menu

অসম্পূর্ণ গল্প (পর্ব ৪)

মুজতাবা শফিক

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯
image

শিল্পী : সঞ্জয় দে রিপন

(পূর্ব প্রকাশের পর)

সপ্তম অধ্যয়

মুমিনের ক্লাস ফাইভের বৃত্তি পরীক্ষার সময়, আব্দুল হক সাহেব বাসায় এক গৃহশিক্ষক নিয়ে হাজির। আব্দুল হক সাহেব নামাজি মানুষ। মাঝে মাঝে কোরান হাদিসের বই পড়ার চেষ্টা করেন। ছেলে মুমিনকেও সবসময় ধর্ম বিষয়ে উৎসাহ দেন। কিন্তু ছেলের গৃহশিক্ষক হিসাবে তিনি এক হিন্দু ভদ্রলোককে ধরে নিয়ে এসেছেন! এই বিষয় তার মতামত একটু ভিন্ন! তার কথা হচ্ছে হিন্দুরা শিক্ষক হিসাবে ভালো। এই অঞ্চলে হিন্দুরা একসময় টোল চালাতো। লেখপড়ার চর্চা তাদের হাত ধরেই হয়েছে! তাই ছেলের জন্য হিন্দু শিক্ষক খোজা! কিন্তু খুঁজলেই কি আর পাওয়া যায়! হিন্দু শিক্ষক এখন পাওয়া দুস্কর। অনেক খুঁজে এই ভদ্রলোক কে পাওয় গেল! নাম উদয় পাল। স্থানীয় এক প্রাইমারি স্কুলের হেড মাস্টার। টিউশনির কথা শুনে এক কথায় রাজি!

পুরো বিষয়টা ভীষণ অপছন্দ করলেন মুমিনের মা সালেহা বেগম। বৃত্তি পরীক্ষা বলেই মাস্টার লাগবে! আব্দুল হক সামান্য চাকরি করেন। মাস্টারের বেতন আসবে কোথা থেকে। মাস্টার রাখলে হিন্দু মাস্টারই-বা কেন? যাই হোক তার প্রবল আপত্তির মুখেও উদয় মাস্টার বহাল হলেন। প্রথম থেকেই মাস্টারকে ভালোলাগে মুমিনের। পড়ানোর প্রতি কোনো আগ্রহ নেই মাস্টারের। বরং উশখুশ করতে থাকেন কখন নাস্তা আসবে! সালেহা বেগম যা-ই দেন খুব আগ্রহ নিয়ে চেটেপুটে খেয়ে ফেলেন উদয় মাস্টার। শুধু পর্দার ওপারে সালেহা বেগমের চুড়ির টুং টাং শব্দ হলে খুব গম্ভীর মুখে বই খুলে বসেন! বাকি সময়টা ছাদের দিকে তাকিয়ে কি যেনো ভাবেন! প্রায় বলেন,

-এতো পইড়া কি করবি! আগে ভালো মানুষ হ, তারপরে না ভাল ছাত্র হবি!

এরকম মাস্টারকে কোন ছাত্র না পছন্দ করে! মুমিনের ও ভারি পছন্দ উদয় মাস্টারকে।

-মুমিন মানে জানোস!

জানতে চায় উদয় মাস্টার! ডাইনে বায়ে মাথা নাড়ে মুমিন!

-মুমিন মানে বিশ্বাসী। মাইনে যারা নিজে ইসলাম ধর্ম বিশ্বাস করে, স্বীকার করে এবং সাথে সাথে কঠোরভাবে এর নির্দেশ মাইনা চলে এমন, বুঝলি কিছু? মুমিন মানেই মুসলিম, কিন্তু সব মুসলিম কিন্তু মুমিন না! কী বুঝলি!

এত কঠিন কঠিন কথা ভালো বোঝে না মুমিন! কিন্তু উদয় মাস্টারের কথা তার ভালো লাগে। উদয় মাস্টার বইখাতা বন্ধ করে নানান আবোল তাবোল বকতে থাকেন।

-বুঝলি, সমাজতন্ত্র কিন্তু টিকবো না! এই দুনিয়া কিন্তু মনে কর সমাজতন্ত্রের উপযুক্ত না! বুঝলি!

