menu

আষাঢ়ে, বরিষণে

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৪ জুলাই ২০১৯
image

তোমার কথা ভাবছিলাম

বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর

তোমার কথা ভাবছিলাম

তুমি এলে না, বৃষ্টি এলো

সেই কবে অনেকদিন আগে

প্রেমেন্দ্র মিত্রের একটি বই পড়েছিলাম

বৃষ্টি এলো

রজতদ্যুতি, আমি কি শ্যামাপোকা?

জাহিদ হায়দার

জোস্না কেন প্রাঙ্গণে কৃষ্ণচন্দনে?

প্রিয়ংকর মান্য তবে দ্বিধারী পরিণতি।

যমুনাপাড় কাঁদছে একা

শতবর্ষের বৃষ্টিভেজা,

বাজে না বাঁশি দূরে।

যা ডুবে যা জলের কাদা-তলে,

অন্ধকারে তটিনী মরে যাক।

রজতদ্যুতি, আমি কি শ্যামাপোকা?

কী করিব এমন কীর্তনে?

চিরজীবক কষ্ট নিয়ে খাঁচায় যাবো ফিরে।

প্রবল বর্ষণে

বিমল গুহ

কাল সারারাত বৃষ্টির মধ্যে কেটে গেছে

ফ্লোরিডায় আকাশজুড়ে খন্ড খন্ড মেঘ

অঝোর ধারায় বরিষণ

মনে হবে আমাদের বর্ষাও হার মেনে যায়!

তুমি কি আমার নামে বদনাম রটাও এখনো-

দেখেছো কি ধারাজল প্রবল বর্ষণে

কী লিখেছে শিয়রে তোমার গতকাল?

বেনোজল পাড় ভাঙে দ্রুত

দূরে খরস্রোত ভেঙে দেয় হিংসার আকাশ

উঠোনের হাঁটুজল ভেঙে মিথ্যাচার

রটাও কী করে? দেখেছো কি

গতরাতে বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে সকল গরিমা তোমার!

জেনে রেখো, প্রবল বর্ষণে ধারাজল

পালাক্রমে মানুষের বংশলতিকা লিখে রাখে।

বর্ষার রাতে পিকনিক

মুহম্মদ সবুর

ধোপাছড়ি পাহাড় জুড়ে বসেছে আজ মেঘেদের পিকনিক

এসেছে বেতবুনিয়, এখনো বৈলতলির মেঘ নারী-পুরুষ

এখানে পথে পথে আছে আরো কতো মেঘ গ্রাম শহর

তাদের পাতে পাতে আজ পিঠে পায়েস পল্লান্ন বহর

পিকনিক বলেই হৈহুল্লোড়, গান বাজনার খিস্তি খেউর

আলুথালু দেহের ভাঁজে কে যে কার মুখ লুকিয়ে রাখে

সে সব দেখার নেই কেউ, শুনবে তেমন শ্রোতাও নেই

যে যার বক্ষলগ্ন হয়ে চুম্বনে মত্ত মাতোয়ারা মাতাল

তারপর ঢুলুঢুলু চোখে নেমে পড়ে দেহের প্রপাতে

যতদিন সুখের প্রত্যাশা, তার ঘোরে বেঁচে থাকে

মেঘেদের নেই চক্ষুলজ্জা, লোকলজ্জার কোনো ভয় জাগে নাই

তাই অলকে আড়ালে নয়, প্রকাশ্যে খুলে ফেলে দেহ বল্কল

উন্মুক্ত শরীরে চড়াও হয়ে যায় ধোপাছড়ির গাছে গাছে

রতিরসে ভিজিয়ে দেয় ঘাস আর কীটপতঙ্গের ঘরবাড়ি

ধোপাছড়ি পাহাড়ে বর্ষার রাতে পিকনিক পর্ব শেষে

যে যার পথ ধরে চলে যায় মৃত্তিকার গহব্বরে...

