menu

বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর

নিভৃত ও বিচিত্র

ওবায়েদ আকাশ

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ জানুয়ারী ২০১৯
image

বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর / জন্ম : ৯ জানুয়ারি ১৯৩৬

সাহিত্যের নিত্য পরিবর্তনের উৎসমুখে সরব উপস্থিত হয়ে যিনি সর্বদা নিজেকে বদলে নিতে পারেন, পাঠককে উপহার দিতে পারেন কনটেম্পরারি সাহিত্যের অগ্রসর পাঠ, তিনি কবি বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। একই সঙ্গে রচনা করেন উপন্যাস, গল্প, চিত্র সমালোচনা, রাজনীতির বিশ্লেষণ ও শিক্ষাবিষয়ক চিন্তানির্যাস। মাইকেল, রবীন্দ্রনাথ, মানিক কিংবা জয়নুল, কামরুল, শাহাবুদ্দিন কেউই বাদ পড়েন না তাঁর দৃষ্টির প্রাখর্য এড়িয়ে।

নিজেকে ফাঁকি দিয়ে কিংবা ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধের অন্তরালে কেউ তাকে লুকাতে দেখেছে, এমন নজির নেই। তাই ধর্মান্ধতা, মৌলবাদ, অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে তিনি স্বদেশের বিশুদ্ধতা আবিষ্কার করতে প্রত্যয়ী নানামাত্রিক যুক্তিপ্রখর রচনায়।

দেশপ্রেম, স্বাদেশিকতা, মুক্তিয্দ্ধু, ভাষা আন্দোলন তাঁকে প্রবল তাড়নায় দাঁড় করায় সোচ্চার অবস্থানে। তিনি নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামে দেশের প্রতি, বাঙালি জাতির প্রতি সদা কমিটেড থেকে রচনা করেন এ সংক্রান্ত গ্রন্থাবলী। আমাদের সাংস্কৃতিক সংগ্রামের এক অগ্রপ্রর্দশক তিনি। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারেন সতত সংস্কৃতিচর্চার অন্ধকারগুলো কীভাবে অপসারণ করে জাতির মুকুটে উজ্জ্বলতা চিরজাজ্বল্য রূপ পেতে পারে।

সৃজনশীল লেখালেখি যেমন কবিতা গল্প উপন্যাসে তাঁর ধ্রুপদী উপস্থিতি তাঁর সময় পেরিয়ে ভবিষ্যতেরও সুদূরতর যাত্রাকে নিষ্কণ্টক করতে ক্ষমতাবান, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সন্দেহ নেই তাঁর চিত্রসমালোচনার তীক্ষ্ণধার লেখনি যে এই উপমহাদেশের চিত্রসমালোচনাকে চ্যালেঞ্জ করে স্বকীয়তা অর্জন করে এখনো নতুন নতুন দিক উন্মোচনে প্রয়াসী রয়েছে।

গত পঞ্চাশ বছরের রাজনীতি যে অঘটনঘটন পটিয়সীতায় কতবার কতভাবে উত্তাল হয়েছে, দিক বদলেছে, বাঙালিকে স্বাধীনতা দিয়েছে আবার গণতন্ত্রের শিক্ষায় বারবার ব্যর্থতা ও পরাজয়ে মুখ লুকিয়েছে, তা তিনি তাঁর সদর্থক ভাবনায় তুলে ধরেছেন বিবিধ প্রবন্ধগ্রন্থে। ইতিহাস, প্রজাতন্ত্র, যুদ্ধাপরাধ, গ্রামাঞ্চল তাঁর লেখালেখির অন্যতম এক অনুষঙ্গ। এসব রচনার গভীরে লুকিয়ে থাকা সত্যে একটি জাতির মানস নির্মাণ সহজ ও সাবলীল হয়ে বিবিধ নন্দন ভাবনায় বহুদূর বিস্তৃত হতে থাকে। রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কিংবা সুশীল সমাজের দায়িত্ববোধকে এক নতুন আলোয় অনিবার্য হতে শিক্ষা দেন। শিক্ষিত করে তোলেন একটি জাতিকে কী করে ইহিতাসের কাছে দায়বদ্ধ থেকে নতুন ইতিহাস নির্মাণে উদ্যমী হতে হয় সে বিষয়ে।