কিছুই বোঝে না মুমিন! অবাক হয়ে শুধু তাকিয়ে থাকে!

-সমাজতন্ত্র মানে বুঝিস! আরে বুঝলি না, মনে কর আমরা সবাই এক রকম খামু, একরকম পিনমু এই আর কি! কিন্তু দুনিয়ায়, ভগবান কি এম্নেই সব বানাইছেন!

কিছুই বোঝে না মুমিন তারপরও ডাইনে বায়ে মাথা নাড়ে!

-তুই আজকে কি খাইসস ক!

-মুরগির মাংস আর ভাত।

-আইচ্ছা, মনে কর তুই মুরগি খাইলি। মুরগি কী খাইছে? মুরগি খাইছে কেচো। আবার কেচো খাইলো মনে কর মাটি। তাইলে কি হইলো!

-কি হইলো?

মুমিন উল্টো জিজ্ঞেস করে।

-বুঝলি না! সমতা কি হইলো?

একটু যেনো রেগেই যায় উদয় মাস্টার।

-আবার মনে কর তুই যখন মইরা যাবি এই কেচো তোরে খাইবো!

হাসে উদয় মাস্টার। যেনো বিরাট এক জ্ঞানের কথা বলে ফেলছেন!

একদিন দেখা যায় মাস্টারের মন খুব খারাপ। মুখটা যেনো পুরো ঝুলে গেছে। ভয়ে ভয়ে মুমিন জিজ্ঞেস করে,

-সারের কি মন খারাপ!

-বুঝলি মুমিন এই ভগবানের পৃথিবীতে আমরা মানুষেরা একদম উপযুক্ত না! বুঝলি কিছু!

মুমিন ডাইনে বাঁয়ে মাথা নাড়ে।

-মনে কর, ভগবান এতো সুন্দর করে এই দুনিয়াটা সৃষ্টি করছেন। তারপর দুনিয়ার ভার দিয়া দিছেন মানুষের উপর। কিন্তুক, মনে কর এই ভার নেয়ার মত গুণ কি মানুষের আছে!

মুমিন আরো অবাক হয়! মাস্টার ঠিক কোন বিষয়ে কথা বলছে তার কিছুই সে বোঝে না!

-আসার সময় দেখলাম রাস্তার দুই পাশের সব গাছ কাইটা ফেলাইতেছে। দুইশ’ বছরের পুরানো গাছ! রাস্তা বড় করবে বইলা গাছ সব কাইটা ফালাইলো! কোনো মানে হয়?

মুষড়ে পড়েন উদয় মাস্টার। বিড়বিড় করে বলেন,

-সব ব্যালেন্স নষ্ট হয়া যাইতেছে।

কিসের ব্যালেন্স! কার সাথে কার ব্যালেন্স, কিছুই বোঝে না মুমিন!

আরেকদিন হঠাৎ এসে বলে,

চল, আজকে সাধু সংগ করবো! সাধু সংগ খুবি জরুরি!

-সেটা কী!

-তোদের পাড়ায় একজন সাধু বাবা চলে এসেছেন। জানিস কিছু?

মুমিন মাথা নাড়ে, জানে না!

-ওনার আসল নাম হায়দার সাহেব। সবাই ওনারে হাঁটা বাবা বলে। উনি কোনো কথা বলেন না, খালি হাঁটে। লোকে কয়, খানাদানা করেন না, পায়খানা পেচ্ছাবও নাকি করেন না। উনি হাঁটেন আর লোকজন সব ওনার পিছে পিছে হাঁটে। মাঝে মাঝে খুশি হইলে পানি পড়া দেন! চল পানি পড়া নিয়া আসি।

