menu

অফিসে একদিন

হাইকেল হাশমী

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২০
image

অমিত

অমিত মাত্র বি-বি-এ করেছে। কতো কষ্ট করে এই প্রতিষ্ঠানে দুইটা লিখিত পরীক্ষা তিনটি মৌখিক পরিক্ষা, কম্পিউটার টেস্ট, মেডিক্যাল টেস্ট পাস করে এই চাকরিতে যোগদান করেছে। প্রথম তিন মাস ভালোই কেটেছে ট্রেনিং, বেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পরিবেশ। সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ক্লাস, তারপর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর আশেপাশের রেস্টুরেন্ট আর কফি শপগুলো আবিষ্কার করা। ট্রেনিং শেষের পর পোস্টিং আর তার পর সব ঝামেলা শুরু হলো। অফিসের পরিবেশ বেশ ছিমছাম, তার সহকর্মীরা বেশিরভাগ ভালো। কেউ কেউ আছে যারা নিজেদেরকে অনেক কিছু মনে করে, কারো নাক উঁচা, আবার কেউ অনেক অমায়িক, আবার কেউ অনেক বদরাগী। যেহেতু সে সব চেয়ে কনিষ্ঠ তাই তার উপর দিয়েই “রোলার কোস্টার” যায়।

এই চাকরির জন্য বন্ধু-বান্ধব দূর হয়ে যাচ্ছে, গার্ল ফ্রেন্ডের সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে যাচ্ছে। কোনো সামাজিক জীবন নেই, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চাকরি, ছুটির দিনেও কাজ। এখন সময় এসে গেছে একটি সিদ্ধান্ত নেয়ার, চাকরি না অন্য কিছু যেখানে আমি স্বাধীন থাকবো

বস তার চেম্বার থেকে বের হয়ে বলল, “অমিত একটা প্রেজেন্টেশান বানাতে হবে। আমার রুমে আসো বুঝিয়ে দেই কী করতে হবে। আজকে দুপুরের ভিতরে লাগবে কিন্তু।” এর আগে তার সুপারভাইজার একটা “প্রোপজাল” বানাতে দিয়ে গেছে যেটা আজ দুপুরের ভিতরেই দিতে হবে ওটাও খুবই জরুরি। তাছাড়া হেড অফিসে কয়েকটা “স্টেটমেন্ট” পাঠাতে হবে, ওটাও জরুরি। সে এইসব নিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে তখনই তার সেল ফোনে ম্যাসেজ, “আজ সন্ধ্যায় কফিশপে দেখা করার কথা, অবশ্যই এসো, বেশি অপেক্ষা করিয়ো না, জরুরি আলাপ আছে, তানিয়া”। তানিয়া তার গার্ল ফ্রেন্ড, আগে যেভাবে দেখা হতো এখন অফিস থেকে বের হতে হতে এতো দেরি হয়ে যায় যে কোথাও যাওয়ার অবস্থা থাকে না। তারপর গভীর রাত পর্যন্ত তার সঙ্গে “ম্যাসেঞ্জারে” কথা বলা। অপর্যাপ্ত ঘুম, তার উপর সময় মতো অফিসে পৌঁছানো- সব একটা “চ্যালেঞ্জ” হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জন্য। এদিকে সব বন্ধুরা আজ সন্ধ্যায় টি-এস-সি এলাকায় আড্ডায় বসবে, তাকে অবশ্য অবশ্যই যেতে বলেছে।

এতো চাপ সে নিতে পারছে না। তার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু আরিফ তাকে অনেক দিন থেকে তাগাদা দিচ্ছে একটি “বিজনেস প্ল্যান”-এর উপর কাজ করতে। তারা ওটার উপর একটা “প্রিলিমিনারি” কাজও করেছে, “ফিনানসিয়াল টুল” রান করিয়েছে এবং “পজিটিভ” রেজাল্ট পেয়েছে। একটি বি-টু- বি প্লাটফর্ম, গার্মেন্টস নিয়ে কাজ। বেশ ভালো সুযোগ আছে।

