menu

শ্রদ্ধাঞ্জলি রশীদ হায়দার

শরতের মেঘের মতো বিনয়ী ছিলেন যিনি

আদিত্য নজরুল

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২০
image

‘মাত্রা’ গল্পের মাধ্যমেই রশীদ হায়দারের সাথে আমার পরিচয়। আমার আগ্রহ বেড়ে যায় রশীদ হায়দারের লেখার উপর। বলা যায় ‘মাত্রা’ গল্পটাই আমাকে রশীদ হায়দারের লেখার উপর আরো আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে। গল্পটা পড়ে আমার বেশ কয়েক দিন একদম ঘোর কাটেনি। বার বার মনে হয়েছে আমিই ‘মাত্রা’ গল্পের তারেক। তার পর একে একে যুদ্ধ ও জীবন, গন্তব্য, যদি দেখা পাও, আমার প্রেমের গল্প, খাঁচায়, অন্ধকারের কথামালা, লেখার সাথে আমার পরিচয়।

মুক্তিযুদ্ধ আমি সরাসরি না দেখলেও ‘খাচায়’ গল্পটা পড়ে আমি যেনো নিজের চোখে মুক্তিযুদ্ধ দেখে ফেলেছিলাম। হানাদার বাহিনী কবলিত এ দেশটি যেনো একটি খাঁচা। যেই খাচায় এদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষই বন্দি ছিলো তখন। একটি টিয়ে পাখির মুক্তির মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা এবং বিজয়ের সংকেত কি সুন্দরভাবে প্রস্ফুটিত করেছেন রশীদ হায়দার তা যারা তাঁর খাঁচায় গল্পটি না পড়েছেন তারা খেলার মুগ্ধতার জায়গা অনুমান করতে পারবেন না।

চাকরি সূত্রে আমি একটি বেসরকারি চ্যানেলে কর্মরত। যেহেতু শিল্প সাহিত্য আমার ভালো লাগার জায়গা সেই সূত্র ধরে ‘শিল্পবাড়ি’ নামে শিল্প সাহিত্যের অনুষ্ঠান প্রযোজনা শুরু করি। আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে ২০১৯ সালের ১লা মার্চ অতিথি হয়ে এসেছিলেন কথাসাহিত্যিক রশীদ হায়দার। তখন আরো বেশ কিছু লেখা আমার পড়া হয়ে ওঠে কাজের প্রয়োজনে। নানকুর বোধি, অন্তরে-বাইরে, মেঘদের বাড়ি, নষ্ট জেরছনায়, উত্তরকাল, ইত্যাদি। যা পড়ার পর পুনরায় আমার বোধের জায়গায় নতুন করে নাড়া দিয়ে যায়।

রশীদ হায়দারকে নতুনভাবে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে গিয়ে একটি অভিনব জায়গার সন্ধান পেয়ে যাই। শুধু বাংলা সাহিত্যে নয় বোধ করি পৃথিবীর সব সাহিত্যেই বাবা একটি উপেক্ষিত চরিত্র। মাকে আমরা যতোভাবে যতো রূপে প্রকাশ করেছেন তার সিকি ভাগও পিতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় না। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আমি বলবো যে রশীদ হায়দার একটু ব্যাতিক্রম। রশীদ হায়দারে একটি সিরজি আছে ‘আমার বাবার গল্প’ বা বাবার গল্প নামে, আমি জানতে চেয়েছিলাম শিল্পবাড়ি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাবাকে ক্যারেক্টার করে কেনো লিখলেন একটি গল্প! আপনি কি মায়ের থেকে বাবাকে বেশি পছন্দ করেন?

রশীদ হায়দার খুব বিনয়ের সাথে বলেছিলেন- ঠিক তা নয়। আমি মাকেও অনেক পছন্দ করি। কিন্তু পিতা থেকে আমার মেঝো চাচা হাবিব বাবা থেকেও আমার ভেতর মুগ্ধতার একটি জায়গা তৈরি করে ফেলে। চাচা একটি অসাধারণ চরিত্রের লোক ছিলেন। কানন বালার ছবি রিলিজ হয়েছে তো উনি বাড়ি থেকে উধাউ। মোহামেডান স্পোটিং-এর খেলা হচ্ছে তো উনি কলকাতায়। বলতে পারেন আমি আমার চাচা আর বাবার জীবন যাপনকে একত্রে মিশিয়েই আমি আমার বাবার গল্পটা লিখেছি।

