা একটি নতুন ভাবনা এবং অজস্রর কবিতা উপহার দিয়ে গেছেন। ছাড়িয়ে গেছেন পূর্ববর্তীদের এবং কেউ কেউ নিজ প্রতিভাকেও।

তথ্যসূত্র:

বাংলাদেশের কবিতা অন্তরঙ্গ অবলোকন, খোন্দকার আশরাফ হোসেন।

ভালোবাসার সাম্পান, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।

বাংলাদেশের কবিতার নন্দনতত্ত্ব, মাসুদুল হক।