সে চিন্তা করল এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। অন্যদের জন্য কাজ না করে নিজের জন্য কাজ করা উচিৎ। এই চাকরির জন্য বন্ধু-বান্ধব দূর হয়ে যাচ্ছে, গার্ল ফ্রেন্ডের সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে যাচ্ছে। কোনো সামাজিক জীবন নেই, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চাকরি, ছুটির দিনেও কাজ। এখন সময় এসে গেছে একটি সিদ্ধান্ত নেয়ার, চাকরি না অন্য কিছু যেখানে আমি স্বাধীন থাকবো। না শালা চাকরিকে গুলি মারি, চাকরি ছেড়েই দিবো। জীবনে “রিস্ক” নিতে হয় তাই নিবো। সে কম্পিউটারে তার পদত্যাগের চিঠির “ড্রাফট” করতে শুরু করলো।

টিনা

“শালা বস সারাক্ষণ তার চেম্বারে ডাকে, কারণে অকারণে”, টিনা বিড়বিড় করে নিজেকে নিজেই বলল। সে প্রায় তিন বছর আগে কাজে যোগদান করেছে, বয়স হবে ২৫ বছর, বেশ সুন্দরী। সে মনে করে এই সৌন্দর্য নিয়ে সে বিপদে আছে। তার বস প্রায় ৪০-৪২ বছরের একজন পুরুষ, বিবাহিত, ২ বাচ্চার বাবা। সে তার কাজের থেকে সন্তুষ্ট কি না টিনা তা বলতে পারবে না, কিন্তু অন্যরা মনে করে যে বস তারে খুব পছন্দ করে, সে না কি তার পেয়ারের লোক।

টিনা নিজের উপর মহাবিরক্ত, যদি বাবা অবসরে না চলে যেতেন আর ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার ভার তার ওপর না বর্তাত তা হলে কবে যে সে চাকরি ছেড়ে দিতো! এখন করার কিছু নেই; তাকে চাকরি চালিয়ে যেতে হবে আর চাকরি করলে বসকে সহ্য করতেই হবে।

এমন না যে সে কাজকে ভালোবাসে না বা কাজ করতে চায় না। তার বেশ সুনাম আছে কিন্তু এই বস’কে নিয়ে সে বিব্রত। বস, কাজে অকাজে, সেধে সেধে তাকে তার রুমে ডেকে পাঠায়। কাজ থাকলে ডাকতেই পারে কিন্তু কোনো কাজ ছাড়া শুধু গল্প করার জন্য ডাকার তো কোনো দরকার নেই। আবার বস-এর চোখ মনে হয় এক্সরে মেশিন, সারাক্ষণ নজর বুকের ওপর। মনে হয় তার দৃষ্টি কাপড় ভেদ করে একদম বুকের ভিতরে গিয়ে লাগে। “আমার বুকে সে কি যে খোঁজে? শালা একটা আস্ত শুয়োরের বাচ্চা”, সে বিড়বিড় করে বলল।

তখনই পিয়ন এসে বলল, “স্যার আপনাকে ডেকেছেন”। টিনার মেজাজ আরো খারাপ হয়ে গেল। কী আর করা! যেতে তো হবেই! একটা নোটবুক হাতে করে বস-এর চেম্বারে ঢুকলো। বস হাসি মুখে বলল, “আসেন আসেন, টিনা কী খবর? সকাল থেকে যে দেখছি না!”

“কী বলেন স্যার, আমি তো আমার ডেস্কেই ছিলাম। ”

“ও আচ্ছা, শুধু ডেস্কে বসে থাকলে কি চলবে, একটু এসে দেখা করে যাবেন না?”

“কেন স্যার”, টিনা একটু রুক্ষভাবে বলল।

“আরে না, একটু সকালে অপডেট দিয়ে গেলে, কাজের কী গতি জানতে সুবিধা হয়। ওই টেন্ডারের ফাইলের কী করলেন?”

