menu

এ সংখ্যার কবিতা

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ অক্টোবর ২০১৮
image

একটি মনোরম সন্ধ্যার আর্তি

কাজী সুফিয়া আখতার

বেঙ্গল বইয়ের লাইব্রেরিতে বুধবার বিকেলে

হঠাৎ করেই প্রিয় কবি আপনার সাথে দেখা

ঠিক তার দু’দিন আগে পড়েছি কবিতাখানি

আত্মজ, প্রাণপ্রিয় তমোহরকে নিয়ে লেখা।

ভুল বললাম, অনেক হারানো সন্তানের মুখ

পরম মমতায়, শব্দে, ছন্দে, যন্ত্রণায় আঁকা।

কফি পান করতে করতে আড্ডা জমে উঠে

রেখা, বিন্দু, আপনি, আমি সবাই শ্রোতা সবাই বক্তা

সিরিয়া থেকে বইয়ের পাইওরিটি আইন, ট্রাম্পের

ইহুদীদের সাপোর্ট, ফিলিস্তিনিদের শতাব্দিব্যাপী

ট্র্যাজেডি, ছাত্রদের কোটা বাতিল আন্দোলনের বাঁক

গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তাহীনতা

কিছুই বাদ যায় না

জলের মতো তরতর করে চলে অন্তরঙ্গ আলাপ।

আর এক কাপ কফি খাবে কেউ?

মেলে না সম্মতির ঢেউ

সবাই যেন নতুন বউ।

দেশ চলছে প্রগতির পথে, কিছু চাকা উল্টো দিকে ঘোরে

কারণ খুঁজে পেতে বিন্দু ফট করে বলে ‘বিচারহীনতা’

খোলা হাওয়ায় হত্যাকারীরা ঘুরে বেড়ায়

নিঃশ্চুপ চেয়ে দেখি মানবিক মানুষ আমরা

হে ঈশ্বর, ক্ষমো এ দীনতা।

একটা কিছু করতে হবে সংকল্প দানা বাঁধে

বহুক্ষণ আগে

ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কফি কাপ ফেলে

একে একে আমরা উঠি নিঃশব্দে

তমোহররা চেয়ে থাকে আমাদের দিকে

অপলক করুণ নেত্রে।

অন্তিমের স্তোত্রচূর্ণ

হাসান হাফিজ

নিমজ্জনে আর কোনো ভয় নাই, কিছুমিছু উৎকণ্ঠা রয়েছে

ভয়ের গোপন সংজ্ঞা জেনে গেছি, সুতরাং উপেক্ষা-আগুন

আতঙ্কের উৎস নয়, বিষে বিষে জর্জরিত ক্ষতে বিদ্ধ নীলকণ্ঠ হয়ে

তাপিত সমাপ্তিরেখা কোন্দিকে, তৃষাতুর তাকিয়ে রয়েছি ঠায়

হায় বন্ধু! জেনেও যে না জানার ভান করো, উন্মোচিত সেই ছল

আর কোনো কাজে আসবে না, এতদিন জাদুমন্ত্রে যা যা হতো

সেইসব অস্ত্রপাতি এখন ভঙ্গুর ভোঁতা, সুনিশ্চিত হারিয়েছে ধারও।

নিমজ্জন, এসো প্রিয়ে বন্ধুসখা, দুইজনে নিরজনে গলাগলি করি

বিস্মৃতির ধুলোমাটি গায়ে মাখি, মরমিয়া সংগীতের মলমে প্রলেপে

ঘুমের মহতী ছন্দে দুই অন্ধে সাবলীল জড়তার ঘুচাই ক্রন্দন

অবসান হতে চাইলে হোক তবে সমস্তর, যাগযজ্ঞ হোক সমাপন

দীঘল আয়ুর প্রান্তে উপবাসী আউলাঝাউলা পরবাসী বাউলের মন

আগামী ১৫ অক্টোবর ২০১৮ কবি হাসান হাফিজের ৬৩তম জন্মবার্ষিকী। শুভেচ্ছা।

জলোচ্ছ্বাস

সাইফুল ভূঁইয়া

গুছিয়েছো অনেক ঘরদোর

পেতেছো শয্যা অনেক

গুছাও এবার নদী

রাখো কচুরিপানা কপালে কাজল

পশ্চিমে যাও গোকর্ণঘাট

মাছেরা গিয়েছে কাঠমন্ডু

ডাক দাও আসবে নেমে

কৈবর্ত দলে দলে।

কে ডেকেছে আমায়?

কার ডাকে ছেড়েছি ঘর

কালাছড়া-চম্পকনগর

কেউ থাকে না আমার

তবু কেন

পড়ে আছে সহস্র পদচিহ্ন।

একবার ডাকো কাছে

চলে গেছে দূরে

দরিয়ার শরীর দুপুরের উঠান

আটকে আছে মৎস্যকুমারী

তিতাস নদী কারেন্টজাল।

ওহ, জলোচ্ছ্বাস! ডাকো একবার-

একবার ফিরে আয়...

জলোচ্ছ্বাস

সাইফুল ভূঁইয়া

গুছিয়েছো অনেক ঘরদোর

পেতেছো শয্যা অনেক

গুছাও এবার নদী

রাখো কচুরিপানা কপালে কাজল

পশ্চিমে যাও গোকর্ণঘাট

মাছেরা গিয়েছে কাঠমন্ডু

ডাক দাও আসবে নেমে

কৈবর্ত দলে দলে।

কে ডেকেছে আমায়?

