menu

অসম্পূর্ণ গল্প (পর্ব ২)

মুজতাবা শফিক

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ মে ২০১৯
image

শিল্পী : সঞ্জয় দে রিপন

(পূর্ব প্রকাশের পর)

তৃতীয় অধ্যয়

- আমি কিন্তু আসলেই ডাক্তার, ভাই! ইন্টার্নি করা হয়ে ওঠেনি। নানান সাংসারিক ঝামেলা! তাই ডাক্তারির সার্টিফিকেটটা আর নেয়া হয়ে ওঠেনি। লোক্টা বলেই চলেছে।

ধানমন্ডি বত্রিশের কাছে এসে বাস থেকে নেমে পড়েছে মুমিন! বাসে লোকের ভিড় বেড়ে যাচ্ছিল। লোকজন সরু চোখে সুটকেসটা দেখছিল। বাধ্য হয়ে নেমে গেছে মুমিন। সব থেকে ভালো হতো বাসেই সুটকেসটা রেখে নেমে যেতে পারলে। চেষ্টাও করে ছিলো মুমিন! কিন্তু করিৎকর্মা হেল্পার ছেলেটার জন্য পারা গেলো না!

- বাই, আপনার ব্যাগ ফেলাইয়া যান কই!

ছেলেটা অবাক হয়ে বলে! মুমিন হাসে। সেই বেকুবের হাসি। স্যুটকেসটা নিয়ে টেনেহিঁচড়ে কোন রকমে এই লেকের পাড়ে পার্কে এসে উঠেছে। বত্রিশ নাম্বার হয়ে লোহার ব্রিজটা পেরুলেই সুন্দর পার্ক। অসংখ্য মানুষ এই পার্কে। ঢাকা শহরে দুই কোটি মানুষের বাস হলে, এই পার্কেই এখন আছে মনে হয় দুই লাখ মানুষ! খুব যতœ করে পার্কটা ডিজাইন করা হয়েছে। চমৎকার বসার জায়গা। মুমিন একটা জায়গা বের করে বসে পড়লো। আর পারা যাচ্ছে না। ক্ষিদেয় পেট চন চন করছে। কাল রাতের পর থেকে পেটে কোনো দানা পানি পড়েনি। আর খাওয়ার মতো কোনো অবস্থাও ছিলো নাকি? পার্কেই অনেকগুলো খাবার দোকান। মুমিন কলা আর পাউরুটি নিয়ে গোগ্রাসে গিলতে থাকে। আর ঠিক তখনই ডাক্তার আকমলের পাল্লায় পড়া!

মুমিন এখন খেয়াল করলো, কয়েকজন পার্কের মাঝে টেবিল-চেয়ার পেতে রীতিমত চেম্বার বানিয়ে ফেলেছে। টেবিলের উপর স্টেথিস্কোপ, ডায়াবেটিস-প্রেশার মাপার নানা সরঞ্জাম, ওজন মাপার মেশিন, কী নেই! আবার সাইনবোর্ড আছে, এখানে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হয়, প্রেশার মাপা হয়, আরো কত কী! সেই রকম এক চেম্বারের মালিক ডাঃ আকমল সাহেব। কোন সময় গুটি গুটি, পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন ভদ্রলোক! সস্তা কোট-টাই পরনে। আবার টাইও আছে। এই গরমে কোট কেন পড়েছে বোঝে না মুমিন! বয়স ষাটের কোঠায়। হৃষ্টপুষ্ট শরীর।

- ডায়াবেটিস হইল নীরব ঘাতক ভাইজান। কোন সময় আপনার শরীলে আইসা বাসা বানবো টেরটাও পাইবেন না। তারপর মনে করেন আপ্নার লিভার, কিডনি সব খায়া ফালাইবো।

মুমিন কোন্ দিকে না তাকিয়ে একমনে খেয়েই চলেছে। ডাক্তার সাহেবের মনে হয় আজকে ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। সহজে সে পিছু ছাড়বে না!