“স্যার প্রোসেসে আছে, আজকে পেয়ে যাবেন। ”

“ঠিক আছে যান। ”

যানটা এমন করে বলল যেন বলছে- “এবার আমার বুকে আসো জান। ” টিনা নিজের ডেস্কে ফিরে এসে কাজে মনযোগ দিল।

ঘণ্টাখানেক পর পিয়ন আবার এসে বলল, “ম্যাডাম, স্যার সালাম দিয়েছেন”। সে আবার বস-এর চেম্বারে ঢুকলো। বস হাসিমুখে বললেন, “আসেন মিস টিনা, কতো কাজ করবেন, একটু রিলাক্স করেন। ”

টিনা কিছু বলার আগেই তাকে বসতে বলে বেল দিলেন, পিয়নকে বলেন দুটো কফি আনার জন্য, সঙ্গে বিস্কুট।

“বুঝলেন মিস টিনা শুধু কাজ করলে তো চলবে না, একটু রিলাক্স করতে হয়। ”

“জি স্যার”।

“আচ্ছা মিস টিনা, একটি ব্যক্তিগত কথা জিজ্ঞাসা করি”, তার উত্তর শোনার আগেই কথা চালিয়ে গেলেন, “আপনার কোন বয়ফ্রেন্ড আছে না কি?”

“না স্যার, এইসব করার সময় নেই”।

“খুব ভালো, খুব ভালো। তা হলে তো সন্ধ্যার পর ফ্রি থাকেন তাই না?”

“কই স্যার বাসায় কতো কাজ থাকে। ”

“না, না বাসার কাজ তো করাই যাবে। নিজের ক্যারিয়ারের দিকে তো নজর দিতে হবে। ”

“স্যার কাজে তো কোনো গাফিলতি করি না। ”

“না দেখেন অফিসের কাজ তো সব কিছু না। আপনি ছাড়া আরো সবাই তো কাজ করে কিন্তু আমাকে তো ডিফ্রেনশিয়েট করতে হয়। ভালো পারফরমার, টপ পারফরমার তো একজনই হবে। টপ পারফরমার তো এমনি এমনি হওয়া যায় না, একটু এক্সট্রা কাজ করতে হয়। ”

“কাজ তো করি স্যার আর কী করবো?”

“আপনি তো সন্ধ্যার পর ফ্রি থাকেন চলেন কোথাও কফি খেতে যাই। ”

“স্যার সন্ধ্যার পরে যদি বাসায় না পৌঁছাই তখন আমাকে মেরেই ফেলবে। ”

“না এটা তো আপনাকে বুঝতে হবে, ক্যারিয়ার ম্যানেজ করা আপনার কাজ, আপনার বাসার লোকদের না। ”

“জি স্যার। ”

“যান ঠা-া মাথায় চিন্তা করেন। ক্যারিয়ার চান না এখানে পচতে চান। ”

টিনা কোনো কথা না বলে চলে এলো। সে চিন্তা করছে এমন বদ লোক দিয়ে পুরো ইন্ডাস্ট্রি ভর্তি। এখন তার কী উপায় হবে, ওই ব্যাটা ইতরের সঙ্গে কফি খেতে যাওয়া, তার পর বলবে আজ রাত আমার সঙ্গে থেকে যাও, কুত্তার বাচ্চা। এমন চাকরি না করাই উত্তম, অন্য চাকরি পেয়ে যাবো, আজই চাকরি ছেড়ে দিব, এই চিন্তা করে সে কাগজ নিয়ে পদত্যাগপত্র লিখতে বসে গেল।

স্বপ্না

স্বপ্না আজও দেরি করে অফিসে এসেছে। কোনো রকম বস-এর চোখ এড়িয়ে তার ডেস্কে বসলো। সঙ্গে সঙ্গে তার সহকর্মী তাকে বলল যে, বস তোমার খোঁজ করছিল। তার মনটা বিষণ্ণ হয়ে

গেল আজো বস’কে কৈফিয়ত দিতে হবে, কেন দেরি করে এসেছে। সে মনে মনে চিন্তা করতে লাগলো বস’কে কী বলবে। সাহস সঞ্চয় করে সে বস-এর চেম্বারে ঢুকলো। মিঃ রহমান তাকে দেখে ভ্রু কুঁচকিয়ে তার দিকে তাকিয়ে বললেন, “মিসেস স্বপ্না আজ আপনার কি এক্সকিউজ, অফিসে দেরি করে আসার?”