স্মৃতির বর্ষা

হাইকেল হাশমী

অকারণে যখন শূন্যতা মনে বাঁধে ঘর

আর চোখ ভরে যায় স্বচ্ছ নোনা জলে,

তোমার তিক্ত বিরহ কালবৈশাখী হয়ে

মনের আঙ্গিনায় ধ্বংসের নাচন নাচে।

বুকে নিঃশ্বাসের দ্রুত আসা যাওয়া

হৃদয়ের ক্ষিপ্রগতি মনের রুদ্ধ দ্বার খোলে,

তোমার স্মৃতির ঝিরি ঝিরি বাতাস

মন নদীতে মৃদু তালে কামনার ঢেউ তোলে।

হৃদয়ের কম্পন হয়ে উঠে তখন এলোমেলো

মাঝে মাঝে ছিঁড়ে যায় নিঃশ্বাসের অদৃশ্য তার,

মনের আয়নায় জমে থাকা ধূসর ধুলো

স্মৃতির ঝমঝম বৃষ্টিতে একেবারে পরিষ্কার।

তখন বুঝি স্মৃতির রিমিঝিমি বর্ষার কাল এসেছে

ভুলে যাওয়া স্বপ্ন দেখার সেই মধুময় কাল এসেছে ?

জাদুকর

ফারুক মাহমুদ

শেফালি খানম ছিল আমাদের বাল্য পড়শিনী

সে যেন গানের পাখি, প্রজাপতি, দূরে-থাকা মেঘ

চেনার বয়স থেকে তাকে আমি ভিন্ন চোখে চিনি

আমার বুদ্ধির সবটুকু

অকাতরে করেছি বপন

ছদ্ম-শুদ্ধ কত অভিনয়

কত যে অপেক্ষা গেছে, মুগ্ধবদ্ধ- যদি কিছু হয়!

মন তো দূরের কথা, কোনোদিন ওর চোখে সামান্যও পড়িনি

আজ, সারাদিন ছিল সন্ধ্যাসন্ধ্যা দিন...

সহজ আনন্দে এলো শেফালি খানম

আমাকে সম্বল করে ডুবে গেল ধুমলাগা বৃষ্টির ভিতর

তার চোখে-ভিন্ন চোখ। তার ঠোঁটে বার-বার হেসে ওঠা হাসি

শেফালি খানমের এ বদলে যাওয়া দেখে

মানতেই হয়- বৃষ্টি হচ্ছে পৃথিবীর সেরা জাদুকর

বর্ষার খোঁজে কালীদাস ও রবীন্দ্রনাথের কাছে

সোহরাব হাসান

আষাঢ়ষ্য প্রথম দিবসে এই বঙ্গভূমে বর্ষার দেখা না পাইয়া আমি মহাকবি কালীদাসের শরণাপন্ন হইলাম। তিনি বর্ষার রাজকবি। প্রাচীন ভারতে মেঘদূত নামে প্রেমের বার্তাবাহীর এমন নিখুঁত ছবি তাঁহার মতো কেউ আঁকিতে পারেন নাই। কালীদাসের নিকট বর্ষা ও প্রেম ছিল অভিন্ন সত্তা। কিন্তু তিনি আমাকে যারপরনাই হতাশ করিয়া বলিলেন, ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে রামগিরি হইতে সুদূর আলকা পুরীতে বিরহ বার্তা পৌঁছাইবার কোনো উপায় নেই। বিস্ময়কর অন্তর্জালের ভয়ে মেঘদূত নামে প্রেমের ডাকহরকরা অন্য কোনো গ্রহে শরণ লইয়াছেন। আর অভিশপ্ত যক্ষের লেখা চিঠিগুলো বিবর্ণ হইয়া বিস্মৃতির অতল গহ্বরে হারাইয়া গিয়াছে। পৃথিবীর জলহীন তৃষ্ণার্ত ভূমি শত আরাধনা করিয়াও এক ফোঁটা বৃষ্টির দেখা পাইতেছে না।

