menu

এ সংখ্যার কবিতা

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮
image

চতুর্দশপদী চিঠি

মার্গারিটার কাছে ফাউস্ট

মাহফুজ আল-হোসেন

আমায় তুমি ক্ষমা কোরো না গ্রেচেন, আর করবেই বা কেন বলো-

সবকিছুর জন্য ঐ নেড়িকুত্তা মেফিস্টোফেলিস আর ওর প্রলুব্ধকর

শয়তানি যাদুর ওপর দায় চাপিয়ে তোমার ডাগর কালো ছলোছলো

নয়নের পানে তাকিয়ে আবার কোনো মায়াবী উচ্চারণে মনোমুগ্ধকর

গীতছন্দে তোমায় ডাকবো, আর তোমার ভুবনমোহিনী রূপসাগরের

অতল তলে অবগাহন করে তোমাকে পুনর্বার মাতৃহন্তারক ভূমিকায়

ঠেলে দেবো; অযথাই আত্মসমর্পিত হবে চক্রক্রমিক ভ্রান্তিবিলাসের

পাতা ফাঁদে? অথচ, প্রাচ্যজন মানে: দুর্জন বিদ্বান হইলেও পরিত্যাজ্য।

আর লোভাতুর আমি জাগতিক প্রাপ্তির জন্মান্ধ মোহের কোন মূঢ়তায়,

কী কুক্ষণে বেছে নিয়েছিলাম সর্বনেশে পাপ-পঙ্কিল প্রগাঢ় অন্ধকারের

নকশাদার সরীসৃপ পথ, আর তোমাকে জড়ালাম সন্তান খুনের নেশায়;

প্রিয় মার্গারিটা- তুমিই বলো, তোমার জন্য স্বর্গবাসী সুভ্রাতা ভ্যালেন্টিনের

অকাতরে জীবনদান-এর নিমিত্ত কি আমি নই? বলো, প্রিয়তমা নির্দ্বিধায়;