মুত্তিযুদ্ধের গল্পে মানেই রশীদ হায়দার। অথচ রশীদ হায়দার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। আমার আগ্রহের বিষয় ছিলো এখানেও। রশীদ ভাই বলেছিলেন: আমি ঢাকা শহরেই ছিলাম তবু মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারি নি। এই গ্লানি বোধটা আমার দীর্ঘদিন ছিলো। আমার ছোট ভাই জাহিদ যুদ্ধে গিয়েছিলো আমি আমার পিটুটানের জন্য যেতে পারিনি। আমর একটিমাত্র মেয়ে তখন, আর একটি হলো জীবনের ভয়, যুদ্ধ এই কষ্ট করবো। এগোলো আমাকে নিরুৎসাহিত করেছিলো। কিন্তু পরে যখন দেশ স্বাধীন হয়ে গেলো তখন ঐ পাপ, মানে যুদ্ধে না যাওয়ার পাপ আস্তে আস্তে মনের মধ্যে জমতে জমতে এতো বড় হয়ে উঠে যে, দেশে এতো বড় একটা যুদ্ধ হলো, দেশ স্বাধীন হয়ে গেলো আর আমি কিছুই করলাম না, পরবর্তীকালে যখন আমি বাংলা একাডেমিতে যোগ দিলাম একটি অপ্রত্যাাশিত ভাবে সুযোগ পেয়ে যাই। তা হলো বুদ্ধিজীবীদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র নিয়ে প্রদর্শনী করা, বলতেযখানে গেলে সেই কাজের সাথে সম্পৃক্ত হয়েই আমি মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা শুরু করি।

যদি ‘কাক’ গল্পটার কথাই বলি তাহলে বলতে হবে যে এটা একটি প্রেমিকের আত্মহনের গল্প। প্রেমটা যে কতো প্রকট এবং বীভৎসভাবে প্রকাশিত হয় তা বুঝতে হলে কাক গল্পটা পড়তে হবে পাঠককে। মা এবং প্রেমিকা দুজনেই প্রেমের প্রতিভু। মা স্নেহ দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে আন্তরিকতা দিয়ে যতœ দিয়ে তার সন্তানকে বড় করে তোলে। প্রেমিকা তার প্রেম দিয়ে। এই প্রেমের ক্ষেত্রে যখনি শূন্যতা দেখা দেয় তখনই তো প্রেমিক হয়ে যায় পাষাণ।

রশিদ হায়দারের লেখায় মৃত্যুটা যেনো বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে। মানুষের কতো প্রকারের মৃত্যু ঘটে তা হিসেব নেই।

রশীদ হায়দার বলেছিলেন মৃত্যুটা জীবনের একটা অংগ। এই জন্য আমি মৃত্যুটাকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করেছি। আর মৃতুই তো একজন মানুষের জীবনকে পরিপূর্ণ করে তোলে তাই না।

সত্যি রশীদ ভাই আপনার জীবন মৃত্যুও মধ্য দিয়েই পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেখানেই থাকবেন ভালো থাকবেন।

  • লুইস গ্লুকের কবিতা

    ব্যক্তি থেকে বিশ্বজনীনতায় রূপায়ন

    অনন্ত মাহফুজ

    newsimage

    পঁচিশ বছর বয়সে লুইস গ্লুকের প্রথম কবিতাগ্রন্থ ফার্স্টবর্ন প্রকাশিত হবার পর কবিতাঙ্গনে

  • বিশেষ সাক্ষাৎকার

    বাক্য নিজেই কথা বলার একটি উপায় খুঁজে নেয়

    সাক্ষাৎকারে লুইস গ্লুক ভূমিকা ও অনুবাদ : ফজল হাসান

    newsimage

    ২০২০ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের দৌড়ে আন্তর্জাতিক পাঠকমহলে পরিচিত একাধিক কথাসাহিত্যিক এবং

  • লুইস গ্লুকের কবিতা

    ‘তাজা বাতাসে জড়ানো নতুন পৃথিবী’ অনুবাদ : অশোক কর

    newsimage

    গ্রিটেল, অন্ধকারিত্বে এমন পৃথিবীই আমরা চেয়েছিলাম। যারা আমাদের মরে যেতে দেখেছিলো, ওরা এখন মৃত।

  • লুইস গ্লুকের কবিতা : ২

    ‘সেটিই নগর যেখানে আমি হাওয়া হয়ে যাই’ অনুবাদ : মুজিব রাহমান

    বাগান বাগান তোমাকে সমীহ করে। তোমার খাতিরে সে নিজেই মেখে নিয়েছে সবুজ রঞ্জক, গোলাপের লাল

  • বিস্মৃত রাজনৈতিক মঞ্চের কথক মহিয়সী জায়নাব আখতার

    মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ

    newsimage

    প্রথমেই বলে রাখা প্রয়োজন বইটি সাধারণ অর্থে অব্যাহতভাবে লেখা কোনো স্মৃতিকথা নয়।

  • সোনাভানের কাসিদা

    দিলারা মেসবাহ

    newsimage

    ‘অ ব্যাটা - ব্যাটারে। তোর মাওডা মইর‌্যা গেল কেমনে? সোনার মানুষডা

  • টক অব দ্য কান্ট্রি

    পীযূষ কান্তি বড়ুয়া

    newsimage

    কেবলমাত্র একটা তুচ্ছ সন্দেহকে কেন্দ্র করেই তাদের এক দশকের নিশ্চিদ্র দাম্পত্য গেছে