menu

এ সংখ্যার কবিতা

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ আগস্ট ২০১৯
image

হাহা হাহা হাহা হাহা

আনোয়ারা সৈয়দ হক

হাহাকারে জর্জরিত সময়ের নদী

উত্তাল তরঙ্গ আর বাতাসের ঢেউ

দুপাশের বৃক্ষরাজি মাতমের নাচ

এ মাতম যে দেখেছে সে তো আমাদেরই কেউ।

জীবন ও নদী আজ ফারাক তো নেই

শোকের প্রবল ধ্বনি দুদিকেই বাজে

হৃদয়ের রক্তস্রোতে প্রেতিনীর হাসি

ধ্বংসের তান্ডবে আজ দুদিকই সাজে।

আহাকার হাহাকার অন্ধকার দিক

হতভম্ব পাখিগুলো চতুর্দিকে ওড়ে

বুঝি সব ভেঙে যায় ডানা

অবিশ্রান্ত বাতাসের তোড়ে।

তবু তাদের বিলাপ তো থামে না

অবিরাম অহনার প্রান্ত ধরে ধরে

হাহা হাহা হাহা হাহা করে

হাহা হাহা হাহা হাহা হাহা!

অনুবাদ

গোলাম কিবরিয়া পিনু

ভুলভাবে অনূদিত হয়ে যখন কারও কাছে

পৌঁছে যাই- তখন আরও দুঃখ লাগে,

কখন যে কে পুঞ্জীভূত আক্রোশে ভুলভাবে

অনুবাদ করে- আমাকে বায়ুশূন্য চাঁদের

বুকে নিয়ে গিয়ে ফেলবে, সেখানে তো বাঁচা

দায়! মুদ্রালোভে- স্বার্থলোভে, কোনো শিকারি

কাউকে সঠিক অনুবাদ করতে পারে না,

আমাকেও করেনি সে! সে-কারণে ভুল

সংকেত নিয়ে উপস্থিত হই কারো কারো

কাছে- না, আমি অতি মানবীয় হয়েও কারো

উঠানে পা রাখতে চাই না!

গৃহবৃষ্টি

আবদুর রাজ্জাক

অনেক রাত। প্রকৃতি গভীর ঘুমে অচেতন। সামনে বিকশিত

উরু উদ্যান, তোমার।

আমি ঢেকে দিই, তুমি ঘুমের ভেতরেই খুলে দাও উদ্দীপ্ত ভীষণ,

উরুবনে কাঁটা নেই, কোনো। শুধুই প্রস্ফুটিত ফুল।

এতো অবনীল সমারোহ রাতের! তিয়াশা ছাড়াই গোলাপ হাসে।

যেনো গলে গলে পড়ছে সমাগত বৃষ্টি মেঘের, যেনো ঢেকে আছে

কৃষ্ণবর্ণের মৃদু স্পন্দিত ফুল।

ফুলগুলি ঘুমিয়ে, নুড়ি পাথরগুলি নৃত্য করছে শোকাহত রাত্রির

বুকে, আমার ভেতরে কে যেনো নিঃশব্দ টোনে- কে যেনো

ভেতর আলয়ে, নির্বাপিত নীরবতার মধ্যেই শুরুও শেষ।

একজন অন্ধ আরেকজন অন্ধরে গাইড দেখায় দীর্ঘ যাত্রার।

সমস্ত আকাশ ঝুঁকে আছে তোমার দিকে- তুমি-

তাকিয়ে রয়েছো অফুরন্ত আমার প্রতি, এতোটাই ভালো তুমি!