যেই বলা সেই কাজ, উদয় মাস্টার আর মুমিন বোতলে পানি নিয়ে হাঁটা বাবার কাছে হাজির। সে এক এলাহী কান্ড! হাঁটা বাবা মানে হায়দার সাহেব হাঁটছেন আর ত্রিশ চল্লিশজন ওনার পিছনে পিছনে হাটছেন! সরু গলিতে রিকশা গাড়ি চলার মতো আর অবস্থা নাই! হায়দার সাহেবের গায়ে মলিন ছেঁড়াফাড়া পোশাক। চুলে জটা পড়ে গেছে কবে থেকে কে জানে! গোসল মনে হয় কোন কালেও করা হয়ে ওঠেনি! গায়ে বোঁটকা গন্ধ! হায়দার সাহেব আপন মনে হাঁটছেন আর বিড়বিড় করে কথা বলছেন! কী বলছেন কিছুই বোঝা যায় না। শব্দগুলো বাংলা নয় এটুকু বোঝা যায়! তার পিছনের এই লম্বা মানষের সারি নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যাথা দেখা গেলো না! কাউকে পানি পড়া দেবার কোনো ইচ্ছাও দেখা গেলো না! মুমিন আর উদয় মাস্টার সারাদিন হায়দার সাহেবের পিছনে হাঁটলো, কিন্তু হায়দার সাহেব শুধু হেঁটেই গেলেন! পানি পড়া পাওয়া গেলো না!

এভাবে সারাটা বছর কেটে গেলো! সালেহা বেগম মাঝে মাঝে বইপত্র নিয়ে আসতে বলতেন! উল্টেপাল্টে দেখার চেষ্টা করতেন!

-মাস্টার আইজকা কি পড়াইছে!

মুমিন হিজিবিজি কিছু দেখিয়ে দেয়! কিন্তু উদয় মাস্টারের কীর্তিকলাপ সব ফাঁস হয়ে গেলো পরীক্ষার সময়! পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে মুমিনের কাছে মনে হলো, প্রশ্নগুলো তাকে ভেংচি কাটছে! কালো কালো অক্ষরগুলো প্রশ্নপত্রের ভিতর থেকে পোকার মতো বেরিয়ে আসছে আর মুমিনকে কামড় দিচ্ছে! বৃত্তি তো দূরের কথা মুমিন সেবার ফেল করে গেলো! ফাইভ থেকে আর সিক্সেই উঠতে পারলো না!

উদয় মাস্টারকে আর কোন দিন দেখেনি মুমিন। অনেক খোঁজা হলো কিন্তু উদয় মাস্টার কোথায় বুদ্বুদের মতো মিলিয়ে গেছে। সালেহা বেগম শুধু হিস হিস করে বলতে থাকেন,

-অরে পাইলে আমি কান ছিঁড়া ফালামু! কত্ত বড় শুঁয়ার!

মুমিনের অতি সাধারণ জীবনে উদয় মাস্টার এক বিশাল আকাশকে টেনে নামিয়েছিলেন! কিন্তু সেই আকাশে উড়তে শেখাননি তিনি! ডানা মেলার অনেক আগেই মুমিনের জীবন থেকে হারিয়ে গেলেন তিনি!

অষ্টম অধ্যয়

মতিঝিলের শাপলা চত্বরের কাছেই বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরাট বিল্ডিং। তার পিছন দিকে একটা রোড আছে, নাম বক্স কাল্ভার্ট রোড। সেখানে টিনশেড-এর একতলা খাবার দোকান। “মায়ের দোয়া” হোটেল। এই মুহূর্তে লোকজন তেমন নাই। ছয়টার অফিস ছুটির পরে লোকজন থাকেও না। অফিসের সময় স্বল্প আয়ের প্রচুর মানুষ এখানে ভিড় করে। আশেপাশে আরো সব বিভিন্ন খুপড়ি দোকান। গ্রিলের দোকান, রিকশা মেরামতের দোকান এইসব। ব্যস্ত শহরের পাজরের নিচেই এক টুকরো শহরতলি বলা যায়।

মুমিন এক প্লেট ভাত নিয়ে খেতে বসেছে। শুধু ভাত আর ডাল! আর কিছু নেবার মতো পকেটের অবস্থা নেই। ভাত আর ডালই সে পরম তৃপ্তির সাথে খাচ্ছে। স্যুটকেসটা এখনো তার কাছেই রয়ে গেছে। আপাতত স্যুটকেসের চিন্তা ছেড়ে সে ভাত খেতে বসেছে। গতকাল রাতের পর এই প্রথম ভাত খাওয়া। তারপর সারাদিনের ক্লান্তি, ধকল সব মিলিয়ে মুমিন মৃতপ্রায়!