তার গল্প উপন্যাসও শুধুমাত্র নান্দনিকতা ও শিল্পের জন্য শিল্প নির্মাণে যুক্তিগ্রাহ্য নয়। তার গল্প-উপন্যাস ব্যক্তি বা কোনো একক ভূখন্ড নয়। তা যেমন বৈশ্বিক তেমনি বহুমাত্রিক তার আবেদন-বিশ্লেষণ।

বিশ্বসাহিত্যের পাঠাভিজ্ঞতা বোরহানউদ্দিন খান জাঙ্গাঙ্গীরকে আজ একজন বিশ্বমানের লেখক হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। তাই তাঁর রচনা অন্যদের থেকে যথার্থই পৃথক ও আবেদনময়ী, উপভোগ্য অন্যতর উপস্থাপনে।

কাল গণনায় গত শতাব্দির পঞ্চাশের দশকে তিনি লেখালেখিতে একদিন মনের অজান্তে নিজেকে সংযুক্ত করে ফেলেন। মাত্র অষ্টম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় তাঁর লেখা সর্বকনিষ্ঠ লেখক হিসেবে মুদ্রিত হয় একটি কাব্য সংকলনে। সেই সংকলনের লেখক ছিলেনÑ শামসুর রাহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, আলাউদ্দিন আল আজাদ প্রমুখ। সেই থেকে এখন পর্যন্ত কবিতা প্রবন্ধ গল্প উপন্যাস সম্পাদনা অনুবাদ মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা প্রায় একশো। তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদকসহ আরো কিছু সম্মাননা।

শুরু থেকেই লেখালেখিতে এক নতুন ধারার আবিষ্কার করেন তিনি। ভাষার নতুনত্ব অন্বেষণ তাঁর আজন্মের ক্ষুধা। প্রতিনিয়ত তিনি তাঁর বিষয়ের নতুনত্বের মতো ভাষার নতুনত্বে অগ্রসর থাকেন। তাঁর উপস্থাপনের নতুনত্ব আজ সর্বস্বীকৃত।

১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর কবিতার বই আমাদের মুখ। কবি শামসুর রাহমান তাঁর এই কাব্যগ্রন্থ প্রসঙ্গে বলেন, “তাঁর কবিতা সকলের কবিতা থেকে আলাদা এবং তাঁর কবিতায় তাঁর নিজের উপস্থিতি বিদ্যমান।” দীর্ঘকাল ধরে সাহিত্যে তাঁর আবিষ্কৃত পথই তিনি শাণিত করে চলেছেন।

কবি বোরহানদ্দিন খান জাহাঙ্গীর তাঁর রাজনৈতিক সচেতনতা, সমাজ সচেতনতা, স্বাদেশিকতা, মুক্তিযুদ্ধের মতো বিষয়কে তাঁর কবিতায় সর্বদা প্রাধান্য দিয়েছেন। তারো চেয়ে বেশি তিনি যে বিষয়টিকে তাঁর কবিতার মুখ্যঅলংকার করে রাখেন সেটি হচ্ছে প্রেম। তিনি এখানে আরো বেশি ব্যতিক্রম যে তিনি প্রেমের কথা বলতে বলতে রাজনীতির কথা বলেন, নির্যাতনের কথা বলেন, হত্যার কথা বলেন, শোষণের কথা বলেন। এখানে মুখ্য হয়ে ওঠে তাঁর প্রিয় মানুষটির প্রতি তাঁর নির্ভরতা, যাকে তিনি ভালবেসে সব কথা বলেন। আবার নিরেট প্রেমের কথা, শারীরিক সম্পর্কের কথাও তিনি তার কাছেই ব্যক্ত করেন। বলতে বলতে তিনি পাঠককে বোঝান আসলে ভালবাসা কী। আজকাল যেখানে ভালবাসার কবিতা তেমন একটা লিখিত হচ্ছে না, ভালবাসার আয়ু ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে তখন তিনি প্রবল আগ্রহে রচনা করেন প্রেমের কবিতা, ভালবাসার কবিতার ওপর চাপিয়ে দেন তাঁর বিবিধ চিন্তাসংকলন। ভালবাসার ঘাড়ে চাপিয়ে দেন বিশ্ব। তিনি মূলত ভালবাসার ওপর ভর করে ব্যাপৃত হন অসীমের অন্বেষায়। তাই ভালবাসার বিরোধী যারা, তিনি তাদের পক্ষের মানুষ নন। দেশপ্রেমের বিরোধী যারা তিনি তাদের ঘৃণা করেন, পরিতাজ্য জ্ঞান করেন।

তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থের নামকরণই করেন ‘ভালবাসার বিরোধী যারা’। এ গ্রন্থটি নিয়ে একটু বিস্তৃত বলা যাক।

ভালোবাসা কনফেশন, ভালোবাসা সানভেসন।

কথাটা পাস্কালের : অনন্ত আমাকে ভয় দেখায়

কথাটা ডানের : কখন জোড়াতালি শেষ

কথাটা হ্যামলেটের : সময় ভাঙাচোরা

আমি এদের কথা ভাবি

আমার নিজেকে নিহত করি ভালোবাসার ভিতর।

[নিজেকে নিহত করি]

ভালোবাসার ভিতর নিজেই নিজের আততায়ী হন কবি। ওপর থেকে নিচ, ভেতর থেকে বাহির কিংবা প্রকাশ্য থেকে আড়াল সর্বাবস্থায় তিনি ভালোবাসার কথায় সদাসতর্ক হয়ে নড়েচড়ে বসেন। তার ভালোবাসা গাঢ় বৈচিত্র্যিক। যাকে একবার এমন ভালোবাসায় পায়, তিনি দেশ থেকে বিদেশ, শীত থেকে গ্রীষ্ম, অটাম থেকে বসন্তÑ সর্বত্র এই এক জ্বরে ঘোরগ্রস্ত হয়ে নিজেকে একমাত্র ভালোবাসার দেশের বাসিন্দা ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারেন না। বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর তেমনি তাঁর ভালোবাসার মানুষের শরীর গুছিয়ে দিতে দিতে তৃষ্ণার্ত ঠোঁটে দিন পার করে চলেছেন।

তার ভালোবাসা এতটাই তীব্র যে, রাষ্ট্র, প্রশাসন, সংবিধান- কোনো কিছুই তাকে আটকাতে পারে না। সব কিছুই ভালবাসার অংশ হয়ে যায়।

‘আমি অনেক আগেই বুঝেছিলাম

সংবিধান কিংবা প্রশাসন আমাদের মানাতে পারবে না

তোমার চোখের দিকে তাকালেই আমি এনার্কিস্ট হয়ে উঠি’

[তুমি আশ্চর্য]

এবং যারা ভালোবাসার বিরোধী, যারা নিঃসঙ্গতার বিরোধী তাদের বিরুদ্ধে কবির উচ্চারণ এই কবিতা। তবে নিঃসঙ্গতাও কি ভালোবাসার অমোঘ উচ্চারণ? এক্ষেত্রে তিনি স্বয়ং ঈশ্বরকে খুঁজে নেন পাশে দাঁড়াবার মতো প্রকৃত সহযাত্রী হিসেবে।

‘ঈশ্বর নিজেই একা : ঈশ্বর চূড়ান্ত নিঃসঙ্গ

আমি নিঃসঙ্গ ঈশ্বরকে ভালোবাসি।’

[ঈশ্বর নিজেই একা]

অটামের আলো ঝলমলে রোদে কবি দূর দেশের শহর আবিষ্কার করেছেন, যেখানে তাঁর প্রিয়ার চোখে মেঘ, এবং অবাধ্য তার প্রেম চলে যাচ্ছে গাছেদের পাতা মাথায় করে। তিনি স্মরণ করেছেন, এজরা পাউন্ডকে। তিনি স্মরণ করেছেন, বৃহত্তর থেকে আরও বৃহত্তর রূপান্তরের মহিমা।

‘এজরা পাউন্ড লিখেছেন : যে মানুষ এক মাস ডেথ সেলে

কাটিয়েছে সে আর খাঁচায় বিশ্বাস করে না,

তার চোখে মেঘ তার চোখে করুণা,

তার চোখে ভগবান বুদ্ধদেব।’

[সেপ্টেম্বরের রোদ]