কার ডাকে ছেড়েছি ঘর

কালাছড়া-চম্পকনগর

কেউ থাকে না আমার

তবু কেন

পড়ে আছে সহস্র পদচিহ্ন।

একবার ডাকো কাছে

চলে গেছে দূরে

দরিয়ার শরীর দুপুরের উঠান

আটকে আছে মৎস্যকুমারী

তিতাস নদী কারেন্টজাল।

ওহ, জলোচ্ছ্বাস! ডাকো একবার-

একবার ফিরে আয়...

সন্ধিপত্র

অঞ্জন মেহেদী

আমি পড়াচ্ছিলাম সন্ধি

বইয়ের পাতায় মগ্ন ছিল চোখ

চোখের তলে সমুদ্রের ছায়া,

তোমার হাতে গোটা ভূগোল

তোমার হাতে মগজ কাটা ছুরি;

পাতার ফাঁকে চিকন চাঁদ

দুপুর পাতে অন্য খেলা

আমি শেখাচ্ছিলাম সন্ধি

তুমি এমন ভিন্ন জগৎ

তোমার চোখ পৃথিবীর রাস্তা।

সজনে পাতায় মেঘের মায়া

আর তুলোর পাহাড় তোমার উঠোন!

তুমি নিয়ম বিরুদ্ধ ব্যাকরণ

মানতে নারাজ সন্ধির নিয়ম।

তুমি সলতে পোড়া আগুনের হ্রদ

তুমি নিরীহ পতঙ্গের খুনী

আজন্ম আমি ঝুলে আছি

নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গে।

একটি ব্যক্তিগত ইমাজিনেশন

একেএম আব্দুল্লাহ

বাবার বুকে কোনও পকেট নেই। আমাদের কিচেনে রাইস কুকারেরও কোনও সিটি বাজে না; চুড়িরও। ফায়ারপ্লে সে পুড়ে যাওয়া কাষ্ঠের মতো- মায়ের হাত।

এখন আমাদের জিহ্বার নিচ থেকে নেমে আসা তাপমাত্রা; সমাজের প্যারালাইজড ছাদ-ছিন্ন করে আকাশের দিকে উড়ে যাচ্ছে। আর সভ্যতার বগলে রাখা থার্মোমিটার ভেঙ্গে ভেসে যাচ্ছে জ্বলন্ত পারদ। এখন আমাদেরকে ঘিরে আছে রক্তাক্ত ব্রাশফায়ার।

মাঝেমধ্যে বিভিন্ন রঙের ফিতায় বড় বড় কার্ড গলায় ঝুলিয়ে সাংবাদিক আসেন। স্ট্যেথেস্কোপ দিয়ে চেক করেন আমাদের বুকের আওয়াজ। নোটবুকে কী যেন লিখে নেন; আমাদের কোনও দিন জানা হয় না।

আসলে, আমাদের মুখে- কিংবা বুকে এখন আর কোনও শব্দ নেই। আমরা নিজেদের মুখ দেখিনি বহুকাল। আসলে আমাদের ঘরে কোনো আয়না নেই। আমরা ভুলে গেছি- বাঁচার ইমাজিনেশন।

  • বিশেষ সাক্ষাৎকার

    কিছুটা এমার্জেন্সি কবির বাঁচার মধ্যে থাকে

    অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত

    newsimage

    প্রশ্ন : এই যে এত বছর বিদেশে থাকা, বছরে একবার করে আসা,

  • সমর সেন : কেন প্রাসঙ্গিক

    দারা মাহমুদ

    newsimage

    কবি বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকা হাতে পেয়ে রবীন্দ্রনাথ দু’জন অপরিচিত তরুণ

  • কবি জাহাঙ্গীরুল ইসলাম

    স্মৃতি ও কবিতা থেকে

    সৈকত রহমান

    newsimage

    জাহাঙ্গীরুল ইসলাম সম্পর্কে কিছু বলতে বা লিখতে যদি যাই, দেখি আমাদের ব্যক্তিগত

  • রমা চৌধুরী

    মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নভেলায়

    খালেদ হামিদী

    newsimage

    আমার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একমাত্র উপন্যাসিকা ‘সব্যসাচী’তে রমা চৌধুরী আছেন, নভেলাটির শেষাংশে, এভাবে:

  • দিদি ও আমার দিন-যাপনের খসড়া

    আলাউদ্দিন খোকন

    newsimage

    ২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বিকেল ৫টা। দিদি চট্টগ্রাম মেডিকেলের আইসিইউ-তে। জন্মাষ্টমির বন্ধ চলছে।

  • অপ্পো কথার গপ্পো

    লিটন চক্রবর্তী মিঠুন

    newsimage

    আর দশটা বিষয়ের মতো সাহিত্যও হরেক রকম। নানা তার চেহারা, বিচিত্র তার

  • জনক

    শামীম আহমেদ

    newsimage

    বাড়ির আঙিনায় ঢুকেই মনটা খারাপ হয়ে গেল সৈকতের। চারদিকে বিদঘুটে অন্ধকার। জেনারেটর