অতঃপর নিরুপায় হইয়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ করিয়া মনোবাসনা ব্যক্ত করিলাম। গুরুদেব, এবারের বর্ষায় যদি আমাকে আপনার বোটে সঙ্গী করিয়া নেন কৃতার্থ হইব। পদ্মার বোটে চড়িয়া প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আরেকবার অবলোকন করিবার সুযোগ পাইব। কিন্তু তিনিও আমাকে যথারীতি বিমুখ করিলেন। আক্ষেপের স্বরে বলিলেন, বৎস, বোট চলিবে কি, পদ্মা তো এখন খাঁ খাঁ করিতেছে। একদা উত্তাল পদ্মার এই শীর্ণ চেহারা কবি কোনোভাবে মানিয়া লইতে পারিতেছেন না। সোনার তরীতে রাশি রাশি ভারা ভারা ধান ভরিলেও সেই তরী চড়ায় আটকাইয়া গিয়াছে। হঠাৎ নির্মেঘ আকাশ আর শুকনো পদ্মার দিকে তাকাইয়ার তিনি দীর্ঘশ্বাস ছাড়িয়া বলিলেন, শিলাইদহ হইতে বোটে চড়িয়া পতিসর-শাহজাদপুর যাওয়ার পথে কত স্মৃতি, কত ঘটনা মনে পড়িতেছে।

কিন্তু বৃষ্টিবিহীন দিবসে আমার কাহারও কথা মনে পড়িতেছে না।

সম্পর্কের সেতু

চয়ন শায়েরী

কালো মেঘেরা বিষণ্ন মনে হয়

আঁধারির নেকাব

বৃষ্টি নয় মৃত্যু ডেকে আনে মেঘের

নিজের ভেতরে একটা ক্রাইসিস যেন

আইডেন্টিটির কোনো রূপান্তর

এহেন রূপান্তরণে

অভিবাসী মেঘের দূরযায়ী মনে

বিষণ্নতার সহোদরা গৃহকাতরতা জন্মে

মেঘবউ লম্বা ঘোমটার আড়ালে

যতই বিষণ্নতা লুকিয়ে রাখতে চায়

ততই মিইয়ে যায়

ভেঙে ভেঙে পড়ে সম্পর্কের সেতু

কোনো সম্পর্কই চিরকালিক কিছু নয়

কি বৃষ্টি কি মেঘ

কি প্রেম কি আবেগ

বৃষ্টির পুরোনো দুই প্রেমিক

ঝড় ও বজ্র

সে-কাহিনি জানে!

অন্তর্জলী বর্ষায়

অশোক কর

উদোম শরীরে প্রেমের ছায়া ফেলে রেখে যায় বর্ষার মেঘ, আমি

সেই অপেক্ষায় ছিলাম এক আষাঢ় থেকে আরো এক বর্ষাকাল

চিরল নারকেল পাতা চুয়ে চুয়ে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে চাঁদের কণা