“স্যার সত্যি কথা আমার বাচ্চার অনেক জ্বর। সে আমাকে কোনোভাবেই ছাড়তে চাচ্ছিল না”, সে করুণ স্বরে বলল।

“আপনার সমস্যার তো কোনো শেষ নেই, আজ বাচ্চার জ্বর, কাল তার পেট খারাপ, আর এক দিন অন্য কোনো অজুহাত। আপনি অফিসে কাজ করেন না কি মশকরা করেন”, বস রেগে বলে যাচ্ছে আর সে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে আছে।

“যান কাজ করেন আর ভবিষ্যতের জন্য সাবধান হয়ে যান”, বস তিক্ত গলায় বলল।

স্বপ্না চোখ মুছতে মুছতে তার ডেস্কে এসে বসলো।

তার বিয়ের প্রায় সাত বছর পরে একটি সন্তান হয়েছে, তাও কতো কাঠ-খড় পুড়িয়ে। কতো ডাক্তার, দেশ-বিদেশের হাসপাতাল, পীর-ফকিরের দরবারে যাওয়া, পানি পড়া খাওয়া। যে যা বলেছে তাই করেছে। ঢাকায় চাকরির সুবাদে সে আর স্বামী থাকে, ছোট সংসার। তাদের মা-বাবা দেশের বাড়িতে থাকে। এখন সন্তান হওয়ার পর বাসায় কেউ নেই একটি কাজের মেয়ে ছাড়া। তার কাছে সারা দিনের জন্য বাচ্চা রেখে আসা, কোনোভাবে মন মানে না, কিন্তু সে কী করবে, কোনো উপায় খুঁজে বের করতে পারছে না। একজনের আয়ে সংসার চলবে না, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের যা দাম, বাড়ি ভাড়া তো অর্ধেকের বেশি বেতন খেয়ে ফেলে। তাকে তো চাকরি করতেই হবে।

বাচ্চার অসুখ লেগেই থাকে, আজ সর্দি, কাল জ্বর, পরশু পেট খারাপ। সারা রাত জেগে থাকে, নিজেও ঘুমায় না আর তাকেও ঘুমাতে দেয় না। তার “টেনশন” লেগে থাকে সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারবে কি না। যেই বাসা থেকে বের হতে চায় বাচ্চা জেগে যায় আর কান্না শুরু করে। তাকে চুপ করাতে গিয়ে তার প্রত্যেক দিন দেরি হয় অফিস যেতে। বস-এর ঝাড়ি তো শুনতেই হয়। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে চাকরি ছেড়ে দেয়ার কিন্তু তারও তো কোনো উপায় নেই।

সে নিজের ডেস্কে বসে, মাথা নিচু করে কাঁদছে। হঠাৎ অমিতকে আসতে দেখে সে তার চোখটা মুছে ফেলে। অমিত তাকে বলল, “আপা আর নিতে পারছি না”।

“কী হয়েছে, কী নিতে পারছো না?”

“এই রোজ রোজ অফিসে আসা-যাওয়া, কোনো নিজস্ব জীবন নেই। ”

“আচ্ছা তা হলে কী করবে?”

“আজকেই চাকরি ছেড়ে দিচ্ছি, এই যে পদত্যাগের চিঠি। বসকে দিতে যাচ্ছি। আমার জন্য দোয়া করবেন। ”

স্বপ্না তাকে দেখলো আর মনে মনে ভাবলো, ইশ আমিও যদি তার মতো চাকরি ছাড়তে পারতাম! আমার বাচ্চাকে সময় দিতে পারতাম! সে রীতিমতো তার দিকে ঈর্ষার চোখে তাকিয়ে রইলো।

রাশেদ সাহেব

রাশেদ সাহেব তার চেম্বারে বসে চিন্তা করছেন আর মাত্র তিন মাস বাকি আছে এই চাকরি জীবন শেষ হতে। ৩৬ বছর কোন দিক দিয়ে চলে গেল টেরও পেলেন না। চিন্তা করলে মনে হয় এই তো সেই দিনের কথা। এতো তাড়াতাড়ি অবসরের সময় চলে এলো।

রাশেদ সাহেব প্রায় খাঁ ছুঁই ছুঁই, তিন সন্তানের বাবা। এক মেয়ে আর দুই ছেলে। একটু দেরিতে বিয়ে করার দরুন বাচ্চারা এখনো পড়াশোনা শেষ করতে পারে নাই।