গত শতকের পাঁচের দশকের ব্যতিক্রম ধারার কবি ও সব্যসাচী লেখক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। জীবন সায়াহ্নে এসে যেন আর এক ভুবনে আর এক খোলাজানালার পাশে কবিতাকে কড়কড়ে রোদে শুকোতে দিয়ে সারাক্ষণ দৃষ্টি ফেলে চলেছেন কবিতাকে নির্মেদ এবং ঝরঝরে করে তোলার। যেখানে বাতাস বইবে নির্ভার গতিতে, যেখানে রৌদ্র ঝরবে অবিচল ধারায়, এবং রাতের নক্ষত্ররাজির সংলাপ রচিত হবে নিঃশঙ্কচিত্ততায়। সেই কবিতা রচনা করেন কবি জাহাঙ্গীর তাঁর অদৃশ্য প্রিয়তমার বাস্তব ইশারায়।

ভালোবাসাকে তিনি সীমাহীন ঐশ্বর্য দান করেছেন, ভালোবাসাকে তিনি মাটি থেকে আকাশে ছড়িয়ে দিয়েছেন, ভালোবাসাকে তিনি প্রতিটি মাটির কুটির থেকে প্রতিটি সুউচ্চ ভবন, মাঠ-প্রান্তর থেকে প্রতিটি সুউচ্চ বৃক্ষের শাখায় আশ্রয় দিয়েছেন। এসব কারণে তাঁর পর্যবেক্ষণ ব্যতীত সম্ভব হয় না ট্রয় পুড়ে ছাইভস্ম হওয়া। তিনি সর্বত্র এমনকি হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে বসে ভালোবাসাময় জীবনের স্রোত দেখে থাকেন, আর হোমারের চোখে দেখেন তার ভূত-ভবিষ্যৎ:

‘আমি হাইওয়ের রেস্টুরেন্টে বসে জীবনের স্রোত দেখছি

অন্ধ হোমার পৃথিবীর ভূত ভবিষ্যৎ দেখছেন

ট্রয় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’

[অন্ধ হোমার]

সমান তালে চিত্রসমালোচনা, গল্প, উপন্যাস, রাজনৈতিক প্রবন্ধ থেকে শুরু করে সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ যার কলমে জীবন্ত হয়ে ওঠে সেই তিনিই আবার স্বশিল্পে আবির্ভূত হন কখনো প্রেমিক কখনো বিবিধ চরিত্ররূপ ধারণ করে। সমৃদ্ধ হয় কবিতা ও শিল্পের বারতা।

তার ভালোবাসা অনিঃশেষ, তিনি সব সময় অকাতরে ভালোবাসার দিকে মুখ ফেরাতে পারেন। ফিরে আসতে পারেন।

‘আমাদের ভালোবাসা ক্ষয় হয় না

আমরা আসি পরস্পরের কাছে।’

[আমি কিছু জানি না]

তিনি ভালোবাসার উপসংহার টানেন এভাবে অ্যাড্রিয়ান রিচ-এর একটি কবিতার পঙ্ক্তি উচ্চারণ করে, আজ রাত্রে কোনো কবিতা সার্ভ করা হবে না। তিনি প্রিয়তমার সঙ্গে ডিনারে বসে মীমাংসা করবেন ভালোবাসার।

‘ডিনারে থাকবে শুধু হাড়গোড়

লবণভর্তি স্যুপ

আর স্মৃতির কঙ্কাল

এই হচ্ছে ভালোবাসা আমাদের দু’জনের ভালোবাসা।’

[আজ রাত্রে]

‘ভালোবাসার বিরোধী যারা’ গ্রন্থে এ সববের বাইরেও অনেক ভিন্নস্বাদের কবিতা স্থান পেয়েছে। তিনি সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, বিপ্লব কিংবা যুদ্ধের কথায়-বর্ণনায় কিছু কবিতা সাজিয়েছেন। পৃথিবীর কোনো যুদ্ধকেই তিনি ধর্মযুদ্ধ না বলে বলেছেন, সব যুদ্ধই বর্বর। কবিতায় উঠে এসেছে যুদ্ধাপরাধের মতো ঘৃণ্য পাপের বর্ণনা। সাধারণ চাষাভুষা মানুষের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে তিনি শিল্পের আশ্রয় নিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমাদের স্বপ্ন দেখা বারণ,/ আমরা চাষাভুষো মানুষ/ ... / বিপ্লব না বিপ্লব কিছুতেই না/ আমাদের ধনতন্ত্রী হতে বলেন/ তাবৎ দুনিয়ার অর্থমন্ত্রীরা।’