আকাশটা ভিজে যাচ্ছে নিজের বৃষ্টিতে একা।

নিভৃতে ঝড়ে পড়ে গূঢ় বেদনারা

সুহিতা সুলতানা

নিঃসঙ্গতা একটা অসুখের মতো পাশ ফিরে শুয়ে থাকলেও ছোঁয়া যায় না। উদ্দেশ্য মহৎ হলে জগৎ সংসারও স্বস্তিতে থাকে। কখনো উলঙ্গ লতাপাতার বাহারও মনে ধরে না। অপার দুঃখের দেশে সঙ্গমও পানসা হয়ে যায়। একদিন স্বপ্ন ও ভালোবাসা প্রিয় ছিল খুব, দেশপ্রেমের মোহ যারা বোঝে না তারা দানব বটে। পৃথিবীতে অপ্রতিরোধ্য বলে আসলে কিছু নেই। তোমাকে যে পেতে পারে সে দীর্ঘ জলে ভরা নদী, অমীমাংসিত দুপুর। নীরবে, নিভৃতে ঝড়ে পড়ে গূঢ় বেদনারা। অর্ধেক জীবন চলে গেলে তৃষ্ণার্ত স্মৃতি পাশ ঘেঁষে বসে। কখনো কখনো প্রিয় হবার লোভে কেউ কেউ নারী ও মদের জারে মুখ চুবিয়ে পড়ে থাকে। মেট্রোলাইনের কাজ শেষে হলে প্রেমও না কি আকাশ ছুঁতে পারবে, আমাদের দেশের প্রেম এখন না মাটি না নদী চেনে। উড়ন্ত ডানায় ভর করে অচেনা হাওয়ায় উড়ে বেড়াতে চায়। আমি এখন মানুষ দেখি না আস্ত একটা গহ্বর দেখি, চুল থেকে পায়ের পাতা খসে গেলে দর্পণে ভেসে ওঠে ভূতের কেচ্ছা।