ছেলে দুইটা বড় তারা প্রাইভেৃট ইউনিভার্সিটিতে পড়ে আর মেয়ে সব চেয়ে ছোট সে এবার এস-এস-সি পরীক্ষা দিয়েছে। ছেলেদের পড়াশোনা শেষ করতে এখনো দুই বছরের মতো বাকি। ওনার বউ “হোম-মেকার”।

উনার ইদানীং একটাই চিন্তা অবসরের পরে কী করবেন, কী ভাবে চলবেন? উনি খুব সৎ আর নিষ্ঠার সঙ্গে তার কাজ করেছেন। এমনিতে ভালো লোক আর সৎ কর্মী হিসাবে উনার সুনাম রয়েছে। যেহেতু একজন সৎ মানুষ তাই মাসিক বেতনের উপরই নির্ভরশীল ছিলেন সারা জীবন। জীবনটাই কেটেছে “ব্যলেন্সিং” করতে করতে, একটি কাজ করতে গিয়ে আর একটি বাদ পড়েছে। নিজের শখ-আহ্লাদ তো দূরের কথা স্ত্রী, সন্তানদের চাহিদাই ভালো করে মিটাতে কখনো সক্ষম হননি। সারা জীবনটাই দোটানার মধ্যে, নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থায় কেটে গেছে। এখনও উনার দায়িত্ব শেষ হয়নি কিন্তু এদিকে চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। চাকরি অবসরের পর যা টাকা পাবেন ওটা দিয়ে কয়দিন চলবে? এইসব চিন্তা তাকে সারাক্ষণ পীড়া দেয়।

তার টেবিলে রাখা ফোনটা বেজে উঠলো। ফোন তোলার সঙ্গে সঙ্গে অন্য প্রান্ত থেকে “এইচ আর ম্যানেজারের” কণ্ঠস্বর ভেসে এলো, “রাশেদ সাহেব, আপনি কি ব্যস্ত?”

“না এমন কোনো ব্যস্ততা নেই”, রাশেদ সাহেব উত্তর দিলেন।

“তাহলে একটু আমার চেম্বারে আসবেন দয়া করে?” এইচ-আর ম্যানেজার বলল।

রাশেদ সাহেবের মনে শত সংশয়ের জন্ম। তিনি তো জানেন চাকরি তো মাত্র তিন মাস রয়েছে এখন তো পাওয়ার আর হারানোর কিছু নেই; কিন্তু মানুষের মন। মনের কোণে একটি ক্ষীণ আশার জন্ম, যদি আরো কিছু দিনের “এক্সটেনশন” দিয়ে দেয়। আবার মনে হলো “এমন কী ঘটল, আমার কারণে কি কোনো লোকসান হয়েছে, কেউ কি কোনো নালিশ করেছে। ” এইসব চিন্তা করতে করতে উনি এইচ-আর ম্যানেজারের চেম্বারে ঢুকলেন।

“বসুন রাশেদ সাহেব, কেমন আছেন?”

“জি ভালো আছি”।

“বেশ ফ্রেশ লাগছে আপনাকে, আসলে চাকরিতে তো একটি বাড়তি চাপ থাকে। আপনি তো এখন নিশ্চয় ফুরফুরা মেজাজে আছেন। কয়েক দিনের মধ্যে চাকরি শেষ করবেন। আমরা দেখেন চাকরি শেষ করতে পারি কি না, নাকি তার আগেই চাকরি হারাই, যা দিনকাল পড়েছে!”

“কী যে বলেন আপনি চাকরি হারাবেন কেন?”

“বলা তো যায় না, ইদানীং চাকরি হারানোর জন্য কোনো কারণ লাগে না। আপনারা না হয় চাকরি শেষ করার পথে, কিন্তু সবাই তো এমন ভাগ্যবান নাও হতে পারে। ”

“আপনার কথা বুঝে উঠতে পারছি না। ”

“না দেখেন, এখন তো প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার বেড়েছে সবক্ষেত্রে। এখন দেখেন আপনি চলে গেলে আপনি কি মনে করেন আপনার এই পজিশানটা থাকবে?