- আমি এইখানে ডাক্তার কথাটা লিখি না। বোঝেন না, সব শিক্ষিত মাইনসের আনাগোনা। কেস হইয়া যাইতে পারে। কিন্তু রাইতে কামরাঙ্গীর চরে আমি রুগী দেখি। আমার ডিস্পেন্সারি আছে। সেখানে কিন্তু আমি মনে করেন, ডাক্তার! লোকটা তৃপ্তির হাসি হাসে। আহা এমন একটা কাজ জানলেও হতো, মুমিন ভাবে! দুটো পয়সা সৎ উপায়ে আয় করা যেতো।

পার্কের গাছগুলো দেখে মুমিন! কী বিশাল পুরনো সব গাছ। উদয় মাস্টার এখানে থাকলে খুব খুশি হতেন! বলতেন, প্রকৃতির ব্যালেন্স হইতেছে! এই রকম গাছ হয়ে যদি পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা যেতো! গাছই ভালো, মুমিন ভাবে। কোনো চাওয়া পাওয়া নেই, হিসেব নিকেষ নেই। শুধু বেঁচে থাকা। নীরবে শুধু দিয়ে যাওয়া। কারো কাছে কিছু পাওয়ার আশা করতে হয় না! মুমিনের মাঝে মাঝে খুব বাঁচতে ইচ্ছা করে। অনেক দিন বাঁচতে ইচ্ছা করে! আবার মনে হয়, তাহলে ওরা মরতে চায় কেনো। ওই যে, সাদা বালির উপর সারি সারি শুয়ে আছে হাজার হাজার বিশাল সব নীল তিমি। কেপ টাউনে, নিউজিল্যান্ডে, গ্রীন ল্যান্ডে বিচের উপর উঠে এসেছে সব তিমির দল। আর পানিতে ফেরানো যায় না ওদের। তাহলে ওরা মরতে চায় কেনো! সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে ওরা কেনো চলে যেতে চায়! কী ব্যালেন্স করতে চায় ওরা?

এখন খুব সম্ভবত আটটা কি নটা বাজে! কল্যানপুর থেকে এখানে আসতে এক ঘণ্টার বেশি নিশ্চয় লাগেনি! স্যুটকেস থেকে কি কোন গন্ধ বের হচ্ছে! এখন একটু টেনশন হয় মুমিনের। এম্নিতে সে একজন অনভূতিহীন মানুষ। সালেহা বেগমের চোখে বেকুব! আসলে কম বেশি সবাই তাকে বুদ্ধিহীন ভাবে! এবং আকারে ইংগিতে সেটা প্রকাশ করে! শুধু একজন তাকে মুখের ওপর কখনো এরকম কিছু বলেনি! বরং তার এই সরলতার চরম সুযোগ নিয়েছে। পদে পদে হাতে-কলমে প্রমাণ করে দিয়েছে যে, আসলেই সে একজন বেকুব!

নাইমুন। মুমিনের স্ত্রী। বলা উচিত সাবেক স্ত্রী। সেপারেশন হয়ে গেলে কি সাবেক স্ত্রী বলতে হবে? অনেক ভাবে মুমিন! নাহ, আইনগতভাবে যাই হোক না কেনো, নাইমুন হয়ত কোন দিনও তার স্ত্রী ছিলো না! অথচ কী প্রবলভাবেই না নাইমুনকে চেয়েছিলো মুমিন! গ্রীষ্মের খড়তাপে পুরে যাওয়া ধরণী যেমন করে বর্ষার ঠান্ডা পরশ চায়! হয়ত পেয়েওছিল। কিন্তু এক ঘরে থাকলে, এক সাথে থাকলে, এমনকি এক বিছানায় থাকলেও কি কাউকে পাওয়া যায়? নিজেই মনে মনে উত্তর দেয় মুমিন Ñপাওয়া যায় না!