মুখোমুখি সংঘর্ষ

হাইকেল হাশমী

রাতে ঘুম যখন ভেঙে যায়

অথবা খুব ভোরে যখন জেগে উঠি

চোখ দুটি শক্ত করে বুঁজে থাকি

আলোর একটি কিরণ যেন না ঢোকে

চোখের পাপড়ি ভেদ করে।

আমি জানি জেগে ওঠার পরিণাম

স্বপ্ন যে রেখেছি অতি যতœ করে চোখের মণিতে

জেগে ওঠার সাথে সাথে

স্বপ্ন আর বাস্তবে হবে আবার মুখোমুখি সংঘর্ষ

আবার চূর্ণবিচূর্ণ হবে সব স্বপ্নগুলো।

শ্রাবণের মেঘ

ইউসুফ রেজা

শ্রাবণের মেঘ বাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়ে রয়েছে

উড়ে আসা বাষ্পগুলি হার্টথ্রব নিপুণ ঘরামি

মিথ্যেবাদী রাখালকেও নৈঃশব্দ্যে উড়িয়ে নিয়ে যায়

ভয়টা উস্কে দিয়ে যে বালক মাঠে মাঠে গল্প সাজায়

মৃত পাতাটির মতো জলের ট্যাংকের পাশে নির্বিকার

উড়ছে হাওয়ায়।

হঠাৎ কক্ষে ঢুকে প্রধান শিক্ষক যেন জলদ গম্ভীর

খলবল করে আসে। বিজলীর মেয়েরা কি তাকে ভয় পায়

ঝড়জলে শ্রাবণ মাসের মেঘ কি দিয়ে বানানো

বাঘের গর্জন বনভূমিকে কাঁপায়। ঐপাশে নিজস্ব রাজত্বে

ঝিরিঝিরি গোলপাতা ফাঁক করে বাঘিনী তাকায়

পতন হয়েছে বলে সমাজের কাছে আজ পতিতা না হয়।

সাগরের উত্তাল ঢেউ থেকে জন্ম যার তার কাছে কী এমন ভয়

আকাশে যখনই চড়ি, শ্রাবণের মেঘ এসে সামনে দাঁড়ায়

রোদে পোড়া ধর্ষিতা মেঘমালা ঘুরতেছে পাড়ায় পাড়ায়।

পঞ্চম মহাভূত

সুস্মিতা পাল

দৈর্ঘ্য মাপা সময়ের ইস্তেহারে

জেগে থাকে সন্নিবিষ্ট মন

করুণ জাগরণ ঘেঁটে, ব্যয়ের খাতা খোলা,

তাও সেই পাঁচ-

ঘিরে ঘিরে ধরে রাখে এ পৃথ্বীর বুকে,

আগুনের মায়া, কালো আর সাদার বৈপরীত্য নয়,

বায়ুর সম্মুখে নতমস্তক দাঁড়ায় তারা

জলে ধুয়ে যাওয়া সময় নিয়ে আসে পাঁচের আশ্বাস,

আসে অস্থাবর সম্পত্তির কুর্নিশ।

সান্ধ্য তারারা অক্লান্ত চর্কিপাকে

হামাগুড়ি দিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই শুরুরতে

যেখানে মেরুদন্ড গড়ে ওঠে তারা-বালিতে,

বুক আগুনের ছোঁয়ায়,

উড়ন্ত রেশমি চুল বায়ুর বন্ধু হয়ে রাত কাটায়

জলে ধোয়া যোনী, কাটা দাগ নিয়ে বসবাস করে হিরণ্যগর্ভে।

যেখানে পায়ের ছাপ থাকে, সেখান থেকে ঈষৎ দূরে

রয়ে যায় ব্রহ্মাণ্ড, কুক্ষিগত সৃষ্টির বিনম্র্র পরিচয়॥

তোমার মন খারাপ থাকুক

চয়ন শায়েরী

মন ভালো থাকা জরুরি বিষয় নয়

আকাশের মন ভালো না-থাকলে

পাখিরা নীড়ের আয়েশ বোঝে

মানুষও আয়েশি হয়

বর্ষার রাতে কিংবা রাতের বর্ষায়

কাউকে না কাউকে মনে পড়ে

পড়বেই মনে

বর্ষণের মুখোমুখি হলে

মুখরিত মেঘমল্লারের আবহসংগীতে

তখন মনে হতে পারে

একজন প্রেমিক থাকাটা জরুরি বিষয়

মন ভালো না-থাকলে

একজন প্রেমিকের কথা মনে পড়ে যাবে

মন ভালো না-থাকলে

বৃষ্টিপুরুষের কথা মনে পড়বেই

তখন মন কবিয়াল হয়ে উঠবে

মন ভালো না-থাকলে

কবিতা বাক্সময় হয়

তোমার মন খারাপ থাকুক সকল সময়

যেন তোমার কবিতারা বাক্সময় হয়!

আখেরি খোতবা

মিলটন রহমান

ওইখানে জেগে থাকা সুদক্ষিণা দিকভ্রান্ত এক

হিমায়িত জড়ুল থেকে তুলে আনছে অন্ধকার

বিরংসা সংশয়ে পথে পথে রেখে যাচ্ছে ক্লেদ

এমন জরথুস্ত্র দিনে বিলম্বিত বাউল পথ হায়

কে রচে কোন চক্ষুষ্মাণ বেতালা পাখি মোর

চলে যাবার আগে এই মহাজনি ভা-ারে

সকলেই দ্বিধা-অন্তরণে কিছু না কিছু রেখে যায়।

ওই দেখো প্রলম্বিত ধীমান চিল ডানায় মেপে নিচ্ছে

শূন্য থেকে পাতালের দূরত্ব সময়ের ঘড়িতে কত?

আমরা সকলেই ওই মাঝের শূন্যতা থেকে

চলে যাই অপর শূন্যতার নিষ্কামতায়

কোন কিছুই আর অবশিষ্ট থাকে না, থাকে

শুধু মগজ ও কণ্ঠ নিসৃত কিছু হলফনামা

এসব নিয়েই মনুষ্যবিভ্রমে বিবৃত কথায়

নতুন পিরামিডে হেসে ওঠে তুতেন খামেন!

তুষানল

আদিত্য নজরুল

প্রত্যেকটি জন্ম কিংবা অঙ্কুরোদগমের পিছন

একজন সফল পিতার ভূমিকা রয়েছে।

- মৃত্যুর জন্মদাতা কে?