খেলা করে খোলা বুকে, নির্দ্বিধায় বিলিয়ে দিই ঐ লাজুক সম্ভ্রম

আরেক আষাঢ়ে আমি শুয়েছিলাম জলডাঙায়, ঘনমেঘ বর্ষায়

বাতাস উড়িয়ে নিল পরিচ্ছদ, ধুলো, পোড়া ঘা, লবণাক্ত স্বাদ

তারপর মরা ভেবে অর্ন্তজলী ভাসালো জলে চিতার পোড়াকাঠ

সাজানো চিতাগ্নিতে চন্ডাল শ্রাবণে সেঁকে নিলো তার জীর্ণহাত

বর্ষা এভাবে ভাসায় ডোবায়, ভাঙে দীর্ঘঘুম, ভাঙে দীর্ঘ সহবাস

টিনের চালে ঝরঝর ঝরে, ডেকে নেয় কাদাখোঁচা ডাহুকের ঝিলে

হাতড়ে খুঁজি কাদাজলে চন্দ্রাহত বাল্যকাল, অপটু বালকস্বভাব

বিদ্যুচ্চমকে এলোকেশি জলের কিনারায়, কী যে কাঁপায় মাতায়

ঝরঝর ঝরে ঝরে শ্রাবণ কদমের পাতায়, শোনায় বিরহের গান

চর্যার হরিণ আমি, বিরহী রাঁধার খোঁজে এসেছি শহুরে রাস্তায়

কবিতা নিপুণ সারথী, আমার তৃষ্ণা ঠোঁটে ছোঁয়ায় মায়াবী স্তন

ধ্রুপদী গায়িকা পাঠায় সুর মেঘমাল্লার, তাঁদের মোহিনী মায়ায়

মৌসুমি পয়ার

মুজিব ইরম

আগাম গরমে পাকে মালদই আম। আমার হৃদয়ে কাঁপে কার যেন নাম ॥ থোকা থোকা কালো জাম গাছে পেকে থাকে। আমিও তুকাই তারে মনে রাখি যাকে ॥ আনারস পেকে ধরে হলুদ বরণ। পড়িছে পড়িছে মনে রঙ্গের ধরন ॥ লিচুগাছে পাকে লিচু আগুনের রঙ। আমার মনেতে জাগে করি রঙঢঙ ॥ জোড়া জোড়া কামরাঙ্গা রসে ভরা তন। সেও কি আমাকে রোজ করিছে স্মরণ ॥ গাছে পাকা আতাফল পাতা ঝরে পড়ে। একাকী ফলের দুখ মনে বড়ো ধরে ॥ ঘাটের উপরে গাছ জলে ঝুঁকে ডাল। কে পাড়িবে জামরুল বেদনার কাল ॥ মনে ব্যথা মনে খেদ জীবন অসার। দূরের মানুষ আমি যাতনা অপার ॥

শাশ্বত ব্যবধান

ওবায়েদ আকাশ

যারা হেরে গেল এবং

চরম দারিদ্র্য হেতু সবজি বাজারের দরদামের মীমাংসা হওয়ার আগেই

ট্রেন মিস করল

চিরকাল তাদের প্রতি সহানুভূতিশীলদের নিয়ে

প্রামাণ্যচিত্রে

নিজের মুখ ভেসে উঠতে দেখেছি-

তাতে আমার যে বক্তব্য ছিল

তার উপর্যুপরি সম্পাদনা ও অডিও সাউন্ডের অসংলগ্নতা হেতু

আমার ভাগ্যে এক স্বার্থপরের তকমা জুটে গেল-

এবং প্রতিবাদ করায়

যে নতুন ভিডিও সম্পাদনার প্রয়োজন পড়েছিল

তাতে আমি এক ত্রাতার ভূমিকায় খ্যাত হয়ে গেলাম

আজকাল আমি বিবিধ গুরুত্বপূর্ণ সভা ও সেমিনার মঞ্চে

সুশোভন চেয়ারে বসে সভাপতিত্ব বা প্রধান আতিথ্য গ্রহণ করি-

এবং চলমান সভার ক্ষুদ্রাতি অবসর ধরে মঞ্চের পেছনে বসে

সত্যিকারের নিজের চেহারা এঁকে সম্মুখে ঝুলিয়ে দেই-

ফলে আমার সমাপনী ভাষণ ও অঙ্কিত চিত্রের ভেতর

ব্যাপক ব্যবধান থাকে-

আর মাঝে মাঝেই মঞ্চ জুড়ে বিকট বারুদ বর্ষিত হয়

কেউ কেউ তাকে বৃষ্টি বলে থাকি-

আষাঢ়ে-শরীর

শাহেদ কায়েস

পর্যটনে মাতে আষাঢ়ে-শরীর

শরীর যায় পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণে

জোয়ারের উজান স্রোতে

লাল-নীল-হলুদ মীনেরা...

পথের প্রবল ঘ্রাণে ব্যাকুলতা

পাহাড় সমুদ্র নদী-

বুনোঝোপ, অতল খাঁড়াই...