নাইমুনকে প্রথম দেখার দিনটি মনে করার চেষ্টা করে মুমিন। বন্ধু শামীমের বাসায় প্রথম দেখা। খুব বেশি বন্ধু কখনই ছিলো না মুমিনের। আড্ডা দেয়ার মতো তো নয়ই। এক এই শামীমের সাথেই তার কথা হতো। কিন্তু শামীমের বাসায় যে এরকম একটা সুন্দরী মেয়ে থাকে, জানা ছিলো না। শামীম কখনো কথা প্রসঙ্গে বলেনি! নাইমুন শামীমের কোন এক সূত্রের বোন হয়। বলা যেতে পারে আশ্রিত বোন! নাইমুনের বাবা মা অনেক কাল আগে মারা গেছেন। শামীমের মা তাকে আশ্রয় দিয়েছেন। বেশ কয়েক বছর ধরে এই পরিবারটি নাইমুনের নিজের পরিবার। নিজের জীবনের এই বিয়োগান্তক ঘটনার কোন ছাপ কিন্তু নাইমুনের মধ্যে নেই। প্রাণোচ্ছল এক জীবন্ত টগবগে মানুষ! মুমিনের মনে হয়, পৃথিবীতে শুধু দুই ধরনের মানুষ আছে, এক, যারা এই সুবিশাল মহাবিশ্বে জীবিত প্রাণসত্তা হিসাবে নিজেকে ধন্য মনে করে যেমনটি নাইমুন আর দুই হচ্ছে তার মতো হেরে যাওয়া মানুষ। কোন যুদ্ধ না করে হেরে যাওয়া মানুষ। এই পৃথিবীর সব কিছুর প্রতি তাদের আছে শুধু অনুযোগ। নাইমুনকে দেখে মুমিনের প্রথম মনে হলো সে এবার প্রথম সারিতে এসে দাঁড়াবে। এই মেয়ের যা কিছু প্রাণশক্তি আছে, তাতে বিস্তর ভাগ বসাবে!

কোন এক নাটক বা সিনেমার টিকেট নিয়ে খুনসুটি চলছিলো ভাইবোনের। নাইমুনের কথা হচ্ছে আজকেই টিকেট কিনে দিতে হবে এবং তাকে নিয়ে যেতে হবে। শামীম যাবে না। এই দারুণ সুন্দরী মেয়েটার আদুরে ঠোঁটের ফাঁকের হাসির ঝিলিক আর কালো চোখগুলোর বাঁকা চাহনি আর সেই সাথে মায়া মায়া কথা; কীভাবে অবলীলায় পায়ে ঠেলছে শামীম! মুমিনের মনে হয়েছিলো শামীম ছেলেটা কি পাষান!

- আমি যাবো! নিজের গলাকে ঠিক বিশ্বাস করতে পারছিলো না মুমিন। সেই কি বললো! নাকি তার ভিতরের কোনো ভূত!

নাইমুন এই প্রথম ভালো করে লক্ষ্য করে মুমিনকে। ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসে হাসির ঝলক! মুমিনের মনে হয় পৃথিবীতে কত আলো! মুমিনকে অবাক করে সত্যি সেদিন সিনেমায় গিয়েছিলো নাইমুন! আর এই ঘটনায় বোধহয় সবচাইতে খুশি হয়েছিলেন শামীমের মা! শামীম আর নাইমুনকে নিয়ে উনি খুব শংকিত ছিলেন! নাইমুনের সাথে শামীম আবার জড়িয়ে পড়েন কিনা, সেই ভাবনায় তিনি ছিলেন কাতর। এবার তিনি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন!

চতুর্থ অধ্যয়

নাইমুন কি আমার জীবনের একমাত্র মেয়ে! চিন্তা করে মুমিন! অন্তত এরকমটাই ধারণা দিয়েছে সে নাইমুনকে। কিন্তু এটা কি তার বিশ্বাস না সততা! এটাই কি বাস্তবতা ছিলো! স্বপ্নার কথাটা, সে কি বলতে পারতো না? হয়ত বলা উচিত ছিলো। কিন্তু এটা কি বলার মত কিছু ছিলো? দ্বিধায় পড়ে যায় মুমিন। একটা সৎ সম্পর্ক তৈরি করার ক্ষেত্রে, সে কি কোনো দ্বায়িত্ব নিয়েছে! যাই হোক এসব এখন আর ভাবার মানে হয় না! নাইমুন এখন অতীত।

ডাঃ আকমল সাহেবের অযাচিত সাহায্যে, মুমিন এখন একটি রিকশায় উঠতে বাধ্য হয়েছে ! ভদ্রলোক টেনেটুনে স্যুটকেসটা মুমিনের সাথে রাস্তা পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন! ঝিকাতলার কাছে এসে রিকশা নিয়ে ভদ্রলোকের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া গেলো!

- স্যুটকেস নিয়া মাইনসে সদরঘাট যায়, বাস টার্মিনাল যায়, কিন্তুক আফনে স্যুটকেস নিয়া পার্কে বয়া আছেন! বোঝলাম না বিষয়ডা!

হাসে আকমল সাহেব। এয়ারপোর্টের কথাটা আর বললেন না! মুমিনকে দেখে ঠিক মনে হয় না সে প্লেনে ওঠার পাব্লিক!

