menu

এ সংখ্যার কবিতা

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ নভেম্বর ২০১৮
image

শিল্পী : সঞ্জয় দে রিপন

চুম্বনের মায়াবী নেশায়

অসীম সাহা

মহুয়া, মল্লিকা এবং মাধবীর লতা থেকে কোমল বর্ণগুলো

মার্চ পাস্ট করতে করতে ছুটে যাচ্ছে

অবরুদ্ধ অক্ষরের ক্যান্টনমেন্টের দিকে।

ভাষাবাহিনীর এক মেজর জেনারেল বর্ণের ব্যাকরণ হাতে নিয়ে

রিক্রুট করে যাচ্ছে ম-বর্ণের কোনো কোনো রূপসী মেয়েকে।

দূরে দাঁড়িয়ে সীতানাথ বসাকের ছেলেবেলা হাসছে কেবলি।

চোখে তার উজ্জ্বল শিশার মতো অপরূপ জ্যোৎস্নার ঢেউ।

পিংপং বলের মতো প-বর্গীয় ধ্বনিগুলো খেলা করছে

আদর্শলিপির সব বিবর্ণ পাতায়।

৫ ফুট ৬ ইঞ্চি দৈর্ঘের কোনো ধ্বনি আজো সৃষ্টি হয়নি

পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে।

একবার মোনালিসা নামে এক ম-বর্ণের রহস্যময়ীর চোখে

জ্বলে উঠেছিলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম আলো!

সেই থেকে বাঁকাচোরা হাসির আড়াল বেয়ে সংগোপনে

জেগে উঠছে কাঠঠোকরা ভোরের মতো অর্ধেক হৃদয়!

আর বাংলার মৃত্তিকায় প-বর্গীয় ধ্বনির মাঝে

পঞ্চম ধ্বনির এক তৃষ্ণার্ত নারীর ঠোঁট

অকস্মাৎ জেগে উঠছে চুম্বনের মায়াবী নেশায়!

জলছবি

মঈনউদ্দিন মুনশী

ধূসর সকাল, বৃষ্টি ভেজা অন্ধকার

জানালায় কম্পিত, রূপসী জলভার।

গ্রিল বারান্দায়, আঁচলে ঢেকেছে চুল

দুলছে কানের দুল, নন্দিনীর ফুল।

ধূসরতা লুকিয়ে রেখেছে তার নীল

বৃষ্টি ফোঁটা চুলের ডগায় আছে ঝুল।

ধুলো উড়ছে কোথাও, তাঁর হাঁটা পথ

বাতাস নাড়িয়ে দিলো, গাছের সংকেত।

ভেসে ভেসে কাজ নেই, অচেনা নদীর

কুয়াশা রোদ্দুর, কতদূর, তারপর...।

দেখিনি কেমন তাঁর বিছানা করব।

জ্যোৎস্না, কুয়াশা, আলোকিত শবাধার।

বাতাসে আকাশ আছে, তাঁর নিঃশ্বাস

পাখির বিকেল, রোদ যায় নিরুদ্দেশ।

সবাই দেখছে, মনে মনে ভাবনার

বারান্দায় ভেজা তার বৃষ্টির শরীর।

ভেবে দেখো, আসছে, আসলে যাচ্ছে ঝরে

হুইসিল সারাক্ষণ, ট্রেন যাচ্ছে দূরে।

এভাবেই যায় সময়, শব্দের খাতা

বৃষ্টি ঢেকে দিলো আকাশ, চোখের পাতা।

নিরঙ্কুশ অক্ষরেরা

অশোক কর

দুর্দান্ত অক্ষরেরা অণুকণা আলোদের অনুগত;

জেনে নাও মুগ্ধ নক্ষত্রখচিত রাশিফল, সৃষ্টির শিল্প-কারুকাজ

জেনে নাও জন্মান্তরের দুষ্পাঠ্য মানচিত্র, অপাপবিদ্ধ কুমারী-মৃত্তিকা

জেনে নাও চন্দ্রাহত দৃষ্টিবিভ্রমের রহস্যময় দৃশ্য-পরম্পরা

কক্ষপথ ছাড়িয়ে যাবার অভিকর্ষ তখনও অজানা, ছুটন্ত চারপাশে খসে পড়া নক্ষত্র, ধাবমান নীহারিকা, তড়িৎ আলোকণা, ঘূর্ণাবর্তে ছোটা জীবন-, সকলই অপার রহস্যময়! মহাকর্ষ জুড়ে সৃষ্টির আয়োজন, সেই সৃষ্টির আমি অংশত, পৃষ্ঠা খুলে ছড়িয়ে পড়া অক্ষরেরা ডানা মেলছে মহাশূন্যে, ঊর্ধ্বমুখি আলোড়িত তোমার ভিতরের সেই উচ্ছ্বাস-;

জেনে নাও হিমবাহের অন্তরের প্রাচীন মুহূর্তগাথার কারুকাজ

জেনে নাও অতল জলের আহ্বানে সমুদ্রযাত্রার হাতছানি

জেনে নাও শব্দকল্পকথায় নিঃসঙ্গ পদচারণার সন্ধিক্ষণ

শব্দেরা অন্তরায় হয়ে দুলছে আলোছায়ার, পৃষ্ঠারা শিল্পরহস্য ধারণ করে লাবণ্যময়! ছায়াপথের পর ছায়াপথ জুড়ে নক্ষত্রদের নিরন্তর ছুটে চলার রহস্যগুলো-, টেবিলে দ্যোদুল্যমান স্বপ্নের সমার্থক। কবির হাতে কাল্পনিক নিষিদ্ধ ফল-, মুখে তুলে নেয়ার অপেক্ষামাত্র! অতঃপর ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ অভিযাত্রা-; নির্বাণ, না কি স্খলন?