পথ থেকে পথে হারাই-

এই যে গতি, রতির প্রীতি

শরীরে শরীর ঘষে আগুন জ্বালাই

বিচলন

মোস্তাক আহমাদ দীন

যত গেছি, ঠিক ততোটাই

আড়ে আড়ে রয়।

পত্রজালে ঘোরে।

পাতার ইশারা পেলে

দোতরায় রাখব আঙুল

হাওয়ায় হাওয়ায়

আজও রয়ে গেছে বাধা

আড়ে আড়ে রয়।

নাকি আড়ে আড়ে, মনে মনে ডাকে।

পাশের গাছের পাতা ইতিউতি চায়

মর্মে মর্মে ভিজে যায় মাটি

হায় বরষা

মাহফুজ আল-হোসেন

এসো আষাঢ়ের বৃষ্টিফোঁটায়

মেঘবালিকার দুঃখ খুঁজি

যেভাবে রাত্রির ছাইগাদায়

ফেরারি মুখ লুকিয়ে রাখে

ঝাঁঝালো রোদ্দুর ও তার

টুয়েন্টিফোর ক্যারেট পুঁতি

অবশ্য নিন্দুক নদী বলতেই পারে

এসব মায়কান্নার মঞ্চায়ন

ইবসেন সেলিম আল দীন কিংবা

গিরিশ কানরাডের চিত্রনাট্যে

সাংস্কৃতিক সংবাদে অনির্ধারিত

সাক্ষাৎকারে কদম বলেছে

পাতাকুড়ানির সাইড বিজনেসে

সে এখন বন্দি খোঁপার খোঁয়াড়ে

মীনকুলোদ্ভব সুযোগসন্ধানীদের

ভেসে যাবার দারুণ মওকা এ বর্ষায়

রাতারাতি রাঘববোয়াল হতে

অতঃপর গন্তব্য গভীর জল

আবার লিটল্ ম্যাগাজিন ছেড়ে

কেউ কেউ স্ট্রেইট ওয়েবজিনে

নব বর্ষা

ভাগ্যধন বড়ুয়া

ঠিকানা জলের তলে; সমজলে সমতল

লোকে বলে, নব বর্ষা বেবাম সাইগর!

আবহ সংবাদ হাতে চৌরাস্তার মোড়ে

আভাসে রোদের ছায়া পরিহাস প্রাণে!

চেনা ছিল পথঘাট; যেখানে হেঁটেছি

চেনা ছিল রাতদিন; পথের প্রহরী

অচেনা মেঘের ব্রতে জোয়ারের জ্বর

বান ধরে টান মারে নগর কলিজা...

ভূমিহীন আমি যদি জলতলে ডুবি

ভেসে গেলে জল দিও মাটির মায়ায়

আষাঢ়ের নবজলে মনোকূলে বীণ

কানে শুনি ক্রমাগত বিরহী বেহাগ...

যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল

মাসুদার রহমান

তারপর বৃষ্টি নেমেছিল। অরণ্যের ভেতরে মেয়েটি গাছের শরীর ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে সেও এক গাছ

ওদিকে ছেলেটি পাখি। প্রবল বৃষ্টিজলে ভিজে ভিজে উড়ে আসছে সমুদ্র পেরিয়ে। এবং সে গিয়ে বসলো গাছ হয়ে শাখামেলা মেয়েটির ডালে

তুমুল বৃষ্টি জলে ভিজে যাচ্ছে মেয়েটির জামা ও শেমিজ... আর জেগে উঠছে চাঁদ। তুমুল বৃষ্টির ভেতর তীব্র পূর্ণিমার আলো, শিস দিচ্ছে পুরুষ পাখিটি

তরঙ্গকথা

কামরুল ইসলাম

অন্তরা ও সঞ্চারীর মধ্যে ঘুমুচ্ছে যে বুনোহাঁস

তার পালকে আঁকা তরঙ্গগুলো তুমুল বর্ষণে ভিজে ভিজে

ডেকে যায়থ উমা!

উমা!!

উমাবতী!!!