- আফনে কি ঢুকাইসেন স্যুটকেস ও, কন দেখি! কি ভারি! আর ডায়াবেটিসের দিকে নজর দিয়েন কইলাম ভাইজান!

পেট দুলিয়ে হাসেন আকমল সাহেব। যেনো বিরাট হাসির কথা! উত্তরে মুমিন কাষ্ঠ হাসি হাসে!

- না, স্যুটকেস আমার এক বন্ধুর, ভাই! হলে থাকে। দিয়ে আসতে হবে!

মিনমিন করে আরো কিছু বলে মুমিন ঠিক বোঝা যায় না! ততক্ষণে আকমল সাহেব ফিরে গেছেন। রিকশাওয়ালা বলে,

- কই যাইবেন সার?

মুমিন ভাবে, সত্যি তো এখন কই যাবে? সূর্য এখন মাথার উপরে। রোদ চড়চড় করছে। সেইসাথে দুপুরের ক্ষিদেটাও বিশ্রীভাবে জানান দিচ্ছে! দুপুর একটা বাজে বোধহয়! পার্কেও স্যুটকেসটা রাখা গেলো না! এরপর আর কোথায় যাওয়া যায়! দিনেদুপুরে এভাবে স্যুটকেস নিয়ে ঘোরাঘুরি সম্ভব নয়! মানুষের সন্দেহ বাড়ছে!

- কাঁটাবন যাও!

অনেক চিন্তা করে মুমিন বলে। চাচ্চুকে খোঁজা যেতে পারে। চাচ্চুর কথাটা মনেই পড়েনি। এই দুঃসময়ে চাচ্চু ছাড়া আর কেইবা পাশে এসে দাঁড়াবে। কিন্তু চাচ্চুর সাথে যোগাযোগ নেই বহু বছর। কলেজে পড়ার সময় হরিহর আত্মা ছিলো চাচ্চু আর মুমিন। আসল নাম আদনান বা অই জাতীয় কিছু! কেনো যে ওর নাম চাচ্চু হয়েছিলো এখন আর মনে পড়ে না। খুব সম্ভবত ওর এক ভাতিজা, মুমিনদের সাথে পড়ত, সেই কারণে চাচ্চু নাম! এরপর ইউনাভার্সিটি উঠে যাওয়ার পর কিছুদিন যোগাযোগ ছিলো। যদিও, সে ছিলো অন্য ডিপার্টমেন্টের ছাত্র। তবে চাচ্চু একসময় ভার্সিটিতে, রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। ফলাফল হচ্ছে, তার ছাত্রজীবন আর শেষ হয় না! এখনো সে কোন এক হলে থাকে। মুমিন ভাবে, একটা শেষ চেষ্টা করা যেতে পারে। কাঁটাবনের হলটা ঢুঁ মারা যাক। না পেলে অন্য ব্যবস্থা!

কাঁটাবন আর নীলক্ষেতের অলিগলি তস্য গলি একসময় মুমিনের ভীষণ চেনা ছিলো। বাইরে থেকে বোঝা যায় না। পরিচিত ছাড়া ভিতরে কিছু পাওয়াও যাবে না! কিন্তু এই অত্যন্ত সরু গলি, যেখানে দুটো মানুষ পাশাপাশি হাঁটা যায় না, সেই তস্য গলিতে, লুকিয়ে আছে এক স্বর্গরাজ্য, নেশার রাজ্য। চাচ্চুর কাছ থেকেই সব শেখা। কোন এক বিষণ্ন দিনে মুমিন বলেছিলো

- ভাল্লাগে নারে! মনে হয় দুনিয়াটা পানি দিয়ে গিলে ফেলি!

চাচ্চু কি বুঝলো কে জানে। শুধু বলেছিলো

- আয়, আমার পিছে পিছে আয়!