খুঁজতে গিয়েই আমি চমকে গেলাম

দেখি, জন্মই মৃত্যুর আদি পিতা...

তবু কবেকার সেই জন্ম থেকে

মৃত্যুকে বহন করছি ভাবতেই ভয় লাগছে!

ফুলের নাম

মাহী ফ্লোরা

সময় ফুরিয়ে এলে নিজেকে মনে হয় খুনি, ঠান্ডা মাথার। যেন একটি একটি করে ছিঁড়ে ফেলেছি ডালপাতার শেষ মুহূর্তও।

এই দুপুরের রোদ জানে তুমি কতবার হৃদয়ে ধারণ করছো ক্রুশ। বিঁধে দিচ্ছ নগরের উদাসীনতা! তুমি ভালো নেই, জানি আমি ভালো নেই...

ফুলের আছে নাম। ফুলও পচে গেলে দুর্গন্ধ ছড়ায়।

নিজ নামে রহস্য নেই। নিজ নাম লুকোতে পারে না ক্ষত, মগ্নপ্রায় দাগ। নিজ নামে কেবলই খোলা যায় ব্যাংক একাউন্ট। অর্থলগ্নী করা নিজ নাম।

বৃষ্টিবিষাদ

স্নিগ্ধা বাউল

নির্বোধ গোঁয়ার বৃষ্টি

নামছে শহরের ভেতরে বাতাস হয়ে

রাত যেখানে ভোরের অনেক আগে

সস্তা ড্রেনের কাছে আছে আদিম মেয়েটি

ভিজছে

টলছে তার অতীত স্বপ্ন

আঁচল উঁচিয়ে বাঁচতে শেখার বর্তমান;

বিপ্লবী সাহসী বীর ছেলেটি

ভিজছে দাঁড়িয়ে

দামী সিগারেটের লোভে তাকিয়ে আছে

ম্যাচবাক্সের খোলসে;

শীতের বৃষ্টি বলছে জলবায়ু পরিবর্তন করে এসেছে এখানে

রাতের রাস্তাগুলো ঝকমক করছে তার

স্বর্গ গোঙাচ্ছে নরকের আর্তি নিয়ে

আরও করুণ

রুগ্ন

ঠান্ডা বাতাসের দৃষ্টিতে দেখা গলাজল

পরস্পর জানতে চায় স্বপ্নের কথা

দুঃখের গল্পের পরিণতি

যেন যত স্বপ্ন দেখা যায় দেয়ালের দিকে

সেগুলো পরিণামে রচিত!

আরও অনেকে ভিজে গেছে এই বৃষ্টিতে

ভিজতে ভিজতে জেনেছে বৃষ্টিরও দুর্ভাগ্য চলছে।

চিঠি

কৌস্তুভ শ্রী

প্রথম চুমুর মতো হারিয়ে গেছে সব।

প্রথম চুমুর মতো রয়ে গেছে।

এ শহরের হলুদ লাল আলো আমার উপর এসে পড়ে। চলে যায়। এ শহরের কোন কোন টুকরো কাচে

আমাকে শেষবারের মতো দেখা যায়।

ইরামতি, এসো। পচে গেছে মানুষ নদী আর মাটি। পচে গেছে প্রথম জীবন। প্রথম চুমুর মতো হারিয়ে গেলে সব, প্রথম চুমুর মতো, রয়ে যায়।