তরঙ্গকথার সনাতন বোলে, কিংবা কোনো এক

উমাবতীর নরম দেহে

জেগে আছে ঘুমখোর তরণীর মাঝি

রজনীর সমস্ত অন্ধকার দুপাশে রেখে

অতঃপর তরঙ্গের চৌকাঠে নিশাচর কাব্যকলারা

তরঙ্গধ্বনির মন্থরতা কুড়োতে কুড়োতে ঘুমিয়ে পড়ে

জেগে থাকে উমাবতী দীর্ঘ রজনীর গানের ভেতরে-

অম্লান মেঘমল্লারপুর

পিয়াস মজিদ

বৃষ্টিস্থগিত কলকাতায়

রুদ্ধ আষাঢ় পাখা মেলে

কফিকাপের কালো আকাশে।

জীবন যখন-

হারানো রিমঝিম

কালিদাস পথ ভোলে দিগি¦দিক।

তবু রৌদ্রের মেহফিলে

তোমার কথার কল্লোলে

এই ভিনদেশি নগর ভাসে

অনন্ত জলবাহারে।

মেট্রোয় ঘোষণা আসে

‘এই স্টেশন খরাকুসুমপুর

প্ল্যাটফর্ম বাঁদিকে।’

ভাবছি,

পরের স্টেশন

নিশ্চয়ই তোমার হৃদয়ের দিকে;

নাম তার

অম্লান মেঘমল্লারপুর।

বৃষ্টিসঙ্গম

রোকসানা আফরীন

বৃষ্টি তোমার পাখনা

ডাকছে আমাকে জলের মতো

কুহকতাড়িত সর্বনাশা দিনে

ডাকছে বৃষ্টি অন্ধ রাত্রির মতো

ঝড়ের মধ্যে সাড়া দেয়

যেমন সঙ্গম সমুদ্র

ফুলে ওঠে জোছনার ডানা

তেমনি যোনীগন্ধা রাত

বৃষ্টির মতো ফুঁসে উঠছে

তপ্ত শরীরে সোহাগে

আদরে উষ্ণ লাভাস্রোতে

শরীরের ঘাম আর ভালোবাসায়

কিলার

জাফর সাদেক

বর্ষা-মানবীর পুরোশরীর যেন আগুনের রণভৈরব

তার আঙুল ছড়ালো আগুন, চুম্বন তৈরি করলো অগ্নিমেঘ

বাধাও যেন আগুন-প্রশ্রয়

সন্ধ্যা রাতের মেকআপে- মুন্নুজান হলের পাশে কাশবন

এমন গাঢ়-ভ্রমে লিমা আপার হাতে হাত অস্থিরে থির

জিওগ্রাফিতে পড়তো- একবছর সিনিয়র

: জানিস, মৃতশরীরে আমি চাই প্রথম সঙ্গম- একজন

সিরিয়াল কিলার এমন বর্ষাসন্ধ্যায় খুন করে

তারপর উপভোগ করুক নিথর রক্তনদীর শরীর

এই বলে আপা তার শরীরের অতল গহীন থেকে

এক চাকু বের করে আমার হাতে গুঁজে হলো-

সমর্পিত বিষ্টিছন্দ

সন্ধে ঘন হয়ে এসেছিলো- দারুণ অনুভবে বৃষ্টিমায়ায়

বুঝেছিলাম কিছু পরশ বহন করছে সুরুচি নকশি

এমন খঞ্জর বহন করে বুঝি খুব শৌখিন মৃতসুখী

বৃষ্টি এলে

মাহফুজ রিপন

বৃষ্টি এলে সবুজ ধানের

জেগে ওঠে প্রাণটা

কৃষক হাসে মলন চলে

হাসতে থাকে গ্রামটা।

বৃষ্টি এলে টিনের চালে

রুম ঝুমাঝুম শব্দ

নামতা ছলে ডেকে ওঠে

কুনো ব্যাঙের ঝাঁক তো।

বৃষ্টি এলে মাছেরা সব

উঠে আসে ডাঙায়

মানুষগুলো পলো হাতে

পদ্ম বিলে ঝাঁপায়।

বৃষ্টি এলে রাখাল ছেলে

নাইতে নামে, খেলতে নামে

কুমার নদের জলে।

হিজলগাছের ফলগুলো সব

পড়তে থাকে, ঝরতে থাকে

তালপুকুরের জলে।

বৃষ্টি এলে গাজীর গানে

ভরে ওঠে জলসা

গাজী কালু চম্পাবতীর

ভালবাসার গ্রামটা।

এই বরষায়

মুহাম্মাদ আমানুল্লাহ

অন্ধকার আলোয়ান খুলে এখানে দাঁড়িয়ে আছে-

আমাদের চেনা শহরে দুপুরে ঘামে;