মুমিন অন্ধের মতো শুধু অনুসরণ করে। গলির গলি তস্য গলি পেরিয়ে চাচির ছোট্ট দোকান। যেনো গল্পের ঝাঁপি নিয়ে বসে আছে। আর ছোট ছোট গল্পের পুরিয়া বিক্রি করছে! তার কাছ থেকে কিছু গল্প কিনে নিয়ে বসে পরে দুই বন্ধু! দিনগুলো ভালই কাটছিলো মুমিনের।

এই রকম একসময় স্বপ্নার সাথে মুমিনের কিছু হয়। মুমিনের প্রথম অভিজ্ঞতা বলা যেতে পারে। সালেহা বেগম গ্রাম থেকে একটি মেয়ে নিয়ে এসেছিলেন তার সংসারে হাত লাগাবার জন্য। সালেহা বেগমের কঠিন মানা ছিলো তাকে কাজের মেয়ে বলতে। পনের ষোল বছরের উঠতি যুবতি মেয়ে। বাসার মধ্যে ঘুরঘুর করছে। কিন্তু সালেহা বেগমের ভয়ে চোখ তুলে তাকাবার উপায় নেই। পুরো ব্যাপারটা স্বপ্না প্রথম দিনই টের পেয়ে যায়। আর তাই মুমিনের সামনে পড়লেই ফিক করে হেসে ফেলে। এভাবে বেশ কিছুদিন যাবার পর একদিন রাতের ঘটনা। মুমিন তখন ঘোরের মধ্যে। সারাদিন কী কী খেয়েছে চাচ্চুর সাথে আর মনেও নেই। অপার্থিব কিছু অনুভূতির সাথে তার তখন বসবাস। মাঝরাতে মুমিনের মনে হয়, তার শরীরের উপর নরম একটা শরীর চেপে বসে আছে। শরীরের উপর অন্য একটা শরীরের ওঠা বসা, গরম নিশ্বাস আর চাপা শীৎকার সবই সে টের পায়! আবার মনে হয়, স্বপ্ন। তার নিজের শরীরেরই মাঝে এমন এক আনন্দ লুকিয়ে আছে, তা মুমিনের কল্পনার বাইরে ছিলো! মুমিনের মনে হলো তার জীবনের সকল নির্যাস, রাগ, ঘৃণা, ক্ষোভ, অভিমান সব কিছু আগ্নেয়গিরির লাভার মতো বেরিয়ে গেলো! শরীরের ভিতর তখন শুধু ভালো লাগা। দিনের বেলা স্বপ্নাকে দেখে মনে হলো তাকে যেনো ভালো করে চিনেই না! মুমিন ভাবে, স্বপ্নার সাথে কি কিছু হয়েছিলো তার! নাকি পুরোটা তার নেশাগ্রস্ত মনের কল্পনা! তারপরের রাতেও একই ঘটনা। সেই গরম নিশ্বাস আর চাপা শীৎকার আবার ফিরে আসে। মুমিন ভাবে যাক না Ñএভাবেই চলুক জীবন। পরের রাত থেকে মুমিন আর খুঁজে পায় না সেই নরম শরীরের অস্তিত্ব! যেই শীৎকার সে নিজের বুকের উপর শুনেছিলো, সেই শীৎকার সে শুনতে পায় পাশের আমানের ঘরে! একরাত নয় দুই রাত নয়, রাতের পর রাত! কাউকে কিছু বলে না মুমিন! আর বলার কীবা আছে!

এর প্রায় তিন থেকে চার মাস পরের ঘটনা। রাতে বাসায় ফিরে মুমিন দেখে বসার ঘরে বিরাট সালিস বসেছে। স্বপ্নার বাবাকে গ্রাম থেকে ডেকে নিয়ে আসা হয়েছে। স্বপ্না গর্ভবতী! মুমিনকে দেখেই স্বপ্না ডুকরে কেঁদে ওঠে। আর স্বপ্নার বাবা শূন্য চোখে তাকিয়ে থাকে। সে চোখে কোনো ভাষা নেই। অথবা কি ছিলো মুমিন তা জানতে পারেনি! মুমিন বাসায় কোথাও আমানকে দেখতে পায় না! কিছুই বলে না মুমিন! তার কিছু বলার ছিল না! স্বপ্না কে পত্রপাঠ বিদায় করে দেন সালেহা বেগম। মুমিন পরে শুনেছিলো স্বপ্নার বিয়েতে বড় একটা খরচ দিয়েছিলেন সালেহা বেগম। মুমিনকেও সেই রাতে বিদায় করে দেন সালেহা বেগম। মুমিন বাড়ি ফিরে আসে প্রায় বছর বাদে।

সেই এক বছর মুমিন কীভাবে কাটিয়েছে কেউ তাকে জিজ্ঞেস করে নি! শুধু বাবা আব্দুল হক সাহেব এসে বল্লেন,

- বাজান এতো শুকাইলা ক্যাম্নে!

(চলবে)