হোটেলের ওয়েটার ছেলেটা খুব চটপটে। বাচ্চা একটা ছেলে। গোফের রেখা ওঠেনি। অন্য সময় হলে সে হয়ত মুমিনকে লক্ষ্য করত না! কিন্তু এখন একটু ফাঁকা বলে সে মুমিনের পুরো ব্যাপারটা লক্ষ্য করে। মুমিন যে বেশ ক্ষুধার্ত বুঝতে পারে।

-এক্টা মুর্গি দিমু বস, ট্যাকা লাগবো না! আমি দিয়া দিমি নে।

ওয়েটার ছেলেটা হঠাৎ কাছে এসে বলে!

মুমিন অবাক হয়ে তাকায়! পৃথবীতে আসলে অনেক ভালো মানুষ আছে! কিন্তু আফসোস তাদের সাথে তার দেখা হলো না! আজ শেষ বেলায় এসে তারা সব ভিড় করছে।

-নারে লাগবে না! মুমিন হাসে, ইতস্তত করে বলে,

-তোমার নাম কী!

-বরকত বস!

নামটা শুনে চমকে যায় মুমিন!

বরকত! কী আশ্চর্য এক বরকত তাকে পথে বসিয়েছে আরেক বরকত তাকে খাওয়াতে চায়!

সব ধর্ম গ্রন্থে ফেরেশতা, দেবদূত এসবের উল্লেখ আছে। বরকত সাহেবকে মুমিনের মনে হয়েছিলো সাক্ষাৎ একজন ফেরেশতা। যেনো ঠিক আরশ থেকেই নেমে এসেছেন। তখন নতুন বিয়ে হয়েছে মুমিনের নাইমুনের সাথে। মতিঝিলের একটি মাল্টি ন্যশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে মুমিন। কিছুদিন সালেহা বেগম আশ্রয় দিয়েছিলেন! কিন্তু যা হবার তাই হলো! সালেহা বেগমের সাথে বেশিদিন থাকা গেলো না। নাইমুনকে নিয়ে ভাড়া বাসায় উঠতে হলো! নতুন চাকরি, কোন কিছুর হিসাব মেলে না! এটা যদি বাড়ি ভাড়া হয় তাহলে খাওয়ার টাকা কই! আবার এটা খাওয়ার টাকা হলে যাতায়তের টাকা কই! নাইমুন অবশ্য সব হাসিমুখে মেনে নিচ্ছিলো। কিন্তু কতদিন? অসহায়ভাবে তাই চিন্তা করে মুমিন! ঠিক এরকম এক সময়ে বরকত সাহেবের সাথে মুমিনের পরিচয়! বরকত সাহেব পেশায় কন্ট্রাক্টর। তাদের অফিসে বিভিন্ন প্রজেক্টে মাল সাপ্লাই দেন! বিরাট সজ্জন ব্যক্তি। সবসময় সাদা পাঞ্জাবি পরে থাকেন। কেতা দুরস্ত মানুষ। চাপা দাড়ির মাঝে শুভ্র হাসি লেগেই আছে। মুমিনের সাথে সরাসরি কোন কাজ ছিল না তার। কিন্তু অফিসে আসলেই মুমিনের টেবিলে বসতেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গালগল্প জুড়ে দিতেন! মুমিনেরও সাধাসিদা লোকটা কে ভালো লাগতো। এরপর পরিচয়টা একটু গভীর হতে মতিঝিলের সব নামীদামী ক্যাফেতে লাঞ্চ করতো তারা! বলা উচিত বরকত সাহেব লাঞ্চ করাতেন! মুমিন কয়েবার আস্ফুটভাবে বিল দেবার চেষ্টা করেছে। কিন্তু প্রতিবার বরকত সাহেব হেসে থামিয়ে দিয়েছেন! একদিন ভদ্রলোক হঠাৎ বললেন,

-মুমিন সাব, দুনিয়ায় সবচাইতে শক্তিশালী প্রাণি কী বলেন দেখি! দেখি আপনার কেমন বুঝ!