“তা তো আমি বলতে পারবো না, কিন্তু এইটুকু জানি যে, এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ পজিশান। ”

“আরে রাশেদ সাহেব গুরুত্ব তো এখন শুধুই যারা আয় করে, যারা কোম্পানির মাল বেচতে পারে তাদের। ”

“তা তো সবসময় ছিল, কিন্তু তাদেরকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য তো আমরা আছি। ”

“দেখেন, এখন যে ব্যবসার মডেল হচ্ছে সেখানে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার আছে, এই প্রযুক্তি দিয়ে আমরা অনেক কাজ সহজ করতে সক্ষম হয়েছি এবং সবচেয়ে আনন্দের সংবাদ হচ্ছে আমরা অনেকগুলো কাজ বিলুপ্ত করতে পেরেছি। তাতে জানেন আমাদের লোকবল অর্ধেক হয়ে যাবে এবং আয় দ্বিগুণের চেয়ে বেড়ে যাবে। ”

“তাহলে আপনি বলতে চাচ্ছেন যে, প্রযুক্তি মানুষের কাজকর্ম গিলে ফেলছে?”

“প্রযুক্তি সবসময় গেম চেঞ্জার, হয়ত অনেক কাজ বিলুপ্ত হয়ে যাবে কিন্তু অনেক নতুন নতুন কাজ আবার সৃষ্টিও হবে এবং ওইসব জায়গায় দক্ষ লোকবলের প্রয়োজন হবে। ”

“ও আচ্ছা বেশ ইন্টেরেস্টিং! আচ্ছা আমাকে কেন ডেকেছেন?”

“মিঃ রাশেদ, আসল কথা কি জানেন আপনার পদটা অপ্রয়োজনীয় ঘোষণা করা হয়েছে। ”

“তার অর্থ কী?”

“না কোনো অর্থ বের করতে যাবেন না, আসলে আপনার তিন মাস পর অবসরে যাবার কথা কিন্তু ম্যনেজেমেন্ট মনে করছে যেহেতু আপনার পদের প্রয়োজন নেই, তাই আপনাকে আজকেই অবসরে চলে যেতে হবে। আপনার জন্য অনেক শুভ কামনা রইল। আপনার পাওনা সব এই মাসের মধ্যে শোধ করে দেয়া হবে। ভালো থাকবেন রাশেদ সাহেব!”

  • সাব-অল্টার্ন স্টাডিজের ‘মহামারি’ ভাবনা

    মিল্টন বিশ্বাস

    newsimage

    সাব-অল্টার্ন স্টাডিজ গোষ্ঠীর অন্যতম লেখক দীপেশ চক্রবর্তীর Community, state and the body

  • করোনানিশীথে জ্ঞানদেবীর সঙ্গে

    নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর

    newsimage

    রাতভর জেগে চেষ্টা করছি। কিছুই লেখা হচ্ছে না। জ্ঞানদেবীও বুঝি করোনাকে ভয়

  • নিমাই সরকার

    আগুনের পরশমনি

    newsimage

    হঠাৎ করেই ভেঙেচুরে কিছু একটা পড়ার শব্দ। কী হলো, কী হলো! আর

  • সাময়িকী কবিতা

    কোয়ারেন্টিনকে আমি বিসংরব বলি। তুমি তো সেই কস্মিনকাল থেকেই বিসংরবে তোমাকে জীবন্ত কবর জীবন্ত চিতায় একা রেখে

  • আমার আছে বই : ১২

    মালেকা পারভীন

    newsimage

    সাহিত্যের প্রতি ভিনসেন্ট এর ভালোবাসা এতোটাই অপ্রতিরোধ্য ছিল যে তাঁর কিছু পোর্ট্রেট/স্থিরচিত্র

  • সোহরাব হাসানের কবিতা

    newsimage

    নারীর ভেতরে দ্রোহ দেখলেন মহান মার্কস তাঁর স্বপ্ন ছিল নারী-পুরুষের সুষম সমাজ

  • গাব্রিয়েলা মিস্ত্রালের কবিতা

    অনুবাদ : অনন্ত মাহফুজ

    newsimage

    বিষণ্ণ মা ঘুমাও, ঘুমাও, প্রিয়তম আমার চিন্তাহীন, ভয়হীন, যদিও আমার আত্মা ঘুমায় না, যদিও