ইরামতি এসো,

অন্ধকার হাতড়ে তোমার শরীর আমি খুঁজে পাই। আমারই শরীরের মতো।

আমারই চোখের মতো চোখে, চোখ রাখি।

ইরামতি, এসো। মাটি আর জল ছাড়া বেড়ে ওঠে যে জীবন, দেখে আসি পাথরের ফাঁকে।

ইতি

ইছামতি

পরকীয়া

লুৎফুন নাহার লোপা

অরণ্যের সান্নিধ্য পেতে পেতে একবার

আমার চোখে ঢুকে গেলো কয়েকশো ডাইনোসর,

তারপর থেকে সাবধানে তাকাই তোমার দিকে

অন্য কারো উঠোনে ঋতু বদলে যায়

অবসরগুলো তালাবদ্ধ রেখে দিয়ে

তোমার ঘুম ভাঙ্গার অপেক্ষা করি,

যদিও পরকীয়া ভালো লাগে না আমার।

আবছা বৃহস্পতিবার

ওমর ফারুক জীবন

আমার কুয়াশা ভাল লাগে,

রোদও,

কুয়াশার ভিতর কোন দিন তারিখ থাকে না,

হাতঘড়ি দেয়াল ঘড়িও,

সময়ের তারতম্য

কোন সীমানা সীমান্ত থাকে না,

থাকে না শুরু আর শেষ,

অনিঃশেষ কুয়াশার ভিতর শিশির জমতে জমতে

ভিজে উঠে ক্যালেন্ডারের পাতা,

আর কোথাও রৌদ্রের তোরণে সেঁটে থাকে

আবছা বৃহস্পতিবার...

সমুদ্র আলাপ

শতাব্দী জাহিদ

মুখোমুখি কথার শ্লোক ফিসফিস-

মিছিলের মতো উত্তাল, কুয়াশার মতো হিম গোপন।

প্রেমে জব্দ শরীরের ভাষা ঠিক পৌঁছায় প্রেমিকের ঠিকানায়

রাতভোরে ফিরে ভোর পৌঁছায় রৌদ্রে-

কথার নামতা তবুও যাত্রা টেনে।

আমি সময়ের অপেক্ষায়, সময় আঁকড়ে বেঁচে থাকি-

মুখোমুখি আমারও তো জমেছে লক্ষ কোটি পঙ্ক্তি।

ক্ষুধা

শ্রাবণী প্রামানিক

জানো না কি; খাদ্যেরও ক্ষুধা থাকে?

হাত সরিয়ে ঠোঁট রাখো।

অক্ষত যে এক পেয়ালা চুমু;

চুমুকে চুমুকে শেষ করতে,

আমাকেও সাথে নিও।

বৃষ্টির মানুষ

রওশন রুবী

যদি কখনো পারি বৃষ্টির কাছে যাবো

ডুবে যাওয়া সন্ধ্যাবেলার গান

দ্বিধাহীন দিয়েছে মোহিত সুখ

না, সে কথা নয়, কত অন্যায় জমেছে

জৈবিক সংসারে ওসব শোনাবো।

যদি কখনো পারি যেভাবে কথা রাখতে

ঘাসের খোঁজে যাই মাইলকে মাইল

সেভাবে না হোক আচমকা বৃষ্টি হবো

বৃষ্টির ঘর, বৃষ্টির সন্তান, বৃষ্টির শেষ মানুষ

আমাকে ঘিরে সুষমা ছড়াবে।

আহ্ বৃষ্টি, পরম বৃষ্টি, শেষ বৃষ্টি অবিনাশী চলো।

রিভিউ

ফারুক আফিনদী

তোমার ভালোবাসা হারানোর বিষয়টা যেদিন নিষ্পন্ন হয়ে গিয়েছিল- আজ আবার মনে করছি সেই দিনগুলো।

ফর্সা এমএ পাস এক যুবককে বিয়ে করে ফেলেছিলে হঠাৎ, হৃদয়ের বাছবিচার ছাড়াই। কেননা, বিবাহ ব্যবস্থায় আমরা লাভ ম্যারেজের মতো পূর্ব অভিসারের প্রচলন করিনি আজও।

সেদিন সারাটা দিন একটা ধূসর প্রজাপতির মতো আমি একা একা কাটিয়ে দিয়েছিলাম, বুঝিনি যে ‘কী হয়ে গিয়েছিল’। তুমিও দেখোনি যে কতদিন একটা প্রজাপতি তোমার খোপায় এসে বসেছিল বিশেষ বার্তা নিয়ে। পতিগৃহে যখন এলে, পাশের শংকরদের ছাড়াবাড়িতে একা একটা বদ্ধ ঘরে কাটিয়ে দিয়েছিলাম- পুরো একটা দিন ছিলাম ঝড়োবৃষ্টিতে তাড়া খাওয়া শালিখের মতো মাথা গোটানো।