হাসে মুমিন, কিছু বলে না।

-পারলেন না? দেখেন হাতি, গন্ডার আর সাপখোপের চাইতেও বেশি শক্তি কার জানেন?

মিটিমিটি হাসে বরকত সাহেব!

-এক্টা মশার। জ্বী ভাই, মশা, মাছি, ইন্দুর এইগুলার শক্তি কিন্তু হাতি গন্ডার থেকে বেশি। জিগান কেম্নে?

নিজেই উত্তর দেন বরকত সাহেব,

-ভাই, একটা হাতি এক সাথে কয়জনরে মারতে পারে, কন! দশজন বিশজন! আর ওই মশা গ্রাম খালি কইরা ফালাইতে পারে। কি পারে না! ভুল কইলাম?

মুমিন উপর নিচে মাথা নাড়ায়। কথা সত্য। কিন্তু কী প্রসঙ্গে কথা হচ্ছে বুঝতে পারে না! মুমিনের আগ্রহ বাড়ে।

-আপ্নি ভাই এই অফিসের একজন মশা! বুঝলেন ভাই মশা! কিন্তু আপনার হাতে অসীম ক্ষমতা! আপনার এমডির চাইতে কিন্তু আপ্নার ক্ষমতা কম না! সময় থাকতে এই ক্ষমতা কাজে লাগান!

এইবার আস্তে আস্তে ঝেড়ে কাশেন বরকত সাহেব,

-শোনেন ভাই, আপনি নতুন বিয়া করছেন জানি! নতুন বউরে নিয়া কেম্নে কষ্টে সংসার করতেছেন তাও জানি!

মুমিন সত্যি অবাক হয় এবার! তার নতুন সংসারের খোঁজ বরকত সাহেব পেলেন কোথা থেকে! এসব নিয়ে কি তাহলে অফিসে চর্চা হয় নাকি!

-কিছু মনে করবেন না মুমিন ভাই, আপনি বেতন যেনো কত পান ভাই!

অংকটা মুমিন ফিসফিস করে বলে!

-আহারে! খাইবেন কি আর পিনবেন কি ভাই! আর নতুন বউর কত সাধআহ্লাদ আছে না! সময় গেলে এইসবের কি আর দাম থাকে! দেখি আপনার কিছু উপকার করা যায় কিনা!

স্বগোক্তি করেন বরকত সাহেব!

এরপর আঠারো কোটি টাকার প্রজেক্ট কীভাবে আশি কোটি করতে হবে সব শিখিয়ে দেন বরকত সাহেব! কীভাবে ভুয়া ডকুমেন্ট তৈরি করতে হবে, কোন কোন ডকুমেন্ট গায়েব করে ফেলতে হবে সব। এমনকি বড় কর্তার সই কোথায় কোথায় নকল করতে হবে ইত্যাদি।

এই জালিয়াতির ঘটনা খুব দ্রুত ফাঁস হয়ে যায়! একটা মামলা হয়! আসামী মুমিন একা। এই মামলা বছর ধরে চলে! মুমিন এর ভাগ্য ভালো জেল হয় নি! শুধু চাকরিটা চলে গেছে। এমডি সাহেবের দয়া ছাড়া আর কিছু না! এমডি সাহেব মুমিনকে শুধু একটি কথাই বলেছিলেন,

-মুমিন তুমি!