আর কেনইবা অদ্যাবধি কারাভ্যন্তরে খুঁজে ফিরছো নির্বাণের সাম্রাজ্য।

আমার সত্তা

আরিফ মঈনুদ্দীন

আমি যতক্ষণ ছবিটির দিকে তাকিয়ে থাকি

ততক্ষণ আমি এক অন্য মানুষ

ইহজগৎ পরজগৎ সবই আমার কাছে তুচ্ছ

আমি ঢুকতে থাকি গভীরে আরও গভীরে-

এত গভীর- কোনো তল নেই, অতলান্তিক এই প্রবাহের

কোনো কিনারও নেই, সীমারেখা নেই।

আমার চলারও কোনো শেষ নেই, আমি চলছি কেবল গভীরেই

নাওয়া খাওয়া ভুলে আমি অনন্তকাল দাঁড়িয়ে থাকতে পারবো

আমার মন বলছে ইতোমধ্যেই কালের চাকা

নির্বিকার সরীসৃপের মতন অনন্তকাল অভিমুখে অনেকটা পথ গড়িয়ে গেছে

সন্ধানও পেয়েছে এমন এক যবনিকার- যার নাম অশেষ

যার অশেষ স্পর্শেই আমি মহাকালের রথযাত্রী।

একটু ছোঁয়া, হৃদয় দিয়ে ছোঁয়া

এর কী জাদুকরী ক্ষমতা, আমাকে বন্দি করে ফেলেছে

ভালোলাগার সর্বশেষ ঘরে

এখান থেকে আমি আর বেরোতে পারবো না-

আমি বেরোতে চাইও না। ভালোলাগার শেষ স্পর্শে

আমার হাতে উঠে বসে আছে

আসমান জমিনের পর্দা গুটানোর পরের দৃশ্য-

যেখানে ঝলমল প্রদীপ হাতে

দাঁড়িয়ে আছে আমার সত্তা স্বরূপে আবির্ভূতা

আগুনসন্ধ্যা

খালেদ উদ-দীন

ইদানীং জনপদেও কেমন নির্জনতা খেলা করে

চোরাবালিতে হারিয়ে যায় গোপন বৈঠক

জলমগ্ন হাওরে সন্ধ্যাতারা ঝিলমিল করে

কুপিতে ফুরিয়ে যায় প্রতীক্ষার দীর্ঘ প্রহর।

এবার নিলাম হবে ভালোবাসা, সান্ধ্যহাটে।

শেষ হিশেব

জারিফ এ আলম

স্নেহের ছাউনির নিচে রয়ে গেছে কোলাহল

বুকের ঢিপঢিপ শব্দের মতো টের পাই

অজানা শঙ্কা ভর করে আজকাল,

নিঃশব্দে রাত পেরিয়ে যায় ভুলভাল স্বপ্ন দেখে

রাত বাড়ে শ্বাস-প্রশ্বাসে উথলে ওঠে

ভঙ্গুর জীবনের ভাংচুর।

রাতের কাছে যাই আগলে রাখে সে

এইসব ছেঁদো আর কালশিটে পড়া

কিছু অবাস্তব সঞ্চয়ের ভেতর।

যার কোনো আক্ষরিক অনুবাদ হয় না

কেবল বয়ে নিয়ে যেতে হয় নিজের মতো করে

নীরবে বেদনার ক্ষরণ চেপে রেখে

আমিও হাসতে পারি গাইতে পারি

কেউ বোঝে না কেউ জানে না

শীতের মতো বিষণ্ন আর রুক্ষ হয়ে ওঠে সব।

জানালার কাচ বেয়ে ক্ষীরের মতো শিশির

নেমে যায়, যেনো আমিও নেমে যাচ্ছি

পতনের শেষ হিশেবটুকু নিয়ে।

আহা তোমার চোখ

আজিজ কাজল

আমিতো এই ঘাটের মাঝি

প্রতিদিন এক আনা করে

সাঁতরাই আমার কূল।

বাহুতে মরে গেছে লবণ

ধরলার বুকে বাঁধা এই সাতজনমের নদী

প্রতিদিন বাড়ছে

আমার ভব-চন্দনের কূল ডুবসাঁতারের বাও।

এখানে নদী নেই,

আছে নদীর বিস্মৃত-কঙ্কাল।

সেই খেয়াঘাটে এঁটেল মাটির লবণধোয়া

চোখের ছবি-

আজ হতে হাজার বছর ধরে

আজন্ম মাথায় নুয়ে বাঁচি।

মুখোশের কপলে অশ্রু

মুর্শিদা আক্তার রজনী

মুখোশ আঁটা ভালোমানুষটির

অন্তরালে বাস করতো

খোলস বদলানো সরীসৃপ

এই খোসমানুষটি একদিন প্রবেশ করলো

আরেক মুখোশধারীর অন্তরে

আপাদমস্তক সে এঁটেছিল তপস্যার মুখোশ

সরীসৃপের বিষদাঁতে ছিঁড়ে গেল তাপসীর

হৃদয়ের সমস্ত শেকল

খোসমানুষের ইশারার অনুগামী হয়ে

লোকালয়ে ফিরে গেল তার মুক্ত হৃদয়

সংখ্যারেখায় বামপন্থী হলো

তার তপস্যার তীরচিহ্ন

শূন্য পেরিয়ে ঋণাত্মকে পৌঁছলে

হৃদপিন্ডে টান পড়লো

লোকালয়ের আবেগ তখন

দখল করে নিয়েছে তাপসীর অন্তর

আবেগ গলিত বর্ষণে সিক্ত হলো হৃদয়

চোখ বেয়ে নেমে এলো

মুখোশের কপলে অশ্রু

খোসমানুষের সাধনা পূর্ণ হলো

তার সরীসৃপবৃত্তির মতোই

ওষ্ঠাধরে ফুটে উঠলো বাঁকা হাসির রেখা

চেনা পৃথিবীতে আজ অচেনা আবহাওয়া

চারিদিকে খোসমানুষের পদচারণায়

মুখরিত প্রকৃতিতে এক থমথমে অসভ্যতা

বিশ্বাসে ধরেছে চিড়

অবিশ্বাসের মাদকতায় অন্ধ আত্মার গোঙানি

জীবনের ভাঁজে ভাঁজে কুৎসিতের করতালি

তবে ভালোবাসি যাকে

খোসমানুষের ভিড় ঠেলে

আসবে কি সে প্রেমাকুল

ভেঙে ভুল ফোটাবে ফুল বিশ্বাস মুকুল?

  • সিকদার আমিনুল হক সম্পর্কে

    বাল্যবন্ধু পীযূষকান্তি সাহা

    সাক্ষাৎকার

    newsimage

    [কবি সিকদার আমিনুল হকের ডাকনাম দীপক। দীপকের বাল্যবন্ধু পীযূষকান্তি সাহা। বর্তমানে তিনি

  • আজ সিকদার আমিনুল হকের ৭৭তম জন্মদিন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

    সিকদার আমিনুল হকের গদ্য রচনা

    ফারুক মাহমুদ

    newsimage

    সিকদার আমিনুল হক মূলত কবি। ‘বিপুলপ্রজ’ কবি হিসেবে তাঁর খ্যাতিও রয়েছে। বেঁচে

  • আমার বাবা উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হবেন

    সালমান তারিক মিশা

    newsimage

    ছোটবেলা থেকে আমি খুব একা থাকতাম। স্কুলে ভর্তি হই ১৯৭৫ সালে গভর্নমেন্ট

  • মহাদেব সাহার কবিতা

    newsimage

    [মহাদেব সাহা ষাটের দশকের অত্যন্ত জনপ্রিয় কবি। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতায় একটি

  • নিরাপত্তা রক্ষী

    এম নাঈম

    newsimage

    লাশটি মাটির ওপর মুখ থুবড়ে পড়ে আছে আর গ্রামের মানুষরা চারিদিকে জটলা

  • অজানার ডাকে

    কণিকা রশীদ

    newsimage

    গত সতের দিন ধরে অন্ধ রজব আলী বসে আছে বকুল গাছের তলায়।

  • মহাস্থানের হাজার বছর

    সৌম্য সালেক

    newsimage

    নাটককে প্রাচীন কলাশাস্ত্রবিদগণ ‘দৃশ্যকাব্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। নাটকের মধ্যে বিশেষ কালপ্রবাহ আসতে