তাঁর কবিতায় রাজনৈতিক ভাষ্য অমোঘ সত্যে উচ্চারিত হয়। তিনি নির্ভয়ে নিরাবেগে সে সত্য উচ্চারণ করে শুধুমাত্র ভালোবাসার জন্য ঘুরে বেড়ান পৃথিবীর কত না রঙ্গমঞ্চ। তাঁর এই সত্যোচ্চারণ অনেকের কাছে অপ্রিয় তিক্ততায় ভরে উঠতে পারে।

‘সিংহাসনে যারা বসতে চায়

তারা দ্রুত মরে যায়।

আমি মাঠ থেকে মাঠে ঘুরে বারবার এ কথা বলি

রঙ্গমঞ্চ ছেড়ে দাও।’

[মহিমান্বিত যোদ্ধার বিদায়]

ইউক্যালিপটাস, ধানক্ষেত, ডুমুরগাছ, জলপাইয়ের পাতা থেকে পাহাড় নদী সমুদ্র... প্রকৃতির নানান সৌন্দর্যের উৎসমুখে তিনি তাঁর কবিতাকে অনিবার্য প্রয়োজনে নিয়ে গেছেন। সবচেয়ে বেশি অনিবার্য, প্রকৃতির সন্তান মানুষের কাছে তিনি তাঁর কবিতাকে নিয়ে গেছেন। মানুষই পাঠ করবে মানুষের কবিতা। নিজেকে কবিতার প্রতিবিম্বে আবিষ্কারের আনন্দে মানুষ কবি বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের কবিতাকে আশ্রয় করেছে, যেমন মানুষ আশ্রয় করেছে পৃথিবীর অসংখ্য মহৎ কবির কবিতাকে।

  • ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’

    প্রান্তজনের দস্তাবেজ ও জাদু-বাস্তব কথকতা

    আহাম্মেদ কবীর

    newsimage

    স্বপ্নতাড়িত জনগোষ্ঠীর ধারাবাহিক এবং প্রজন্মান্তর খোয়াব, সংগ্রাম, জীবনাচার, বাসনা, কামনা, বিলাস আর

  • ১৯৭১-এর অপ্রকাশিত ডায়েরি ৫

    জিয়াউল হাসান কিসলু

    newsimage

    (পূর্ব প্রকাশেল পর) ১৯ নভেম্বর, ১৯৭১, শুক্রবার খুব সকালে উঠে চা খেয়ে পিটি

  • পঙ্ক্তিভারে মুখরিত সন্ধ্যা

    newsimage

    রাস্তায় প্রচন্ড জ্যাম। নির্দিষ্ট সময় থেকে প্রায় এক ঘণ্টা পর পৌঁছালাম কবি

  • ধারাবাহিক উপন্যাস ৩

    ‘মৌর্য’

    আবুল কাসেম

    newsimage

    (পূর্ব প্রকাশের পর) দেবরাজ জিউসের কন্যা মিউসের নাম থেকে মিউজিক নামটা এসেছে। তিনি

  • সৈয়দ হকের জলেশ্বরী

    পিয়াস মজিদ

    newsimage

    মার্কেসের যেমন মাকান্দো, দেবেশ রায়ের যেমন তিস্তা, সৈয়দ শামসুল হকের তেমনি জলেশ্বরী।

  • মহাদেশের মতো এক দেশে ২

    কামরুল হাসান

    newsimage

    অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর সাতটি মহাদেশের মাঝে সবচেয়ে ছোট, সবচেয়ে নবীন। তবু মহাদেশ

  • মুহম্মদ সবুরের কবিতা

    newsimage

    শান্তির পতাকা তুষার কিংবা উষ্ণতা- এই প্রবাসে কী বিভ্রমে অনিচ্ছায়; ডুবে যেতে হয় উষ্ণ-শীতল