চিতা হরিণের মতো কয়েক হাজার সূর্য বুকে নিয়ে আমি ঠিক তোমার পেছনে; তোমাদের কেউ আমাকে দেখে না, না আঁধার, না আমার শহর, না তুমি।

এই মায়াপথে বেদনার হিমঘরে বসতি আমার- অরিত্রে রেখেছি হাত

রতিঅরতির ধ্রুব পারাপারে,

- তোমার অবসরের গান আমার সাকিন;

নিজেরে লুকাবে কত! উফ্, এইবার প্রাণ খুলে গান গাও; কবিতার কাছে যাও- অযুত সূর্যের মোলাকাত হবে এই মেঘে এই রোদে অন্ধকারে ঘোর বরষায়।

  • বিশ্বসাহিত্য সংখ্যা চার

    ক্যারল অ্যান ডাফি এই সময়ের কবি

    উদয় শংকর দুর্জয়

    newsimage

    আবেগপ্রবণতা অথবা কাঠিন্য, কৌতুকরসবোধ অথবা গীতিবিন্যাস, রীতিবিরুদ্ধ মনোভাব অথবা প্রচলিত ধারা, যাদুবাস্তবতা

  • ক্যারল অ্যান ডাফির কবিতা

    ভাষান্তর : উদয় শংকর দুর্জয়

    newsimage

    তাঁর মুক্তাগুলোকে উদ্দীপ্ত করা আমার নিজের ত্বকের পাশে, তাঁর মুক্তা খচিত গহনা। আমার

  • ওই মহাসিন্ধুর ওপার থেকে

    হাসান অরিন্দম

    newsimage

    একটি চিহ্নিত ভূখন্ডে মানবসন্তানের জন্ম হয়, আর আমরা পাই এক-একটি মাতৃভাষাও। সেই

  • ডব্লিউ এস গ্রাহাম-এর অপ্রকাশিত কবিতা

    ভূমিকা ও অনুবাদ : মিলটন রহমান

    newsimage

    সম্প্রতি স্কটিশ কবি ডব্লিউ এস গ্রাহাম-এর কিছু অপ্রকাশিত কবিতা প্রাপ্তির কথা জানিয়েছে

  • একজন মানুষ

    মূল : ভায়াকম মোহাম্মদ বশীর
    ভাষান্তর : নীতিন রায়

    newsimage

    আপনার নির্দিষ্ট কোন পরিকল্পনা নেই। আপনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে বহুদূরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

  • নিরাপত্তা

    জান্নাতুল ফেরদৌস

    newsimage

    বেলা এগারোটার দিকে আমি পৌঁছালাম সেই গ্রামটাতে। এখন আমি ভিকটিমের বাড়ির ছোট

  • কানিজ পারিজাতের শিহরন জাগানো গল্পগ্রন্থ ‘জলশিহরন’

    অঞ্জনা সাহা

    newsimage

    কানিজ পারিজাত একজন গল্পকার। কিন্তু তাকে আমি কবি বলেই জানতাম! প্রথম যেদিন

  • ভারতের বুকে বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ

    মাটি চাপা হুঙ্কারের ইতিহাস ও নকশালবাড়ি

    গৌতম গুহ রায়

    newsimage

    (পূর্ব প্রকাশের পর) তেভাগা’র আন্দোলনে জলপাইগুড়ির ডুয়ার্সের ইতিহাস এক ব্যতক্রমী ঘটনা। এখানে কৃষকের