দুর্দান্ত অক্ষরেরা অনুকণা আলোদের অনুগত;

তুমি, আমি, আমরা-, ক্রীড়নকমাত্র। অক্ষরেরা নিরঙ্কুশ, অক্ষরেরা দিগন্তপ্রসারী, সর্বত্রগামী।

আর্তনাদ

অঞ্জনা সাহা

আত্মাও কি বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধে অভিযুক্ত হবে?

কোন্ প্রক্রিয়ায় বলি, এইসব জিজ্ঞাসার আর্তনাদ?

নীল রাত্রি জানিয়ে গেলো, তুমি দূরে, বহুদূরে!

আমি ছিলাম তোমার নিশ্বাসের খুব কাছাকাছি;

অথচ এই ঘনভার নীরব রাত্রি একা কেটে যায়;

আকাশের মহাশূন্যে একা একা

নক্ষত্রেরা জ্বলে জ্বলে ছড়ায় আলো!

কষ্টের কাঁটা যেন ঘাতক ছুরির মতো

পাঁজর ভেদ করে বিঁধে যায় মর্মমূলে আমার!

তা কেবল আমিই প্রত্যক্ষ করি-আর কেউ নয়!

অনলও নিকট পড়শি হয়ে ওঠে

বেলাল আহমেদ

দুঃখ এক...

পাঁজরে হেলান দিয়ে কাতরায় বড়

নিদারুণ দগ্ধতায়, আত্মিক অনটনে দেখেছি বহুবার

অনলও নিকট পড়শি হয়ে ওঠে...

ভোঁ-দৌড়ে ছুটে লোমশ বক্ষের আপনা আঙিনায়!

মাড়ায় ঘরদোর পাশ বালিশে শুয়ে চিমটি কাটে,

খামছে ধরে অকথ্যে বসায় দন্তের হিংস্রর কামড়,

সর্বাঙ্গে ঢালে কাপুরুষতার গুপ্ত ক্ষোভ,

বিষলক্ষার বড়ি গিলতেই দেখি...

ধীরলয়ে বয়ে যায় কয়লা বিলাপ!

নিকষ রাত্রির নাভিমূল

গ্রাফিত্তি

মাহমুদ রিজভী

বাস্তুতন্ত্রের ফর্দে অনাহূত বাস ভাড়া, মুদিখানার দরকষাকষি আর পুলিশি তল্লাশির সমাপ্তিতে বাড়ি ফেরার মনখারাপ।

ঝাঁপি জুড়ে দড়কচা জীবন- ফেরিওয়ালার হাঁকডাক

৪৪-৩৬-৪০ ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকের নিষ্পাপ সঞ্চালকের অপলাপ।

না-আজ বহুদিন শুকনো খাইনি, শুঁড়িখানাবা জনৈক লিটনের ফ্ল্যাটেও পা-বাড়াইনি;

তেলচিটচিটে কালচে বেডশিট শেয়ারিংয়ে সানিলিওনের বেবিডল এলার্ম বাজতেই থাকে

চেনা সেই ঘুপচি, চেনা সোডিয়াম ল্যাম্পপোস্টের বাঁকে

আধারির অবয়ব অবাক, নির্বাক...

আরশির প্রতিবিম্ব বিপ্রতীপ হয়ে জ্বলে ওঠা আঁধারে

অনেক অনেক নিয়ন বাতির কয়েকটি নিষিদ্ধ আলোকিত মাঝ প্রহর।

বাকোয়াস টকশো অনেকটাই পর্নোগ্রাফি

বিজ্ঞাপিত মেকআপ বক্স সহোদর...

মুখ ফুটে বলতে সব মানা, কারণটা অজানা

হাঁটু অবধি শাড়ি তোলা শিহরন বা কর্পোরেট ঠোঁটের অনুরণন

ড্যান্ডির নেশায় ঢুলুঢুলু শৈশব, এডালোসেনের নটি আমেরিকা অনুভব

শামিল সে অস্তিত্ব, নির্দোষ অচেনা...

পরিত্যক্ত ডিসটেম্পারড সমাপ্তিতে

এইসব আমলে না নিলেই ভালো;

ফিরে যাও জিজ্ঞাসাবাদ, হা-হুতাশ ফিরে যাচ্ছে

কংক্রিটের গ্রাফিত্তি মাঠে মৃত গরু ঘাস খাচ্ছে...

ক্যানভাসার-০২

ইলিয়াস বাবর

নাইলোটিকা বেশ দাপিয়ে বেড়াতো তখন

বড়দের আদেশে বাহির-পুকুর থেকে

দল বেঁধে নিয়ে আসি কচুরিপানা।

আমার তবে মনুষ্যপ্রাণ-

ওসব জঞ্জালপানায় আশ্রয় নেবার শখ নেই

মাথা লুকিয়ে উটপাখিও না

ছটফটানি, ধুঁকপুকানি কেবল নিজেরই লগে!

আহা, বোঝনি মেয়ে

ওগো চতুর বালিকা, কে তবে ডেকেছিল লক্ষ্মী

কাকে দিয়েছিল দিনান্তের ঘট!

যখন যাবে, যাও তবে হে

আইলের ধারে নরম পদচিহ্নে

জমে থাকা কুয়াশাকণায় ভাসে অধমের ছবি

নাইলোটিকা বেশ দাপিয়ে বেড়াতো তখন

কচুরিপানার দঙ্গলে রেখে দিত পোনা

আমার তবে মনুষ্যপ্রাণ

ছটফটানি, ধুঁকপুকানি কেবল পরাজয়ের সাথে

নিজেরই ছায়া-শরমের লগে!