এর পর একদিন এসে তুমি ক্ষমা চেয়ে নিলে। আমিও প্রেমের মহিমাবশত...। সেদিনও অনর্গল ঝরে পড়ছিল রোদ। মনে হয়নি যে এরপর একটা সকালের পরে ঝিরঝির করে রোদগুলো চোখে আর মুখে আর বুকে অতঃপর সারা অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কলেজের রাস্তার ধারে তখন ধানী জমির ওপর দিয়ে উড়ছিল নিঃসঙ্গ একটা ফড়িংও। মনে হয়েছিল, বিরহীরা এই পৃথীবীতে এমনই ক্ষুদ্র হয়। অথবা পৃথিবীটা ওই ধূসর ফড়িংয়ের কাছে কেবলি স্ফিত হয়ে যাচ্ছিল।

আজ আবার যখন রিভিউ করছি সেই দিনগুলো, তখনও দেখছি রৌদ্রের নিদারুণ খেলা। এই রোদ হর্ষ, এই ছায়া- মেঘ-। ফড়িংটা রাস্তার ধারে একটা মরা কার্পাসের ডালে বসে আছে- একা একা। চারপাশে তার একাকিত্বের চরাচর।

বহুরূপে বৃষ্টি

সানজিদা সিদ্দিকা

বৃষ্টি-

জানালার গ্রিলে ঝুলে

আমায় আঁকড়ে ধরো ভুলগুলোকে ভুলে।

বৃষ্টি-

গোলাপ পাপড়ির গালে

আলতো চুমু দিও অশ্রুভেজা কপোলে।

বৃষ্টি-

ঘাসের ডগায় পবিত্র

হৃদয় রাজ্যে গড়বো আধিপত্য।

বৃষ্টি-

পিঁপড়ার আশ্রয় সবুজ পাতার বুকে

লুকিয়ে রেখো তোমার বুকে সুখ-দুঃখে।

বৃষ্টি-

আবছায়া আবরণ কাঁচে

ইচ্ছেগুলো বাড়তে দিও যেমন ইচ্ছে বাঁচে।

বৃষ্টি-

জলের মাঝে ডুব

অভিমানে মুখ লুকালে আদর কোরো খুব।

বৃষ্টি-

বৃষ্টিভেজা তুমি আমি বিশ্ব চরাচর

পাথর হৃদয় গলে হোক মোমের অন্তর।

  • গল্পে দেশভাগ

    উদ্বাস্তু

    পলাশ মজুমদার

    newsimage

    আমার সঙ্গে বিক্রমপুর যেতে পারবেন? কেন নয়! অবশ্যই পারব। কখন যেতে চান? আগামীকাল

  • গল্পে মুক্তিযুদ্ধ

    গোমতী নদীর তীরে

    ফারহানা রহমান

    newsimage

    গোমতী নদীর আইল বরাবর খুব সাবধানে পা ফেলে ফেলে প্রায় সীমান্তের কাছে

  • গল্পে মাতৃপ্রেম

    মা

    সাঈদ আজাদ

    newsimage

    ওই দেখো, বাবা কখন এসে উঠানে ঘোড়ানীমগাছের তলে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আছে।

  • ধারাবাহিক

    অভিযাত্রিক

    মুজতাবা শফিক

    newsimage

    (পূর্ব প্রকাশের পর) নবম অধ্যয় মডেল স্বপ্নার সঙ্গে মুখোমুখি বসে আছে একে চৌধুরী। কিন্তু

  • প্রত্যয়ী ভবিষ্যতের বাতিঘর

    মুনীরুজ্জামান

    newsimage

    ‘প্রত্যয়ী স্মৃতি ও অন্যান্য’ কবি প্রবন্ধকার শিল্পসমালোচক আবুল হাসনাতের নতুন গ্রন্থ। প্রকাশ