বরকত সাহেব কয়েকবার আদালতে এসেছিলেন। তিনি বলেছেন, মুমিনকে তিনি ভালো করে চেনেন না! অফিসে কয়েকবার দেখেছেন এই ব্যস।

গত একবছর ধরে সবার অলক্ষ্যে বরকত সাহেবের পিছু নিয়েছিলো মুমিন! নেশার মতো হয়ে গিয়েছিলো। বরকত সাহেব সকালে কয়টায় ঘুম থেকে ওঠেন তারপর কোন মসজিদে নামাজ পড়তে যান। দুপুরে কোন হোটেলে খান, বিকেলে কোথায় আড্ডা মারতে যান, সব নীরবে লক্ষ্য করে যাচ্ছিল মুমিন! এমনকি মুমিনদের পাড়াতেই, কার সাথে শুতে যান বরকত সাহেব সব জানা আছে মুমিনের। এভাবেই কাজটা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিলো মুমিনের জন্য! (চলবে)

  • নজরুলের ‘বিদ্রোহী’

    মঈনউদ্দিন মুনশী

    newsimage

    ‘বিদ্রোহী’ নজরুল ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা। ‘বিদ্রোহী’ যখন প্রথম প্রকাশিত হয়, তখন

  • বিশ্বসাহিত্যের সাম্প্রতিক প্রবণতা

    ইকোক্রিটিসিজম ও ইকোফিকশন

    মাহফুজ আল-হোসেন

    newsimage

    ইকোলজি বিষয়টি মানুষের পরিবেশ সচেতনতার মধ্য দিয়ে একটি শাস্ত্রে রূপান্তরিত হয়েছে ঊনবিংশ

  • হেনরি জেমস

    দুঃসাধ্যের স্থপতি

    কামরুল ইসলাম

    newsimage

    আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক হেনরি জেমস (১৮৪৩-১৯১৬) তাঁর বেশ কিছু লেখার মধ্য

  • ওসামা অ্যালোমারের অণুগল্প

    অনুবাদ: ফজল হাসান

    newsimage

    লাথি দু’জন প্রশ্নকর্তা কয়েদীকে কক্ষের এক কোণে জবুথবু অবস্থায় ফেলে যায়। কয়েদীর ক্ষত

  • স্লোভেনিয়ান কবি গ্লোরিয়ানা ভিবারের সাক্ষাৎকার

    ‘বাংলাদেশ আমাকে গোলাপের কথা মনে করিয়ে দেয়’

    newsimage

    সম্প্রতি একুশে বইমেলায় মার্কিন প্রবাসী বাংলাদেশী কবি ও অনুবাদক রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে

  • আমার আছে বই ৮

    মালেকা পারভীন

    newsimage

    গতবার ইরানি কুর্দিশ লেখক বেহরুজ বুচানি সম্পর্কে লিখেছিলাম। অনেকেই বুচানি বা তাঁর

  • নির্মম যম

    অনুবাদ : শামসুজ্জামান হীরা

    newsimage

    আমি এক দন্ডপ্রাপ্ত ভবঘুরে আত্মা। এক অস্থির আত্মা। এখানে সেখানে অনবরত ঘুরে

  • কামরুল হাসানের কবিতা

    newsimage

    উনিশ বছর একটি পাখির আর কতটুকু বয়স? উনিশ বছর অনাঘ্রাত রোম নিয়ে বসন্তের বাগানে

  • পথচারী

    রে ব্র্যাডবেরি

    newsimage

    নভেম্বরের রাত আটটায় কুয়াশা ঢাকা শহরের নীরবতায় ডুব দেওয়া, কংক্রিটে মোড়া ফুটপাথে

  • চয়ন শায়েরীর কবিতা

    newsimage

    স্কিজোফ্রেনিয়া : দুই একটা হাত হ্যাঁচকা টানে মগজ বের করে আনে গাছ গজিয়ে ওঠে

  • এ সংখ্যার কবিতা

    হৃদযন্ত্র নভেরা হোসেন তোমার ঘরের পাশেই আরেকটি ঘর তার পাশে আরেকটি তার